শহরের পুরোনো রেকর্ডঘরটির জানালা খুব নিচু ছিল , এত নিচু যে দুপুরের রোদ সোজা এসে ফাইলের ধুলোয় গলতে গলতে স্তিমিত হ ’ য়ে পড়ত , আর সেই ধুলোর ভেতর দিয়ে বসে থাকা মানুষটিকে দেখে মনে হতো সে যেন আলো নয় , সময়ের ভেতর বসে আছে ; তার নাম ছিল তাজউদ্দিন , বয়স ষাট ছুঁইছুঁই , জীবনের অর্ধেকেরও বেশি কেটেছে জন্মনিবন্ধন , জমির দলিল , মৃত সনদ , নাগরিক পরিচয় , আর নানান কাগজের মাঝখানে , যেখানে মানুষের কান্না প্রায়ই কালি হয়ে আসে , স্বাক্ষর হয়ে জমে , আর সিলের শব্দে জীবনের গোপন দিকগুলো আরও বেশি নির্জীব হয়ে ওঠে ; তাজউদ্দিনের কাজ ছিল লিখে রাখা , অথচ লিখে রাখতে রাখতে সে এমন এক মানুষ হয়ে উঠেছিল যে বাস্তব আর নকলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারত না , কারণ কাগজে যা থাকে তা অনেক সময় মানুষে থাকে না , আর মানুষে যা থাকে তা কাগজে লেখা যায় না। একদিন সকালে , যখন অফিসের দরজায় দাঁড়ানো চৌকিদার জব্বার চা খেতে খেতে একটা ছেঁড়া খবরের কাগজ উল্টাচ্ছিল , তাজউদ্দিন দেখল তার টেবিলের উপর একটি বাদামি খাম পড়ে আছে ; খামের গায়ে কোনো প্রেরকের নাম নেই , প্রাপকের নামও নেই , শুধু একটামাত্র বাক্য লেখা: যদি আপনি এখনো নিজের ছায়া দ...
কুশারীবংশের জয়রাম ঠাকুরের কনিষ্ঠ সন্তান গোবিন্দরাম ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় খুলনার দক্ষিণডিহি গ্রামের নন্দরাম গঙ্গোপাধ্যায়ের মেয়ে রামপ্রিয়া দেবীর। গোবিন্দরামের মৃত্যুর পর; রামপ্রিয়া দেবী তাঁর বিষয়-সম্পত্তি গোবিন্দরামের ভাইদের কাছ থেকে আলাদা করে নেন আইনের আশ্রয়ের মাধ্যমে। রামপ্রিয়া দেবীর ভ্রাতুষ্পুত্র জগন্মোহনকে তিনি লালনপালন করতে শুরু করেন। রামপ্রিয়া দেবী, তাকে কলকাতার ‘হাড়কাটা’ এলাকায় নিজ উদ্যোগে একটি বাড়ী তৈরি করে দেন। তিনি জগন্মোহনকে বিয়ে দেন দ্বারকানাথ ঠাকুরের মামা কেনারাম রায়চৌধুরীর মেয়ে শিরোমণির সাথে। ঠাকুর পরিবারের সাথে রামপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক ছিল পূর্ব থেকেই। কুশারীবংশের পঞ্চানন ঠাকুর ছিলেন জোড়াসাঁকোর ঠাকুরদেরও পূর্ব আদিপুরুষ। এই বিয়ের মাধ্যমে আবার যেন সম্পর্কের প্রাণ পেল। ভোজনরসিক, সুস্বাস্থ্যর অধিকারী জগন্মোহনের সঙ্গীতপ্রীতি ছিল অসাধারণ। সঙ্গীতের একজন যথার্থ সমজদার ব্যক্তি হিসেবে সেকালে তাঁর নাম ফুটে উঠেছিল চতুর্দিকে। জগন্মোহনের পাঁচ সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় রসিকলালের দুই মেয়ের বিয়ে হয় দ্বারকানাথ ঠাকুরের ভাগ্নে ও দাদার পৌত্রের সঙ্গে। ঠনঠনের শশিভূষণ মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে ত্...