বাংলাদেশের গল্প কেবল সাফল্যের গল্প নয়; এ গল্পের ভেতরে অসংখ্য অপূর্ণতার দীর্ঘ ছায়াও মিশে আছে। একটি দেশ যখন যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে নিজের পরিচয় নির্মাণ করে, তখন তার প্রতিটি অগ্রগতি যেমন গর্বের, তেমনি প্রতিটি ব্যর্থতাও আত্মসমালোচনার দাবি রাখে। আমরা স্বাধীনতার পর বহু পথ পেরিয়েছি অর্থনীতি বেড়েছে, নগরায়ণ হয়েছে, শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, অবকাঠামো বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু উন্নয়নের দৃশ্যমান ভবনের আড়ালে এমন কিছু ভাঙাচোরা জায়গা রয়ে গেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে হয় আমরা কি সত্যিই এগিয়েছি, নাকি কেবল এগিয়ে যাওয়ার চেহারাটি নির্মাণ করেছি? আমাদের ব্যর্থতাগুলো তাই কেবল কোনো সরকারের, কোনো প্রতিষ্ঠানের কিংবা কোনো ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; এগুলো আমাদের সামষ্টিক চরিত্র, রাষ্ট্রচিন্তা, সামাজিক অভ্যাস এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের আয়না। সর্বোপরি এগুলো আমাদের নিজস্ব ব্যর্থতা। আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়তো এই যে, আমরা অনেক সময় সমস্যাকে সমাধান করার চেয়ে সমস্যার সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যাই। রাস্তায় যানজট, নদীতে দূষণ, ফুটপাতে দখল, ঘুষ, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, বিচার পেতে...
মহাবিশ্বের শেষ প্রান্তে যখন আলো এবং অন্ধকার একে অপরের সাথে নিঃশব্দ যুদ্ধ বন্ধ করে দিয়েছিল, ঠিক তখন ‘অরিয়ন-৯’ নামক মহাকাশপোতটিতে লাল বাতিটা দ্বিতীয়বারের মতো জ্বলে উঠল। নোভা তার বায়ো-স্যুটের হেলমেটটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। কাচের প্যানেলে তার নিজের ক্লান্ত চেহারা প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বয়স খুব বেশি নয়, কিন্তু চোখের কোণে যে রেখাগুলো জেগে উঠেছে, তা সময়ের নয় তা একাকীত্বের। অরিয়ন-৯ পৃথিবীর শেষ অভিযাত্রী জাহাজ। পৃথিবীর কথা এখন আর কেউ মনে রাখে না। সৌরজগতের নীল গ্রহটি যখন তার সূর্যকে হারিয়ে এক খণ্ড জমে যাওয়া পাথরে পরিণত হয়েছিল, তখন মানবজাতির শেষ কয়েকটি অংশ ছিটকে পড়েছিল ছায়াপথের বিভিন্ন প্রান্তে। নোভা ছিল সেই অভিযাত্রীদের একজন, যার কাজ ছিল একটি নতুন আবাসস্থল খোঁজা অথবা অন্তত অন্য কোনো জীবন্ত সভ্যতার সন্ধান পাওয়া। ‘কম্পিউটার, ডায়েরি এন্ট্রি নাম্বার ৪,৮০২,’ নোভা ফিসফিস করে বলল। কন্ট্রোল প্যানেলে একটি যান্ত্রিক নীল আলো কেঁপে উঠল। আরিয়া (A.I. R-18), জাহাজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মৃদু কণ্ঠে উত্তর দিল, ‘শুনছি, নোভা। আপনার রিপিটেশন রেট আজ স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫% বেশি। আপনি কি মানসিক ...