রাত্রির এই গাঢ় নীলিমায় একা জ্বলে নোনা বাতি,
আমাদের হৃদয়ে এখন কেবলই আদিম এক দীর্ঘ পথ
তুমি আর আমি পাশাপাশি বসি যেন দুই দ্বীপান্তর,
মাঝখানে শুয়ে আছে এক বিবর্ণ শীতল সম্পর্ক
শরীরের রেখায় আজ আর ফোটেনা কোনো সুঘ্রাণ,
বরং সেখানে বিঁধে আছে নাগরিক এক তীব্র ব্যবধান
চায়ের কাপে জমাট বেঁধেছে মৃত সময়ের কালো বিষ,
স্মৃতির কার্নিশে বসে ডাকে এক বিষণ্ণ রাতজাগা পাখি
দেয়াল ঘড়ির প্রতিটি কাঁটা যেন বিদ্রূপের ধারালো নখ,
খুঁড়ে বের করে আনে আমাদের যত পুরনো নষ্ট স্মৃতি
তুমি চেয়ে আছো জানালার দিকে, যেখানে বৃষ্টি ঝ’ড়ে
আমি খুঁজি আয়নায় আমারই ভেতরে অন্য কারোর ছায়া
প্রেম কি তবে কেবলই এক শরীরের জ্যামিতিক খেলা?
নাকি অবচেতনে জমে থাকা এক ক্লান্ত শেষের বেলা?
পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকে আমাদের যত প্রাচীন পাপ,
অন্ধকারে জন্ম নেয় এক অসহ্য মন্থর অনুতাপ
বইয়ের আলমারিতে আজ ধুলো জমে স্তরে স্তরে,
শব্দরা কাঁদে নির্জনে, যেন ঝরে পড়ে নিভৃত অশ্রু
আমরা কি তবে কেবলই ছায়া, এই নগরের কংক্রিট ভিড়ে?
যেখানে হাহাকার ফিরে আসে বারংবার নিজেরই ছায়ায়
রক্তে আজো বাজে সেই ফেলে আসা তৃষ্ণার তীব্র সুর,
অথচ গন্তব্য থেকে গেছে বহুকাল আগে বড় বেশি দূর
তবুও এই ম্লান জ্যোৎস্নায় আমাদের মৌন এক বসবাস,
বাতাসে ভেসে আসে কেবলই নিঃসঙ্গ এক দীর্ঘশ্বাস।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন