সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

একুশ

  একুশের ভোর মানে শুধু সূর্যোদয় নয় , মানুষের ভেতর লুকানো উচ্চারণের পুনর্জন্ম , যে উচ্চারণ জন্মেছিল মায়ের কোলঘেঁষে প্রথম কান্নার ভেজা স্বরে , আমার বুকের মধ্যে যে স্বরকে থামাতে চেয়েছিল লৌহদেয়াল , কিন্তু থামাতে পারেনি কোনো গুলি , কোনো হুকুম , কোনো শাসন শীতের কাঁপা বাতাসে দাঁড়িয়ে ছিল তরুণ -তরুণীরা তাদের চোখে ছিল না ভয় , ছিল ভাষার দীপ্তি , তারা  ভাল করেই জানতো ভাষা মানে শুধু শব্দের সমষ্টি নয় , ভাষা মানে আত্মপরিচয়ের শেষ আশ্রয় , যখন উচ্চারিত হলো সারা বাংলা বুক জুড়ে ‘ রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই ’ তা ছিল না তখন শুধু স্লোগান , ছিল বুকের গভীর থেকে উঠে আসা এক অনিবার্য সত্যের জোয়ার , যা ভাসিয়ে নিয়েছিল শাসনের অহংকার , গুলির শব্দে কেঁপে উঠেছিল দুপুর আর সন্ধ্যা রক্তে রাঙা হয়েছিল রাজ পথ , কিন্তু রক্তের প্রতিটি ফোঁটা বর্ণমালার অক্ষর হ ’ য়ে মাটির বু ’ কে লিখে দিয়েছিল আমরা আছি , আমরা থাকব বাংলার বুক জু’ড়ে সালাম , বরকত , রফিক , জব্বার আরও কত নাম তারা আজ শুধু নাম নয় , তারা বাংলা ভাষার শিরায় প্রবাহিত রক্ত , দীর্ঘস্বর   তারা প্রতিটি কবিতার নীরব ব্যথা , অমর পঙক্তি প্রতি...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

কবি ও কবিতা-৭

  বিভিন্ন পেশাদার মানুষের সঙ্গে বোদলেয়ার তুলনা করেছেন  কবিদের। তিনি মনে করেন কবি হ’তে পারেন ঠিক একজন যাদুকরের মতো, আবার কখনো তিনি হ’তে পারেন গণিতবিদ, একজন ধাত্রীবিদ্যা বিশারদ, অসিক্রিয়াবিদের মতো  অথবা, একজন ধ্যানী সঙ্গীতবিদ বা হ’তে পারেন রন্ধন শিল্পী। মানুষের চতুর দিকে যা রয়েছে তিনি  তাঁর সাথেই তুলনা করেছেন কবিকে। কবি যেন আমাদের মাঝেই বসবাস কারী একজন, তা ব্যতিত  অন্য কেউ নয়। হয়তো তাকে আমরা দেখতে পাচ্ছি সকাল- বিকাল আর সন্ধ্যায়, কফি পান করছি এক সাথে  বা পথ চলছি  একত্রে। কবি কতটা বিচিত্র হ’তে পারেন  আমাদের থেকে ? তিনি কি একাকী ! তিনি কি আছেন আমাদের মাঝে; না, তিনি দেখা দেন ভাবনা আর মনোবিশ্ব লোকে, যেখানে জ’মে  থাকে একগুচ্ছ স্বপ্ন আর তাঁর অলৌকিক বিশ্ব, যেখানে  নাগরিক হ’য়ে তিনি–ই  বেঁচে আছেন অধরার মতো। তিনি কবি; তিনি কি কথা বলেন আমাদের মতো ? স্বপ্ন দেখেন আমাদের হ’য়ে, তিনি কি সফল অন্য সকলের মতো ! যারা হয়তো পৌঁছে গেছে চূড়ান্ত শিখরে। যেখানে হয়তো তিনি কোনো দিন  পৌঁছেবেন না বা চেষ্টা ক...

