সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আধুনিক বাঙলা কবিতার দু’টি সংকলনঃ বুদ্ধদেব বসু থেকে হুমায়ুন আজাদ-৩


পঞ্চম সংস্করণে আমরা যে দশজন কবিরা দেখা পাই তাঁরা হলেনঃ সন্তোষকুমার ঘোষ, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, আলোক সরকার, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার, তারাপদ রায়, জ্যোতির্ময় দত্ত এবং প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত। বুদ্ধদেব বসুর এ সংকলনে  কবি খ্যাতি ছিল না কিংবা ‘কবি’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ পায়নি; তাঁরা-ও হ’য়ে উঠেছিলেন আধুনিক কবি। সেই সময়ে কবি খ্যাতির সূত্রপাত হতো বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মধ্যে দিয়ে। যার মধ্যে দিয়ে তাঁরা কবি পরিচিতি পাবেন অন্যদের নিকট। বুদ্ধদেব বসুর ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ গ্রন্থে নিজের স্থান ক’রে নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি এমন কোনো কাব্যগ্রন্থ; যেখানে নিজেকে তু’লে ধরবেন একজন কবি হিশেবে, এবং সর্বোপরি একজন আধুনিক কবি হিশেবে। তিনিও ঢুকে পড়েছিলেন ঐ গ্রন্থে। আবার আমরা এমনটাও দেখেছি যার কবিতা নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে ‘কবিতা’ পত্রিকায়; এবং যার রয়েছে কবি খ্যাতি তিনি, কিন্তু জায়গা পাননি ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ নামের ঐ গ্রন্থে। কবিতার সংকলনটি শুরু হয় রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে। প্রথম সংকলনে রবীন্দ্রনাথের নেওয়া হয় ১৬টি কবিতা। দ্বিতীয় সংস্করণে নেওয়া হয় ১৬টি কবিতা, তৃতীয় সংস্করণে ১৭ টি কবিতা, বৃদ্ধি পায় একটি কবিতা প্রথম ও দ্বিতীয় থেকে। চতুর্থ সংস্করণে অপরিবর্তিত থেকে যায় কবিতার সংখ্যা। সর্বশেষ সংস্করণে কবিতার সংখ্যা বৃদ্ধি বা অপরিবর্তিত থেকে ও কমে আসে একটি কবিতা। স্বাভাবিক ভাবে যেখানে কবিতার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কথা; সেটা না হ’য়ে বরং কমে আসে কবিতার সংখ্যা। রবীন্দ্রনাথের থেকেও চতুর্থ ও পঞ্চম সংস্করণে অধিক সংখ্যক কবিতা নেওয়া হয় জীবনানন্দ দাশের। প্রথম সংকলনে ১০টি, দ্বিতীয় সংস্করণে ১৫টি, তৃতীয় সংস্করণে ১৭টি, চতুর্থ সংস্করণে ১৯টি এবং পঞ্চম সংস্করণে ১৯টি কবিতা নেওয়া হয় জীবনানন্দ দাশের। প্রথম সংকলন ও দ্বিতীয় সংস্করণে রবীন্দ্রনাথের কবিতা যেখানে অপরিবর্তিত থেকে যায়; সেখানে ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি করা জীবনানন্দ দাশের কবিতা। কবিতার সংখ্যাগত দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকার কথা রবীন্দ্রনাথের। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের কবিতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রথম সংকলন এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংস্করণে একই মানদণ্ড আরোপ করা হয়। অর্থাৎ তাঁর নেওয়া হয় ৭টি ক’রে কবিতা। একটি কবিতা বৃদ্ধি পায় চতুর্থ ও পঞ্চম সংস্করণে। রবীন্দ্রনাথের মতো সমসংখ্যক কবিতা নির্বাচন করা হয় অমিয় চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও। প্রথম সংকলনে অমিয় চক্রবর্তীর নেওয়া হয় ১৩টি কবিতা। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম সংস্করণ পর্যন্ত ৩টি কবিতা বৃদ্ধি করা হয় পূর্বের কবিতার সাথে অর্থাৎ নেওয়া হয় ১৬টি কবিতা। বুদ্ধদেব বসু, তাঁর সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’র গ্রন্থে প্রথম সংকলনে কবিতা নেন ১০টি। পূর্বের কবিতার সাথে ৫টি কবিতা বৃদ্ধি পায় দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ সংস্করণ পর্যন্ত। একটি কবিতা হ্রাস পায় পঞ্চম সংস্করণে। