সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

তোমাকে ভালোবাসার পর

তোমাকে ভালোবাসার পর আমি আর আগের মানুষটি নেই , আমার ভেতরের যে মানুষটি একদিন খুব হিসেব করে বেঁচে থাকত , সে এখন প্রতিদিন তোমার নামের কাছে নিজের সমস্ত যুক্তি রেখে আসে তোমাকে ভালোবাসার পর রাত আর শুধু রাত থাকে না , অন্ধকারের ভেতরেও আমি তোমার মুখের আলো খুঁজি , জানালার কাচে জমে থাকা শিশিরে তোমার আঙুলের স্পর্শ কল্পনা করি , আর দূরের কোনো অচেনা পাখি ডাকলে মনে হয় , তুমি বুঝি আমাকে ডাকছো অন্য কোনো শহর থেকে , অন্য কোনো জন্মের ভেতর থেকে তোমাকে ভালোবাসার আগে আমি জানতাম না একটি মানুষের অনুপস্থিতিও এত ভারী হতে পারে। তুমি পাশে না থাকলে ঘরের চেয়ারগুলোও যেন আমার দিকে তাকিয়ে থাকে , বিছানার একপাশ অকারণে শীতল হয়ে যায় , চায়ের কাপের ধোঁয়া কেমন একা একা ওপরে ওঠে , আর আমার হাত অভ্যাসবশত তোমাকে খুঁজতে গিয়ে শূন্যতাকে ছুঁয়ে ফিরে আসে , আমি তখন বুঝি , ভালোবাসা আসলে কাছে থাকার নাম নয় , ভালোবাসা হলো কাউকে না পেয়েও প্রতিটি মুহূর্তে তাকে পেয়ে যাওয়ার এক অসম্ভব ব্যাধি ,  তুমি জানো না , কতবার তোমাকে না বলেও আমি তোমার সঙ্গে কথা বলেছি। ভোরের আগে যখন পৃথিবী সবচেয়ে নিঃশব্দ , আমি তোমার নাম ধরে...
সাম্প্রতিক পোস্টগুলি

তৃতীয় জানালার আলো

  বৃষ্টির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক খুব অদ্ভুত। কেউ বৃষ্টিকে ভালোবাসে কারণ সে পৃথিবীকে ধুয়ে দেয়, কেউ বৃষ্টিকে ঘৃণা করে কারণ সে পুরোনো স্মৃতিগুলোকে ভিজিয়ে আবার জীবন্ত করে তোলে। নীরা বৃষ্টি ভালোবাসত না, অথচ তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ দুজনই এসেছিল বৃষ্টির দিনে। একজন এসেছিল তাকে ভালোবাসতে শেখাতে, আর অন্যজন এসেছিল তাকে বুঝিয়ে দিতে যে ভালোবাসার সবচেয়ে গভীর রূপটি কখনো কখনো উচ্চারণ করা যায় না। সেই দুজনের নাম ছিল অর্ক ও রুদ্র। আর নীরা জানত না, মানুষের হৃদয় কখন কোন নামে নিজের দরজা খুলে দেয়। ঢাকার আকাশে সেদিন দুপুর থেকেই কালো মেঘ জমেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ ক্লাস শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টি শুরু হলো। সবাই ছুটে বেরিয়ে গেল, কেউ ছাতা খুলল, কেউ ব্যাগ মাথায় দিয়ে দৌড়াল, কেউ করিডোরে দাঁড়িয়ে মোবাইলে বৃষ্টির ছবি তুলতে লাগল। নীরা দাঁড়িয়ে ছিল পুরোনো কলাভবনের বারান্দায়। তার হাতে একটি বই, বইটির ভেতরে শুকনো কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি। সে জানত না কেন সেদিন তার মনে হচ্ছিল, জীবনে খুব শিগগিরই কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। মানুষের মন কখনো কখনো ভবিষ্যতের গন্ধ পায়, যদিও সে ভবিষ্যৎ দেখতে পারে না। ঠিক তখনই তার পাশে এসে দাঁড়াল একটি ...

