গভীর রাতে বাতাস বাজছে একান্তরে , আমি ধরি তোমার হাত , হাত ধরে বেয়ে যাই নদীর কিনারায় জলরাশি হেসে ওঠে কতবার বলেছে তোমার নাম , আমি শুনি কতবার হারিয়েছে নিজের গহীনে-গহীনে পাতার নিচে দাঁড়িয়ে দেখি তোমার প্রতিচ্ছবি , চোখে আলো , মুখে ছায়া , হৃদয়ে হারিয়ে যাওয়ার গান প্রকৃতির শরীরে ভালোবাসা খোঁজে এক নিঃশব্দ স্পন্দন , আমি খুঁজি তা তোমার ভেজা চুলের রেখায় , আমার অশ্রুর বিন্দুতে তুমি যদি হয়েছো এক ফুল , আমি হতাম মধুর ফুলশয্যায় , সুদূর আকাশের নীল থেকে এনে তোমায় সজ্জিত করতাম আজ বলি , আমি থাকব তোমার সঙ্গে , যে বর্জ্য মিটিয়ে দেবে সব একাকিত্বের ব্যথা প্রকৃতি বলবে ভালোবাসো , তোমার ও আমার মাঝে , এবং রাতের কবলে আলোর স্পন্দন হ ’ য়ে উঠবে নতুন প্রভাত।
আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘ ২৩ নম্বর তৈলচিত্র ’ ( ১৯৬০) বাংলা সাহিত্যের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও শিল্পতাত্ত্বিক মাইলফলক। এটি কেবল একজন চিত্রশিল্পীর জীবনসংগ্রামের আখ্যান নয় , বরং মানুষের অবদমিত কামনা , শিল্পসত্তা এবং সামাজিক সংস্কারের এক জটিল রসায়ন। উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শিল্পী জাহেদ। তার কাছে চিত্রকর্ম কেবল রেখা বা রঙের বিন্যাস নয় , বরং জীবনের গূঢ় সত্য উন্মোচনের মাধ্যম। উপন্যাসের নাম ‘ ২৩ নম্বর তৈলচিত্র ’ প্রতীকীভাবে সেই বিশেষ শিল্পকর্মটিকে নির্দেশ করে , যা জাহেদের জীবনের চরম সত্যকে ধারণ ক ’ রে আছে। জাহেদ এমন এক শিল্পী যিনি ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্ব দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। তার ক্যানভাসে ফু ’ টে ওঠে মানুষের আদিম প্রবৃত্তি এবং অবচেতনের অন্ধকার অলিগলি। আলাউদ্দিন আল আজাদ এই উপন্যাসে মানুষের অবচেতন মনের এক নিপুণ ময়নাতদন্ত করেছেন। জাহেদ তার ভাই ও ভ্রাতৃবধূর সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে নিজের শিল্পীসত্তাকে আবিষ্কার করার চেষ্টা ক ’ রে। জাহেদের বড় ভাই শরিফ এবং তার স্ত্রী সুরাইয়ার দাম্পত্য জীবনের ফাঁকফোকর দিয়ে জাহেদের মনে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয় , তা-ই এই উপন্যাসের মূল চালিকাশক্তি। সু...