সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

রাস্তার বাতি জ্বলে যায়

  রাস্তার বাতি জ্বলে যায় এক একটু সময়ের জন্য , কংক্রিটের উপর জমে থাকা ধূলিই জানে আগে। আমি হাঁটছি সেই রাস্তায় , পায়ে ধরা শব্দগুলো রিকশার হর্ণে মিশে যায়। শহরের ভীড়ে চোখ খুঁজে পায় ছোট্ট স্পর্শের খোঁজ , এক-একটি ছাদের কোণে রোদ খুঁজছে , এক-একটি নির্জন জানালায় হাসি লুকিয়ে। বছরের পর বছর প্লাস্টিকের ফুল বিক্রি হয় , কিন্তু পাতার রেশ হয় না কোথাও , এর মধ্যে সেঁটে আছে অপেক্ষার গন্ধ। ট্রাফিক লাইট বদলায় , মানুষের জীবনের রঙও , কিন্তু এই শহর হয়তো কখনও নেই শেষ গন্তব্য । আমি বলি , এই পথটি আমারও , তবু কোথাও মনে হয় , আমি অতিথি এখানে। গাছ না আছে সম্ভবত , যেখানে ছায়ার জন্য জায়গা নেই। শহর আজ শুধু পাথর নয় , সাহসে ভরা এক অনিশ্চিত স্বপ্নের নাম। চলুন আমরা থামি একটু , শহর নিজেই বলছে , প্রশ্বাস নাও , আর আমি শুনি , এখন আমার আয়োজন ?

মেঘেরা আজ দুলছে

  মেঘেরা আজ দুলছে আকাশের রেশে , শহরের দুটি ব্লকে আমি হারিয়ে যাচ্ছি , কিন্তু মনে হয় , প্রকৃতি একটু হলেও বলছে , পরিশ্রম শেষে একটু থেমে যাও হাতে নেই টিকিট , নেই ফিরবার সিদ্ধান্ত , শুধু একটা রাস্তা যেখানে ভয়কে বলেছি ঠিক আছে , তুমি পারো হাঁটো সাথে , ব্যাকুলগত নয় , নির্ভয়ে। একটা বৃক্ষের গায়ে রঙিন ফল ঝুলছে এখনও , জানালো আলোয় সন্দেহ ঘোরে না , শুধু সেখানে আমার চাওয়া দেখেছি , একটি শান্ত সাগরের হলুদ রোদে জেগে ওঠা সৌন্দর্য। সময় থামে না , জানি , তবু আমার হৃদয়ে একটি ফাঁক , যেখানে তোমার বসবে না হয়তো , কিন্তু থাকবে তার কথা , যেমন চুম্বন সে রাতে বাতাসে ভাসছে। শহরের আলোর মাঝে আমি বলি , প্রকৃতিকে ভুলিনি , আবার ফিরব , তাহলে ভোর হবে এক অন্যরকম প্রতিশ্রুতি , যেখানে তোমার চোখ ও আমার মন একসুরে কথা বলবে।

রোদ উঠে আসছে ক্রমে

  রোদ উঠে আসছে ক্রমে   ,   শহরের স্লেট-রাস্তায় ফোটে ধূসর চিত্র আমি হেঁটে চলেছি অচেনা ছায়ার ঠিকানায় , যেখানে শহুরে ব্যক্তিত্ব গোপন হ ’ য়ে যায় উড়ন্ত ধূলোর বিবরণে তো মার নাম নেই ওই রোদ-রশ্মিতে , তবু তো মার নিঃশব্দ উপস্থিতি দেখেছি , একটি খাঁচা ভাঙা ঘাসফুলের মতো , ট্রাফিকের হর্ণে মোড়া। রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে , দূরের লন্ঠনের আলো দেখে ভাবি , আমরা কতটা অদৃশ্য হয়েছি এক-অপরের গানে শহর নতুন ভোরের দিকে যাচ্ছে , বাতাসে মেশেছে একান্ত দীর্ঘশ্বাস , নিজেকে খুঁজে পাইনি , তবে এক পরিচিত চিহ্ন তো আছে: একটি খোলা জানালা , যেখানে প ’ ড়ে আছে চিঠি না লেখা স্বপ্ন আমি শুনি , পঙ্কিল গাছের পাতায় শিশির খোঁজে ফিরে আসার নাম ভালোবাসা হয়তো বিজ্ঞপ্তি হ ’ য়ে গেছে মুঠোফোনে , কিন্তু আমি জানি , রাত এখনও জেগে আছে , চাঁদের কোলে ভর ক ’ রে আমার অপেক্ষা যদি আসো, তাহলে বলব , এখানেই থাকো , ফুটোবে আলো ভাঙা গ্লাসে , স্মৃতির রঙিন কাঁটাও হবে না , শুধু থাকবে এই শব্দ: আশা।  

