রাত্রি নামছে ধীরে ধীরে , সাদীরে চাদর খুনো উড়ছে আকাশে , আমি দেখি নিজেকে , আলোকহীন , তথাপি আকাঙ্ক্ষায় ঝলমলে। তোর নেই থাকা মনের খাতে লিখে যায় একেকটি শব্দ , একেকটি নিঃশ্বাস , যেমন বার্ধক্য হঠাৎ করে হাসে , ছেলেবেলার ক্ষণ নিয়ে। ভাগ্যহারা দুপুরগুলো আজ স্মৃতিতে গড়িয়ে পড়ে , সন্ধ্যার রঙে মিশে যায় সেই সব কল্পনা , যা কখনো ছিল না বাস্তব। শহরের হুড়োহুড়ি , ট্রাফিক হর্ণ , আলো-ছায়ার ঢেউ , সব মিশে গিয়েছে ওই এক নিরব মুহূর্তে , যেখানে আমরা ছিলাম। তোমার বলেছিলে , আকাশের নিচে আমরা সবসময় চলি , আমি আজও সেই কথার প্রতিশ্রুতি রাখি , হাত বাড়িয়ে ছোঁয়ার অপেক্ষায় , যেখানে বাতাস তোমার কথা বলার ভাষা খুঁজে পায়। জীবন যেন একাবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল অপারিষ্কার আলো , তবু তোর হাতে লেখা এক টানা লাইন , আমার হৃদয়ের তাণ্ডব হঠাৎ থামিয়ে দেয় । আমরা হয়তো এক পৃথিবীর বাসিন্দা ছিলাম , তবু দুটি ভিন্ন গ্যালাক্সিতে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভালোবাসা এমন নয় , চোখ বন্ধ করে মনে থাকে রিক্ততা , যেমন কোনো ফুল পড়ে আছে জলহীন গ্লাসে , অপেক্ষায় এক তাজা পলকে হাসি ফিরে পাওয়ার। আমি বলি , ভালোবাসি একান্তভাবে , তোর অদৃশ্য স্পর্শে ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।