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ন্যায় সমসংখ্যক কবিতা নির্বাচন করা হয় বিষ্ণু দে’র কবিতার ক্ষেত্রেও। প্রথম সংকলনে বিষ্ণু দে’র নেওয়া হয় ৭টি কবিতা। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম সংস্করণ পর্যন্ত একটি কবিতা বৃদ্ধি করে নেওয়া হয় ৮টি কবিতা। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও  বিষ্ণু দে; তিরিশি আধুনিক বাঙলা কবিতার এ দু’জন কবির থেকেও অধিক সংখ্যক কবিতা নির্বাচন করা হয় সমর সেন থেকে। যা ভাবিত ক’রে  তোলে আমাকে ! প্রথম সংকলনে  সমর সেনের নেওয়া হয় ৯টি কবিতা। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম সংস্করণ পর্যন্ত তাঁর নেওয়া হয় ১৩টি কবিতা। তাহ’লে কি সুধীন্দ্রনাথ দত্ত ও বিষ্ণু দে থেকে অনেক উৎকৃষ্ট সমর সেন ? নজরুল ইসলাম থেকেও অধিক সংখ্যক কবিতা নির্বাচন করা হয় সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের। প্রথম সংকলনে নজরুল ইসলামের নেওয়া হয় ৬টি কবিতা; দ্বিতীয় ও তৃতীয় সংস্করণে নেওয়া হয় ৫ টি ক’রে কবিতা। ২টি কবিতা হ্রাস পায়  চতুর্থ ও পঞ্চম সংস্করণে; অর্থাৎ নেওয়া হয় ৩টি কবিতা। প্রথম সংকলনে  সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের নেওয়া হয় ৫টি কবিতা; যা অপরিবর্তিত থাকে তৃতীয় সংস্করণেও। ২টি কবিতা বৃদ্ধি পায় চতুর্থ ও পঞ্চম সংস্করণে; অর্থাৎ নেওয়া হয় ৭টি কবিতা। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, বিষ্ণু দে, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, নজরুল ইসলামের থেকেও চতুর্থ ও পঞ্চম সংস্করণে অধিক সংখ্যক কবিতা নির্বাচন করা হয় প্রেমেন্দ্র মিত্রের। তাঁর নেওয়া হয় ১০টি কবিতা। বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ (১৯৫৪)- এর গ্রন্থটির এবং পরবর্তী সংস্করণে আধুনিক কবিদের কবিতা নির্বাচনের কোন পদ্ধটি ব্যবহার করেছেন তা আমার জানা নেই। একক ভাবে পঞ্চম সংস্করণে নেওয়া হয়েছে অনেক আধুনিক কবিদের কবিতা। তাঁদের কবিতা কেন রাখা হ’লো না প্রথম সংকলনে বা পরবর্তী সংস্করণগুলোতে ? তাঁরা কি তখন আধুনিক কবি ছিলেন না ? না, কবি হিশেবে তাঁদের তখনও আগমন ঘটেনি ? তাঁদের কবিতা কি পরিপক্ব হ’য়ে  উঠে নি এই গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য ?
          
             বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ (১৯৫৪) এবং পরবর্তী সংস্করণে ১০টি বা ততোধিক কবিতা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন কবিরা হলেনঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জীবনানন্দ দাশ, অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু এবং সমর সেন। এই পাঁচজন কবির কবিতা রয়েছে ১০টি  বা ততোধিক। পাঁচ বা ততোধিক কিন্তু দশের কম কবিতা রয়েছে এমন কবিরা হলেনঃ সুকুমার রায়, নজরুল ইসলাম, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অন্নদাশঙ্কর রায়, অজিত দত্ত, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, বিষ্ণু দে এবং সুভাষ মুখোপাধ্যায়। আরো অনেক আধুনিক কবিদের জায়গা হয়েছে এ গ্রন্থে তাঁদের নিজেদের মতো ক’রে স্বল্পবিস্তার ভাবে। প্রথম সংকলনে যেখানে আধুনিক কবিদের সংখ্যা পাই ৪৯ জন; এর পঞ্চম সংস্করণে এসে সেই কবির সংখ্যা এসে দাড়ায় ৬৭জনে। বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ প্রকাশিত হওয়ার উনিশ বছরে চারটি সংস্করণ বের হয়; এবং এ সময়ে এ কবিতায় আরও যুক্ত হোন ১৮জন নতুন কবি। যারা আধুনিক কবি ব’লে পরিচিতি পান এ গ্রন্থের মাধ্যমে। তাহ’লে বলা চলে বৃদ্ধি পাচ্ছে আধুনিক বাঙলা কবি ও কবিতার সংখ্যা ? যারা দিন আর সন্ধ্যায় নিমগ্ন রয়েছেন কবিতা রচনায় ! যার ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাই সংস্করণের পর সংস্করণে আধুনিক বাঙলা কবিদের সংখ্যাগত দিকটি।    
    
              বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ (১৯৫৪)-এর সংকলন যেমন বহন ক’রে কবি নির্বাচনের ত্রুটি; সেই একই ভাবে তাতে মিশিয়ে রয়েছে কবিতা নির্বাচনের এক ভুল কাঠামো। এ সম্পর্কে হুমায়ুন আজাদ বলেনঃ ‘আধুনিক বাঙলা কবিতার প্রতিটি সংকলন দুটি ত্রুটি বহন করে থাকে; বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত আধুনিক বাংলা কবিতার (১৯৫৪) মতো মিশ্রণ ঘটায় আধুনিক ও প্রথাগত কবিতার, বা এমন অনেকের কবিতা সংকলন করে, যারা কবি নন। আধুনিক বাঙলা কবিতা সংকলনের সম্পাদকেরা পরিচয় দিয়ে থাকেন দ্বিধা এর ভীরুতার; অনাধুনিক প্রথাগত কবিতাও তাঁরা নেন আধুনিক কবিতার সংগ্রহে, সৃষ্টি করেন বিভ্রান্তি; আধুনিক কবিতা যে একটি স্বতন্ত্র কবিতা ধারা, তা বুঝতে দেন না’। বুদ্ধদেব বসু এর পর আধুনিক বাংলা কবিতার আর কোনো সংস্করণ প্রকাশ করেননি। তিনি যদি সম্পাদনা করতেন আর একটি সংস্করণ তাতে স্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেতো আধুনিক বাঙলা কবিতায়, কবি ও কবিতার সংখ্যা। যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল আধুনিক বাঙলা কবিতার পঞ্চম সংস্করণটি। সে দিকে আর হাত বাড়াননি তিনি। সেই সময় পর্যন্ত আধুনিক বাঙলা কবিতার এ গ্রন্থটি হ’য়ে  থাকে অক্ষুণ্ণ ও অদ্বিতীয় হিশেবে।
          
              বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’র শেষ সংস্করণের দুই দশকের কিছু বেশি সময় পর আবার দেখা দেয় আধুনিক বাঙলা কবিতার আরেকটি বিশুদ্ধ সংকলন। সংকলনটি সম্পাদনা করেন আধুনিক বাঙলা কবিতার আরেক আধুনিক কবি হুমায়ুন আজাদ। হুমায়ুন আজাদের বিচার বিশ্লেষণ, গভীর প্রাজ্ঞতা এবং সর্বোপরি কবি ও কবিতার অক্ষুণ্ণ মানদণ্ড আরোপিত করা হয় আধুনিক বাঙলা কবিতার এ গ্রন্থটিতে। হুমায়ুন আজাদের নিরলস  পরিশ্রমের ফলে দেখা দেয় ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ (১৯৯৪)-এর গ্রন্থটি। এ গ্রন্থটি দেখা দেয় বর্তমান সময়ে আধুনিক বাঙলা কবিতার একটি পরিশুদ্ধ ও বৃহৎ গ্রন্থ হিশেবে। যা গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন ক’রে কবিতা প্রিয়দের নিকট। যা শুধু কবিতার একটি গ্রন্থ নয়; দেখা দেয় আধুনিক বাঙলা কবিতার একটি পরিপূর্ণ ও বিশুদ্ধ সংকলন হিশেবে। তিনি কেন অনুভব করলেন একটি বিশুদ্ধ আধুনিক বাঙলা কবিতার গ্রন্থের ? তাহ’লে কি পূর্বের গ্রন্থটি সুখী করতে পারেনি তাঁকে ? যার থেকে অনুভব করলেন ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ নামে একটি উৎকৃষ্ট কবিতা সংগ্রহের। তিনি কি মনে করেননি বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত আধুনিক বাঙলা কবিতার গ্রন্থটি যথার্থ হয়েছিল ! তিনি দেখাতে চেয়েছেন আধুনিক বাঙলা কবিতার পরিপূর্ণ রূপ কি রকম হ’তে পারে; এবং মিশ্রণ ঘটাতে চাননি আধুনিক কবি এবং অকবিদের মধ্যে। পূর্বের গ্রন্থের ভুলত্রুটি নয়; বরং একটি বিশুদ্ধ বাঙলা কবিতার সংগ্রহ হিশেবে হাত দিয়েছিলেন আধুনিক বাঙলা কবিতার সংকলনে। যার ফলশ্রুতিতে