তুমি আসবে ফিরে এই বাঙলায়, এই ধারণাটা আমি ইচ্ছে করে বাঁচিয়ে রেখেছি , যেমন রাষ্ট্র বাঁচিয়ে রাখে কিছু পুরোনো মিথ্যা , যেমন মানুষ আয়নায় নিজের ভাঙাচোরা মুখ দেখে না তুমি চলে যাওয়ার পর শহরের রাস্তাগুলো আরও বেশি ভণ্ড হ ’ য়ে উঠেছে , চায়ের কাপের ভেতর গণতন্ত্র ডুবে গেছে বহুবার , আর কবিরা প্রেম লিখে করতালি কুড়িয়েছে আমি জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ভাবি , মানুষ আসলে ফিরে আসে না কখনও , ফিরে আসে শুধু গন্ধ , কিছু অস্পষ্ট শব্দ , আর পুরোনো চিঠির ভাঁজে আটকে থাকা ধুলো তবু তোমার জন্য আমি একটি চেয়ার খালি রাখি এই সভ্যতার বিরুদ্ধে সেটাই আমার ক্ষুদ্র বিদ্রোহ কারণ পৃথিবীতে অপেক্ষার চেয়ে আর কোনো নিষিদ্ধ শিল্প নেই রাতে যখন নক্ষত্রেরা মৃত মানুষের মতো জ্বলে , আমি তোমার নাম উচ্চারণ করি না , নাম উচ্চারণ করলেই মানুষ দুর্বল হ ’ য়ে পড়ে আর আমি দুর্বল হতে চাই না , শুধু তোমাকে চাই।
নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্ব শুধু সাহিত্যের একটি আলাদা ব্যাখ্যা-পদ্ধতি নয়, এটি দীর্ঘদিনের নীরবতা, অবহেলা, প্রান্তিকতা ও অসমতার বিরুদ্ধে এক তীক্ষ্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবাদ। সাহিত্যকে যখন কেবল নন্দনভাবনা, কাহিনি বা ভাষার শিল্প হিসেবে দেখা হয়, তখন তার অন্তর্গত ক্ষমতার সম্পর্কগুলো অনেক সময় অদৃশ্য থেকে যায়। নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্ব সেই অদৃশ্য কাঠামোকেই দৃশ্যমান করে। এটি প্রশ্ন তোলে, কে লিখছে, কার জন্য লিখছে, কাকে কেন্দ্র করে লিখছে, কার অভিজ্ঞতা সাহিত্যে স্থান পাচ্ছে, কার অভিজ্ঞতা ইতিহাসের আড়ালে পড়ে যাচ্ছে। এই প্রশ্নগুলোর মধ্যেই নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্বের মৌলিক তাৎপর্য নিহিত। সাহিত্যে নারী শুধু একটি চরিত্র নয়, একটি দৃষ্টিভঙ্গি, একটি অভিজ্ঞতা, একটি সংগ্রাম, একটি ভাষা এবং কখনও কখনও একটি নীরব বেদনার নাম। এই তত্ত্ব সেই নীরবতাকে ভাষা দেয়, সেই বেদনার শিকড় অনুসন্ধান করে এবং সাহিত্যের প্রচলিত পুরুষকেন্দ্রিক ব্যাখ্যাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। নারীবাদী সাহিত্যতত্ত্বের মূল কথা হলো, সাহিত্য কখনও নিরপেক্ষ নয়। যে সাহিত্যকে নিরপেক্ষ বলে মনে করা হয়, সেখানেও সমাজের ক্ষমতাবিন্যাস, লিঙ্গরাজনীতি, শ্রেণিসংঘাত, সাংস্কৃতিক পক...