শহরের এই ধূসর সন্ধ্যায় ঝরছে কেবল হিম, চায়ের কাপে চেনা ধোঁয়াটুকুও আজ বড়ই নিঃসীম। জানালায় রাখা ক্যাকটাস কি আজও ফোটে? নাকি সেই পুরনো গলিটি হারিয়েছে মেঠো ঠোঁটে? তোমার চিবুকে জমে থাকা সেই শান্ত বিকেলের রোদ, আমার একাকী বারান্দা জুড়ে আজও ভীষণ অবরোধ। মনে পড়ে কি সেই ব্যস্ত সড়কের ক্লান্ত চাকার গান? বিবর্ণ স্মৃতির ভিড়ে আজও আমাদেরই ব্যবধান বইয়ের ভাঁজে শুকিয়ে যাওয়া সেই নীল অপরাজিতা, এখনও কি শোনায় সে কোনো হারানো দিনের কবিতা? তুমি নেই বলে শহরের আলো বড় বেশি ঝিকমিক, পথহারা এই নির্জনতায় আমি আজ দিগ্বিদিক বিকেলের সেই কড়িকাঠ জোড়ে বিষণ্ণ ছায়াতরু, আমাদের প্রেম ছিল যেন এক মরুর বালুচরু চিত্রা নদীটি আজ আর আগের মতো তো বয় না, আমার এ বুক পুরনো চিঠির শোক আর সয় না দেয়াল ঘড়ির প্রতিটি টিকটিক বড় বেশি বিদ্রূপ, অন্ধকারে একাকী আমি বসে আছি যেন নিশ্চুপ আয়নায় ভাসে পরিচিত সেই হারানো দিনের ছায়া, পৃথিবীটা যেন কেবলই এক অদ্ভুত নিষ্ঠুর মায়া আবারও যদি ফিরত সেসব বৃষ্টির শব্দমুখর দিন, শোধ করে দিতাম হৃদয়ে জমে থাকা যত পুরোনো ঋণ অথচ এখন নিস্তব্ধতায় ঘেরা এই ঘর আর মন, তুমিহীন এই নগরীতে আমি বড় একা একজন।
রাত্রির এই গাঢ় নীলিমায় একা জ্বলে নোনা বাতি, আমাদের হৃদয়ে এখন কেবলই আদিম এক দীর্ঘ পথ তুমি আর আমি পাশাপাশি বসি যেন দুই দ্বীপান্তর, মাঝখানে শুয়ে আছে এক বিবর্ণ শীতল সম্পর্ক শরীরের রেখায় আজ আর ফোটেনা কোনো সুঘ্রাণ, বরং সেখানে বিঁধে আছে নাগরিক এক তীব্র ব্যবধান চায়ের কাপে জমাট বেঁধেছে মৃত সময়ের কালো বিষ, স্মৃতির কার্নিশে বসে ডাকে এক বিষণ্ণ রাতজাগা পাখি দেয়াল ঘড়ির প্রতিটি কাঁটা যেন বিদ্রূপের ধারালো নখ, খুঁড়ে বের করে আনে আমাদের যত পুরনো নষ্ট স্মৃতি তুমি চেয়ে আছো জানালার দিকে, যেখানে বৃষ্টি ঝ’ড়ে আমি খুঁজি আয়নায় আমারই ভেতরে অন্য কারোর ছায়া প্রেম কি তবে কেবলই এক শরীরের জ্যামিতিক খেলা? নাকি অবচেতনে জমে থাকা এক ক্লান্ত শেষের বেলা? পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আমাদের যত প্রাচীন পাপ, অন্ধকারে জন্ম নেয় এক অসহ্য মন্থর অনুতাপ বইয়ের আলমারিতে আজ ধুলো জমে স্তরে স্তরে, শব্দরা কাঁদে নির্জনে, যেন ঝরে পড়ে নিভৃত অশ্রু আমরা কি তবে কেবলই ছায়া, এই নগরের কংক্রিট ভিড়ে? যেখানে হাহাকার ফিরে আসে বারংবার নিজেরই ছায়ায় রক্তে আজো বাজে সেই ফেলে আসা তৃষ্ণার তীব্র সুর, অথচ গন্তব্য থেকে গেছে বহুকাল আগে বড় ...