আমরা দেখতে পাই ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ (১৯৯৪)–এর  সংকলনটি। যা দেখা দিবে একমাত্র আধুনিক কবি ও কবিতার একটি উৎকৃষ্ট গ্রন্থ হিশেবে। তিনি দেখিয়েছেন কারা আধুনিক কবি। এবং কবি ও কবিতার মানদণ্ডে কে কতোটুকু জায়গা ক’রে নিবে আধুনিক বাঙলা কবিতার গ্রন্থে। হুমায়ুন আজাদ সম্পাদিত’ আধুনিক বাঙলা কবিতা’র গ্রন্থে আধুনিক কবিদের কবিতা এসেছে ব্যাপক এবং বিস্তৃত ভাবে। এসেছে কবিতার পর কবিতা। দেখানো হয়েছে একটি পরিপূর্ণ কবিতার গ্রন্থ কি রকম হ’তে পারে।  

           হুমায়ুন আজাদ সম্পাদিত ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ (১৯৯৪)– এর সংকলনে যে সকল আধুনিক কবিরা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তাঁরা হলেনঃ জীবনানন্দ দাশ, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অমিয় চক্রবর্তী, বুদ্ধদেব বসু, বিষ্ণু দে, অচিন্ত্যকুমার সেন গুপ্ত, প্রেমেন্দ্র মিত্র, অজিত দত্ত, সঞ্জয় ভট্টাচার্য, অশোকবিজয় রাহা, অরুণ মিত্র, দিনেশ দাস, সমর সেন, আহসান হাবীব, মনীন্দ্র রায়, শঙ্খ ঘোষ, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সুভাষ মুখোপাধ্যায়, বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অরুণকুমার সরকার, নরেশ গুহ, সুকান্ত ভট্টাচার্য, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, আব্দুল গনি হাজারী, শামসুর রাহমান, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, হাসান হাফিজুর রহমান, পূর্ণেন্দু পত্রী, অলোকরঞ্জন দাশ গুপ্ত, সাধনা মুখোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার, অমিতাভ দাশ গুপ্ত, সৈয়দ শামসুল হক, শহীদ কাদরী, সিকদার আমিনুল হক, রফিক আজাদ, মোহাম্মাদ রফিক, মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুন, হুমায়ুন আজাদ, আবুল হাসান, ফরহাদ মজহার এবং হুমায়ুন কবির। বর্তমান গ্রন্থে নেওয়া হয় ৪৪ জন কবির ২২৯ টি কবিতা। কবি ও কবিতার গড় অনুপাত ১: ৫.২০। অর্থাৎ, একজন কবির নেওয়া হয় পাঁচের অধিক কবিতা। যেখানে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’র প্রথম সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন ৪৯ জন কবি; আর হুমায়ুন আজাদ সম্পাদিত বর্তমান ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ (১৯৯৪)- এর গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হলেন ৪৪ জন কবি। কম অন্তর্ভুক্ত হলেন পূর্বের আধুনিক বাঙলা কবিতার গ্রন্থ থেকেও পাঁচজন কম। বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত আধুনিক বাংলা কবিতার পঞ্চম সংস্করণ (১৯৭৩); এবং  হুমায়ুন আজাদ সম্পাদিত ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ (১৯৯৪)-এর সময়ের ব্যবধান দুই দশকের চেয়েও বেশি। হুমায়ুন আজাদের বিচার বিশ্লেষণে কম অন্তর্ভুক্ত হলেন তাঁর সম্পাদিত ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’য় পূর্বের ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ থেকেও ২৩জন কবি। তিনি পরিত্যক্ত করলেন সেই সব কবিদের যারা কবি নয়; হ’য়ে উঠেছিলেন অকবি। তাই তিনি তাদেরকে বর্জন করলেন। দূরে সরিয়ে রাখলেন ওই সব অকবিদের;  ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ নামের একটি সুসম্পাদিত গ্রন্থ  থেকে। যারা কখনও দেখা দিবেন না ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ নামের সেই উজ্জ্বল উৎকৃষ্ট গ্রন্থটিতে। ............চলবে 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...