শহরটা দিনশেষে এমন এক রঙে ডুবে যেত , যেন কেউ আকাশের ওপর পুরোনো তামার পাত বসিয়ে দিয়েছে। জানালার কাচে শেষ বিকেলের আলো লেগে থাকত কিছুক্ষণ , তারপর ধীরে - ধীরে নেমে আসত ধোঁয়ার মতো নীল অন্ধকার। সেই শহরে , ঠিক এমন এক ঋতুর সন্ধ্যায় , অয়ন প্রথমবার বুঝেছিল , কিছু প্রেম মানুষকে সম্পূর্ণ ক ’ রে না , বরং ভেঙে ভেঙে নতুন ক ’ রে গ ’ ড়ে তোলে। অয়ন ছিল স্থির চোখের একজন মানুষ। সে কম কথার মানুষ। ভাবনায় গভীর , চেতনায় আধুনিক , ভাবনায় অনেকটা অগ্রগামী । বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানে চাকরি করত ; স্লোগান বানাত , ব্র্যান্ডকে মানুষের স্বপ্নের মতো দেখাতে শিখত , অথচ নিজের জীবনের জন্য কোনো স্লোগান তার কাছে ছিল না। অফিসের কাচঘেরা তলাটিতে সবাই যখন ভেসে চলত দ্রুততা আর উচ্চাভিলাষের মধ্যে , তখন অয়ন চুপচাপ নোটবুকের পেছনের পাতায় লিখত , ‘ মানুষ যা চায় , তা সবসময় মানুষ যা প্রয়োজন , তা নয়। ’ এই একটি বাক্যই যেন তার ভিতরের বেঁচে থাকাকে ব্যাখ্যা করত।তার জীবনে প্রথম ঢুকেছিল মেঘলা। নামের মতোই সে ছিল অনিশ্চিত , ছায়াময় , অথচ আশ্চর্য উজ্জ্বল। মেঘলার হাসি ছিল এমন , যেন ব্যস্ত একটি গলি হঠাৎ একফোঁটা বৃষ্টিতে ধু ’ য়ে গেলে যে স্বস্তি ন...
তুমি চলে যাওয়ার পর , আমি আবিষ্কার করেছি মানুষের ভেতরেও একটি আবহাওয়া থাকে , সেখানে হঠাৎ হঠাৎ বৃষ্টি নামে কোনো মেঘ ছাড়া সেখানে বজ্রপাত হয় কিন্তু আকাশে র কোনো শব্দ শোনা যায় না সেখানে শীত কাল নেমে নামে এমনভাবে , যেন একটি মৃত নক্ষত্র তার শেষ আলোটুকু ফিরিয়ে নিয়েছে তুমি চলে যাওয়ার পর , আমার ঘরের দেয়ালগুলো অদ্ভুত হ ’ য়ে উঠেছে রাতের বেলা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে , যেন তারা জেনে গেছে কতবার আমি তোমার নাম উচ্চারণ করি তোমার নামের শব্দের চারপাশে ঘুরে বেড়াই এখন আর আমি তোমাকে ডাকি না , কারণ ডাকলে যদি ফিরে আসতে , তবে পৃথিবীর সমস্ত নদী শুধু উৎসের দিকে ই ব’য়ে যেত আমি শুধু তোমার অনুপস্থিতিকে ডাকি খুব নীরব আর শান্ত হ’য়ে আমি আজকাল মানুষের ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে নিজেকে হারাই কারণ , তোমাকে হারানোর পরনিজেকে খুঁজে পাওয়ার আর কোনো প্রয়োজন বোধ করি না , কখনো কখনো গভীর রাতে আমি জানালার পাশে বসে থাকি। শহর তখন নিঃশব্দে গাঢ় ঘুমে মগ্ন রাস্তার বাতিগুলো জেগে থাকে একদল ব্যর্থ কবির মতো আর আমি ভাবি , তুমি কি কখনো হঠাৎ ঘুম ভেঙে আমার কথা মনে করো ? মনে পড়ে কি সেইসব দিন , যখন পৃথিবী আমাদের কাছে ...