সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কবিতাঃ অনেকগুলো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম


অনেকগুলো মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলাম নিবিড়ভাবে, গভীর দৃষ্টিতে,  
যারা সফল, সমাজ রাষ্ট্রে আর সভ্যতায়; পৃথিবীর গ্রহ জুড়ে রয়েছে তাঁদের
নানা কিংবদন্তি, তাঁদের বিশাল হাতে ধরা পরে রাশি রাশি স্বপ্ন; সোনালি
আলোয় ভরিয়ে তোলে বাঙলার চতুর্দিক, দশদিগন্ত প্রসারিত তাঁদের অমল
সৌন্দর্য; রক্তের নিবিড় সম্পর্ক সর্বব্যাপী, চাঁদের গলিত হিমবাহ নিস্তব্ধতার
সৌন্দর্য ধীরে-ধীরে ছুঁয়ে যায় বিশাল মাধবীর রূপে; অমল আঙুলে গেঁথে  
থাকে উজ্জ্বলময় নিস্তব্ধতার রূপান্তরিত শিল্পকর্ম; বিশাল অবিন্যস্ত শোকাবহ
বাণী সীমাহীন অনুভূতির হৃদয়ে মেঘমালার শ্রাবণজলে ছড়িয়ে প’ড়ে অমল
সৌরভ নরম শরীরে; পৃথিবীব্যপ্ত সকল সুখ তাঁর অধীনে শিশিরের মৃদুহিমে,
মুহূর্তে তাঁদের ইন্দ্রিয়গুলো মিশে যায় পূর্ণময় ঠোঁটে কেঁপে উঠা স্নিগ্ধ সঙ্গীতে;
নির্জন শূন্যতায় ভ’রে উঠা দুপুরের আলোয় ছড়িয়ে প’ড়ে গাঢ় সন্ধ্যা নদীর ঢেউ,  
সুন্দরের সকল অর্থ যেন মুছে গেছে সোনালি সুতোয় নিঃসঙ্গ ভাবনায় ঝ’রে

পড়া অলৌকিক চিত্তে গাঢ় বৃষ্টিতে; নির্মম নির্বোধ সহিষ্ণু সকল পথ আজ দৃঢ়;   
অবারিত শতাব্দীর কেঁপে উঠা স্মৃতিময় পবিত্র শ্লোক তাঁদের সম্পূর্ণ অবয়ব;
অপরিসীম বিষণ্ণ উজ্জ্বল রক্তিম ঠোঁটে মেখে যায় সোনা ঝরা স্বপ্ন, অলৌকিক
মননে স্পর্শের অবারিত টলোমলো স্মৃতিতে গেঁথে থাকে মায়াময় আঙুলের
ছোঁয়া, রঙিন স্বপ্ন নিয়ে যায় প্রসারিত সঙ্গীতের মৌলিক সুরে; অশ্রুবিন্দু ঝ’রে
পড়ে রচিত শিল্পকলার শূন্যতার মর্মে, ‘পূর্ণপ্রেম কবিতা হও মৃদু নিশীথিনীর
সৌন্দর্যে নির্মল হৃদয়ে’ একথা বলে যিনি চলে গেছেন বসন্তের সন্ধ্যায়, লাল
ঠোঁটে বাতাস বয় রঙিন খেয়ালে বিস্মৃতির অতলে মৌলিক ভাবনার রৌদ্রহিমে।    

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...