কবি ও কবিতা-৬

  রবীন্দ্রনাথ, তাঁর ‘সমালোচনা’’ গ্রন্থে [২৬ মার্চ, ১৮৮৮] কবিতার সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে বলেনঃ                        “সত্য যত কবিতা আছে , মিথ্যায়  তেমন নাই। শত সহস্র  মিথ্যার দ্বারে দ্বারে কল্পনা বিচরণ  করিতে পারে, কিন্তু এক মুষ্টি কবিতা সঞ্চয়  করিতে পারে কি না সন্ধেহ ; কিন্তু একটি সত্যর কাছে যাও , তাহার দশগুণ  অধিক কবিতা পাও কি না দেখো দেখি। কেনই বা তাহার ব্যতিকক্রম হইবে বলো ? আমরা তো প্রকৃতির  কাছেই কবিতা  শিক্ষা করিয়াছি, প্রকৃতি কখনো মিথ্যা কহেন না । আমরা কি  কখনো কল্পনা করতে পারি যে, লোহিতবর্ন ঘাসে  আমাদের চক্ষু  জুড়াইয়া যাইতেছে ? বলো দেখি, পৃথিবি নিশ্চল রহিয়াছে  ও  আকাশে অগণ্য তারকারাজি নিশ্চলভাবে  খচিত রহিয়াছে , ইহাতে অধিক কবিত্ব, কি সমস্ত তারকা নিজের পরিবার  লইয়া ভ্রমণ করিতেছে, তাহাতে অধিক কবিত্ব; এমনি তাহাদের তালে তালে পদক্ষেপ যে, ...

কবি ও কবিতা-৫

  রবীন্দ্রনাথ, তাঁর ব্যক্তিগত মতের মধ্য সীমাবদ্ধ রাখেননি কবি নামের মানুষটিকে। মানুষ নামের মানুষটি কখন কবিহয়  তা- তিনি আমাদের দেখিয়েছেন। কবি নামের নতুন সংজ্ঞাটি রবীন্দ্রনাথকে আরও বেশি আবেগ-আপ্লুত ক’রেতোলে। কবি শিরোনামের নতুন নামটি রবীন্দ্রনাথকে বুঝিয়ে দেয়, কে কবি বা কবি নয়। প্রচলিত সংজ্ঞাকে তিনি কতটা মেনে নেন তা আমাদের জ্ঞাত নয়। ভাব, দুঃখ, সুখ- এসব যার মধ্য রয়েছে তাঁকে কবি ব’লে মেনে নেয়া যেতে পারে। টেনে আনেন নতুনদের, কবি নামের নতুন শিরোনামটি। মনোবৃত্তি, যার আছে সেই কবি। পূর্বেই বলেছি, এই মনোবৃত্তি অন্য কিছু নয়, ভাব-ভাবনা আর চেতনার উজ্জ্বল প্রকাশই কবির সূচনা। মেনে নেননি ‘নীরব কবি’ নামের কবিদের। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, কবি হবেন কবি, মনোলোকের চেতনায় জন্ম নেয়া কোনো ধারণা থেকে তিনি জেগে উঠবেন না। তিনি জেগে উঠবেন মানুষের মধ্য থেকে, যাকে আমরা সহজেই ‘কবি’ নামে আখ্যায়িত করবো।              একই গ্রন্থে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আবার বলেনঃ                ...

কবি ও কবিতা-৪

  রবীন্দ্রনাথ, কবিকে সাথে আসার জন্য আহ্বান করেছেন, যদি তিনি প্রাণবাণ হোন। কবির থাকতে হয় বড়ো দুঃখ, বড়ো ব্যথা আর সংসার-এ পাহাড় সমান কষ্ট। এসব যেন কবির ভাগ্যর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। এসব উপাদান না থাকলে যেন কবি হওয়া যায় না। দুঃখ, ব্যথা, দারিদ্র্য , শূন্যতা, ক্ষুদ্র, অন্ধকার এসব- ই যেন কবির আপনজন। একজন কবির জীবনে যেমন থাকে এ সব উপাদানের উপস্থিতি , আবার বলা যায় কোনো ব্যাত্তির জীবনে এ-সব থাকলেই তাঁকে কবি ব’লে আখ্যায়িত করা যাবে, তাঁর কোন কারণ নেই। কবির জীবনে ব’য়ে যাবে সে সব ঘটনা, যা ইতি পূর্বে ঘটেনি অন্যর জীবনে। জীবনের যত সব ঘটনা তাঁর প্রাক-পরীক্ষা যেন ঘটাতে হবে কবির জীবনে কারণ; এ জীবনটা এতো মূল্যবান নয় তাঁর কাছে, যা রয়েছে অন্যর কাছে। কবির জীবন হচ্ছে দুঃখ, কষ্ট পর্যবেক্ষণ করার স্বাধীন বিচরণভূমি, যেখানে- যে কেউ অনায়াসে পারে তাঁর পরীক্ষা মূলক পর্যবেক্ষণ কর্মটি সু-সম্পন্ন ক’রে নিতে। যেমন আমরা পারি মুক্ত একখণ্ড ভুমিতে ইচ্ছা মতো ফসল বুনতে। কাব্যেয় আসলে কি থাকে? যা আমাদের জানা নেই। যার জন্য কবি নিরন্তর সাধনা আর সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথ এ- সম্পর্কে বলেনঃ ‘কাব্যেয় আমরা আমাদের বিকাশ উপ...

