সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শেষ আলোর শহর-কল্পকাহিনি

  এই রাতেও শহরটা সাধারণ রাতের মতো জীবিত ছিল। আকাশে লাগানো অসংখ্য আলো দিয়ে তৈরি ভবন , উড়াল রাস্তায় ছুটে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ ছাড়া গাড়ি , হাসপাতালে চলমান কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র , ভূগর্ভস্থ ট্রেন যে সময় মেনে চলছে , মানুষের হাতে রয়েছে পৃথিবীর সব সংবাদ , এগুলো মিলিয়ে এটি আধুনিক সভ্যতার একটি নাম। রাত তখন এগারোটা সতেরো মিনিট। আকাশে চাঁদ ছিল না , বাতাসে বৃষ্টির গন্ধ ছিল না , আবহাওয়া সম্পর্কে কিছু বলা হয়নি। শহরের কেন্দ্রীয় শক্তি নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে আবির রহমান শেষবারের মতো পর্দাগুলো দেখছিল। তার সামনে কয়েকশ মিটার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল দেয়ালে শহরের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র , প্রতিটি সঞ্চালন লাইন , প্রতিটি শক্তি সঞ্চয়াগার , এমনকি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোর ব্যাটারির অবস্থাও জীবন্ত মানচিত্রের মতো দেখা যাচ্ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এত নিখুঁতভাবে পরিচালিত কোনো নগরব্যবস্থা আগে তৈরি হয়নি। এই শহরের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ আসত সমুদ্রের তলদেশে স্থাপিত তাপীয় শক্তিকেন্দ্র থেকে , কিছু আসত সৌর বলয় থেকে , কিছু ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক চুল্লি থেকে , আর বাকি অংশ সরবরাহ করত এমন এক ধরনের কৃত্রিম শক্তি সঞ্চয়ব্যব...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

যে ঘরে আয়না ছিল না- গল্প

  সন্ধ্যার পর শহরটিকে নিলয়ের প্রায়ই এমন একটি মানুষের মতো মনে হতো , যে সারাদিন অন্যের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফিরে নিজের মুখের দিকে তাকাতে ভয় পায়। দিনের আলোয় তার ব্যস্ততা ছিল , পরিচিত মানুষ ছিল , প্রকাশকের ফোন ছিল , সাহিত্যসভায় যাওয়ার আমন্ত্রণ ছিল , এমনকি এমন কয়েকজন তরুণ লেখকও ছিল যারা তাকে গুরু বলে সম্বোধন করত ; অথচ সন্ধ্যা নামলে সমস্ত পরিচয়ের নিচ থেকে একটি অদ্ভুত শূন্যতা বেরিয়ে আসত , যেন তার জীবনটি বাইরে থেকে যতটা সুসংহত , ভেতরে ততটাই অগোছালো। সেদিনও সে লেখার টেবিলে বসেছিল। জানালার বাইরে শীতের শেষ দিকের বাতাসে কৃষ্ণচূড়ার শুকনো পাতাগুলো নড়ছিল , দূরের একটি বাড়ির ছাদে কাপড় শুকোতে দেওয়া , আর রাস্তার মোড়ে বাদামওয়ালা লোকটি তার টিনের কৌটায় বারবার হাত ঢুকিয়ে বাদাম ভাজছিল। নিলয়ের সামনে সাদা কাগজ , কালো কলম , পাশে এক কাপ ঠান্ডা চা। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে সে একটি বাক্য লিখতে চেষ্টা করছিল। বাক্যটি ছিল ,‘ মানুষ তার ভালোবাসার মানুষটিকে যতটা চেনে , তার চেয়ে বেশি চেনে নিজের ভালোবাসার প্রয়োজনটিকে। ’ প্রথমে বাক্যটি তার ভালো লেগেছিল। পরে মনে হলো , কথাটি খুব বেশি স্পষ্ট , যেন কোনো প্রবন্ধের উপসংহার। সে চ...