ফরাসি সাহিত্য, কেবল একটি ভাষার প্রকাশ নয় বরং এটি বিশ্ব সভ্যতার চিন্তা ও দর্শনের এক জীবন্ত ইতিহাস। যা মধ্যযুগের বীরত্বগাথা থেকে শুরু ক’রে আজকের উত্তর-আধুনিক কাল পর্যন্ত তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। এবং ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত লাতিন ভাষার বিবর্তনের মাধ্যমে; যেখানে ওল্ড ফ্রেঞ্চ বা প্রাচীন ফরাসি ভাষায় লেখা প্রথম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হিসেবে আমরা পাই ‘স্ট্রাসবার্গ ওথস’, এবং পরবর্তীতে একাদশ শতাব্দীতে রচিত বীরত্বব্যঞ্জক কবিতা ‘লা শানসঁ দ্য রোলঁ’ যা শার্লেমেনের বীরত্বের কাহিনী বর্ণনা ক’রে, এবং এই সময়কালে বীরত্বের পাশাপাশি ‘কোর্টলি লাভ’ বা সভাসদীয় প্রেমের ধারণা নিয়ে রচিত হ’তে থাকে অসংখ্য রোম্যান্স যা মূলত নাইটদের বীরত্ব ও ত্যাগের গল্প শোনাত। এবং এরপর ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে জঁ দ্য মেন-এর ‘রোমান দ্য লা রোজ’ এর মতো রূপক ধর্মী সাহিত্য মধ্যযুগীয় ফরাসি সমাজ ও দর্শনের দর্পণ হ’য়ে ওঠে। তবে ফরাসি সাহিত্যের প্রকৃত আধুনিক ভিত্তি স্থাপিত হয় রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সময়কালে; যখন ষোড়শ শতাব্দীতে মানবতাবাদীদের আবির্ভাব ঘটে এবং ফ্রঁসোয়া রাবলে তার ‘গার্গান্তুয়া ও পান্তাগ্রুয়েল’ ...
এখানে সময় যেন এক স্থবির নাম, লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই রাতের শহর এখন এক মলাট-ছেঁড়া নিষিদ্ধ উপন্যাস তুমি নেই, অথচ তোমার গন্ধ লেগে আছে এই ঘরের ধুলোবালিতে, যেমন প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে লেগে থাকে এক অস্পষ্ট বিস্মৃতির দাগ আমার আঙুলের ডগায় এখন কেবল শব্দের তৃষ্ণা, আর জানালার ওপাশে এক দিগন্তবিস্তৃত নিস্তব্ধতা, গভীর আর মায়াবী যেখানে নক্ষত্রেরা কথা বলে না, কেবল জ্ব’লে ওঠে এক মৃত সভ্যতার মতো আমরা কি চেয়েছিলাম এই জ্যামিতিক নিঃসঙ্গতা? রাতের তিনটেয় যখন ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা আমার টেবিলে হুমড়ি খেয়ে প’ড়ে, তখন মনে হয় ভালোবাসা আসলে এক আধুনিক অসুখ; যা সবার বুকে দেখা দেয় যার কোনো নিরাময় নেই, আছে শুধু পঙ্ক্তিমালায় সাজানো দীর্ঘশ্বাস, আমি আজন্ম এক যাযাবর, এই ইটের পাজরে পথ খুঁজে মরি সারাক্ষণ অথচ গন্তব্য বলতে তো ছিল কেবল তোমার ওই দু’চোখের অতল আভাস এখন সেই চোখ দুটোই যেন এক ধূসর কুয়াশার প্রসারিত দিগন্ত যেখানে কোনো জাহাজ ভেড়ে না, কোনো সংকেত বাজে না আর মানুষ আসলে একা, তার চেয়েও বেশি একা তার নিজস্ব কবিতা আমি শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে এক মায়াবী প্রাসাদ বানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দেয়ালগুলো সব নোনা ধরা, অ...