সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

কবিতাঃ ডুবে যাওয়া চাঁদের ছায়া

তোমার সৌন্দর্যে সবাই হারালো নিজেকে; তু’লে নিল প্রচলিত বিধি যা পুষ্পময় ক’রে রেখেছিল তাদের গভীর ভাবাবেগের চন্দ্রালোকে নিজেকে ভাবতে শুরু করলো সকল রূপের অপরিসীম কণ্ঠ নিঃশব্দে, নিজেকে নিয়ে গেল তোমার অনেক কাছে, তার ব্যবধান খুব বেশি নয়, শুধু অনুভূতিতে জমে থাকা বিষাদের ছায়া; বিচ্ছেদে ভ’রে আছে প্রাণ;       তারা মনে ক’রে সকল সৌন্দর্য এক, চাঁদ ও জ্যোৎস্নার নিসর্গ-নদী ব’য়ে যাওয়া প্রবাহিত রূপালি ছায়া আর অবিন্যস্ত যতকিছু পুণ্যজলে,     তাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেল আঁধারের যত উপকথা স্বপ্নলোকে; নিজেকে দাড় করালো নীলিমায়, নক্ষত্রের রাতে, জ্যোতির্ময় পূর্ণিমায়;   মুগ্ধময় আভাসে, ভেসে যাওয়া রক্তিম ঠোঁটে; উজ্জ্বল অন্ধকারে বহু মসৃণ ব্যাকুলতা ভাবনার চিত্তে; স্মৃতির অতলে, কৃষ্ণপক্ষের অপার সৌন্দর্যের একক কোন অর্থ তাদের জানা নেই; নির্জনতার রাত্রের;   নীল জ্যোৎস্নার গভীরে , প্রজ্ঞার দীপালোকে ঝাপসা হ’য়ে উ’ঠে গাঢ়   হৃদয়ের গভীর গহ্বরে -, আশ্চর্য নক্ষত্রপুঞ্জের দিগন্তের হলুদ বিস্ময়;   পবিত্র নদী তার গভীর সৌন্দর্য ছড়ায় নিরুদ্দেশে আলো-আঁধারে...

কবিতাঃ এখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম

এখানেই দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি , যখন সবকিছু চতুর্দিক দিয়ে নিস্তব্ধ হ’য়ে আসছিল , তাকিয়ে ছিলাম গাঢ় মেঘের দিকে , তার প্রোজ্জ্বলিত সব আলো যেন অলৌকিক যাদুকরের মতো আমার দিকে প্রসারিত ; আশ্চর্য , কল্পনার তুলিতে ভাবনার অর্থহীন মর্মর ধ্বনি , সবচেয়ে জটিল আর অবিন্যস্ত সেই সব কথা , যা হৃদয়ের গভীর থেকে সৌন্দর্যের পূর্ণ লীলাভূমিতে সীমাহীন নির্মোহ , রূপান্তরিত সকল উৎকৃষ্ট নির্মল চিত্রকল্প ;   তার নীলবীথির নদী ও সুনিবিড় শিল্পকর্মে । বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকলাম ; জলাভূমি , অরণ্য , গাছগাছালি , বাদামি পাহাড়ি আর সবুজ পল্লবের আলো ও আঁধারের দিগন্তের শেষ প্রান্তে। স্বেচ্ছানির্বাসিত আমি , নক্ষত্র ও চাঁদ ঘুমহীন ভাবনায় জড়ো হয় এক বিশাল শূন্যতা। মৌলিকতা সব ম্লান হয় তার শ্রাবণজলে ; মায়াবী রাত্রি আমাকেও নিয়ে যায় চিন্তার গভীর রাজ্যেয় ;   আশ্চর্য আমার নির্মল বিস্ময়কর ভাবনা ; অপূর্ব গাঢ় মেঘের বৃষ্টির ফোঁটায় ঝ’রে পড়া অমল সৌন্দর্যের সুনিবিড় কারুকার্যময় রূপান্তরিত সপ্ত সীমাহীন ভাবনাবোধের গতিহীন ছুটে চলা ; নষ্ট অযৌক্তিক রচিত সব অমর বাণী ; পৃথিবীর উজ্জ্বল রঙ...

