[১.১] বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪) আধুনিক বাঙলা কবিতার প্রাণ পুরুষ। তিনি কবি; লিখেছেন কবিতার পর কবিতা। দিবারাত্রি, যেনো কবিতার মধ্যেই সুখ খুঁজেছেন। কবিতাকেই ক’রে নিয়েছেন চিন্তা-চেতনার আবাসভূমি। কবিতা ছাড়াও রচনা করেছেন আরও অনেক কিছু। গল্প, উপন্যাস, ছোটো গল্প, প্রবন্ধ, কাব্যনাটকগুলো-তার মধ্যে অন্যতম । ‘নাটক’ নামের সৃষ্টি সেই সাহিত্য খুব বেশি দূরে অবস্থান করেনি; কবিতার ভাষা থেকে। তার গভীরে লুকিয়ে আছে, কবিতার ভাষার এক মর্মবানী; যা কবিতা নয়, কিন্তু তার ছায়া থেকে যায় নাটকের অভ্যন্তরে। কবিতা পন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও শিশু সাহিত্য ইত্যাদি। বুদ্ধদেব বসু; তাঁর কবিতাগুলোই তাঁর প্রেরণা। পরবর্তীতে; আপন মনে এগিয়েছেন বাঙলা সাহিত্যের অন্যান্য দিকে। রবীন্দ্র-উত্তর বাঙলা সাহিত্যকে যিনি সবচেয়ে বেশি আপন ক’রে নিয়েছেন; তিনি বুদ্ধদেব বসু। বুদ্ধদেব বসু; শুধু কবিতা রচনা ক’রে সুখ পাননি; তাই বেছে নেন সাহিত্যের অন্যান্য দিকগুলো । যার মধ্যে আমরা খুঁজে পাই বাঙলা সাহিত্যের অপার বহুমাত্রিক প্রতিভার এক মানুষকে; যিনি হ’য়ে উঠেন,কবির আত্মার আত্মীয়। একে একে বিচরণ করেছেন সাহিত্যের নানা পথে। রবীন্দ্র-উত্তর বাঙলা সাহিত...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।