পথের বাঁকে বাঁকে থেমে থেমে দেখি , তোমার এবং আমি একসাথে ছিলাম কি না , সে প্রশ্ন নিয়ে। বাতাসে একটা সুগন্ধ ভেসে আসে , হয়তো শৈশবের খানায় ধরা এক চুম্বনের স্মৃতি। আমি চলেছি অদৃশ্য রেল লাইনের মতো , যেখানে শব্দ নেই , শুধু কম্পমান নিঃশব্দতা। তোর স্মৃতিতে রঙিন বালি ছড়িয়ে আছে , আমি সেই বালিতে দাঁড়িয়ে বলি , আমি এখানে রয়েছি , তোমার কি শুনেছো ? চাঁদের আলো ঝলসে ওঠে পত্রিকার মতো , ভেঙে পড়ছে ফ্ল্যাশব্যাকে। আজ আমি হেঁটেছি বৃক্ষরহিত রাস্তায় , যেখানে শুধু আমার ছায়া আমাকে সঙ্গ দিচ্ছে। তোর অনুপস্থিতি এক ধরনের অবস্থা , যেখানে সময় থামে না , কিন্তু পিছিয়ে যায়। আমি রাখি সময়ের ঘড়ি বন্ধ করে , তোমার আগমনের জন্য অপেক্ষায় , যা যদি হয় এক হেসে ওঠা শিশির বিন্দুতে। ভালোবাসা ছিল চিরন্তন , কিন্তু মাঝপথে হারিয়ে গেছে একটু সাহস , তোর চোখের মধ্যে সেই আলো , যা আজ দেখি শুধু স্বপ্নের পেছনে। আমি লিখেছি এই লাইনগুলো , যেমন এক বৃষ্টির দোয়ালে লেখা অদৃশ্য বার্তা , যা পড়ে কেউ না … তবু অনুভব করে যায় হৃদয়। তোমার যদি ফিরে আসো , আমি রাখব একটু , এই বার একটু গাঢ়ভাবে বলব , তুমি ফিরে এসেছো , আর আমরা আবার হাসব , প্রথম র...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।