সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যের ভাবধারা ও শব্দবিন্যাস-৩

সব কিছুই যেন এক বিচ্ছুতি ঘটাবে তার জীবন প্রণালীতে। সব কিছু ছেড়ে যে বেছে নেয় একাকী এক লাফ দেওয়ার ইচ্ছায়। কবিতার মধ্যে যেমন আবার বেছে নেন ‘লাল রক্ত’, ‘স্লিপিং টেবলেট’, ‘রেল লাইন’, ‘ছুটি’, ‘সবুজ’, ‘মাংস’, ‘ঘাস’, ‘রাত্রি’, ‘পলিমাটি’, ‘নীল’, ‘বৃষ্টিপাত’, ‘মনুমেন্ট’, ‘মসজিদ’, ‘গোলাপি রিবন’, ‘নীল কাটা’, ‘জল্লাদ’, ‘সুপার মার্কেট’, ‘পুলিশ’, ‘ব্যাটসম্যান’, ‘সেঞ্চুরি’, ‘সঙ্গম’, ‘গর্ভবতী’, ‘পদ্মার ইলিশ’, ‘মৌমাছি’, ‘মৌচাক’ ইত্যাদি শব্দ। যে শব্দগুলো জড়িয়ে রয়েছে সম্পূর্ণ কবিতা জুড়ে। এ যেন শব্দের এক বিচিত্র ব্যবহার। তু’লে নেই এখান থেকে কবিতাটির একটি পঙক্তি। ‘লাফ দেবো পৃথিবীর উচ্চতম ছাদগুলো থেকে’। একজন একই সাথে কিভাবে বেছে নিবেন সেই সব উচ্চতম ছাদগুলো ? যা সম্ভাব হ’য়ে উঠে না। তার থেকে তিনি বেছে নেন ‘উচ্চতম ছাদটি’। যার থেকে অনায়াসে তিনি সম্পূর্ণ করতে পারেন নিজের লুকিয়ে থাকা চরম ইচ্ছাটি। ‘ষ্টেজ’ কবিতাটিতে শব্দগুলো ব্যবহার হয়েছে বিচিত্র ভাবে। সর্বদা যেন সজাগ রাখছে আমাদেরকে। যার থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া আমাদের পক্ষে বেশ কষ্টকর হ’য়ে দেখা দেয়। হুমায়ুন আজাদের কিছু কবিতায় আমরা যেমন দেখেছি ব্যবহার হয়নি কোনো ‘দাঁড়ি’...

হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যের ভাবধারা ও শব্দবিন্যাস -২

এ যেনো বাঙলায় রাখা ভবিষ্যতের চির সঞ্চয়। যার আর কোনো প্রতিদান নেই। যা ফিরে আসে আপন সত্তার দিকে। আবার যা মিশে যাবে আগামী দিনের হ’য়ে। তাই কবিতার শেষে ব’লে উঠেন ‘বাঙলার সব রক্ত তীব্রভাবে মাটি অভিমুখি’।‘টয়লেট’ কবিতাটি খুব বেশি মৌলিক হ’য়ে দেয় না। যার থেকে প্রকাশ পাবে অন্য কিছু। কবিতাটির অভ্যন্তরে চোখ রাখলে দেখতে পাই সেই পূর্বের ন্যায় দাঁড়ি-কমা বর্জিত হ’য়ে রচিত হয় কবিতাটি। তীব্র আবেগ আর গভীর সৌন্দর্যের কবিতা ‘রোদনের স্মৃতি’। এ কবিতাটিতে প্রকাশিত আবেগ এর পূর্ব পর্যন্ত আমরা পাই নি; পাই নি সৌন্দর্যে কেঁপে উঠতে। আর তা যেন এক হ’য়ে আসে এখানে এসে। কবিতাটির প্রকাশিত সৌন্দর্য যেন এক গলিত অশ্রু হ’য়ে ফিরে আসে আমাদের আঁখিকোণে। যা স্মৃতি ও স্বপ্নময়; হিম ও জ্যোৎস্নায়। কবিতাটি একটু পড়িঃ ‘তোমাকে চোখের মধ্যে রেখে কাঁদি, আমার দু’ চোখে তুমি বিগলিত ঠাণ্ডা হিম, তুমি কাঁদছো, দু-চোখের একান্ত ভেতর গ’লে যাচ্ছে কালো আঁখিতারা, গ’লে গ’লে  একটি গাছের মতো  সবুজ, তোমার মতোন করুন হয়ে যাচ্ছে অশ্রুমালা তুমি নিথর নিরীহ দাঁড়িয়ে আছো আঁখি তারার ভেতর, তুমি, একাকিনী সবুজ পল্লব, কাঁপছো  বাতাসে শাদা হিমে ...

হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যের ভাবধারা ও শব্দবিন্যাস-১

