তোমাকে ভালোবাসার পর আমি আর আগের মানুষটি নেই , আমার ভেতরের যে মানুষটি একদিন খুব হিসেব করে বেঁচে থাকত , সে এখন প্রতিদিন তোমার নামের কাছে নিজের সমস্ত যুক্তি রেখে আসে তোমাকে ভালোবাসার পর রাত আর শুধু রাত থাকে না , অন্ধকারের ভেতরেও আমি তোমার মুখের আলো খুঁজি , জানালার কাচে জমে থাকা শিশিরে তোমার আঙুলের স্পর্শ কল্পনা করি , আর দূরের কোনো অচেনা পাখি ডাকলে মনে হয় , তুমি বুঝি আমাকে ডাকছো অন্য কোনো শহর থেকে , অন্য কোনো জন্মের ভেতর থেকে তোমাকে ভালোবাসার আগে আমি জানতাম না একটি মানুষের অনুপস্থিতিও এত ভারী হতে পারে। তুমি পাশে না থাকলে ঘরের চেয়ারগুলোও যেন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে , বিছানার একপাশ অকারণে শীতল হয়ে যায় , চায়ের কাপের ধোঁয়া কেমন একা একা ওপরে ওঠে , আর আমার হাত অভ্যাসবশত তোমাকে খুঁজতে গিয়ে শূন্যতাকে ছুঁয়ে ফিরে আসে , আমি তখন বুঝি , ভালোবাসা আসলে কাছে থাকার নাম নয় , ভালোবাসা হলো কাউকে না পেয়েও প্রতিটি মুহূর্তে তাকে পেয়ে যাওয়ার এক অসম্ভব ব্যাধি , তুমি জানো না , কতবার তোমাকে না বলেও আমি তোমার সঙ্গে কথা বলেছি। ভোরের আগে যখন পৃথিবী সবচেয়ে নিঃশব্দ , আমি তোমার নাম ধরে...
বৃষ্টির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক খুব অদ্ভুত। কেউ বৃষ্টিকে ভালোবাসে কারণ সে পৃথিবীকে ধুয়ে দেয়, কেউ বৃষ্টিকে ঘৃণা করে কারণ সে পুরোনো স্মৃতিগুলোকে ভিজিয়ে আবার জীবন্ত করে তোলে। নীরা বৃষ্টি ভালোবাসত না, অথচ তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ দুজনই এসেছিল বৃষ্টির দিনে। একজন এসেছিল তাকে ভালোবাসতে শেখাতে, আর অন্যজন এসেছিল তাকে বুঝিয়ে দিতে যে ভালোবাসার সবচেয়ে গভীর রূপটি কখনো কখনো উচ্চারণ করা যায় না। সেই দুজনের নাম ছিল অর্ক ও রুদ্র। আর নীরা জানত না, মানুষের হৃদয় কখন কোন নামে নিজের দরজা খুলে দেয়। ঢাকার আকাশে সেদিন দুপুর থেকেই কালো মেঘ জমেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ক্লাস শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টি শুরু হলো। সবাই ছুটে বেরিয়ে গেল, কেউ ছাতা খুলল, কেউ ব্যাগ মাথায় দিয়ে দৌড়াল, কেউ করিডোরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে বৃষ্টির ছবি তুলতে লাগল। নীরা দাঁড়িয়ে ছিল পুরোনো কলাভবনের বারান্দায়। তার হাতে একটি বই, বইটির ভেতরে শুকনো কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি। সে জানত না কেন সেদিন তার মনে হচ্ছিল, জীবনে খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। মানুষের মন কখনো কখনো ভবিষ্যতের গন্ধ পায়, যদিও সে ভবিষ্যৎ দেখতে পারে না। ঠিক তখনই তার পাশে এসে দাঁড়াল একটি ...