লেখক ও প্রকাশক , এই দুই সত্তা যেন একই নদীর দুই তীর , একে অন্যকে ঘিরেও আলাদা , একে অন্যকে ছুঁয়েও ভিন্ন। সাহিত্যজগতে তাদের সম্পর্ক কেবল ব্যবসা ও সৃষ্টির সম্পর্ক নয় , তা নির্ভরতা , সহযোগিতা , দ্বন্দ্ব , প্রত্যাশা , বিশ্বাস এবং কখনো কখনো অদৃশ্য এক চুক্তির সম্পর্ক ; যে চুক্তি কাগজে লেখা থাকে না , কিন্তু বইয়ের প্রতিটি পাতায় তার ছায়া পড়ে। প্রশ্নটি যখন ওঠে , লেখক ও প্রকাশক , কে কার উপর নির্ভর , তখন সহজ উত্তর দেওয়া কঠিন , কারণ সম্পর্কটি একমুখী নয়। লেখক ছাড়া প্রকাশক অর্থহীন , প্রকাশক ছাড়া লেখক অপূর্ণ । আবার পাঠক ছাড়া উভয়েই নিঃসঙ্গ। তবু যদি গভীরে যাই , দেখি এই নির্ভরতা সমান নয় , বরং সময় , সমাজ , অর্থনীতি , প্রযুক্তি , বাজার , খ্যাতি , সৃজনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার তারতম্যে বদলে যায়। একসময় লেখক প্রকাশকের মুখাপেক্ষী ছিলেন , আবার কখনো প্রকাশক লেখকের প্রতীক্ষায় থাকেন। কখনো লেখকের জন্য প্রকাশক দরজা , কখনো প্রকাশকের জন্য লেখক প্রাণ ; কখনো লেখক সৃষ্টি করেন , প্রকাশক তাকে আকার দেন , আর কখনো প্রকাশক কাঠামো তৈরি করেন , লেখক তার ভেতর আত্মা ঢেলে দেন। এই পারস্পরিক নির্ভরতার ইতিহাস সাহিত্যচর্চার ই...
বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনে নির্বাচন সবসময়ই এক গুরুত্বপূর্ণ, সংবেদনশীল এবং বহুমাত্রিক ঘটনা। নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়; এটি একটি জাতির গণতান্ত্রিক চেতনা, নাগরিক অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক সচেতনতা, সামাজিক প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার প্রতিচ্ছবি। ‘কেমন হল নির্বাচন ২০২৬’, এই প্রশ্নের মধ্যে তাই কেবল একটি দিনের ঘটনা নয়, একটি সমগ্র জাতিগত অভিজ্ঞতার প্রতিধ্বনি রয়েছে। নির্বাচন কেমন হলো, তা বোঝার জন্য শুধু ফলাফল দেখলেই হয় না; দেখতে হয় পরিবেশ কেমন ছিল, জনগণের অংশগ্রহণ কেমন ছিল, রাজনৈতিক দলগুলো কী ধরনের ভূমিকা পালন করল, প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ থাকল, ভোটাররা কতটা আস্থাবান হল এবং রাষ্ট্র ও সমাজ নির্বাচনের পর কী ধরনের বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়াল। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিচার করতে হয়। নির্বাচন সম্পর্কে মানুষের প্রত্যাশা সবসময়ই উচ্চ। জনগণ চায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, যেখানে ভোটাধিকার হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং অর্থবহ। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নির্বাচনী বাস্তবতা বহুস্তরীয়...