হুমায়ুন আজাদ, তাঁর শ্রেষ্ঠ কবিতার ভূমিকায় লিখেছিলেনঃ ’কবিতা তাঁর কাছে সৌন্দর্যের বিরামহীন বিস্তার, ইন্দ্রিয়ের অনন্ত আলোড়ন, জীবাশ্মের মতো নির্মোহ মহর্ষির প্রাজ্ঞতা, ধ্যানের অবিচল উৎসরণ, জীবনের আদিম উচ্ছল উৎসব, রূপক প্রতীক চিত্রকল্পের নির্বাণহীন অঙ্গার’। কবিতা সৃষ্টিতে থেকেছেন সৌন্দর্যের এক বিরামহীন স্তরে। নিজেকে এবং বাঙলা কবিতাকে করেছেন সমৃদ্ধ। কবিতায় খুঁজেছেন অমল অপার সৌন্দর্য; এবং তা দু’মুঠে নিয়েছেন আপন মনে। শুধু কবিতা নয়; লিখেছেন সাহিত্য সংশ্লিষ্ট অন্যান্য শাখাগুলোতে। চরম ভাবে হলেও সত্য যে, সমৃদ্ধ করেছেন বাঙলা সাহিত্যকে । যে সাহিত্যকে  তিনি নিয়ে যেতে চেয়েছেন সৌন্দর্যের উচ্চতম স্থানে। কেন লিখলেন কবিতা ? সৌন্দর্যের এক অপার শোভা ধারণ ক’রে আছে ঐ চোখে; এবং তার বহিঃপ্রকাশের জন্য ? আবদ্ধ থাকেননি বাঙলার প্রথাগত সাহিত্য নিয়ে। দেখিয়েছেন সাহিত্য কি এবং কিভাবে তাকে নিয়ে যেতে হয় সৃষ্টিশীলতার উচ্চতম  পর্যায়ে। এ যেন এক অদম্য পথিকের নিরন্তন পথচলা। হুমায়ুন আজাদ; চারদশকের চেয়েও বেশি সময় অবস্থান করেছেন বাঙলা কবিতায়। এই দীর্ঘ বিরামহীন পথে সাতটি কাব্যগ্রন্থে উপহার দিয়েছেন প্রায় তিনশতক ...

আধুনিক বাঙলা কবিতার দু’টি সংকলনঃ বুদ্ধদেব বসু থেকে হুমায়ুন আজাদ-৪

হুমায়ুন আজাদ সম্পাদিত ‘আধুনিক বাঙলা কবিতা’ (১৯৯৪)- এর গ্রন্থে প্রথমেই রয়েছে জীবনানন্দ দাশের কবিতা। এ সংকলনে জীবনানন্দ দাশের ২২টি; সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ২০টি; অমিয় চক্রবর্তীর ১৯টি; বুদ্ধদেব বসুর ১৯টি এবং বিষ্ণু দে’র ২০টি কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তিরিশি এই পাঁচজন কবির মধ্যে সর্বাধিক কবিতা রচনা করেছেন জীবনানন্দ দাশ। তাঁর ৭টি কাব্যগ্রন্থে পাওয়া যাবে তিনশতকের কাছাকাছি কবিতা; আর অগ্রন্থিত রয়েছে তিনশতকেরও অধিক সংখ্যক কবিতা। কবিতার সংখ্যাগত বিশ্লেষণে অনেক কম কবিতা নেওয়া হয় জীবনানন্দ দাশের। তাই ধ’রে নিতে পারি কবিতার সংখ্যাগত দিক থেকেও  বিচার্য বিষয় হ’য়ে উ’ঠে কবিতার মান বা উপযুক্ততা বা উৎকৃষ্টতা। তাই সেই হিশেবে অনেক বেশি কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয় সুধীন্দ্রনাথ দত্তের। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ৭টি কাব্য গ্রন্থে মোট পাওয়া যাবে ১৮৫ টি কবিতা। যার থেকে ‘আধুনিক বাঙলা কবিতায়’ নির্বাচন করা হয় ২০টি কবিতা। গড় অনুপাতে একটি কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয় দু’য়ের অধিক সংখ্যক কবিতা। চমৎকার নির্বাচন হুমায়ুন আজাদের। গড় অনুপাতে তিনি নেননি অধিক কবিতা বা বাদ রেখে দেননি কোনো কাব্যগ্রন্থকে। কাব্য সংখ্যার দিক থেকে ‘আধুনিক...

আধুনিক বাঙলা কবিতার দু’টি সংকলনঃ বুদ্ধদেব বসু থেকে হুমায়ুন আজাদ-৩

পঞ্চম সংস্করণে আমরা যে দশজন কবিরা দেখা পাই তাঁরা হলেনঃ সন্তোষকুমার ঘোষ, শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, আলোক সরকার, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, বিনয় মজুমদার, তারাপদ রায়, জ্যোতির্ময় দত্ত এবং প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত। বুদ্ধদেব বসুর এ সংকলনে  কবি খ্যাতি ছিল না কিংবা ‘কবি’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশ পায়নি; তাঁরা-ও হ’য়ে উঠেছিলেন আধুনিক কবি। সেই সময়ে কবি খ্যাতির সূত্রপাত হতো বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত ‘কবিতা’ পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মধ্যে দিয়ে। যার মধ্যে দিয়ে তাঁরা কবি পরিচিতি পাবেন অন্যদের নিকট। বুদ্ধদেব বসুর ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ গ্রন্থে নিজের স্থান ক’রে নেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত প্রকাশ পায়নি এমন কোনো কাব্যগ্রন্থ; যেখানে নিজেকে তু’লে ধরবেন একজন কবি হিশেবে, এবং সর্বোপরি একজন আধুনিক কবি হিশেবে। তিনিও ঢুকে পড়েছিলেন ঐ গ্রন্থে। আবার আমরা এমনটাও দেখেছি যার কবিতা নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে ‘কবিতা’ পত্রিকায়; এবং যার রয়েছে কবি খ্যাতি তিনি, কিন্তু জায়গা পাননি ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ নামের ঐ গ্রন্থে। কবিতার সংকলনটি শুরু হয় রবীন্দ্রনাথকে দিয়ে। প্রথম সংকলনে রবীন্দ্রনাথের নেওয়া হয় ১৬টি কবিতা। দ্বিতীয় সংস্করণে নে...