সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

শহরের আলো নিভে গেছে

  শহরের আলো নিভে গেছে , কিন্তু রাত ঘুমায় না আমি দেখি আকাশে একটি ক্ষীণ তারা জ্বলছে তোমার চোখের মতো , অল্পদীর্ঘ সময়ের জন্য আমি ধরি সেই ক্ষণ , হাত বাড়িয়ে বলি , এই যে তবু তুমি ফিকে হয়ে গেছো স্মৃতিতে যেখানে শব্দ নেই , শুধুই একটা গাঢ় নীরবতা বাতাসে মিশে আছে তোমার উজ্জ্বল স্মৃতি আমি শুনি , পাখির গান বলে যায় , সে এখন কোথায় ? হাত বুলায় মাটির ফাটল , স্মৃতির দাগ ধরে , আমি বলি , তুমি এসো আবার আমার বুকে এই পথচিহ্নে , যেখানে রোদ নেই , ছায়া নেই , শুধু ভালোবাসার এক দীর্ঘশ্বাস আমরা এখন আলাদা দুই রেখা হয়ে গেছি , তবু একই পৃষ্টায় লেখা হয়ে আছে , চলে আসো , এই শব্দটার মধ্য দিয়ে ভালোবাসা ফিরে ফিরে আসে।
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

চোখের পলকে

  চোখের   পলকে থেমেছে   এক   অজানা   সন্ধ্যা , শহরের আলো নিভে গেছে ধীরে ধীরে , আমি হাঁটছি কোমল বাতাসে , যেখানে শব্দ হারিয়ে যায় ছায়ার খোঁজে তুমি ছিলে না হয়তো   ,   তবু তোমার আলো ঢেউ তুলেছে হৃদয়ে , পাতার নিচে বাঁচে এক বিন্দু‑আলো , যা বলছে   ,   তুমি এসো ,   আর   একবার প্রাণে রাস্তাগুলো ম্লান হয়ে পড়েছে , কিন্তু তোমার স্মৃতির রঙ এখনও জীবন্ত , আমি বহন করি বসন্তের মতো এক   অদৃশ্য ফুল , যার পাপড়িতে লেখা আছে   ,   ভালোবাসা চুপিয়ে ওঠে হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করি না ,   উজ্জ্বল কোনো রোদ শুধু অনুভব করি   ,   তোমার নিঃশব্দ উপস্থিতি আবার যদি দেখা হয় , বলব   ,   চলে আসো , চুপচাপ বসি তোমার গায়ে আলো মেখে , রাস্তায় মিশে যাই আলো‑ছায়ার মাঝ দিয়ে , যেখানে ভালোবাসা হয় কথার চেয়ে গভীর।

মেঘেদের গায়ে

  মেঘেদের গায়ে লেখা রয়েছে এক গল্প , যেখানে তুমি ও আমি কখনো ছিলাম না হাওয়ার স্পর্শে ফুল গোঁজে দেবে আর হবে না , তবু সেই স্পর্শে বেঁচে আছে আমাদের একটা শ্বাস শহর ঘুমিয়ে পড়ে , আলো নিভে যায় , আমি খুঁজে পাই সে আলোর পিছনে তোমার নাম হাত নেই নেওয়ার , শব্দ নেই বলার , স্পর্শ নিঃসঙ্গ শুধু আছে অনুভব , চোখ বন্ধ করলেই ফিরে আসে তুমি ছিলে একটি নদীর মতো , শান্ত , গভীর , আমি ছিলাম তার তীরে দাঁড়ানো এক নির্জন পথিক বঙ্গে­র রোদ্দুর চলে যায় , রাত আসে ডেকে , তবু আমি বলব   ,   তুমি আমার হ ’ য়ে থেকো , হাতে ধরে রাখব তোমাকে এক শতাব্দী যাবত যা কখনো থামে না , ভালোবাসার তরঙ্গ হ ’ য়ে রাস্তায় এক টুকরো চাঁদ আলো দেয় আমরা মিলব সেই   যমজ ‑বিন্দুতে , বলব   ,   সব ঠিক আছে , চুপচাপ , হাসিমুখে , প্রেমের নিঃশব্দ প্রতিজ্ঞায়।

