সন্ধ্যার পর শহরটিকে নিলয়ের প্রায়ই এমন একটি মানুষের মতো মনে হতো , যে সারাদিন অন্যের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফিরে নিজের মুখের দিকে তাকাতে ভয় পায়। দিনের আলোয় তার ব্যস্ততা ছিল , পরিচিত মানুষ ছিল , প্রকাশকের ফোন ছিল , সাহিত্যসভায় যাওয়ার আমন্ত্রণ ছিল , এমনকি এমন কয়েকজন তরুণ লেখকও ছিল যারা তাকে গুরু বলে সম্বোধন করত ; অথচ সন্ধ্যা নামলে সমস্ত পরিচয়ের নিচ থেকে একটি অদ্ভুত শূন্যতা বেরিয়ে আসত , যেন তার জীবনটি বাইরে থেকে যতটা সুসংহত , ভেতরে ততটাই অগোছালো। সেদিনও সে লেখার টেবিলে বসেছিল। জানালার বাইরে শীতের শেষ দিকের বাতাসে কৃষ্ণচূড়ার শুকনো পাতাগুলো নড়ছিল , দূরের একটি বাড়ির ছাদে কাপড় শুকোতে দেওয়া , আর রাস্তার মোড়ে বাদামওয়ালা লোকটি তার টিনের কৌটায় বারবার হাত ঢুকিয়ে বাদাম ভাজছিল। নিলয়ের সামনে সাদা কাগজ , কালো কলম , পাশে এক কাপ ঠান্ডা চা। প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে সে একটি বাক্য লিখতে চেষ্টা করছিল। বাক্যটি ছিল ,‘ মানুষ তার ভালোবাসার মানুষটিকে যতটা চেনে , তার চেয়ে বেশি চেনে নিজের ভালোবাসার প্রয়োজনটিকে। ’ প্রথমে বাক্যটি তার ভালো লেগেছিল। পরে মনে হলো , কথাটি খুব বেশি স্পষ্ট , যেন কোনো প্রবন্ধের উপসংহার। সে চ...
তোমাকে ভালোবাসার পর আমি আর আগের মানুষটি নেই , আমার ভেতরের যে মানুষটি একদিন খুব হিসেব করে বেঁচে থাকত , সে এখন প্রতিদিন তোমার নামের কাছে নিজের সমস্ত যুক্তি রেখে আসে তোমাকে ভালোবাসার পর রাত আর শুধু রাত থাকে না , অন্ধকারের ভেতরেও আমি তোমার মুখের আলো খুঁজি , জানালার কাচে জমে থাকা শিশিরে তোমার আঙুলের স্পর্শ কল্পনা করি , আর দূরের কোনো অচেনা পাখি ডাকলে মনে হয় , তুমি বুঝি আমাকে ডাকছো অন্য কোনো শহর থেকে , অন্য কোনো জন্মের ভেতর থেকে তোমাকে ভালোবাসার আগে আমি জানতাম না একটি মানুষের অনুপস্থিতিও এত ভারী হতে পারে। তুমি পাশে না থাকলে ঘরের চেয়ারগুলোও যেন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে , বিছানার একপাশ অকারণে শীতল হয়ে যায় , চায়ের কাপের ধোঁয়া কেমন একা একা ওপরে ওঠে , আর আমার হাত অভ্যাসবশত তোমাকে খুঁজতে গিয়ে শূন্যতাকে ছুঁয়ে ফিরে আসে , আমি তখন বুঝি , ভালোবাসা আসলে কাছে থাকার নাম নয় , ভালোবাসা হলো কাউকে না পেয়েও প্রতিটি মুহূর্তে তাকে পেয়ে যাওয়ার এক অসম্ভব ব্যাধি , তুমি জানো না , কতবার তোমাকে না বলেও আমি তোমার সঙ্গে কথা বলেছি। ভোরের আগে যখন পৃথিবী সবচেয়ে নিঃশব্দ , আমি তোমার নাম ধরে...