রাস্তার বাতি জ্বলে যায় এক একটু সময়ের জন্য , কংক্রিটের উপর জমে থাকা ধূলিই জানে আগে। আমি হাঁটছি সেই রাস্তায় , পায়ে ধরা শব্দগুলো রিকশার হর্ণে মিশে যায়। শহরের ভীড়ে চোখ খুঁজে পায় ছোট্ট স্পর্শের খোঁজ , এক-একটি ছাদের কোণে রোদ খুঁজছে , এক-একটি নির্জন জানালায় হাসি লুকিয়ে। বছরের পর বছর প্লাস্টিকের ফুল বিক্রি হয় , কিন্তু পাতার রেশ হয় না কোথাও , এর মধ্যে সেঁটে আছে অপেক্ষার গন্ধ। ট্রাফিক লাইট বদলায় , মানুষের জীবনের রঙও , কিন্তু এই শহর হয়তো কখনও নেই শেষ গন্তব্য । আমি বলি , এই পথটি আমারও , তবু কোথাও মনে হয় , আমি অতিথি এখানে। গাছ না আছে সম্ভবত , যেখানে ছায়ার জন্য জায়গা নেই। শহর আজ শুধু পাথর নয় , সাহসে ভরা এক অনিশ্চিত স্বপ্নের নাম। চলুন আমরা থামি একটু , শহর নিজেই বলছে , প্রশ্বাস নাও , আর আমি শুনি , এখন আমার আয়োজন ?
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।