শিশির জমছে ঘাসে , প্রতিটি বিন্দু তোমার হাসির মতো ঝলমলে , আমি বসে আছি চুপচাপ , ভেতরে এক উন্মুক্ত আকাঙ্ক্ষায় তুমি কি দেখেছো, কতটা সহজ হতে পারে আমাদের ভালোবাসা! যখন হেঁটে যাই প্রকৃতির রঙ মেখে , তোমার কথা বু’কে নিয়ে ? বাতাসে ঝ’রে প’ড়ে একটি গোপন প্রার্থনা, কয়েক শতাব্দীর তুমি ফিরে এসো আমার বুকে মাত্র একটু স্পর্শের জন্য গাছেরা নীরবে সবাই জানে, আমরা মিলেমিশে সবাই ছিলাম এখানে আলোর ভেলায় ভেসে নিয়ে গিয়েছিলাম আমাদের স্বপ্নগুলো আজও আমি বলি, ফিরে আসো , আমার বুকে, তোমাকে সাথে নিয়ে আমার ভালোবাসা হ’য়ে উঠুক লতাপাতায় ছড়িয়ে পড়া সৌন্দর্য, প্রকৃতি যেন বলছে তোমরা একসাথে মিশে যাও আপন হ’য়ে তুমি ও আমি যেন নদীর ধার , গাছের ছায়া , বাতাসের মৃদু স্পর্শ চল , বসি একান্তে , যেখানে সময় দাঁড়ায় , সমস্ত সৌন্দর্য ম্লান হয় তুমি আসো, রৌদ্রকরোজ্জ্বলে, এবং আমি মন দিয়ে শুনব প্রকৃতির চুপচাপ সুর, মন ভরে, তোমার ব্যর্থ সঙ্গীত।
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।