কবিতাঃ অনেকগুলো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম

অনেকগুলো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম নিবিড়ভাবে, গভীর দৃষ্টিতে,   যারা সফল, সমাজ রাষ্ট্রে আর সভ্যতায়; পৃথিবীর গ্রহ জুড়ে রয়েছে তাঁদের নানা কিংবদন্তি, তাঁদের বিশাল হাতে ধরা পরে রাশি রাশি স্বপ্ন; সোনালি আলোয় ভরিয়ে তোলে বাঙলার চতুর্দিক, দশদিগন্ত প্রসারিত তাঁদের অমল সৌন্দর্য; রক্তের নিবিড় সম্পর্ক সর্বব্যাপী, চাঁদের গলিত হিমবাহ নিস্তব্ধতার সৌন্দর্য ধীরে-ধীরে ছুঁয়ে যায় বিশাল মাধবীর রূপে; অমল আঙুলে গেঁথে   থাকে উজ্জ্বলময় নিস্তব্ধতার রূপান্তরিত শিল্পকর্ম; বিশাল অবিন্যস্ত শোকাবহ বাণী সীমাহীন অনুভূতির হৃদয়ে মেঘমালার শ্রাবণজলে ছড়িয়ে প’ড়ে অমল সৌরভ নরম শরীরে; পৃথিবীব্যপ্ত সকল সুখ তাঁর অধীনে শিশিরের মৃদুহিমে, মুহূর্তে তাঁদের ইন্দ্রিয়গুলো মিশে যায় পূর্ণময় ঠোঁটে কেঁপে উঠা স্নিগ্ধ সঙ্গীতে; নির্জন শূন্যতায় ভ’রে উঠা দুপুরের আলোয় ছড়িয়ে প’ড়ে গাঢ় সন্ধ্যা নদীর ঢেউ,   সুন্দরের সকল অর্থ যেন মুছে গেছে সোনালি সুতোয় নিঃসঙ্গ ভাবনায় ঝ’রে পড়া অলৌকিক চিত্তে গাঢ় বৃষ্টিতে; নির্মম নির্বোধ সহিষ্ণু সকল পথ আজ দৃঢ়;    অবারিত শতাব্দীর কেঁপে উঠা স্মৃতিময় পবিত্র শ্লোক তাঁদের...

প্রবন্ধঃ রবীন্দ্রনাথের নিঃসঙ্গ ভাবনায় মৃণালিনী দেবী

২৩ নভেম্বর, ১৯০২ সালে জোড়াসাঁকোতে ২৮ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন মৃণালিনী দেবী। রবীন্দ্রনাথের পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭-১৯০৫) তখনও জীবিত আর রবীন্দ্রনাথের বয়স ৪১ বছর। ১৮ই অগ্রহায়ণ , ১৩০৯ সালে রবীন্দ্রনাথ , দীনেশচন্দ্র সেনকে একটি চিঠিতে লেখেন , ‘ ঈশ্বর আমাকে যে শোক দিয়াছেন তাহা যদি নিরর্থক হয় তবে এমন বিড়ম্বনা আর কি হইতে পারে । ইহা আমি মাথা নিচু করিয়া গ্রহণ করিলাম । যিনি আপন জীবনের দ্বারা আমাকে নিয়ত সহায়বান করিয়া রাখিয়াছিলেন তিনি মৃত্যুর দ্বারাও আমার জীবনের অবশিষ্টকালকে সার্থক করবেন । তাহাঁর কল্যাণ স্মৃতি আমার সমস্ত কল্যাণ কর্মের নিত্য সহায় হইয়া আমাকে বলদান করিবে । ’ সেই একই সময় রবীন্দ্রনাথ সত্যরঞ্জন বসুকে লেখেন অপর আর একটি চিঠি । চিঠির তারিখ হিশেবে আমরা পাই ১৮ই অগ্রহায়ণ , ১৩০৯ । রবীন্দ্রনাথ লেখেন , ‘ তোমার পত্রখানি পাইয়া আমার হৃদয় স্নিদ্ধ হইল । তুমি অল্পদিন এখানে থাকিয়াই তাহাঁর স্নেহপ্রবণ হৃদয়ের পরিচয় পাইয়াছ । তাহাঁর স্বভাব মাতৃভাবে পূর্ণ ছিল এবং তিনি তোমাকে আপন সন্তানের চক্ষেই দেখিয়াছিলেন । এখানকার বিদ্যালয়ে তুমি আসিবে এবং তাহাঁর যত্ন শুষসার অধীনে থাকিবে ইহার জন্য তিনি ঐৎসুকে...