সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

প্রিয়তমা, তোমাকে আজও ভালোবাসি

  কফির পেয়ালায় চুমুক দিতেই বৃষ্টি ঝরল ,   তবে এ কোনো স্নিগ্ধ শ্রাবণ নয় , এ হলো আকাশের নীল বিষণ্ণতা থেকে ঝ ’ রে পড়া এক   গন্ধরাজ ;     যা ধুয়ে দিতে চায় আমাদের এই মেকআপ করা নাগরিক মুখের যাবতীয় কৃত্রিম হাসি আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে কোনো নক্ষত্র খুঁজিনি , খুঁজেছি এক অন্ধকার নর্দমার গভীরতা   ও তার পথ যেখানে ডুবে আছে আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনের ছোট ছোট সব বীভৎস আকাঙ্ক্ষা এই বৃষ্টি যখন কংক্রিটের   দেয়ালে   কামের মতো আছড়ে পড়ছে , তখন আমার কফির ধোঁয়া হ ’ য়ে ওঠে এক একটি নিষিদ্ধ ইশতেহার ; যা অস্বীকার ক ’ রে তোমার ওই সুগন্ধী   শরীর   আর পবিত্রতার ভণ্ডামিকে আমি চেয়েছি এই বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা এক একটি কুঠার হ ’ য়ে আমাদের মাথার খুলি চিরে ফেলুক ,   যাতে বেরিয়ে আসে সেইসব আদিম অন্ধকার , যা আমরা লুকিয়ে রাখি ইস্ত্রি করা   সাদা   পোশাকের ভাঁজে প্রেম তো আসলে এক ধরণের ধীরগতির   ঝড় হাওয়া ;   যেখানে চুম্বনের চেয়ে দংশন বেশি সত্য আর স্পর্শের চেয়ে ঘর্ষণ বেশি   তীব্র তুমি চেয়েছিলে এক পেয়ালা গরম কফি আর কিছু নিরাপদ   ছোঁয়া অথচ আমি দিতে...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

নীরা, তোমার জন্য ভালোবাসা - গল্প

  শীতের শেষভাগ। শহরের বুকের ভেতরেও তখন একধরনের ধূসর কুয়াশা লেগে থাকে , যেন আকাশও ঠিকমতো জেগে উঠতে চায় না। ভোরের আলো জানালার কাচে এসে পড়ে , তারপরও ঘরকে উষ্ণ করতে পারে না। এমন এক ভোরে , পুরোনো নীলচে ব্যাগটি কাঁধে তুলে নিল রায়হান। তার হাতে ছিল কয়েকটি বই , একটি খাতা , আর অনেক দিনের নীরবতা। ঢাকার এক প্রান্তে , বুড়িগঙ্গার কাছাকাছি পুরোনো লাইব্রেরিটির নাম ছিল ‘ অন্বেষা পাঠাগার ’ । নামের মতোই সেটি ছিল এক ধরনের খোঁজের জায়গা , কেউ জ্ঞানের খোঁজে আসত , কেউ একাকিত্বের , আর কেউ হারানো কিছুর। রায়হান সেখানে কাজ করত। কাজ বললেও সত্যিটা একটু অন্যরকম ; বই সাজানো , পুরোনো পাণ্ডুলিপি গুছিয়ে রাখা , লাইব্রেরির নথি ঠিক রাখা , এসবের ভেতর সে যেন নিজের জীবনকে খুব সতর্কভাবে ভাঁজ করে রাখত। রায়হানের জীবন খুব বড় ছিল না , কিন্তু খুব ছোটও ছিল না ; বরং ছিল অসম্পূর্ণতার এক নিখুঁত রূপ। তার বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। মুখে দাড়ির পাতলা রেখা , চোখে এক ধরনের ক্লান্ত কোমলতা , আর কথায় অল্পতা। যারা তাকে চেনেনি , তারা ভাবত সে নিশ্চয়ই স্বভাবতই গম্ভীর। কিন্তু যারা তাকে জানত , তারা বুঝত , সে গম্ভীর নয় , ভাঙা। কারণ তা...

