কুশারীবংশের জয়রাম ঠাকুরের কনিষ্ঠ সন্তান গোবিন্দরাম ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় খুলনার দক্ষিণডিহি গ্রামের নন্দরাম গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে রামপ্রিয়া দেবীর। গোবিন্দরামের মৃত্যুর পর; রামপ্রিয়া দেবী তাঁর বিষয়-সম্পত্তি গোবিন্দরামের ভাইদের কাছ থেকে আলাদা করে নেন আইনের আশ্রয়ের মাধ্যমে। রামপ্রিয়া দেবীর ভ্রাতুষ্পুত্র জগন্মোহনকে তিনি লালনপালন করতে শুরু করেন। রামপ্রিয়া দেবী, তাকে কলকাতার ‘হাড়কাটা’ এলাকায় নিজ উদ্যোগে একটি বাড়ী তৈরি করে দেন। তিনি জগন্মোহনকে বিয়ে দেন দ্বারকানাথ ঠাকুরের মামা কেনারাম রায়চৌধুরীর মেয়ে শিরোমণির সাথে। ঠাকুর পরিবারের সাথে রামপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক ছিল পূর্ব থেকেই। কুশারীবংশের পঞ্চানন ঠাকুর ছিলেন জোড়াসাঁকোর ঠাকুরদেরও পূর্ব আদিপুরুষ। এই বিয়ের মাধ্যমে আবার যেন সম্পর্কের প্রাণ পেল। ভোজনরসিক, সুস্বাস্থ্যর অধিকারী জগন্মোহনের সঙ্গীতপ্রীতি ছিল অসাধারণ। সঙ্গীতের একজন যথার্থ সমজদার ব্যক্তি হিসেবে সেকালে তাঁর নাম ফুটে উঠেছিল চতুর্দিকে। জগন্মোহনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় রসিকলালের দুই মেয়ের বিয়ে হয় দ্বারকানাথ ঠাকুরের ভাগ্নে ও দাদার পৌত্রের সঙ্গে। ঠনঠনের শশিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে ত্...
আমার কৈশোরটা কিভাবে এসেছিল ? সে কি এসেছিল মেঘে ভর ক’রে কালো রঙে সম্পূর্ণ আকাশটা কেঁপে-কেঁপে; না, এসেছিল সাদা আকাশের বু’কে নীল রঙ মাখিয়ে। সে রঙ কি ছড়িয়ে দিবে তার মতো ক’রে আমার বুকেও ! আমার রৌদ্রজ্জ্বল বুকের গভীরে , সে-কি জমে রবে আরও নিবিড় আর হিমশীতল হ’য়ে। অনেকগুলো সকালই এসেছিল আমার কৈশোর জীবনে। আমি কি মনে রেখেছি আমার কৈশোর জীবনের সবগুলো সকালের কথা ? সব সকাল কি একইভাবে এসেছিল আমার ওই ক্ষুদ্র জীবনে ! তারা কি একই ভাবে নাড়া দিয়েছিল আমাকে ! আমি, আমার কৈশোরের সব সকালের কথা মনে করতে পারি না; সব সকালের কথা আমার মনে পড়ে না। আমি বেঁড়ে উঠতে থাকি ক্রমান্বয়ে; কৈশোরকে পিছে ফেলে আমি এগিয়ে যাই আরও সামনের দিকে। অনেকগুলো দিন আর সকাল-সন্ধ্যা জড়িয়ে পড়ে আমার জীবনের সাথে। বৈশাখ, আষাঢ় শ্রাবণ গেঁথে থাকে তার অভ্যন্তরে। যেগুলো গেঁথে রয়েছে আমার আঁখিকোণে; তার স্মৃতি আর গভীর সৌন্দর্য, মাঝে মাঝে বিহ্বল ক’রে তোলে আমাকে। আমি কৈশোরে বেঁড়ে উঠি অনেকগুলো অপার সৌন্দর্যের মধ্যে দিয়ে। মাঘের বাতাস থেকেও বেশি কাঁপন জাগায় আমার মধ্যে, সেই কৈশোরে হারানো স্মৃতিগুলো। তাই মাঝে মধ্যে আমি যখন একা থাকি ফিরে যাই মিষ্টি মধু...