শহরের সমস্ত আলো নিভে গেলে আমি তোমার কথা ভাবি, যেন বহুদিন হারিয়ে যাওয়া কোনো নদী হঠাৎ নিজের উৎসের নাম মনে করেছে তুমি তখন কোথায় থাকো? কোন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অন্য কোনো আকাশের দিকে তাকাও? তোমার চুলে কি এখনও বাতাস নামে তোমার চোখে কি এখনও কোনো অসমাপ্ত বিকেলের রোদ জমে থাকে? আমি জানি না আমি শুধু জানি, তোমাকে ভালোবাসার পর আমি আর আগের মানুষটি নেই আমার ভেতরে যে নির্জনতা ছিল, তারও এখন একটি মুখ আছে সে মুখ তোমার কখনো কখনো মনে হয় তোমাকে পাওয়ার জন্য নয়, তোমাকে হারাবার ভয় নিয়েই আমি জন্মেছিলাম পৃথিবীতে তাই প্রতিটি বিদায়ের মধ্যে আমি মৃত্যুর শব্দ শুনি, প্রতিটি নীরবতায় তোমার না-বলা কথাগুলো আমার বুকের ভেতর নীরবে ব’য়ে চলে গভীর শূন্যতা তবু আমি তোমাকে দোষ দিই না, প্রেম তো কারও জন্য অপেক্ষা করে না, প্রেম শুধু একটি দরজা খুলে রেখে সারারাত অপেক্ষা ক’রে তুমি যদি কোনোদিন ফিরে আসো, দেখবে আমি হয়তো বদলে গেছি, চুলে সময়ের ধুলো, চোখে ক্লান্তির ছায়া; কিন্তু তোমার জন্য রেখে দেওয়া আমার হৃদয়ের সেই ছোট্ট ঘরটি এখনও আলো জ্বেলে রেখেছে এসো না, কোনো প্রতিশ্রুতি ন...
বাংলাদেশের গল্প কেবল সাফল্যের গল্প নয়; এ গল্পের ভেতরে অসংখ্য অপূর্ণতার দীর্ঘ ছায়াও মিশে আছে। একটি দেশ যখন যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে নিজের পরিচয় নির্মাণ করে, তখন তার প্রতিটি অগ্রগতি যেমন গর্বের, তেমনি প্রতিটি ব্যর্থতাও আত্মসমালোচনার দাবি রাখে। আমরা স্বাধীনতার পর বহু পথ পেরিয়েছি অর্থনীতি বেড়েছে, নগরায়ণ হয়েছে, শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, অবকাঠামো বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু উন্নয়নের দৃশ্যমান ভবনের আড়ালে এমন কিছু ভাঙাচোরা জায়গা রয়ে গেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে হয় আমরা কি সত্যিই এগিয়েছি, নাকি কেবল এগিয়ে যাওয়ার চেহারাটি নির্মাণ করেছি? আমাদের ব্যর্থতাগুলো তাই কেবল কোনো সরকারের, কোনো প্রতিষ্ঠানের কিংবা কোনো ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; এগুলো আমাদের সামষ্টিক চরিত্র, রাষ্ট্রচিন্তা, সামাজিক অভ্যাস এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের আয়না। সর্বোপরি এগুলো আমাদের নিজস্ব ব্যর্থতা। আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়তো এই যে, আমরা অনেক সময় সমস্যাকে সমাধান করার চেয়ে সমস্যার সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যাই। রাস্তায় যানজট, নদীতে দূষণ, ফুটপাতে দখল, ঘুষ, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, বিচার পেতে...