সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মে, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ব্যর্থ স্বপ্ন, সার্থক স্বপ্ন

  স্বপ্ন মানুষের অস্তিত্বের প্রথম আলোকরেখা; জন্মের সঙ্গে সঙ্গে যে অদৃশ্য হাত আমাদের চোখের পাতায় নরম আলো এঁকে দেয়, সেই হাতই আবার জীবনভর আমাদের সামনে সম্ভাবনার দরজা খুলে রাখে। মানুষ কেবল খাদ্য, আশ্রয়, শ্রম কিংবা সময়ের প্রবাহে বাঁচে না; মানুষ বাঁচে স্বপ্নে, আশা দিয়ে, আকাঙ্ক্ষার ভিতরে জ্বলে থাকা এক অন্তর্গত অগ্নিশিখায়। তবু সব স্বপ্ন সফল হয় না, সব আকাঙ্ক্ষা পূর্ণতার মুখ দেখে না, সব প্রতিজ্ঞা বাস্তবতার কঠিন শিলায় গিয়ে অক্ষত থাকে না। জীবনের পথ এমনই; সেখানে কোথাও আশাভঙ্গের দীর্ঘ ছায়া, কোথাও অপূর্ণতার তীব্র কাঁটা, কোথাও ব্যর্থতার নীরব আঘাত, আবার কোথাও সার্থকতার উজ্জ্বল উন্মেষ। ব্যর্থ স্বপ্ন এবং সার্থক স্বপ্ন, এই   দুই বিপরীত অবস্থানকে মানুষ জীবন-নাট্যের দুই প্রধান দৃশ্য হিসেবে বহন ক’রে; একটিতে বেদনার ভাঙন, অন্যটিতে পূরণের দীপ্তি, একটিতে হতাশার স্রোত, অন্যটিতে অর্জনের আনন্দ। কিন্তু গভীরভাবে তাকালে বোঝা যায়, ব্যর্থ স্বপ্নও সম্পূর্ণ ব্যর্থ নয়, সার্থক স্বপ্নও সব সময় নিখুঁত সাফল্যের নাম নয়; বরং উভয়েই মানুষের চরিত্র, জীবনবোধ, সংগ্রাম এবং আত্মঅনুসন্ধানের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। স্ব...

নিষিদ্ধ সম্পর্ক

  নিষিদ্ধ সম্পর্ক মানবজীবনের এক গভীর, জটিল, দ্বিধাবিভক্ত এবং বহুমাত্রিক বাস্তবতা। সমাজ, ধর্ম, নৈতিকতা, পরিবার, রাষ্ট্র, শ্রেণি, বর্ণ, লিঙ্গ, ক্ষমতা এবং ব্যক্তিসত্তার অসংখ্য স্তর যখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে যায়, তখন সম্পর্কের একটি বিশেষ রূপ ‘নিষিদ্ধ’ হ’য়ে ওঠে। এই নিষিদ্ধতা কেবল বাহ্যিক নিয়মের তৈরি নয়; এর ভেতরে থাকে ভয়, আকাঙ্ক্ষা, অপরাধবোধ, প্রতিরোধ, স্মৃতি, এবং অবদমিত অনুভবের এক দীর্ঘ ইতিহাস। মানুষ প্রকৃতিগতভাবে সম্পর্ক-নির্ভর জীব, সে ভালোবাসে, আশ্রয় খোঁজে, সঙ্গ চায়, মানসিক উষ্ণতা চায়, আবার একই সঙ্গে সমাজ তাকে শেখায় কোন সম্পর্ক গ্রহণযোগ্য, কোন সম্পর্ক অগ্রহণযোগ্য, কোন সম্পর্ক পবিত্র, কোন সম্পর্ক অপবিত্র, কোন সম্পর্ক কলুষিত, কোন সম্পর্ক প্রকাশযোগ্য, কোন সম্পর্ক গোপনীয়। এই শিক্ষা ও অভ্যাসের সংঘাত থেকেই জন্ম নেয় নিষিদ্ধ সম্পর্কের নাটক। যার মধ্যে ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছা এবং সমাজের শাসন একই সঙ্গে মুখোমুখি দাঁড়ায়। নিষিদ্ধ সম্পর্ক তাই শুধু কোনো ব্যক্তিগত ঘটনা নয়, এটি সমাজের অন্তর্গত দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি, মানুষের অবদমিত চাহিদার প্রতিফলন, এবং নৈতিকতার বহিরাবরণে লুকিয়ে থাকা মানবিক দুর্বলতার প্রক...

বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী

  বাংলাদেশের ইতিহাস শুধু যুদ্ধ, আন্দোলন, রাষ্ট্রগঠন আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ইতিহাস নয়; এটি বুদ্ধির, বিবেকের, ভাষার এবং আত্মমর্যাদারও ইতিহাস। এই ইতিহাসে যে গোষ্ঠীটি সবচেয়ে গভীরভাবে উপস্থিত থেকেছে, সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছে, আবার সবচেয়ে বেশি দায়িত্বও বহন করেছে, তারা হলো বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী। ‘বুদ্ধিজীবী’ শব্দটি এখানে কেবল পেশাগত শিক্ষিত মানুষদের নির্দেশ করে না; এটি এমন এক মানসিক ও নৈতিক অবস্থান, যেখানে মানুষ সমাজকে দেখে, সমাজের পক্ষে কথা বলে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, সত্যকে রক্ষা ক’রে এবং নিজের বুদ্ধিকে কেবল জীবিকার অস্ত্র না বানিয়ে বিবেকের আলোতে রূপান্তরিত ক’রে। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী তাই শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক, গবেষক, শিল্পী বা সংস্কৃতিকর্মী নন; তিনি ইতিহাসের সাক্ষী, সমাজের অন্তর্জাগতিক অনুবাদক, জাতির চেতনার রক্ষক এবং সংকটের মুহূর্তে নীরব বা উচ্চকিত এক নৈতিক কণ্ঠস্বর। এই দেশের বুদ্ধিজীবীকে বুঝতে হলে আমাদের প্রথমে বুঝতে হবে, এই ভূখণ্ডে বুদ্ধিজীবী হওয়া কখনোই নিরাপদ ছিল না; এটি ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, বিরোধপূর্ণ, প্রায়শই নিঃসঙ্গ এবং অনেক সময় প্রাণঘাতী এক অবস্থান। উপনিবেশি...