সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

রক্তিম পাণ্ডুলিপি

  শহরের এই নিস্তব্ধতায় কেবলই তোমার পায়ের শব্দ, বিকেলের রোদে আজো যেন লেগে আছে মিষ্টি গন্ধ তুমি কি শুনেছ কোনোদিন সেই নিভৃত বুকের গান? যেখানে হাহাকার হ’য়ে মিশে আছে সব ব্যবধান   জানালার পর্দা উড়ছে একাকী শ্রান্ত বাতাসের টানে, আমার এই নিঃসঙ্গতা আজ কোনোই অভিধান না জানে স্মৃতির ধূলোয় ঢাকা পড়েছে প্রিয় সেই বইয়ের মলাট, প্রেম তো কেবলই ছিল এক বিমূর্ত স্মৃতির কপাট রাস্তার ওই নিয়ন আলোয় ঝরছে বিষণ্ণ রূপালি জল, হৃদয়ে জমেছে আজ কতশত অযাচিত কোলাহল মনে পড়ে কি সেই কফিশপের নির্জন কোনো এক কোণ? যেখানে আমরা বুনেছিলাম স্বপ্নের অদ্ভুত এক বিরাট বন আজ সেই বন পুড়ে ছাই, কেবলই ধূসর মরুভূমি, আমায় ফেলে বহুদূরে নীল দিগন্তে হারিয়েছ তুমি পায়ের নিচে শুকনো পাতার মড়মড় করা এই বিলাপ, অতীতের পাতায় জমে আছে যত অলিখিত মনস্তাপ আবারও কি হবে দেখা কোনো এক মেঘলা দিনের শেষে? নাকি হারিয়ে যাবে চেনা ছবিগুলো স্মৃতির ছদ্মবেশে? রক্তিম এই পাণ্ডুলিপিতে আজ কেবলই শূন্যতারই বাস, প্রতিটি নিশ্বাসে মিশে আছে গোপন এক দীর্ঘশ্বাস তবুও এ শহর জেগে থাকে একাকীত্বের নীরব মায়ায়, আমি রয়ে যাই তোমার ফেলে যাওয়া ওই শীতল ছায়ায় সময় বয়ে যা...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

স্মৃতির কার্নিশ

  শহরের এই ধূসর সন্ধ্যায় ঝরছে কেবল হিম, চায়ের কাপে চেনা ধোঁয়াটুকুও আজ বড়ই নিঃসীম। জানালায় রাখা ক্যাকটাস   কি আজও ফোটে? নাকি সেই পুরনো গলিটি হারিয়েছে মেঠো ঠোঁটে? তোমার চিবুকে জমে থাকা সেই শান্ত বিকেলের রোদ, আমার একাকী বারান্দা জুড়ে আজও ভীষণ অবরোধ। মনে পড়ে কি সেই ব্যস্ত সড়কের ক্লান্ত চাকার গান? বিবর্ণ স্মৃতির ভিড়ে আজও আমাদেরই ব্যবধান বইয়ের ভাঁজে শুকিয়ে যাওয়া সেই নীল অপরাজিতা, এখনও কি শোনায় সে কোনো হারানো দিনের কবিতা? তুমি নেই বলে শহরের আলো বড় বেশি ঝিকমিক, পথহারা এই নির্জনতায় আমি আজ দিগ্বিদিক বিকেলের সেই কড়িকাঠ জোড়ে বিষণ্ণ ছায়াতরু, আমাদের প্রেম ছিল যেন এক মরুর বালুচরু চিত্রা নদীটি আজ আর আগের মতো তো বয় না, আমার এ বুক পুরনো চিঠির শোক আর সয় না দেয়াল ঘড়ির প্রতিটি টিকটিক বড় বেশি বিদ্রূপ, অন্ধকারে একাকী আমি বসে আছি যেন নিশ্চুপ আয়নায় ভাসে পরিচিত সেই হারানো দিনের ছায়া, পৃথিবীটা যেন কেবলই এক অদ্ভুত নিষ্ঠুর মায়া আবারও যদি ফিরত সেসব বৃষ্টির শব্দমুখর দিন, শোধ করে দিতাম হৃদয়ে জমে থাকা যত পুরোনো ঋণ অথচ এখন নিস্তব্ধতায় ঘেরা এই ঘর আর মন, তুমিহীন এই নগরীতে আমি বড় একা একজন।