কুয়াশা ও রক্তগোলাপের দিনগুলি

  শীতের রাতের কুয়াশাটা সেদিন এতই ঘন ছিল যে হাত বাড়ালে নিজের আঙুলগুলোকেও আবছা দেখাত। উত্তর দিক থেকে আসা হাড়কাঁপানো বাতাস যেন চামড়া ভেদ করে হাড়ের মজ্জায় গিয়ে বিঁধছিল। ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা বেজে পঁয়তাল্লিশ। ঢাকা শহরের উত্তরার জসীমউদ্দীন অ্যাভিনিউয়ের মোড়ের পুরনো বাসস্ট্যান্ডটি ফাঁকা, আলো-আঁধারিতে রহস্যময়। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা কুয়াশার চাদরে আটকে গিয়ে এক অদ্ভুত, ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করেছে।   তন্ময় দাঁড়িয়ে ছিল শেডের নিচে, তার পাতলা জ্যাকেটের পকেটে দুই হাত গুঁজে। তার ঠোঁট দুটো ঠান্ডায় হয়ে গেছে, আর মুখ থেকে বের হওয়া নিঃশ্বাস জমাট বেঁধে ধোঁয়া হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। শেডের টিনের চালে শেষ রাতের বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ শব্দে ঝরে পড়ছে। সে অপেক্ষা করছিল শেষ বাসটার জন্য। আজকের রাতটা তার জীবনের অন্যতম এক কঠিন রাত। চারুকলা ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্র তন্ময়, সারা দিন ধরে ক্যানভাসে একটা সঠিক রঙ মেলাতে না পেরে ভেতরে গভীর এক হতাশা আর শূন্যতা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। চিত্রশিল্পী হিসেবে তার ভবিষ্যৎ কী, নিজের অস্তিত্বের অর্থ কী, এসব দোলাচলে তার মনটা তছনছ হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই কুয়াশার ভেতর থ...

তোমার কাছে ফিরে যাওয়ার আগে

  শহরের সমস্ত আলো নিভে গেলে আমি তোমার কথা ভাবি, যেন বহুদিন হারিয়ে যাওয়া কোনো নদী হঠাৎ নিজের উৎসের নাম মনে করেছে তুমি তখন কোথায় থাকো? কোন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে অন্য কোনো আকাশের দিকে তাকাও? তোমার চুলে কি এখনও বাতাস নামে তোমার চোখে কি এখনও কোনো অসমাপ্ত বিকেলের রোদ জমে থাকে? আমি জানি না আমি শুধু জানি, তোমাকে ভালোবাসার পর আমি আর আগের মানুষটি নেই আমার ভেতরে যে নির্জনতা ছিল, তারও এখন একটি মুখ আছে সে মুখ তোমার কখনো কখনো মনে হয় তোমাকে পাওয়ার জন্য নয়, তোমাকে হারাবার ভয় নিয়েই আমি জন্মেছিলাম পৃথিবীতে তাই প্রতিটি বিদায়ের মধ্যে আমি মৃত্যুর শব্দ শুনি, প্রতিটি নীরবতায় তোমার না-বলা কথাগুলো আমার বুকের ভেতর নীরবে ব’য়ে চলে গভীর শূন্যতা তবু আমি তোমাকে দোষ দিই না, প্রেম তো কারও জন্য অপেক্ষা করে না, প্রেম শুধু একটি দরজা খুলে রেখে সারারাত অপেক্ষা ক’রে তুমি যদি কোনোদিন ফিরে আসো, দেখবে আমি হয়তো বদলে গেছি, চুলে সময়ের ধুলো, চোখে ক্লান্তির ছায়া; কিন্তু তোমার জন্য রেখে দেওয়া আমার হৃদয়ের সেই ছোট্ট ঘরটি এখনও আলো জ্বেলে রেখেছে এসো না, কোনো প্রতিশ্রুতি ন...

আমাদের ব্যর্থতাগুলো

  বাংলাদেশের গল্প কেবল সাফল্যের গল্প নয়; এ গল্পের ভেতরে অসংখ্য অপূর্ণতার দীর্ঘ ছায়াও মিশে আছে। একটি দেশ যখন যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে এসে নিজের পরিচয় নির্মাণ করে, তখন তার প্রতিটি অগ্রগতি যেমন গর্বের, তেমনি প্রতিটি ব্যর্থতাও আত্মসমালোচনার দাবি রাখে। আমরা স্বাধীনতার পর বহু পথ পেরিয়েছি   অর্থনীতি বেড়েছে, নগরায়ণ হয়েছে, শিক্ষার বিস্তার ঘটেছে, অবকাঠামো বদলেছে, মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু উন্নয়নের দৃশ্যমান ভবনের আড়ালে এমন কিছু ভাঙাচোরা জায়গা রয়ে গেছে, যেখানে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করতে হয়   আমরা কি সত্যিই এগিয়েছি, নাকি কেবল এগিয়ে যাওয়ার চেহারাটি নির্মাণ করেছি? আমাদের ব্যর্থতাগুলো তাই কেবল কোনো সরকারের, কোনো প্রতিষ্ঠানের কিংবা কোনো ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়; এগুলো আমাদের সামষ্টিক চরিত্র, রাষ্ট্রচিন্তা, সামাজিক অভ্যাস এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের আয়না। সর্বোপরি এগুলো আমাদের নিজস্ব ব্যর্থতা। আমাদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হয়তো এই যে, আমরা অনেক সময় সমস্যাকে সমাধান করার চেয়ে সমস্যার সঙ্গে বসবাস করতে শিখে যাই। রাস্তায় যানজট, নদীতে দূষণ, ফুটপাতে দখল, ঘুষ, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, বিচার পেতে...