পথের বাঁকে

  পথের বাঁকে বাঁকে থেমে থেমে দেখি , তুমি এবং আমি একসাথে ছিলাম কি না , সে প্রশ্ন নিয়ে বাতাসে একটা সুগন্ধ ভেসে আসে , হয়তো শৈশবের খানায় ধরা এক চুম্বনের স্মৃতি আমি চলেছি অদৃশ্য রেল লাইনের মতো , যেখানে শব্দ নেই , শুধু কম্পমান নিঃশব্দতা তোমার স্মৃতিতে রঙিন স্বপ্ন ছড়িয়ে আছে , আমি সেই স্বপ্নে দাঁড়িয়ে বলি , আমি এখানে রয়েছি , তুমি কি শুনেছো ? চাঁদের আলো ঝলসে ওঠে পত্রিকার মতো , ভেঙে পড়ছে ফ্ল্যাশব্যাকে আজ আমি হেঁটেছি বৃক্ষরহিত রাস্তায় , যেখানে শুধু আমার ছায়া আমাকে সঙ্গ দিচ্ছে তো মার অনুপস্থিতি এক ধরনের অবস্থা , যেখানে সময় থামে না , কিন্তু পিছিয়ে যায় আমি রাখি সময়ের ঘড়ি বন্ধ করে , তোমার আগমনের জন্য অপেক্ষায় , যদি হয় এক হেসে ওঠা শিশির বিন্দুতে ভালোবাসা ছিল চিরন্তন , কিন্তু মাঝপথে হারিয়ে গেছে একটু সাহস , তো মার চোখের মধ্যে সেই আলো , যা আজ দেখি শুধু স্বপ্নের পেছনে। আমি লিখেছি এই লাইনগুলো , যেমন এক বৃষ্টির দোয়ালে লেখা অদৃশ্য বার্তা , যা পড়ে কেউ না, তবু অনুভব ক ’ রে যায় হৃদয় যদি ফিরে আসো , আমি রাখব একটু , এই বার একটু গাঢ়ভাবে বলব , তুমি ফিরে এসেছো , আর আমরা আবার হাসব , ...

