কবির হৃদয়ে অসমাপ্ত ব’লে কিছু নেই , ঘড়ির কাঁটা যেন মুহূর্তে শুধু নিশ্বাস ফেলে ভালোবাসা তার কাছে কোনো মানুষ নয় , একটি অনন্ত আলোর ছায়া , যা শব্দ হ’য়ে জন্ম নেয় প্রতিটি নিঃশ্বাসে; রাত্রি যখন ঘন হ’য়ে আসে চতুর্দিকে , সে তখন জেগে থাকে বাতাসের ভেতর , ভালোবাসার অদৃশ্য আলিঙ্গনে, চেতনায় এঁকে যায় কোন নারীর চোখের গভীর চিহ্ন তার কলমে জ্বলে উঠে নক্ষত্র , জ্যোৎস্না অক্ষরগুলো নরম আগুনের মতো উজ্জ্বল, যা পোড়ায় , আবার শীতলও ক’রে একসঙ্গে সে জানে , প্রতিটি প্রেমই অসমাপ্ত , অপূর্ণ, তবু অসমাপ্তিতেই লুকিয়ে আছে গভীরতা বাস্তবতার কংক্রিট শহরে মুহূর্তে, যখন সব অনুভব হারায় মানবিক কণ্ঠে , কবি তখন একফোঁটা বৃষ্টি ধ’রে রাখে , যেন পৃথিবীর শেষ কোমলতা সবুজবনে তার কাব্যের প্রতিটি আলো যেন এক নিঃসঙ্গ আত্মার অমরতা, যেখানে শব্দ নয় , বরং নীরবতার উচ্ছ্বাস সে জানে, ঝরে পড়ে মানবিক সম্পর্ক, ভালোবাসা ক্ষণস্থায়ী , কিন্তু কবিতা অমর তার সম্পর্ক , লিখিত দৃষ্টি টিকে থাকে সময়ের অন্তহীন গলিতে, ছায়াপথে কবি, যে একদিন সব কিছু হারিয়ে ফেলে শব্দের ভেতর নিজের পুনর্জন্ম খুঁজে পায় , এবং পৃথিবী বুঝে না, ...
একুশের ভোর মানে শুধু সূর্যোদয় নয় , মানুষের ভেতর লুকানো উচ্চারণের পুনর্জন্ম , যে উচ্চারণ জন্মেছিল মায়ের কোলঘেঁষে প্রথম কান্নার ভেজা স্বরে , আমার বুকের মধ্যে যে স্বরকে থামাতে চেয়েছিল লৌহদেয়াল , কিন্তু থামাতে পারেনি কোনো গুলি , কোনো হুকুম , কোনো শাসন শীতের কাঁপা বাতাসে দাঁড়িয়ে ছিল তরুণ -তরুণীরা তাদের চোখে ছিল না ভয় , ছিল ভাষার দীপ্তি , তারা ভাল করেই জানতো ভাষা মানে শুধু শব্দের সমষ্টি নয় , ভাষা মানে আত্মপরিচয়ের শেষ আশ্রয় , যখন উচ্চারিত হলো সারা বাংলা বুক জুড়ে ‘ রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই ’ তা ছিল না তখন শুধু স্লোগান , ছিল বুকের গভীর থেকে উঠে আসা এক অনিবার্য সত্যের জোয়ার , যা ভাসিয়ে নিয়েছিল শাসনের অহংকার , গুলির শব্দে কেঁপে উঠেছিল দুপুর আর সন্ধ্যা রক্তে রাঙা হয়েছিল রাজ পথ , কিন্তু রক্তের প্রতিটি ফোঁটা বর্ণমালার অক্ষর হ ’ য়ে মাটির বু ’ কে লিখে দিয়েছিল আমরা আছি , আমরা থাকব বাংলার বুক জু’ড়ে সালাম , বরকত , রফিক , জব্বার আরও কত নাম তারা আজ শুধু নাম নয় , তারা বাংলা ভাষার শিরায় প্রবাহিত রক্ত , দীর্ঘস্বর তারা প্রতিটি কবিতার নীরব ব্যথা , অমর পঙক্তি প্রতি...