সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

গ্রামের নাম বনমালীপুর- ছোট গল্প

  বনমালীপুর নামটি প্রথম শুনি এক বর্ষার রাতে , যখন শহরের আকাশে বৃষ্টি নেমেছিল এমনভাবে , যেন কারও পুরনো কান্না গলিপথ বেয়ে নেমে আসছে। আমি তখন ঢাকায় থাকি ; কাগজের পাতায় শব্দ সাজাই , কাটা-ছেঁড়া বাক্যকে সমান করি , আর নিজের জীবনকে যতটা সম্ভব শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখার ভান করি। কিন্তু মনের ভিতরে এমন কিছু জায়গা থাকে , যা কখনও শৃঙ্খলার অধীন হয় না। বনমালীপুর সেরকমই একটি নাম হ ’ য়ে উঠল , অজানা অথচ পরিচিত , দূরের অথচ অসম্ভব নিকটবর্তী। এই নামটি আমাকে দিলেন আমার মা। তিনি খুব কমই অতীতের কথা বলতেন। তাঁর মুখ ছিল এমনই শান্ত , যেন জীবনের বড় বড় ঢেউ বহু আগেই তাঁর ওপর আছড়ে পড়েছে , আর তার পর তিনি শুধু ভিজে কাপড় শুকানোর অপেক্ষায় বসে আছেন। একদিন হঠাৎ তিনি বললেন , ‘ তোর নানার বাড়ি ছিল বনমালীপুরে। ’ এতটুকুই। আমি জিজ্ঞেস করলাম , ‘ কেমন গ্রাম ?’ মা জানালার দিকে তাকিয়ে বললেন , ‘ নদীর কাছাকাছি। কাঁঠালগাছ আর বকুলফুলের গন্ধ থাকত। আর ছিল এক মেয়ে , যে গান গাইত। ’ তারপর তিনি চুপ ক ’ রে গেলেন। সেই ‘ এক মেয়ে ’ শব্দটি আমার ভেতরে অনেকদিন ধ ’ রে বেঁচে রইল। কে সে ? কী তার নাম ? কেন মায়ের কণ্ঠে সেই স্মৃতি এত ধীরে...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

রোদ ওঠার আগে

  রোদ ওঠার আগে চোখবন্দি ছিল ঘুমের ঢেউ , আমি দাঁড়িয়ে আছি সেই নীরব স্রোতের কাছে , তুমি কি শুনেছো চুপচাপ হাওয়ার কথা , যাতে মিশেছে ভাঙা প্রত্যাশার স্পর্শ ? পাতার নিচে শিশির জমে , রেখে গেছে এক শত প্রশ্ন , কেন ফিরে আসেনি আলো ? বলছে গাছফুল , আমি বলি , হে আলো , একটু থেমে যাও , দেখতে চাই তোমার মুখ কী রুপে ম্লান হয়েছে। শহরের রোদের খোলস ভেঙেছে , সঠিক রেখা হারিয়েছে , আমি তবু আঁকছি তোমায় একটা বিস্তৃত বিছানায় , হাত নেই দেওয়া , শব্দ নেই বলার , শুধু এই নিঃশ্বাস যা তোমার জন্য গান গায়। তুমি যদি এসো , বলব , চলে আসো , এই নীরব রাস্তায় , যেখানে আলো ঘুমিয়ে পড়েছে , আমাদের মুখোমুখি হবে চুপচাপ আনন্দ , যেখানে ভালোবাসা হবে একটি শব্দের নিচে ক্লিষ্ট।  

ঘড়ির কাঁটা

  ঘড়ির কাঁটা থেমে গেছে আজ , বাতাসে ভেসে আছে পুরনো গানের রেশ , আমি বলি , হৃদয়ের দরজায় নাই বসার সময় , তবু বেদনার নিঃশব্দতা এসে গেঁথে গেছে পাতায়। তুমি একটা খোঁজে খুঁজেছ , নদীর শেষে , আমি খুঁজেছি তোমার চোখে হারিয়ে যাওয়া আলো। বিলাসী বাতাস আজ ঘুরছে একা , চোখের সামনে পড়ে গিয়েছে ছায়ার রেখা। একটি ফুল ছিল আমার হাতে , তুমি ছিলে রঙিন শ্বাসে , আজ সে ফুল ম্লান , রঙের ঠিকানা হারিয়েছে। প্রেম হয় নীরব , নয় চিৎকার করে ,, তবে আজ সে নীরব হয়েও স্বপ্ন পড়ে যাচ্ছে ভাঙা টুকরোতে। শহরের আলো নিভে গেছে , মাটিতে পড়ে আছে একটি স্পর্শের ছাপ। আমি বলি , ভালোবাসি , তবু জানি , ভালোবাসাটাও হয়তো এখন শুধু স্মৃতি। তুমি আর আমি হয়েছি আলোর দুই টুকরো , যে আলো আজ ম্লান হ ’ য়ে গেছে দিনের শেষে।