নৈশভোজের নিস্তব্ধতা

  রাত্রির এই গাঢ় নীলিমায় একা জ্বলে নোনা বাতি, আমাদের হৃদয়ে এখন কেবলই আদিম এক দীর্ঘ পথ তুমি আর আমি পাশাপাশি বসি যেন দুই দ্বীপান্তর, মাঝখানে শুয়ে আছে এক বিবর্ণ শীতল সম্পর্ক শরীরের রেখায় আজ আর ফোটেনা কোনো সুঘ্রাণ, বরং সেখানে বিঁধে আছে নাগরিক এক তীব্র ব্যবধান চায়ের কাপে জমাট বেঁধেছে মৃত সময়ের কালো বিষ, স্মৃতির কার্নিশে বসে ডাকে এক বিষণ্ণ রাতজাগা পাখি দেয়াল ঘড়ির প্রতিটি কাঁটা যেন বিদ্রূপের ধারালো নখ, খুঁড়ে বের করে আনে আমাদের যত পুরনো নষ্ট স্মৃতি তুমি চেয়ে আছো জানালার দিকে, যেখানে বৃষ্টি ঝ’ড়ে আমি খুঁজি আয়নায় আমারই ভেতরে অন্য কারোর ছায়া প্রেম কি তবে কেবলই এক শরীরের জ্যামিতিক খেলা? নাকি অবচেতনে জমে থাকা এক ক্লান্ত শেষের বেলা? পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আমাদের যত প্রাচীন পাপ, অন্ধকারে জন্ম নেয় এক অসহ্য মন্থর অনুতাপ বইয়ের আলমারিতে আজ ধুলো জমে স্তরে স্তরে, শব্দরা কাঁদে নির্জনে, যেন ঝরে পড়ে নিভৃত অশ্রু আমরা কি তবে কেবলই ছায়া, এই নগরের কংক্রিট ভিড়ে? যেখানে হাহাকার ফিরে আসে বারংবার নিজেরই ছায়ায় রক্তে আজো বাজে সেই ফেলে আসা তৃষ্ণার তীব্র সুর, অথচ গন্তব্য থেকে গেছে বহুকাল আগে বড় ...

স্বর্ণকুমারী দেবী: বাঙলা সাহিত্যের প্রথম নারী ঔপন্যাসিক

রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত ভাইবোন ছিলেন দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪০-১৯২৬), সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪২-১৯২৩), জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৪৯-১৯২৫) এবং স্বর্ণকুমারী দেবী (১৮৫৬-১৯৩২)। রবীন্দ্রনাথের পাশাপাশি; তাঁরা সবাই জড়িত ছিল শিল্প-সাহিত্যে ও সংস্কৃতি পরিবেশের সাথে। ভাইদের মধ্যে কেউ ছিল চিত্রশিল্পী; বোন ছিল লেখক। রবীন্দ্রনাথের জ্যোতির্ময় আলোয়; তাঁদের মেধা আর প্রাজ্ঞতা যেন অনেকটা ম্লান হ’য়ে আসে, তারপরও তাঁরা থেমে থাকেননি; এগিয়ে গেছেন আপন মহিমায়। রবীন্দ্রনাথ থেকে পাঁচ বছরের বড় ছিলেন স্বর্ণকুমারীদেবী। জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারেই স্বর্ণকুমারীদেবীর জন্ম। তিনি ছিলেন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮১৭-১৯০৫) চতুর্থ কন্যা। তাঁর শিক্ষা শুরু হয় তৎকালীন ঠাকুর পরিবারের রীতি অনুযায়ী। ব্রাহ্ম সমাজ প্রবর্তিত অন্তঃপুরে স্ত্রী শিক্ষা আইন তাঁর উপর অর্পিত হ’য়ে উ’ঠে অনেকটা। পরবর্তীতে, ভাই সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে গ্রহণ করেন আদর্শ শিক্ষা। এ-ছাড়াও শিক্ষকগণের মধ্যে নাম আসে তত্ত্ববোধনী পত্রিকা’র সুদীর্ঘ দিনের সম্পাদক অযোধ্যানাথ পাকড়াশী। যার কাছে শুধু স্বর্ণকুমারী দেবী নয়, জ্ঞানদানন্দিনীসহ ঠাকুর পরিবারের অন্যা...

হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যের ভাবধারা ও শব্দবিন্যাস-৫

‘আব্বার খোলায় ধান মায়ের কোলেতে আমি একই দিনে একই সঙ্গে  এসেছিলাম। আড়িয়ল বিল থেকে সোনার গুঁড়োর মতো বোরোধান এলো, ঘোড়ার পিঠের থেকে ছালার ভেতর থেকে গড়িয়ে পড়লো লেপানো উঠোনে, তখনি আতুর ঘরের থেকে দাদি চিৎকার ক’রে উঠলেন, রাশু, রাশু, তোর ঘরে এইবার সোনার চানই আইছে।’ হুমায়ুন আজাদ, তাঁর এ কবিতাটির নাম রাখেন ‘হুমায়ুন আজাদ’। তিনি নির্বাচন করেন এ রকম একটি নাম। যা কবিতা থেকে ব্যক্তি হুমায়ুন আজাদকে বেশি প্রকাশ ক’রে। কবিতাটি দেখা দেয় আত্মস্মৃতিচারণ হ’য়ে; যার মাঝে আমরা পাবো একজন মানুষকে, একজন সৌন্দর্যময় কবিকে, সর্বোপরি একজন নিঃসঙ্গ মানুষকে। যেহেতু কবি মাত্রই নিঃসঙ্গ। দীর্ঘ এ কবিতাটি শুধু ব্যক্তি স্মৃতিচারণ নয়; বরং দেখা দেয় বাঙলাদেশের বেড়ে উঠার ইতিহাস। যেখানে আমরা পাবো ‘বাঙলাদেশ’ এবং ‘পাকিস্তান’ শিরোনামের নামগুলো। যে নামগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় একটি স্বাধীন বাঙলাদেশের। কবিতাটির মধ্যে তাই বলেনঃ                                  ‘আমি পাকিস্তা...

হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যের ভাবধারা ও শব্দবিন্যাস-৪

‘যদি মরে যাই কিছু থাকবে না। এই মাটি যতোই বান্ধব হোক মনে রাখবে না। পঁচিশ বছরে গদ্য পদ্য যা কিছু রচনা সকলই অর্থহীন নির্বোধ অনুশোচনা। শুধু থাকবে বলে এই মন কলাভবনের তেতলা জুড়ে একটি মাতাল চুম্বন।’                                           হুমায়ুন আজাদ রচিত সবচেয়ে ক্ষুদ্র কবিতা এটি। শুধু এই কাব্যেয় নয়; সকল কাব্যের মধ্যে। অনেক সৌন্দর্য যেনো ম্লান হ’য়ে যায় এ কবিতার সামনে। যেখানে প্রবেশ করানো হয়েছে খুব সামান্য শব্দ। মৃত্যু চিন্তা বা তার বোধ যেনো  কবিকে বেশ ভাবিয়ে তোলে। সৌন্দর্য থেকেও কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। নির্মম মৃত্যুকে মেনে নিয়েছেন পঁচিশ বছরে রচিত গদ্য পদ্যের সাথে। ব্যক্তিগত অনুশোচনা প্রকাশ পেয়েছে কবিতাটির মাঝে। অতিরিক্ত কোনো   শব্দ জুড়ে বসেনি কবিতাটিতে; বরং রচিত শব্দগুলো বসেছে সুনির্দিষ্ট ভাবে পঙক্তিতে পঙক্তিতে। সাধারণ শব্দের মিশ্রণ দ্বারা কবিতাটিকে দি...

হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যের ভাবধারা ও শব্দবিন্যাস-৩

সব কিছুই যেন এক বিচ্ছুতি ঘটাবে তার জীবন প্রণালীতে। সব কিছু ছেড়ে যে বেছে নেয় একাকী এক লাফ দেওয়ার ইচ্ছায়। কবিতার মধ্যে যেমন আবার বেছে নেন ‘লাল রক্ত’, ‘স্লিপিং টেবলেট’, ‘রেল লাইন’, ‘ছুটি’, ‘সবুজ’, ‘মাংস’, ‘ঘাস’, ‘রাত্রি’, ‘পলিমাটি’, ‘নীল’, ‘বৃষ্টিপাত’, ‘মনুমেন্ট’, ‘মসজিদ’, ‘গোলাপি রিবন’, ‘নীল কাটা’, ‘জল্লাদ’, ‘সুপার মার্কেট’, ‘পুলিশ’, ‘ব্যাটসম্যান’, ‘সেঞ্চুরি’, ‘সঙ্গম’, ‘গর্ভবতী’, ‘পদ্মার ইলিশ’, ‘মৌমাছি’, ‘মৌচাক’ ইত্যাদি শব্দ। যে শব্দগুলো জড়িয়ে রয়েছে সম্পূর্ণ কবিতা জুড়ে। এ যেন শব্দের এক বিচিত্র ব্যবহার। তু’লে নেই এখান থেকে কবিতাটির একটি পঙক্তি। ‘লাফ দেবো পৃথিবীর উচ্চতম ছাদগুলো থেকে’। একজন একই সাথে কিভাবে বেছে নিবেন সেই সব উচ্চতম ছাদগুলো ? যা সম্ভাব হ’য়ে উঠে না। তার থেকে তিনি বেছে নেন ‘উচ্চতম ছাদটি’। যার থেকে অনায়াসে তিনি সম্পূর্ণ করতে পারেন নিজের লুকিয়ে থাকা চরম ইচ্ছাটি। ‘ষ্টেজ’ কবিতাটিতে শব্দগুলো ব্যবহার হয়েছে বিচিত্র ভাবে। সর্বদা যেন সজাগ রাখছে আমাদেরকে। যার থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে বেশ কষ্টকর হ’য়ে দেখা দেয়। হুমায়ুন আজাদের কিছু কবিতায় আমরা যেমন দেখেছি ব্যবহার হয়নি কোনো ‘দাঁড়ি’...