সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

তোমার অপেক্ষা

  তোমার শরীরের কাছে এলেই এই শহরটা হঠাৎ কুয়াশা হয়ে যায় , বিলীন হয় ট্রাফিক সিগন্যাল , ধোঁয়াটে রেস্তোরাঁ আর নাগরিক কোলাহল আমি দেখি , তোমার ওই গ্রীবা আসলে কোনো হাড়-মাংসের গঠন নয় ওটা এক তপ্ত শ্বেতপাথরের পাহাড় , যার ঢালে হাত রাখলে আমার আঙুলগুলো একেকটা তৃষ্ণার্ত যাযাবর হয়ে পথ হারায় তোমার ত্বকের অমসৃণতায় আমি খুঁজি এক প্রাচীন গুহাচিত্র , যেখানে আমাদের পূর্বপুরুষেরা প্রথম আগুনের জন্ম দিয়েছিল তোমার নিশ্বাস যখন আমার কন্ঠনালীতে আছড়ে পড়ে , মনে হয় ওটা কোনো বাতাস নয় , ওটা এক কালবৈশাখীর ভ্রূকুটি ; যা আমার পাঁজরের হাড়গুলোকে মড়মড় শব্দে ভাঙতে চায় তোমার নাভিমূলের ওই নিভৃত হ্রদে যখন আমার ছায়া পড়ে , আমি দেখি সেখানে হাজার বছরের জমাট বাঁধা এক অন্ধকার যা কোনো সূর্য চেনে না , চেনে কেবল রক্তের নিগূঢ় টান ওটা তো শরীর নয় , ওটা মহাকালের এক একাকী ধাবমান ধূমকেতু , যার লেজের ঝাপটায় আমার তিল তিল করে গড়া সভ্যতা চূর্ণ হয় তোমার আঙুলের ডগায় যখন আমার নাম লেখা হয় অলক্ষ্যে , আমার শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে আসে এক নিষিদ্ধ জলপ্রপাত সেখানে জল নেই , আছে গলিত লাভার মতো তীব্র এক দহন ; তোমার নখের আঁচড়ে যখন পিঠের চামড়া আলগা হয়ে আসে...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

ভালোবাসার উপাখ্যান

তোমার শরীরের মানচিত্রে আমি যখন নিবিষ্ট হচ্ছি , মনে হয় ওটা কোনো নারীদেহ নয় , এক আদিম অরণ্যের গোপন শিস ; যেখানে লতাগুল্মের আড়ালে ওত পেতে আছে এক তৃষ্ণার্ত চিতা তোমার উন্নত গ্রীবা যেন এক শ্বেতপাথরের পাহাড় , যার ঢাল বেয়ে নেমে আসে আমার আঙুলের অবাধ্য ঝরনাধারা সেখানে জল নয় , ঝরে পড়ে কয়েক ফোঁটা গাঢ় তপ্ত অন্ধকার তোমার নিঃশ্বাসে যখন বুনো কামিনীর ঘ্রাণ লেগে থাকে , আমার চারপাশের এই ধোঁয়াটে শহরটা মুহূর্তেই বিলীন হয় ; আমি দেখি , আমার হৃদপিণ্ড এখন এক অশান্ত বঙ্গোপসাগর তার লবণাক্ত ঢেউ আছড়ে পড়ছে তোমার নাভিমূলের সৈকতে , সেখানে জন্ম নিচ্ছে শ্যাওলা মাখা এক অদ্ভুত প্রবাল দ্বীপ যেখানে কোনো মানচিত্র নেই , আছে কেবল আদিম এক দহন তুমি যখন তোমার মেঘের মতো ঘন চুলগুলো আলগা করো , আমার জানলার ওপাশে আকাশটা হঠাৎই ছিঁড়ে পড়ে মাটির বুকে ওটা তো চুল নয় , ওটা এক কালবৈশাখীর ঘনঘটা যা আমার পাজরের হাড়গুলোকে মড়মড় শব্দে ভাঙতে চায় তোমার প্রতিটি লোমকূপ যেন একেকটা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি , সেখান থেকে নির্গত হচ্ছে উত্তপ্ত লাভার মতো এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা ; যা আমার সভ্যতার আবরণ পুড়িয়ে ছাই করে দেয় নিমিষেই মাঝে মাঝে তোমার ওই রক্তিম ও...

