বৃষ্টির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক খুব অদ্ভুত। কেউ বৃষ্টিকে ভালোবাসে কারণ সে পৃথিবীকে ধুয়ে দেয়, কেউ বৃষ্টিকে ঘৃণা করে কারণ সে পুরোনো স্মৃতিগুলোকে ভিজিয়ে আবার জীবন্ত করে তোলে। নীরা বৃষ্টি ভালোবাসত না, অথচ তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ দুজনই এসেছিল বৃষ্টির দিনে। একজন এসেছিল তাকে ভালোবাসতে শেখাতে, আর অন্যজন এসেছিল তাকে বুঝিয়ে দিতে যে ভালোবাসার সবচেয়ে গভীর রূপটি কখনো কখনো উচ্চারণ করা যায় না। সেই দুজনের নাম ছিল অর্ক ও রুদ্র। আর নীরা জানত না, মানুষের হৃদয় কখন কোন নামে নিজের দরজা খুলে দেয়। ঢাকার আকাশে সেদিন দুপুর থেকেই কালো মেঘ জমেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ক্লাস শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টি শুরু হলো। সবাই ছুটে বেরিয়ে গেল, কেউ ছাতা খুলল, কেউ ব্যাগ মাথায় দিয়ে দৌড়াল, কেউ করিডোরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে বৃষ্টির ছবি তুলতে লাগল। নীরা দাঁড়িয়ে ছিল পুরোনো কলাভবনের বারান্দায়। তার হাতে একটি বই, বইটির ভেতরে শুকনো কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি। সে জানত না কেন সেদিন তার মনে হচ্ছিল, জীবনে খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। মানুষের মন কখনো কখনো ভবিষ্যতের গন্ধ পায়, যদিও সে ভবিষ্যৎ দেখতে পারে না। ঠিক তখনই তার পাশে এসে দাঁড়াল একটি ...
শীতের রাতের কুয়াশাটা সেদিন এতই ঘন ছিল যে হাত বাড়ালে নিজের আঙুলগুলোকেও আবছা দেখাত। উত্তর দিক থেকে আসা হাড়কাঁপানো বাতাস যেন চামড়া ভেদ করে হাড়ের মজ্জায় গিয়ে বিঁধছিল। ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা বেজে পঁয়তাল্লিশ। ঢাকা শহরের উত্তরার জসীমউদ্দীন অ্যাভিনিউয়ের মোড়ের পুরনো বাসস্ট্যান্ডটি ফাঁকা, আলো-আঁধারিতে রহস্যময়। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা কুয়াশার চাদরে আটকে গিয়ে এক অদ্ভুত, ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করেছে। তন্ময় দাঁড়িয়ে ছিল শেডের নিচে, তার পাতলা জ্যাকেটের পকেটে দুই হাত গুঁজে। তার ঠোঁট দুটো ঠান্ডায় হয়ে গেছে, আর মুখ থেকে বের হওয়া নিঃশ্বাস জমাট বেঁধে ধোঁয়া হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। শেডের টিনের চালে শেষ রাতের বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ শব্দে ঝরে পড়ছে। সে অপেক্ষা করছিল শেষ বাসটার জন্য। আজকের রাতটা তার জীবনের অন্যতম এক কঠিন রাত। চারুকলা ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্র তন্ময়, সারা দিন ধরে ক্যানভাসে একটা সঠিক রঙ মেলাতে না পেরে ভেতরে গভীর এক হতাশা আর শূন্যতা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। চিত্রশিল্পী হিসেবে তার ভবিষ্যৎ কী, নিজের অস্তিত্বের অর্থ কী, এসব দোলাচলে তার মনটা তছনছ হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই কুয়াশার ভেতর থ...