তোমার শরীরের
মানচিত্রে আমি যখন নিবিষ্ট হচ্ছি,
মনে হয় ওটা কোনো নারীদেহ নয়, এক আদিম অরণ্যের গোপন শিস;
যেখানে লতাগুল্মের আড়ালে ওত
পেতে আছে এক তৃষ্ণার্ত চিতা
তোমার উন্নত গ্রীবা যেন এক
শ্বেতপাথরের পাহাড়,
যার ঢাল বেয়ে নেমে আসে আমার
আঙুলের অবাধ্য ঝরনাধারা
সেখানে জল নয়, ঝরে পড়ে কয়েক ফোঁটা গাঢ় তপ্ত অন্ধকার
তোমার
নিঃশ্বাসে যখন বুনো কামিনীর ঘ্রাণ লেগে থাকে,
আমার চারপাশের এই ধোঁয়াটে
শহরটা মুহূর্তেই বিলীন হয়;
আমি দেখি, আমার হৃদপিণ্ড এখন এক অশান্ত বঙ্গোপসাগর
তার লবণাক্ত ঢেউ আছড়ে পড়ছে
তোমার নাভিমূলের সৈকতে,
সেখানে জন্ম নিচ্ছে শ্যাওলা
মাখা এক অদ্ভুত প্রবাল দ্বীপ
যেখানে কোনো মানচিত্র নেই, আছে কেবল আদিম এক দহন
তুমি যখন
তোমার মেঘের মতো ঘন চুলগুলো আলগা করো,
আমার জানলার ওপাশে আকাশটা
হঠাৎই ছিঁড়ে পড়ে মাটির বুকে
ওটা তো চুল নয়, ওটা এক কালবৈশাখীর ঘনঘটা
যা আমার পাজরের হাড়গুলোকে
মড়মড় শব্দে ভাঙতে চায়
তোমার প্রতিটি লোমকূপ যেন
একেকটা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি,
সেখান থেকে নির্গত হচ্ছে
উত্তপ্ত লাভার মতো এক তীব্র আকাঙ্ক্ষা;
যা আমার সভ্যতার আবরণ
পুড়িয়ে ছাই করে দেয় নিমিষেই
মাঝে
মাঝে তোমার ওই রক্তিম ওষ্ঠের কম্পনে আমি শুনি
এক হাজার বছর আগের কোনো
পরিত্যক্ত মন্দিরের আরতি
সেখানে কোনো প্রার্থনা নেই, কেবল আছে এক অনন্ত তৃষ্ণা;
আমি তোমার ত্বকের অমসৃণতায়
খুঁজি এক গোপন গুহাচিত্র,
যেখানে লেখা আছে আমাদের পূর্বপুরুষের
সেই নিষিদ্ধ আদিমতা
তোমার নখের আঁচড়ে যখন পিঠের
চামড়া আলগা হয়,
মনে হয় ওটা ক্ষত নয়, ওটা এক নতুন পৃথিবীর অঙ্কুরোদ্গম
এই যে
আমাদের দুই শরীরের মাঝখানের শূন্যস্থানটুকু
ওটা আসলে মহাকালের এক একাকী
ধাবমান ধূমকেতু
যখন আমরা মিলে যাই এক
বিন্দুতে, তখন সময়
স্তব্ধ হয়;
ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা
তখন হয়ে ওঠে এক ক্লান্ত সূর্য,
আর আমাদের ঘামের ফোঁটাগুলো
যেন একেকটি নোনা নক্ষত্র
যা টুপটাপ ঝরে পড়ছে এই
নশ্বর পৃথিবীর তৃষ্ণার্ত জঠরে।
আমি জানি, এই তীব্রতা আমাদের ভস্ম করবে একদিন,
যেমন করে অরণ্যকে গিলে ফেলে
এক সর্বগ্রাসী দাবানল
তবুও এই পোড়ামন নিয়ে আমি
তোমার শরীরের কাছেই ফিরি;
কারণ ওই মাংসের গভীরে যে
প্রাণের স্পন্দন আমি শুনেছি
তা এই পাথুরে শহরের কোনো
ইঁট-কাঠে কোনোদিন খুঁজে পাইনি।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন