আমার প্রথম প্রেমিকা;
যাকে দেখার পর মনে হয়েছে এরপর আর কোনো সৌন্দর্য
থাকতে পারে না। যে ছিল বিগলিত হিম, নীল মেঘের স্বপ্ন,
নিঃশব্দে রচিত চৈতন্যের সুর, স্তব্ধতার
কণ্ঠস্বর, মায়াবী নদীর
সোনালী ঢেউ, শান্ত, শব্দহীন, জেগে উঠা
জ্যোতির্ময় জীবনের
সুর। আমার রুপালি গানের গভীর নিঃসঙ্গ সঙ্গীত, সমুদ্রের
ঢেউ;
দশকের পর দশক তাঁর হাতে হাত রেখে নিশ্চুপ ভাবে
কাটিয়ে দিই;
শিশিরের মতো বেঁড়ে উঠি আমার সৌন্দর্যে; কিন্তু
আমার দুঃখ আমার
সৌন্দর্যের দিকে আমি চোখ রাখতে পারিনি বেশি
দিন।
আমার দ্বিতীয় প্রেমিকা;
যাকে পেলে মনে হতো সে আমার মরুভূমির বুকে নদী
সরোবর,
স্নিগ্ধহিম গাঢ় মেঘমালা, শতাব্দী কাঁপানো
উল্লাস, শ্লোগান মুখর রাজপথ।
গেঁথে থাকো কালো আঁখিতাঁরার গুপ্ত সৌন্দর্যে,
জ্যোৎস্নার আদিম উচ্ছলে;
ধ্যানের মর্মে; আশ্চর্য বিস্ময়কর প্রবাহিত
ধারায়। রক্তের হিমে যে আমার
হৃদপিণ্ড। পরে জানি, সে আমার ছিল না, আমি ছিলাম তাঁর।
আমার
তৃতীয় প্রেমিকা;
যে আমার
কম্পিত হৃদয়, শিশিরের অম্লান জল; মৃদু সুরমূর্ছনা
তাঁকেই নিয়েছি বুকের গভীরে, সবুজ পল্লবে, কৃষ্ণচুড়ার
রঙে।
তাঁকে চেয়েও পেয়েছি না চেয়েও পেয়েছি,
তরঙ্গমালার ঢেউ-এ।
যে আমার নিরীহ নিথর হৃদয়ের করুন অশ্রুমালার গাঢ়
সন্ধ্যা।
আমার তৃতীয় প্রেমিকা, যে আমার চন্দ্রাবতী,
রক্তজবা, চম্পা
কামিনী। আমার প্রেমিকারা আজ অন্যের বুকে বিষাক্ত ছোঁয়া;
আজও অভাব বোধ করি তোমাদের নিসর্গে জ্যোৎস্নার
বনে,
তোমরা করো কি ?
জানি না !
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন