ফরাসি সাহিত্যের দিগন্ত এতটাই বিস্তৃত যে, এর প্রতিটি পর্যায় একেকটি মহাকাব্যিক আখ্যানের দাবি রাখে এবং আপনি যখন কোনো নির্দিষ্ট ছেদ বা অনুচ্ছেদ ছাড়া এর গভীরে প্রবেশ করতে চান তখন আমাদের যাত্রা শুরু করতে হয় সেই আদি লগ্ন থেকে; যেখানে লাতিন ভাষার ধ্বংসাবশেষ থেকে জন্ম নিয়েছিল এক নতুন বিদ্রোহী ভাষা, যা দশম শতাব্দীতে 'কাস্টিলিওন' বা 'প্রোভেনসাল' ঢঙে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করেছিল এবং সেই আদি যুগের 'শাংসঁ দ্য জেস্ত' বা বীরত্বগাথাগুলো ছিল মূলত মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, যা চারণ কবিরা প্রাসাদে প্রাসাদে গেয়ে বেড়াতেন, যার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ 'দ্য সং অফ রোল্যান্ড' যেখানে দেশপ্রেম ও বীরত্বের এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায় এবং দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতে যখন নাইটদের শৌর্যবীর্য এবং অভিজাত নারীদের প্রতি তাদের নিবেদিত প্রেমের কাহিনীগুলো 'কোর্টলি লাভ' হিসেবে জনপ্রিয় হ’তে শুরু করল তখন থেকেই ফরাসি সাহিত্যে রোমান্টিকতার বীজ রোপিত হয়েছিল যা পরবর্তীতে ত্রেতিয়ঁ দ্য ত্রোয়া-র হাত ধ’রে আর্থারীয় কিংবদন্তিগুলোকে এক নতুন রূপ দান ক’রে এবং মধ্যযুগের শেষভাগে যখন সমাজ ও ধর্মের গোঁড়...
ফরাসি সাহিত্য, কেবল একটি ভাষার প্রকাশ নয় বরং এটি বিশ্ব সভ্যতার চিন্তা ও দর্শনের এক জীবন্ত ইতিহাস। যা মধ্যযুগের বীরত্বগাথা থেকে শুরু ক’রে আজকের উত্তর-আধুনিক কাল পর্যন্ত তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। এবং ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত লাতিন ভাষার বিবর্তনের মাধ্যমে; যেখানে ওল্ড ফ্রেঞ্চ বা প্রাচীন ফরাসি ভাষায় লেখা প্রথম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হিসেবে আমরা পাই ‘স্ট্রাসবার্গ ওথস’, এবং পরবর্তীতে একাদশ শতাব্দীতে রচিত বীরত্বব্যঞ্জক কবিতা ‘লা শানসঁ দ্য রোলঁ’ যা শার্লেমেনের বীরত্বের কাহিনী বর্ণনা ক’রে, এবং এই সময়কালে বীরত্বের পাশাপাশি ‘কোর্টলি লাভ’ বা সভাসদীয় প্রেমের ধারণা নিয়ে রচিত হ’তে থাকে অসংখ্য রোম্যান্স যা মূলত নাইটদের বীরত্ব ও ত্যাগের গল্প শোনাত। এবং এরপর ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে জঁ দ্য মেন-এর ‘রোমান দ্য লা রোজ’ এর মতো রূপক ধর্মী সাহিত্য মধ্যযুগীয় ফরাসি সমাজ ও দর্শনের দর্পণ হ’য়ে ওঠে। তবে ফরাসি সাহিত্যের প্রকৃত আধুনিক ভিত্তি স্থাপিত হয় রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সময়কালে; যখন ষোড়শ শতাব্দীতে মানবতাবাদীদের আবির্ভাব ঘটে এবং ফ্রঁসোয়া রাবলে তার ‘গার্গান্তুয়া ও পান্তাগ্রুয়েল’ ...