এ যেনো বাঙলায় রাখা ভবিষ্যতের চির সঞ্চয়। যার আর কোনো প্রতিদান নেই। যা ফিরে আসে আপন সত্তার দিকে। আবার যা মিশে যাবে আগামী দিনের হ’য়ে। তাই কবিতার শেষে ব’লে উঠেন ‘বাঙলার সব রক্ত তীব্রভাবে মাটি অভিমুখি’।‘টয়লেট’ কবিতাটি খুব বেশি মৌলিক হ’য়ে দেয় না। যার থেকে প্রকাশ পাবে অন্য কিছু। কবিতাটির অভ্যন্তরে চোখ রাখলে দেখতে পাই সেই পূর্বের ন্যায় দাঁড়ি-কমা বর্জিত হ’য়ে রচিত হয় কবিতাটি। তীব্র আবেগ আর গভীর সৌন্দর্যের কবিতা ‘রোদনের স্মৃতি’। এ কবিতাটিতে প্রকাশিত আবেগ এর পূর্ব পর্যন্ত আমরা পাই নি; পাই নি সৌন্দর্যে কেঁপে উঠতে। আর তা যেন এক হ’য়ে আসে এখানে এসে। কবিতাটির প্রকাশিত সৌন্দর্য যেন এক গলিত অশ্রু হ’য়ে ফিরে আসে আমাদের আঁখিকোণে। যা স্মৃতি ও স্বপ্নময়; হিম ও জ্যোৎস্নায়। কবিতাটি একটু পড়িঃ ‘তোমাকে চোখের মধ্যে রেখে কাঁদি, আমার দু’ চোখে তুমি বিগলিত ঠাণ্ডা হিম, তুমি কাঁদছো, দু-চোখের একান্ত ভেতর গ’লে যাচ্ছে কালো আঁখিতারা, গ’লে গ’লে একটি গাছের মতো সবুজ, তোমার মতোন করুন হয়ে যাচ্ছে অশ্রুমালা তুমি নিথর নিরীহ দাঁড়িয়ে আছো আঁখি তারার ভেতর, তুমি, একাকিনী সবুজ পল্লব, কাঁপছো বাতাসে শাদা হিমে ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।