শিশির জমছে ঘাসে , প্রতিটি বিন্দু তোমার হাসির মতো ঝলমলে , আমি বসে আছি চুপচাপ , ভেতরে এক উন্মুক্ত আকাঙ্ক্ষায় তুমি কি দেখেছো, কতটা সহজ হতে পারে আমাদের ভালোবাসা! যখন হেঁটে যাই প্রকৃতির রঙ মেখে , তোমার কথা বু’কে নিয়ে ? বাতাসে ঝ’রে প’ড়ে একটি গোপন প্রার্থনা, কয়েক শতাব্দীর তুমি ফিরে এসো আমার বুকে মাত্র একটু স্পর্শের জন্য গাছেরা নীরবে সবাই জানে, আমরা মিলেমিশে সবাই ছিলাম এখানে আলোর ভেলায় ভেসে নিয়ে গিয়েছিলাম আমাদের স্বপ্নগুলো আজও আমি বলি, ফিরে আসো , আমার বুকে, তোমাকে সাথে নিয়ে আমার ভালোবাসা হ’য়ে উঠুক লতাপাতায় ছড়িয়ে পড়া সৌন্দর্য, প্রকৃতি যেন বলছে তোমরা একসাথে মিশে যাও আপন হ’য়ে তুমি ও আমি যেন নদীর ধার , গাছের ছায়া , বাতাসের মৃদু স্পর্শ চল , বসি একান্তে , যেখানে সময় দাঁড়ায় , সমস্ত সৌন্দর্য ম্লান হয় তুমি আসো, রৌদ্রকরোজ্জ্বলে, এবং আমি মন দিয়ে শুনব প্রকৃতির চুপচাপ সুর, মন ভরে, তোমার ব্যর্থ সঙ্গীত।
শহরের এই নিস্তব্ধতায় কেবলই তোমার পায়ের শব্দ, বিকেলের রোদে আজো যেন লেগে আছে মিষ্টি গন্ধ তুমি কি শুনেছ কোনোদিন সেই নিভৃত বুকের গান? যেখানে হাহাকার হ’য়ে মিশে আছে সব ব্যবধান জানালার পর্দা উড়ছে একাকী শ্রান্ত বাতাসের টানে, আমার এই নিঃসঙ্গতা আজ কোনোই অভিধান না জানে স্মৃতির ধূলোয় ঢাকা পড়েছে প্রিয় সেই বইয়ের মলাট, প্রেম তো কেবলই ছিল এক বিমূর্ত স্মৃতির কপাট রাস্তার ওই নিয়ন আলোয় ঝরছে বিষণ্ণ রূপালি জল, হৃদয়ে জমেছে আজ কতশত অযাচিত কোলাহল মনে পড়ে কি সেই কফিশপের নির্জন কোনো এক কোণ? যেখানে আমরা বুনেছিলাম স্বপ্নের অদ্ভুত এক বিরাট বন আজ সেই বন পুড়ে ছাই, কেবলই ধূসর মরুভূমি, আমায় ফেলে বহুদূরে নীল দিগন্তে হারিয়েছ তুমি পায়ের নিচে শুকনো পাতার মড়মড় করা এই বিলাপ, অতীতের পাতায় জমে আছে যত অলিখিত মনস্তাপ আবারও কি হবে দেখা কোনো এক মেঘলা দিনের শেষে? নাকি হারিয়ে যাবে চেনা ছবিগুলো স্মৃতির ছদ্মবেশে? রক্তিম এই পাণ্ডুলিপিতে আজ কেবলই শূন্যতারই বাস, প্রতিটি নিশ্বাসে মিশে আছে গোপন এক দীর্ঘশ্বাস তবুও এ শহর জেগে থাকে একাকীত্বের নীরব মায়ায়, আমি রয়ে যাই তোমার ফেলে যাওয়া ওই শীতল ছায়ায় সময় বয়ে যা...