নক্ষত্র ও কালো বৃষ্টি- বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী

  আকাশটা যখন বদলাতে শুরু করল , তখন কেউ প্রথমে বুঝতেই পারেনি। শহর জেগে ছিল আগের মতোই , নিয়ন বাতি , উঁচু সেতু , দেয়াল-ঘেঁষা চলমান ট্রেন , উড়ন্ত বিজ্ঞাপনপর্দা , আর মানুষের মুখে সেই চিরচেনা তাড়াহুড়ো। কিন্তু সূর্য ডোবার ঠিক আগে পশ্চিমের দিগন্তে যে রঙ উঠল , তা ছিল অস্বাভাবিক। লাল নয় , কমলা নয় , সোনালি নয় , এক ধরনের ধূসর নীল , যেন জ্বলন্ত কাঁচের ভেতর সমুদ্রের জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে। শহরের আবহাওয়া দপ্তর প্রথমে বলল , এটি উচ্চস্তরের ধূলিকণার অদ্ভুত প্রতিফলন। বিশ্ব-পর্যবেক্ষণ সংস্থা বলল , এটি সাময়িক বায়ুমণ্ডলীয় বিচ্যুতি। আর বৃদ্ধরা বলল , আকাশেরও কখনও জ্বর হয়। এটা বোধ হয় তাই। কিন্তু আমি জানতাম , সেটি জ্বর ছিল না। সেটি ছিল প্রথম লক্ষণ। আমার নাম আরিফ সায়েম। বয়স তিরিশের সামান্য ওপরে। পেশায় আমি বায়োসিগন্যাল বিশ্লেষক , সোজা বাংলায় , মানুষের শরীর আর মস্তিষ্কে থাকা সূক্ষ্ম তরঙ্গের প্যাটার্ন নিয়ে কাজ করি। শহরের প্রধান হাসপাতাল থেকে আমাকে এক অদ্ভুত প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছিল , নাম ‘ ইকো-নক্স ’ । প্রকল্পটি গোপন ছিল , এমনকি সরকারি নথিতেও তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমাদের কাজ ছিল মানুষের স্মৃতি , আব...

ছায়া-ঘর- ভৌতিক গল্প

  গ্রামের নাম ছিল নৈরাশপুর। নামের মতোই জায়গাটা যেন আশা-হীন, নিঃশব্দ, আর ধূসর। বর্ষার শেষে সেখানে কুয়াশা নামে হঠাৎ, মাটির গন্ধ ওঠে, আর রাত নামলে মনে হয় অন্ধকারটা শুধু আকাশ থেকে নয়, গাছের ফাঁকফোকর, কাঁচা রাস্তা, এমনকি মানুষের বুকের ভেতর থেকেও বেরিয়ে আসে। অনেকটা সুনসান নিরাবতা। নৈরাশপুরের শেষ প্রান্তে একটি পুরোনো দোতলা বাড়ি। সবাই তাকে বলত ছায়া-ঘর। আসল নাম কেউ আর মনে রাখেনি। অনেক বছর আগে এক জমিদার এই বাড়ি তৈরি করেছিলেন। পরে তার ছেলে, বউ, চাকর, খাজাঞ্চি, এক এক করে সবাই মারা যায়। তারপর বাড়িটা খালি পড়ে থাকে। কেউ বলত, রাতে সেখানে বাতি জ্বলে। কেউ বলত, সিঁড়িতে এক অচেনা মেয়ের পা-র শব্দ শোনা যায়। কেউ আবার বলত, বাড়ির পেছনের কুয়োর কাছে দাঁড়ালে নিজের নামটা নিজের গলায় শোনা যায়। অনেক কালো ছায়া চারিদিকে ঘুরাঘুরি করে। এই সব কথা শহর থেকে আসা লোকেরা হাসাহাসি ক’রে উড়িয়ে দিত। কিন্তু গ্রামের মানুষ হাসত না। তারা পথ বদলাত, সন্ধ্যার পর ছায়া-ঘরের দিক তাকাত না, আর বাচ্চাদের শাসন করত, ‘ওদিক যাস না। শহরের ছেলে রবীন এসব বিশ্বাস করত না। তার নিজের উপর খুব দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। রবীন ছিল ফটোগ্রাফার। পুরোনো বাড়ি, প...