শীতের রাতের কুয়াশাটা সেদিন এতই ঘন ছিল যে হাত বাড়ালে নিজের আঙুলগুলোকেও আবছা দেখাত। উত্তর দিক থেকে আসা হাড়কাঁপানো বাতাস যেন চামড়া ভেদ করে হাড়ের মজ্জায় গিয়ে বিঁধছিল। ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা বেজে পঁয়তাল্লিশ। ঢাকা শহরের উত্তরার জসীমউদ্দীন অ্যাভিনিউয়ের মোড়ের পুরনো বাসস্ট্যান্ডটি ফাঁকা, আলো-আঁধারিতে রহস্যময়। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা কুয়াশার চাদরে আটকে গিয়ে এক অদ্ভুত, ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করেছে। তন্ময় দাঁড়িয়ে ছিল শেডের নিচে, তার পাতলা জ্যাকেটের পকেটে দুই হাত গুঁজে। তার ঠোঁট দুটো ঠান্ডায় হয়ে গেছে, আর মুখ থেকে বের হওয়া নিঃশ্বাস জমাট বেঁধে ধোঁয়া হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। শেডের টিনের চালে শেষ রাতের বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ শব্দে ঝরে পড়ছে। সে অপেক্ষা করছিল শেষ বাসটার জন্য। আজকের রাতটা তার জীবনের অন্যতম এক কঠিন রাত। চারুকলা ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্র তন্ময়, সারা দিন ধরে ক্যানভাসে একটা সঠিক রঙ মেলাতে না পেরে ভেতরে গভীর এক হতাশা আর শূন্যতা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। চিত্রশিল্পী হিসেবে তার ভবিষ্যৎ কী, নিজের অস্তিত্বের অর্থ কী, এসব দোলাচলে তার মনটা তছনছ হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই কুয়াশার ভেতর থ...
শহরের সমস্ত আলো নিভে গেলে আমি তোমার কথা ভাবি, যেন বহুদিন হারিয়ে যাওয়া কোনো নদী হঠাৎ নিজের উৎসের নাম মনে করেছে তুমি তখন কোথায় থাকো? কোন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অন্য কোনো আকাশের দিকে তাকাও? তোমার চুলে কি এখনও বাতাস নামে তোমার চোখে কি এখনও কোনো অসমাপ্ত বিকেলের রোদ জমে থাকে? আমি জানি না আমি শুধু জানি, তোমাকে ভালোবাসার পর আমি আর আগের মানুষটি নেই আমার ভেতরে যে নির্জনতা ছিল, তারও এখন একটি মুখ আছে সে মুখ তোমার কখনো কখনো মনে হয় তোমাকে পাওয়ার জন্য নয়, তোমাকে হারাবার ভয় নিয়েই আমি জন্মেছিলাম পৃথিবীতে তাই প্রতিটি বিদায়ের মধ্যে আমি মৃত্যুর শব্দ শুনি, প্রতিটি নীরবতায় তোমার না-বলা কথাগুলো আমার বুকের ভেতর নীরবে ব’য়ে চলে গভীর শূন্যতা তবু আমি তোমাকে দোষ দিই না, প্রেম তো কারও জন্য অপেক্ষা করে না, প্রেম শুধু একটি দরজা খুলে রেখে সারারাত অপেক্ষা ক’রে তুমি যদি কোনোদিন ফিরে আসো, দেখবে আমি হয়তো বদলে গেছি, চুলে সময়ের ধুলো, চোখে ক্লান্তির ছায়া; কিন্তু তোমার জন্য রেখে দেওয়া আমার হৃদয়ের সেই ছোট্ট ঘরটি এখনও আলো জ্বেলে রেখেছে এসো না, কোনো প্রতিশ্রুতি ন...