সব কিছুই যেন এক বিচ্ছুতি ঘটাবে তার জীবন প্রণালীতে। সব কিছু ছেড়ে যে বেছে নেয় একাকী এক লাফ দেওয়ার ইচ্ছায়। কবিতার মধ্যে যেমন আবার বেছে নেন ‘লাল রক্ত’, ‘স্লিপিং টেবলেট’, ‘রেল লাইন’, ‘ছুটি’, ‘সবুজ’, ‘মাংস’, ‘ঘাস’, ‘রাত্রি’, ‘পলিমাটি’, ‘নীল’, ‘বৃষ্টিপাত’, ‘মনুমেন্ট’, ‘মসজিদ’, ‘গোলাপি রিবন’, ‘নীল কাটা’, ‘জল্লাদ’, ‘সুপার মার্কেট’, ‘পুলিশ’, ‘ব্যাটসম্যান’, ‘সেঞ্চুরি’, ‘সঙ্গম’, ‘গর্ভবতী’, ‘পদ্মার ইলিশ’, ‘মৌমাছি’, ‘মৌচাক’ ইত্যাদি শব্দ। যে শব্দগুলো জড়িয়ে রয়েছে সম্পূর্ণ কবিতা জুড়ে। এ যেন শব্দের এক বিচিত্র ব্যবহার। তু’লে নেই এখান থেকে কবিতাটির একটি পঙক্তি। ‘লাফ দেবো পৃথিবীর উচ্চতম ছাদগুলো থেকে’। একজন একই সাথে কিভাবে বেছে নিবেন সেই সব উচ্চতম ছাদগুলো ? যা সম্ভাব হ’য়ে উঠে না। তার থেকে তিনি বেছে নেন ‘উচ্চতম ছাদটি’। যার থেকে অনায়াসে তিনি সম্পূর্ণ করতে পারেন নিজের লুকিয়ে থাকা চরম ইচ্ছাটি। ‘ষ্টেজ’ কবিতাটিতে শব্দগুলো ব্যবহার হয়েছে বিচিত্র ভাবে। সর্বদা যেন সজাগ রাখছে আমাদেরকে। যার থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে বেশ কষ্টকর হ’য়ে দেখা দেয়। হুমায়ুন আজাদের কিছু কবিতায় আমরা যেমন দেখেছি ব্যবহার হয়নি কোনো ‘দাঁড়ি’...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।