কবি ও কবিতা-৩

  কবিতা লেখা হয়েছে কালে কালে। অনেক সময় তা লেখা হয়েছে দলবদ্ধভাবে আবার কখনও তা একক ভাবে। যেভাবেই হোক, রচিত  হয়েছে কবিতা। কবিতা হ’য়ে উঠেছে কবির মনভাবনা ও চেতনার  সর্বচ্ছ  প্রকাশ। একদা কবিতা হ’য়ে উঠে, কবির  সহযোগী। সকাল, বিকাল, সন্ধা আর বিনিদ্র রজনী এক হ’য়ে আসে কবির কাছে ; তাঁর কবিতার মতো, যেখান থেকে রচিত হ’বে একটি উৎকৃষ্ট কবিতা। কবি, কতটা নিজস্ব ক’রে  নিয়েছেন কবিতাকে ? অন্য সব কিছুর মতো তিনি কি প্রস্তুত একটি অপার সু-সজ্জিত কবিতার জন্য ? যে কবিতা তাঁর হ’য়ে আসবে; তাঁরই হৃদয়ে। তিনি কি অপেক্ষা করে আছেন একটি কবিতার জন্য, যা দেখা দিতে পারে যেকোন মুহূর্তে ! কবিতা কতটা কবিতা হ’য়ে উঠেছে তা কে স্থির ক’রে দিবেন ? না , কবি যা রচনা করবেন তা-ই কবিতা হ’য়ে দেখা দিবে মানসচিত্রে ! একক; অভিভাবক শূন্য কবি হ’য়ে উঠেন কবিতার আপনপিতা। তিনি-ই কবিতাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যান জ্যোতির্ময় গন্তব্যর দিকে, যেখানে কবিতা রূপান্তরিত হয় কবিতায়, অন্য কিছুতে নয়। আলো যে ভাবে দেখা দেয় আলো হ’য়ে, তদ্রুপ কবিতা ও দেখা দেয় কবিতা হ’য়ে। আলো যেভাবে দূর ক’রে অন্ধকারকে, অকবিতা কে সরিয়ে কবি...

কবি ও কবিতা-২

  মহাকবিরা তৈরি করেন তাঁদের নিজেদের ভাষা, যে ভাষায় তাঁদের কবিতা, কবিতা হ’য়ে রয়। সে সব উচ্চ মানের ভাষা দেখে বুঝতে বাকি থাকে না কোন কবি কোনটা রচনা করেছেন। একদা এই সব কবিতা হ’য়ে ঊঠে মহাকাব্য বা কালের কবিতা, যার প্রাণ থাকে কয়েকশো বছর যাবৎ। কবি, কবিতাকে ক’রে তোলে শুধুই কবিতা, যা অন্য কিছু নয়, প্রাণ পায় কবিতা ব’লে। তিনি শেষ না হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বলতে পারেন না, তিনি যা লিখছেন তা-কি রূপ পাচ্ছে কবিতা বলে, না হচ্ছে অন্য কিছু।   মানুষের চাহিদা রয়েছে অনেক কিছুর, তাঁর বেঁচে থাকার জন্য। মানুষ কখন,প্রথম উপলব্ধি করলো কবিতা-ও প্রয়োজন তাঁর বেঁচে থাকার জন্য? যার প্রয়োজনীয়তা থেকে কবিরা রচনা করলেন কবিতা। কবিতা, কতটা সুখী ক’রে তো’লে সেই সব মানুষদের, যাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন কবিতা! না, কবির প্রয়োজন কবিতার ? কবি কে? তিনি কেন কবিতা লিখবেন ? কবিতা কি তাঁকে অন্য মানুষে পরিণত করবে ? আমরা যা ভাবি, তিনি কি তা ভাব্বেন না! না-কি, তিনি অন্য কিছু ভাববেন, যা আমরা ভাবনা বা কল্পনায়  নিতে পারি না, আর এর জন্য তিনি কবি। বুদ্ধদেব বসু এ- সম্পর্কে  বলেনঃ “যদি মানুষ তাঁর স্থলমান মুহূর...