রাত্রি নামছে ধীরে ধীরে

  রাত্রি নামছে ধীরে ধীরে , সাদা চাদরে উড়ছে বিস্তৃত আকাশে , আমি দেখি নিজেকে আলোকহীন , তথাপি আকাঙ্ক্ষায় ঝলমলে তোমার ভাবনার চিত্তে লিখে যাই একেকটি শব্দ , একেকটি নিঃশ্বাস , যেমন বার্ধক্য হঠাৎ ক ’ রে হাসে , ছেলেবেলার ক্ষণ নিয়ে ভাগ্যহারা দুপুরগুলো আজ স্মৃতিতে গড়িয়ে প ’ ড়ে , সন্ধ্যার রঙে মিশে যায় সেই সব কল্পনা , যা কখনো ছিল না বাস্তব শহরের হুড়োহুড়ি , ট্রাফিক হর্ণ , আলো-ছায়ার ঢেউ , সব মিশে গিয়েছে ওই এক নিরব মুহূর্তে , যেখানে আমরা ছিলাম তুমি বলেছিলে আকাশের নিচে আমরা সবসময় চলি , আমি আজও সেই কথার প্রতিশ্রুতি রাখি , হাত বাড়িয়ে ছোঁয়ার অপেক্ষায় , যেখানে বাতাস তোমার কথা বলার ভাষা খুঁজে পায় জীবন যেন একাবিংশ শতাব্দীর নতুন সংস্করণ আমার হৃদয়ের তাণ্ডব হঠাৎ থামিয়ে দেয় আমরা হয়তো এক পৃথিবীর বাসিন্দা ছিলাম , তবু দুটি ভিন্ন গ্যালাক্সিতে চলে গিয়েছিলাম আমাদের দ্বন্দ্বে কিন্তু ভালোবাসা এমন নয় , চোখ বন্ধ করে মনে থাকে রিক্ততা , যেমন কোনো ফুল পড়ে আছে জলহীন গ্লাসে , অপেক্ষায় এক তাজা পলকে হাসি ফিরে পাওয়ার আমি বলি , ভালোবাসি একান্তভাবে , অদৃশ্য স্পর্শে , অনুপাতহীন উপস্থিতিতে এসো ফিরে , ...

রাত্রি নামছে ধীরে

  রাত্রি নামছে ধীরে , আকাশের নীল আশা জাগে , পথের ধূলিতে পড়ে আছে আজ সন্ধ্যার আভাস চাঁদের রূপেখা মেলে ওঠে গাছেদের মাথায় তারার মৃদু আশা দূরে লুকিয়ে আছে বসে আমি হাঁটছি এক অলৌকিক ছায়ায় , যেখানে বাতাস শোনায় তার গোপন কথা প্রকৃতির হাসি ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে , একটি ফুলের মতো , যাকে কেউ স্পর্শ করে না হয়তো সৌন্দর্যের মানে শুধু বাহ্য নয় , অন্তরের আলোও , আপন ভেতর এক অনুভব , যা বলে , তুমি জানো কি ? আলোর রেশ ধরে , আমি ছুঁই তোমার ছায়া , তুমি হয়েছো ভাবনায় , নদীর ঢেউয়ের মতো গহন এই রাত্রি , এই নিঃশব্দতা , এই মৃদু হাওয়ায় , সবকিছু বলছে , নিচে আছো , আবার উঠে যাও আমি অপেক্ষায় থাকি , চোখ বন্ধ করে শুনি , প্রকৃতির নিঃশব্দ সুর , হৃদয়ের গভীরে বাজে। সৌন্দর্য ভেসে আসে এমন এক মুহূর্তে , যেখানে তুমি আর আমি এক হ ’ য়ে যাই।

হলুদ রোদ্দুর

  হলুদ রোদ্দুর ভেসে আসে সকালে , পাতার ফড়িংয়ের খেলার মতো হাসি নিয়ে , আমি দাঁড়িয়ে আছি বিনোদিত একান্তে , সবুজ ঘাসে , মাটির রেশে , হাওয়ার ছোঁয়ায় নদীর কলতান শুনছে শেস , আকাশের কোলে ঝরনা হ ’ য়ে পড়ছে ফুলের পাপড়ে , ধীরে ধীরে এই শান্তি আমাকে বলছে , চুপ করো , দেখি তুমি তুমি যদি হয়ো এক বিন্দু আলো , আমি হবো নদীর প্রতিফলন প্রকৃতি নিজের ঘরে আমায় আমন্ত্রণ জানায় , হাতে নেই কোনো লিখিত লাইন , শুধু অনুভূতির অহং তোমার চোখে মায়ের মতো মায়া , ভোরের শিশিরের মতো অপরূপ স্নিগ্ধতা বিকেলের নরম আলো গায়ে পড়ছে সোনালি কাপড়ে , হাওয়ার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে আমার অন্তর-গহ্বর এই সৌন্দর্য বোঝায় না শব্দে , হয় অনুভবে , আমি বলি , আমি এখানে আছি , প্রকৃতির কোলে , যেখানে সবকিছু হয় একান্ত।