সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মাংসের স্তূপ ও রক্তে ভেজা সৌন্দর্য

আমি তোমাকে কোনো অলৌকিক স্বর্গের স্বপ্নে চুমু খাইনি , আমার জিভ খুঁজেছিল তোমার মেরুদণ্ডের ভেতরে লুকানো আদিম অস্থিরতা তুমি চেয়েছিলে সমস্ত পবিত্রতা , আর আমি চেয়েছিলাম তোমার বুকের অন্ধকা রে জন্ম নেওয়া এক নিষিদ্ধ বিপ্লব ঘটাতে প্রেম মানে তো কেবল সুগন্ধী মাখা কোনো নিটোল দুপুর নয় , প্রেম হলো এক ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো নিজের সত্তাকে ছিঁড়ে খাওয়া তোমার ওই সুডৌল গ্রীবা আর নীরব  হাসির নিচে আমি দেখেছি হাজার বছরের পুরনো এক দাসত্বের মানচিত্র , যার সব আমি চিনি আমি চেয়েছিলাম সেই মানচিত্র পুড়িয়ে দিয়ে তোমাকে নগ্ন করতে ; পোশাকের নগ্নতা নয় , বরং আত্মার সমস্ত সংস্কার উপড়ে ফেলা র নগ্নতা তুমি চমকে উঠেছিলে যখন আমি বলেছিলাম , ভালবাসা এক ধরণের ব্যাধি ; আসলে তুমি সেই শেকলটাকেই ভালোবাসতে , যা তোমাকে চিরদিন বন্দি রাখে আমাদের সঙ্গম ছিল আসলে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ সেখানে কোনো বাঁশি বাজেনি , বেজেছিল কেবল অস্থির চিৎকার আমি যখন তোমার চিবুকে আমার আঙুলের কর্কশ ছাপ রেখেছি , তুমি ভেবেছিলে ওটা আদর ; অথচ ওটা ছিল তোমার প্রতি আমার তীব্র ঘৃণা সেই ঘৃণা , যা জন্মেছে তোমার ওই মধ্যবিত্ত ভীরুতার ওপর আমি তোম...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

তুমিহীন এই জ্যামিতিক দহন

১. হয়তো কোনো এক মধ্যরাতে বিষণ্ণতার দীর্ঘ নখরে বিদ্ধ হবে তোমার এই দুধসাদা গ্রীবা ; সেদিন মনে পড়বে আমি তোমাকে কোনো স্বর্গীয় পারিজাত দিতে চাইনি , বরং দিতে চেয়েছিলাম এই নশ্বর পৃথিবীর সবচেয়ে গাঢ় অন্ধকার কারণ আমি জানি , আলো কেবল মুখোশ পরায় , আর অন্ধকারই আমাদের উলঙ্গ ক ’ রে দেখায় আমরা কতোটা একা ২. মানুষ যাকে প্রেম বলে , আমি তাকে বলি এক প্রাগৈতিহাসিক ব্যাধি , যা রক্তকণিকায় মিশে গিয়ে বদলে দেয় নিউরনের সকল ব্যাকরণ আমি যখন তোমার নাভির হ্রদে আমার তৃষ্ণা বিসর্জন দেই , তখন সেখানে কোনো ঐশ্বরিক মহিমা থাকে না ; থাকে কেবল মাংসের আর্তনাদ আর হাড়ের ভেতরে লুকানো এক প্রাচীন হাহাকার তুমি সুন্দরী , কারণ তোমার কোষে কোষে এখনো ধ্বংসের বীজ বোনা হয়নি , অথচ আমার প্রতিটি নিশ্বাসে এখন তীব্র আকর্ষণের গন্ধ ৩. আমাদের বিচ্ছেদ কোনো ট্র্যাজেডি নয় , এ হলো এক গাণিতিক অপ্রয়োজনীয়তা তুমি চেয়েছিলে এক শো এক টি নীলপদ্ম , অথচ আমি চেয়েছিলাম তোমাকে   তোমার মগজের নির্জন প্রকোষ্ঠে এক একটা কুঠার চালিয়ে দিতে , যাতে তুমি ভুলে যাও কীভাবে নিজেকে রূপান্তর ঘটাতে হয় আমি তোমাকে মুক্তি দিতে চেয়েছিলাম তোমার সৌন্দর্য...

কফির পেয়ালায় বিষাদ ও বৃষ্টির অরাজকতা

কফির পেয়ালায় চুমুক দিতেই বৃষ্টি ঝরল , তবে এ কোনো স্নিগ্ধ শ্রাবণ নয় , এ হলো আকাশের নীল বিষণ্ণতা থেকে ঝ ’ রে পড়া এক গন্ধরাজ ;   যা ধুয়ে দিতে চায় আমাদের এই মেকআপ করা নাগরিক মুখের যাবতীয় কৃত্রিম হাসি আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে কোনো নক্ষত্র খুঁজিনি , খুঁজেছি এক অন্ধকার নর্দমার গভীরতা ও তার পথ যেখানে ডুবে আছে আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনের ছোট ছোট সব বীভৎস আকাঙ্ক্ষা এই বৃষ্টি যখন কংক্রিটের দেয়ালে কামের মতো আছড়ে পড়ছে , তখন আমার কফির ধোঁয়া হ ’ য়ে ওঠে এক একটি নিষিদ্ধ ইশতেহার ; যা অস্বীকার ক ’ রে তোমার ওই সুগন্ধী শরীর আর পবিত্রতার ভণ্ডামিকে আমি চেয়েছি এই বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা এক একটি কুঠার হ ’ য়ে আমাদের মাথার খুলি চিরে ফেলুক , যাতে বেরিয়ে আসে সেইসব আদিম অন্ধকার , যা আমরা লুকিয়ে রাখি ইস্ত্রি করা সাদা পোশাকের ভাঁজে প্রেম তো আসলে এক ধরণের ধীরগতির ঝড় হাওয়া;   যেখানে চুম্বনের চেয়ে দংশন বেশি সত্য আর স্পর্শের চেয়ে ঘর্ষণ বেশি তীব্র তুমি চেয়েছিলে এক পেয়ালা গরম কফি আর কিছু নিরাপদ ছোঁয়া অথচ আমি দিতে চেয়েছিলাম এক মুঠো স্বপ্ন যা দিতে পারে এই শহরের সমস্ত তীব্র রাজনীতি...