আমার শহর ঢাকা

  ঢাকা , এই নামের মধ্যে আছে ইতিহাসের ধুলো , নদীর বিষণ্ন সুর , মানুষের ঘাম , ব্যস্ততার শ্বাস , আর অগণিত স্বপ্নের অস্ফুট জ্যোতি। এই শহরকে আমি কেবল একটি নগর হিসেবে দেখি না ; দেখি এক জীবন্ত সত্তা হিসেবে , যার বুকজুড়ে ছড়িয়ে আছে স্মৃতি , সংগ্রাম , প্রেম , ক্লান্তি , এবং অবিরাম চলমান জীবনের গান। ঢাকা যেন এমন এক কবিতা , যা কখনো ছন্দ মেনে চলে না , তবু তার প্রত্যেকটি পঙ্‌ক্তিতে ধরা প ’ ড়ে যুগের স্পন্দন। এই শহর কখনো আমাকে ক্লান্ত ক ’ রে , কখনো বিস্মিত ক ’ রে , কখনো আহত ক ’ রে , আবার কখনো অকারণেই গভীর মমতায় বু ’ কে টেনে নেয়। আমার কাছে ঢাকা তাই শুধু বাসস্থানের নাম নয় ; এটি অভ্যাস , অভিমান , ইতিহাস এবং ভালোবাসার এক জটিল অথচ অনির্বচনীয় সমষ্টি। ঢাকার সকাল আমার কাছে এক অনন্ত জাগরণের মতো। ভোর নামার আগেই এই শহর নড়ে ওঠে। দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি , রিকশার ঘণ্টি বাজে , রাস্তার মোড়ে চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠতে থাকে , আর ফুটপাতের নরম আলোয় শুরু হয় জীবিকার প্রথম যুদ্ধ। সূর্য ওঠার আগেই যেন শহর তার চোখ মেলে ফেলে , কোনো মৃদু স্বরে নয় , বরং এক অদম্য কোলাহলে। এই কোলাহলকে অনেকে অশান্তি বলে , কিন্তু আমি ...

বসন্তের গান থেমে গেছে

  বসন্তের গান থেমে গেছে গাছেদের ডালে , ঝরে পড়েছে পাতাগুলো , আর নেই কম্পমান কোনো নীরবতা। আমি হাতে ধরেছিলাম এক অদৃশ্য হাত   , তুমি ছিলে না , শুধু ছিল তোমার অসমাপ্ত উপস্থিতি। সব স্বপ্ন চিহ্নহীন হয়েই গেছে দৃষ্টির কোণে , হঠাৎ বুঝি   ,   আমি দাঁড়িয়েছিলাম শেষ দাঁড়াতে না পারার গভীরে নদীর ঢেউ ফিরে আসে না একবার থামলে , আমার হতাশা এসে পড়ে সেই বাঁকে , যেখানে আশা বলেছিল আর একটু অপেক্ষা কর , কিন্তু রোদেরা হাসল না   ,   শুধু শুনলো ভাঙা টিকেট হাতে শুধু লেখা আছে হয়ে যাওয়া হয়নি , আলোর বিন্দু গলে গেছে ছায়ার ভেতর , আর আমি বলি   ,   আমি চেষ্টা করেছি , কিন্তু তখনও পথ মেলে উঠেনি। ব্যর্থতা হয়ত শুধু শব্দ নয় , এটা সেই নীরব শুষ্কতা যা চোখে দেখা যায়।  

উঁচু বিল্ডিংয়ের জানালা

  উঁচু বিল্ডিংয়ের জানালা থেকে ভোর আসে একটু হেঁসে আমি দেখি , শহরের রঙ মুছে গেছে ধুলোয়। দুরন্ত রেল সাড়া দেয় বাজে একাকিত্বের সুরে , মানুষেরা উপার্জনের খোঁজে , হারিয়ে ফেলেছে তারা ? নৈঃশব্দ্য হয় রাতের বাস স্ট্যান্ডে , চোখে ভরা হোক অহরহ আলো , কি হয় না। শহর বলছে , আমি পরিবর্তন , কিন্তু কোথাও কেউ বলে না কি হারিয়ে গেছে রূপ ? ফুটপাতের পাশে একটি শিশুর সিকি-সিকি হাসি , এক টুকরো রুটির টুকরোর জন্য যুদ্ধ করছে শহর। আমি বসি একটি জনমানবহীন চেয়ারে , হারিয়ে যাওয়া সময়ের সঙ্গে সমান্তরে। গাড়িগুলো হারিয়ে নিয়ে যায় আমার একাধিক স্বপ্ন , আমি বলি , এই কি ছিলই না ভোরের অপেক্ষা ? শহর আকাশে লিখেছে নতুন নগরকথা , কিন্তু পাতাগুলো ঝরে পড়ছে গাছবিহীন রাস্তায়। যদি ফিরে আসে একটু মানবিকতা , তবে এই পাথুরে জায়গার মাঝেও উঠবে ফুলের হাসি। আমি স্বপ্ন দেখেছি , অল্প আলো , একটু গাছ , একজন মানুষ , নিঃসঙ্গ ভাবনা বলবে সত্যি কথা। শহর বসবে শান্তিতে , নিঃশব্দে হাসবে , আর আমি তোমার হাতে ধরব , নতুন দিনের দিকে।