রক্তিম দহনের পাণ্ডুলিপি

তুমি আসলে কোনো মানবী নও , আমার এই দগ্ধ নগরে তুমি এক নীল আগুনের শিখা , যা ছুঁলে পুড়ে যায় না , বরং জমে যায় বরফ তোমার ওই চোখের অতল গহ্বরে যখন আমি তাকাই , দেখি সেখানে কয়েকশ বছরের পুরনো এক তুষারপাত যেখানে আমার সব যুক্তি , সব সতর্কতা মরে পড়ে আছে একান্ত একাকী ,   কোনো এক নিষিদ্ধ অরণ্যের হরিণের মতো শহরের এই কংক্রিটের জঙ্গল যখন আমার টুঁটি চেপে ধরে , আমি তোমার গ্রীবার ভাঁজে খুঁজি এক চিলতে প্রাচীন নক্ষত্রলোক তোমার আঙুলের স্পর্শে আমার বুকের পাজরগুলো একেকটা সেতারের তার হয়ে বেজে ওঠে তীব্র হাহাকারে সে সুর কোনো বসন্তের নয় , ওটা এক প্রলয়ংকরী ঝড়ের পূর্বাভাস ; যা ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয় আমার জমানো সব নাগরিক ভদ্রতা , আর আমি নগ্ন হয়ে দাঁড়াই তোমার ওই নির্মম সৌন্দর্যের সামনে মাঝে মাঝে মনে হয় , আমাদের এই প্রেম এক নিষিদ্ধ প্রত্নতত্ত্ব আমরা খুঁড়ছি একে অপরের হৃদপিণ্ড সেখানে কোনো সোনা নেই , আছে কেবল প্রাচীন কোনো যুদ্ধের ক্ষত আর ভাঙা তলোয়ার তুমি যখন হাসো , আমার মনে হয় মাঝরাতের কারফিউ ভেঙে একদল বিদ্রোহী স্লোগান দিচ্ছে আমার শূন্য ধমনিতে তোমার ঠোঁটের ওই অবাধ্য তিলটা আসলে এক ব্ল্যাকহোল , যেখানে নিক্ষিপ্ত হচ্...

শহুরে একাকীত্বের ছায়া

এই যে ল্যাম্পপোস্টটা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে গলির মোড়ে , ওটা আসলে কোনো লোহার থাম নয় , ওটা এক তস্কর ঋষি ; রাতের নির্জনতায় সে অন্ধকারকে ছেঁকে বের করে আনে হলদে বিষ তার ওই ঘোলাটে আলোর বৃত্তের ভেতর কত শত ছায়া খেলে যায় কতগুলো চোর , কতগুলো প্রেমিক , আর একরাশ মধ্যবিত্ত হাহাকার সবাই সেখানে এসে থামে , অথচ কেউ কাউকে ভালভাবে চেনে না ; যেন এক অদ্ভুত জাদুকরী রেখা টেনে রেখেছে এই নগরীর বুক ল্যাম্পপোস্টটার মাথায় যখন কাকেরা ঘুমিয়ে পড়ে ডানা গুটিয়ে , আমি দেখি , ওটা আসলে একটা নিঃসঙ্গ আলোকবর্তিকা নয় , বরং এই শহরের এক পরিত্যক্ত কঙ্কাল , যার কোনো মাংস নেই তার ভেতরে বয়ে চলে হাজার মানুষের দীর্ঘশ্বাস , মাঝে মাঝে শর্ট সার্কিটে যখন স্ফুলিঙ্গ ঝরে পড়ে পিচঢালা পথে , মনে হয় ওটা তো বিদ্যুৎ নয় , ওটা শহরের কোনো চাপা কান্না যা কংক্রিটের দেয়ালে প্রতিধ্বনি তুলে হারিয়ে যায় ড্রেনের নরকে আমি যখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে এই নিস্তব্ধতার ব্যবচ্ছেদ করি , দেখি জানলার গ্রিলগুলো একেকটা জেলের শিকের মতো বিঁধে আছে ; আর ওপাশে আমাদের যাপিত জীবন এক একটা শীতঘুমে মগ্ন ঘর শহরটা এখন আর ইঁট-পাথরের নেই , ওটা একটা প্রাচীন অজগর , যে গিলে ফেল...

সময়ের ব্যবচ্ছেদ

  দেয়ালের সেই পুরনো ঘড়িটা আসলে কোনো যন্ত্র নয় , ওটা একটা বৃদ্ধ পাহারাদার , যে অবিরাম হাতুড়ি পেটে আমার আয়ুষ্কালে তার টিকটিক শব্দে আমি কোনো সেকেন্ডের হিসেব পাই না , বরং শুনতে পাই একেকটি ঝরে পড়া নক্ষত্রের পতনধ্বনি যা আমার ঘরের সিলিং ফুঁড়ে অতল গহ্বরে হারিয়ে যায় ড্রয়িংরুমের নির্জনতায় ওটা যখন বার বার শব্দ করে , আমি দেখি , প্রতিটি দোলক যেন একেকটি ফাঁসির দড়ির মতো দুলছে ; আর সেখানে ঝুলছে আমার না-বলা কথা , অপূর্ণ প্রেমের কিছু ছাই ঘড়িটার কাঁচের ওপাশে আটকে আছে একটা ধূসর মথ , সে সময়ের চাকার সাথে ঘুরতে ঘুরতে এখন নিজেই সময় হয়ে গেছে , নিস্পন্দ , নিথর , অথচ এক অমোঘ সত্যের মতো উজ্জ্বল মাঝে মাঝে মনে হয় , ঘড়িটার ওই রোমান হরফগুলো আসলে একেকটা প্রাচীন পাথরের সমাধিফলক আমি যখন ঘুমিয়ে পড়ি , ওরা নেমে আসে দেয়াল থেকে , সারা ঘরময় হেঁটে বেড়ায় আমার ফেলে আসা বিকেলের জুতো পরে ওরা টেবিলের ওপর রাখা আধখাওয়া চায়ের কাপে চুমুক দেয় , আর বিষণ্ণ স্বরে বলে , স্মৃতি ছাড়া মানুষের আর কোনো সম্পদ নেই , এই যে কাঁটা দুটোর নিরন্তর তাড়া করা , একে অপরকে ছোঁয়ার আকুলতা , ওটা তো আসলে আমারই দুই সত্তা ; যারা কখনোই এক...