তোমার শরীরের কাছে এলেই এই শহরটা হঠাৎ কুয়াশা হয়ে যায় , বিলীন হয় ট্রাফিক সিগন্যাল , ধোঁয়াটে রেস্তোরাঁ আর নাগরিক কোলাহল আমি দেখি , তোমার ওই গ্রীবা আসলে কোনো হাড়-মাংসের গঠন নয় ওটা এক তপ্ত শ্বেতপাথরের পাহাড় , যার ঢালে হাত রাখলে আমার আঙুলগুলো একেকটা তৃষ্ণার্ত যাযাবর হয়ে পথ হারায় তোমার ত্বকের অমসৃণতায় আমি খুঁজি এক প্রাচীন গুহাচিত্র , যেখানে আমাদের পূর্বপুরুষেরা প্রথম আগুনের জন্ম দিয়েছিল তোমার নিশ্বাস যখন আমার কন্ঠনালীতে আছড়ে পড়ে , মনে হয় ওটা কোনো বাতাস নয় , ওটা এক কালবৈশাখীর ভ্রূকুটি ; যা আমার পাঁজরের হাড়গুলোকে মড়মড় শব্দে ভাঙতে চায় তোমার নাভিমূলের ওই নিভৃত হ্রদে যখন আমার ছায়া পড়ে , আমি দেখি সেখানে হাজার বছরের জমাট বাঁধা এক অন্ধকার যা কোনো সূর্য চেনে না , চেনে কেবল রক্তের নিগূঢ় টান ওটা তো শরীর নয় , ওটা মহাকালের এক একাকী ধাবমান ধূমকেতু , যার লেজের ঝাপটায় আমার তিল তিল করে গড়া সভ্যতা চূর্ণ হয় তোমার আঙুলের ডগায় যখন আমার নাম লেখা হয় অলক্ষ্যে , আমার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে আসে এক নিষিদ্ধ জলপ্রপাত সেখানে জল নেই , আছে গলিত লাভার মতো তীব্র এক দহন ; তোমার নখের আঁচড়ে যখন পিঠের চামড়া আলগা হয়ে আসে...
তোমার শরীরের মানচিত্রে আমি যখন নিবিষ্ট হচ্ছি , মনে হয় ওটা কোনো নারীদেহ নয় , এক আদিম অরণ্যের গোপন শিস ; যেখানে লতাগুল্মের আড়ালে ওত পেতে আছে এক তৃষ্ণার্ত চিতা তোমার উন্নত গ্রীবা যেন এক শ্বেতপাথরের পাহাড় , যার ঢাল বেয়ে নেমে আসে আমার আঙুলের অবাধ্য ঝরনাধারা সেখানে জল নয় , ঝরে পড়ে কয়েক ফোঁটা গাঢ় তপ্ত অন্ধকার তোমার নিঃশ্বাসে যখন বুনো কামিনীর ঘ্রাণ লেগে থাকে , আমার চারপাশের এই ধোঁয়াটে শহরটা মুহূর্তেই বিলীন হয় ; আমি দেখি , আমার হৃদপিণ্ড এখন এক অশান্ত বঙ্গোপসাগর তার লবণাক্ত ঢেউ আছড়ে পড়ছে তোমার নাভিমূলের সৈকতে , সেখানে জন্ম নিচ্ছে শ্যাওলা মাখা এক অদ্ভুত প্রবাল দ্বীপ যেখানে কোনো মানচিত্র নেই , আছে কেবল আদিম এক দহন তুমি যখন তোমার মেঘের মতো ঘন চুলগুলো আলগা করো , আমার জানলার ওপাশে আকাশটা হঠাৎই ছিঁড়ে পড়ে মাটির বুকে ওটা তো চুল নয় , ওটা এক কালবৈশাখীর ঘনঘটা যা আমার পাজরের হাড়গুলোকে মড়মড় শব্দে ভাঙতে চায় তোমার প্রতিটি লোমকূপ যেন একেকটা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি , সেখান থেকে নির্গত হচ্ছে উত্তপ্ত লাভার মতো এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ; যা আমার সভ্যতার আবরণ পুড়িয়ে ছাই করে দেয় নিমিষেই মাঝে মাঝে তোমার ওই রক্তিম ও...