তোমার সৌন্দর্যে সবাই হারালো নিজেকে; তু’লে নিল প্রচলিত বিধি যা পুষ্পময় ক’রে রেখেছিল তাদের গভীর ভাবাবেগের চন্দ্রালোকে নিজেকে ভাবতে শুরু করলো সকল রূপের অপরিসীম কণ্ঠ নিঃশব্দে, নিজেকে নিয়ে গেল তোমার অনেক কাছে, তার ব্যবধান খুব বেশি নয়, শুধু অনুভূতিতে জমে থাকা বিষাদের ছায়া; বিচ্ছেদে ভ’রে আছে প্রাণ; তারা মনে ক’রে সকল সৌন্দর্য এক, চাঁদ ও জ্যোৎস্নার নিসর্গ-নদী ব’য়ে যাওয়া প্রবাহিত রূপালি ছায়া আর অবিন্যস্ত যতকিছু পুণ্যজলে, তাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেল আঁধারের যত উপকথা স্বপ্নলোকে; নিজেকে দাড় করালো নীলিমায়, নক্ষত্রের রাতে, জ্যোতির্ময় পূর্ণিমায়; মুগ্ধময় আভাসে, ভেসে যাওয়া রক্তিম ঠোঁটে; উজ্জ্বল অন্ধকারে বহু মসৃণ ব্যাকুলতা ভাবনার চিত্তে; স্মৃতির অতলে, কৃষ্ণপক্ষের অপার সৌন্দর্যের একক কোন অর্থ তাদের জানা নেই; নির্জনতার রাত্রের; নীল জ্যোৎস্নার গভীরে , প্রজ্ঞার দীপালোকে ঝাপসা হ’য়ে উ’ঠে গাঢ় হৃদয়ের গভীর গহ্বরে -, আশ্চর্য নক্ষত্রপুঞ্জের দিগন্তের হলুদ বিস্ময়; পবিত্র নদী তার গভীর সৌন্দর্য ছড়ায় নিরুদ্দেশে আলো-আঁধারে...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।