সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নক্ষত্র ও কালো বৃষ্টি- বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী

  আকাশটা যখন বদলাতে শুরু করল , তখন কেউ প্রথমে বুঝতেই পারেনি। শহর জেগে ছিল আগের মতোই , নিয়ন বাতি , উঁচু সেতু , দেয়াল-ঘেঁষা চলমান ট্রেন , উড়ন্ত বিজ্ঞাপনপর্দা , আর মানুষের মুখে সেই চিরচেনা তাড়াহুড়ো। কিন্তু সূর্য ডোবার ঠিক আগে পশ্চিমের দিগন্তে যে রঙ উঠল , তা ছিল অস্বাভাবিক। লাল নয় , কমলা নয় , সোনালি নয় , এক ধরনের ধূসর নীল , যেন জ্বলন্ত কাঁচের ভেতর সমুদ্রের জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে। শহরের আবহাওয়া দপ্তর প্রথমে বলল , এটি উচ্চস্তরের ধূলিকণার অদ্ভুত প্রতিফলন। বিশ্ব-পর্যবেক্ষণ সংস্থা বলল , এটি সাময়িক বায়ুমণ্ডলীয় বিচ্যুতি। আর বৃদ্ধরা বলল , আকাশেরও কখনও জ্বর হয়। এটা বোধ হয় তাই। কিন্তু আমি জানতাম , সেটি জ্বর ছিল না। সেটি ছিল প্রথম লক্ষণ। আমার নাম আরিফ সায়েম। বয়স তিরিশের সামান্য ওপরে। পেশায় আমি বায়োসিগন্যাল বিশ্লেষক , সোজা বাংলায় , মানুষের শরীর আর মস্তিষ্কে থাকা সূক্ষ্ম তরঙ্গের প্যাটার্ন নিয়ে কাজ করি। শহরের প্রধান হাসপাতাল থেকে আমাকে এক অদ্ভুত প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছিল , নাম ‘ ইকো-নক্স ’ । প্রকল্পটি গোপন ছিল , এমনকি সরকারি নথিতেও তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমাদের কাজ ছিল মানুষের স্মৃতি , আব...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

ছায়া-ঘর- ভৌতিক গল্প

  গ্রামের নাম ছিল নৈরাশপুর। নামের মতোই জায়গাটা যেন আশা-হীন, নিঃশব্দ, আর ধূসর। বর্ষার শেষে সেখানে কুয়াশা নামে হঠাৎ, মাটির গন্ধ ওঠে, আর রাত নামলে মনে হয় অন্ধকারটা শুধু আকাশ থেকে নয়, গাছের ফাঁকফোকর, কাঁচা রাস্তা, এমনকি মানুষের বুকের ভেতর থেকেও বেরিয়ে আসে। অনেকটা সুনসান নিরাবতা। নৈরাশপুরের শেষ প্রান্তে একটি পুরোনো দোতলা বাড়ি। সবাই তাকে বলত ছায়া-ঘর। আসল নাম কেউ আর মনে রাখেনি। অনেক বছর আগে এক জমিদার এই বাড়ি তৈরি করেছিলেন। পরে তার ছেলে, বউ, চাকর, খাজাঞ্চি, এক এক করে সবাই মারা যায়। তারপর বাড়িটা খালি পড়ে থাকে। কেউ বলত, রাতে সেখানে বাতি জ্বলে। কেউ বলত, সিঁড়িতে এক অচেনা মেয়ের পা-র শব্দ শোনা যায়। কেউ আবার বলত, বাড়ির পেছনের কুয়োর কাছে দাঁড়ালে নিজের নামটা নিজের গলায় শোনা যায়। অনেক কালো ছায়া চারিদিকে ঘুরাঘুরি করে। এই সব কথা শহর থেকে আসা লোকেরা হাসাহাসি ক’রে উড়িয়ে দিত। কিন্তু গ্রামের মানুষ হাসত না। তারা পথ বদলাত, সন্ধ্যার পর ছায়া-ঘরের দিক তাকাত না, আর বাচ্চাদের শাসন করত, ‘ওদিক যাস না। শহরের ছেলে রবীন এসব বিশ্বাস করত না। তার নিজের উপর খুব দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। রবীন ছিল ফটোগ্রাফার। পুরোনো বাড়ি, প...