হাতে ধরা এক নীরব চিঠি

  হাতে ধরা এক   নীরব   চিঠি , জানালা হেঁটে গেছে রাতের কোণে , চোখে জমে আছে একটি   আলোর   প্রতীক্ষা , যে আলোর পিছনে বিচ্ছুরিত হয়   মৃত্যুর   থমথমানি। তুমি ছিলে এক শূন্যতা , আকাশের অবসানবিন্দুতে , আমি হাঁটেছি মাটির   রেসে , তোমার দৃষ্টিলে ভেসে। পাতার নিচে শিশির জমে ,   শুনছে হিচকিতে ঘুম ভাঙার গান , আমি বলি , এসো ফিরে , তবু বাতাস বলছে , তুমি একা। প্রকৃতির নিঃশব্দতা ভেঙে ওঠে তো মার নাম জাপটে , এক ম্লান হাসি হয়ে হারিয়ে যায় সকালবেলায়। আমার হৃদয়ের ঘরে এখন শুধু একটি দরজা খোলা , প্রত্যাশার মুখ বন্ধ হয়ে গেছে   কালের   ব্যথায়। তুমি যদি ফিরে আসো , বলব , চল সামনে , হাতে তুলে দিব একটু   আলোর   বিন্দু , চুপচাপ বসে থাকি সঙ্গে , নীরবতায় , যেখানে শব্দের আর ঠাই নেই।  

আলো নিভে যায় যখন

  আলো নিভে যায় যখন , রাতের কোলে শুঁকে থাকা চিঠিগুলো শুনে যায় মৃদু নিশ্বাস , বাতাসের ছায়া ঘেঁষে চলে যায় , তুমি ছিলে এক অচেনা রূপে , হাত রাখি আকাশে , ছুড়ে দিই নিয়তির খসড়া‑বাতাসে। চলাফেরা থেমে যায় এক মুহূর্তে , চাবির শব্দ থামে, ঘড়ির কাঁটা দাঁড়াবে নিস্তব্ধে , শুধু থাকবে তোমার অদৃশ্য পদচিহ্ন , ঘুমিয়ে পড়া আলো , অলীক স্বপ্নের অদৃশ্য হাঁটা। আমার অন্তর খুলে দেয় এক গভীর দরজা , যেখানে গোপন প্রশ্ন গঠিত হয় , তুমি কি ফিরে আসবে ? বা আমি কি অপেক্ষা করব ? বারান্দার লালচে আলোয় ভেসে ওঠে স্মৃতির আলোকচ্ছায়া , তবু সায় নেই আলোতে , নেই ভাষায় , শুধু নিরবতার ছায়া। প্রকৃতি চুপ করে , পাতার নিচে শিশির জমে , শেষ হাওয়া বলে যায় , এবং তুমি বেঁচেছো , তাই বলি , আসো একসাথে , হাঁটি ধূসর রাস্তায় , চলুন সেই ভাঙা জানালাটিতে বসি , আলোর রেশ ধরে – তুমি আমি , নিঃশব্দে , অনন্তের কিছু অক্ষরে।    

দূরে কোথায়

  দূরে কোথায় ঘোরে তোমার চেয়ে আগ্রহ , আমি রেখেছি হৃদয়ের দরজায় তোমার জন্য। রোদ্দুর নেমে এসেছে মাথার ওপর , তবু তুমি নেই , হাত বাড়িয়ে ভাবি , হয়তো একটি ছায়াই তুমি , যা উড়েছে বাতাসে। প্রতিটি পলকে দেখেছি তোমার মুখর অনুভূতি , কিন্তু হঠাৎ বুঝি চোখ ভালোবাসা রাখে , তবু স্পর্শ ফিরে আসে না। একটি ফুল ছিল আমার হাতে , তুমি ছিলে হাসির দানে , আমি দিয়েছিলাম ফুল , তুমি দিয়েছিলে একটি মৃদু দৃষ্টি , যা আজ বৃষ্টি হ ’ য়ে পড়ছে মাটিতে। ভালোবাসা শুধু পাওয়া নয় , দেওয়া , আমি দে খি, তুমি নিয়েছো চুপচাপ। আজ আমি বলব , ধন্য আমি , তোমার স্মৃতির সঙ্গে বসে চোখ বন্ধ করে শুনি , হাওয়ার গায়ে তুমি হাসো। তুমি যদি ফিরে আসো , আমি রাখব একটু ঘুমিয়ে , হাতে তোমার হাত ধরা থাকবে , নিরব রাত্রি আমাদের সাক্ষী হ ’ য়ে।

রাতের নীরবতায়

  রাতের নীরবতায় তোমার নাম গুঞ্জরিত হয় , চাঁদের হাসিতে ভেসে আসে তোমার মুখের রেখা। হাওয়ার মৃদু স্পর্শে মিশে যায় তোমার কথা , আমি শুনি , তোমার ক্ষণিক শ্বাসের দোলাচল। তুমি ছিলে এক অদৃশ্য আলো , আমি ছিলাম অপেক্ষার ধূসর কোণা। আলোর চেয়েও ম্লান হ ’ য়ে গেছে আমার আশা , তবু বুকের গভীরে থেকে যায় একটি সংকেত , তুমি এসো ফিরে , বললে যদি , সময় থেমে যাবে , বাতাস ঘোরাধোরা থামবে। আমি হাত সম্প্রসারিত করে বলব , এখানেই থাকো , নীরবতায় আঁকা আমাদের ছায়া হ ’ য়ে। তুমি যদি না আসো , তবু আমার হৃদয়ে থাকবে এক মৃদু হাসি , যেটা বলবে , তুমি ছিলে এই ভোর‑রোদ্দুরে , এই নিশি‑বাতাসে। ভালোবাসা হয় নীরব , কিন্তু ব্যর্থ হয় না , আমি চেয়েছি , চেয়ে যাব , তোমার আলোয় ভেসে ওঠা প্রতিটি স্বপ্নে।