বিভিন্ন পেশাদার মানুষের সঙ্গে বোদলেয়ার তুলনা করেছেন কবিদের। তিনি মনে করেন কবি হ’তে পারেন ঠিক একজন যাদুকরের মতো, আবার কখনো তিনি হ’তে পারেন গণিতবিদ, একজন ধাত্রীবিদ্যা বিশারদ, অসিক্রিয়াবিদের মতো অথবা, একজন ধ্যানী সঙ্গীতবিদ বা হ’তে পারেন রন্ধন শিল্পী। মানুষের চতুর দিকে যা রয়েছে তিনি তাঁর সাথেই তুলনা করেছেন কবিকে। কবি যেন আমাদের মাঝেই বসবাস কারী একজন, তা ব্যতিত অন্য কেউ নয়। হয়তো তাকে আমরা দেখতে পাচ্ছি সকাল- বিকাল আর সন্ধ্যায়, কফি পান করছি এক সাথে বা পথ চলছি একত্রে। কবি কতটা বিচিত্র হ’তে পারেন আমাদের থেকে ? তিনি কি একাকী ! তিনি কি আছেন আমাদের মাঝে; না, তিনি দেখা দেন ভাবনা আর মনোবিশ্ব লোকে, যেখানে জ’মে থাকে একগুচ্ছ স্বপ্ন আর তাঁর অলৌকিক বিশ্ব, যেখানে নাগরিক হ’য়ে তিনি–ই বেঁচে আছেন অধরার মতো। তিনি কবি; তিনি কি কথা বলেন আমাদের মতো ? স্বপ্ন দেখেন আমাদের হ’য়ে, তিনি কি সফল অন্য সকলের মতো ! যারা হয়তো পৌঁছে গেছে চূড়ান্ত শিখরে। যেখানে হয়তো তিনি কোনো দিন পৌঁছেবেন না বা চেষ্টা ক...
রবীন্দ্রনাথ, তাঁর ‘সমালোচনা’’ গ্রন্থে [২৬ মার্চ, ১৮৮৮] কবিতার সত্য-মিথ্যা সম্পর্কে বলেনঃ “সত্য যত কবিতা আছে , মিথ্যায় তেমন নাই। শত সহস্র মিথ্যার দ্বারে দ্বারে কল্পনা বিচরণ করিতে পারে, কিন্তু এক মুষ্টি কবিতা সঞ্চয় করিতে পারে কি না সন্ধেহ ; কিন্তু একটি সত্যর কাছে যাও , তাহার দশগুণ অধিক কবিতা পাও কি না দেখো দেখি। কেনই বা তাহার ব্যতিকক্রম হইবে বলো ? আমরা তো প্রকৃতির কাছেই কবিতা শিক্ষা করিয়াছি, প্রকৃতি কখনো মিথ্যা কহেন না । আমরা কি কখনো কল্পনা করতে পারি যে, লোহিতবর্ন ঘাসে আমাদের চক্ষু জুড়াইয়া যাইতেছে ? বলো দেখি, পৃথিবি নিশ্চল রহিয়াছে ও আকাশে অগণ্য তারকারাজি নিশ্চলভাবে খচিত রহিয়াছে , ইহাতে অধিক কবিত্ব, কি সমস্ত তারকা নিজের পরিবার লইয়া ভ্রমণ করিতেছে, তাহাতে অধিক কবিত্ব; এমনি তাহাদের তালে তালে পদক্ষেপ যে, ...