সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তোমার নামে বৃষ্টি ঝ’রে

 

বৃষ্টি নামে আমার শহরে নরম শব্দে,
জানালার ধারে বসে থাকি,
হাতে পুরোনো এক কাপ কফি,
যার গন্ধে মিশে আছে তোমার প্রথম বিকেল
তুমি বলেছিলে, বৃষ্টি মানে শুরু, শেষ নয়
তখন জানতাম না, একদিন এই বৃষ্টিই হবে
আমাদের নিঃশব্দ বিদায়ের শেষ সাক্ষী,
ল্যাম্পপোস্টের আলোয় আমরা
হাঁটলাম শহরের ভেজা রাস্তায়,
রাস্তার আলোগুলো যেন গ’লে পড়ছিল তোমার শরীরে
আর আমি ভাবলাম,
ভালোবাসা হয়তো এমনই হয়;  
ভিজে, নরম কুয়াশা,
তবু আলোকিত, নিবিড় ছোঁয়া
তুমি হেসে উঠলে, চুলে বৃষ্টির ফোঁটা জমে যাচ্ছিল অগোচরে,
আমি সাহস ক’রে বলতে চেয়েছিলাম,
এই মুহূর্তে আমি তোমায় ভালোবাসি পৃথিবীর সব বৃষ্টির চেয়েও বেশি,
কিন্তু মুখ খুলিনি,
কারণ ভয় ছিল, শব্দে ভেঙে যাবে সেই নিস্তব্ধ যাদুতে,
আজ এত বছর পরেও যখন বৃষ্টি নামে,
আমার জানালায় ঠোঁট রেখে
আমি শুনি তোমার নিঃশ্বাসের মতো শব্দ,
‘টুপ-টুপ-টুপ’
কখনও মনে হয় তুমি পাশে বসে আছো,
চুপচাপ, শুধু চোখে জল, আমিও কিছু বলিনি
কারণ ভালোবাসা মানে কখনও কখনও
শুধু একই নীরবতায় ভিজে থাকা,
রাস্তার ওপারে কেউ হেটে যায়,
আমি তাকিয়ে থাকি, আর বলি
ওটাই কি তুমি নও ?
না, হয়তো কোনো অপরিচিত মেয়ে,
তবুও হৃদয় চেনে, গন্ধ নেয়
ভেজা পদধ্বনির মধ্যে তোমার ছায়া এখনো বেঁচে আছে,
রাত গভীর হয়, বৃষ্টি থেমে যায়,
জানালার কাচে জমে থাকা জল
আঁকতে থাকে এক মুখ,
যা কেবল আমিই চিনে নিতে পারি
আর তখনই বুঝি,
ভালোবাসা শেষ হয় না কখনও,
তা শুধু রূপ বদলায়,
বৃষ্টির মতোই,
নেমে আসে, ভিজিয়ে দেয়,
তারপর নিঃশব্দে মিলিয়ে যায়,
কিন্তু মাটিতে রেখে দেয় তার চিহ্ন
তোমার নামে বৃষ্টি এখনও নামে,
প্রতিবার, আমার হৃদয়ের জানালায়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ সুধীন্দ্রনাথ দত্তের প্রবন্ধ সংগ্রহ

সুধীন্দ্রনাথ , সাতটি কাব্যগ্রন্থের মতো সাতটি প্রবন্ধের গ্রন্থ লিখলে খারাপ হতো না , বেশ ভালোই হতো । সুধীন্দ্রনাথের প্রবন্ধগুলো হালকা মানের নয় , যদিও তাঁর কোন রচনাই হালকা নয় । সাহিত্যে বিচারে তা অনেক উঁচুমানের । তার উপর ভাষার ব্যাপারটি তো রয়েছেই । সুধীন্দ্রনাথ মাত্র দুটি প্রবন্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন । গ্রন্থ দুটো ‘ স্বগত ’ ( ১৩৪৫ ঃ ১৯৩৮ ), অপরটি ‘ কুলায় ও কালপুরুষ ’ ( ১৩৬৪ : ১৯৫৭ ) । ‘ স্বগত ’- তে রয়েছে ষোলটি প্রবন্ধ । গ্রন্থ দুটি তিনি রচনা করেছেন দু ’ ভাগে । লরেন্স বা এলিয়ট এর প্রবন্ধ যেমন পাওয়া যাবে না ‘ কুলায় ও কালপুরুষ ’- এ ; তেমনি রবীন্দ্র সম্পর্কিত প্রবন্ধ নেওয়া হয়নি ‘ স্বগত ’- এ । প্রকাশ কাল অনুযায়ী ‘ স্বগত ’- এর প্রবন্ধসমূহ : ‘ কাব্যের মুক্তি ’ ( ১৯৩০ ); ‘ ধ্রুপদ পদ - খেয়াল ’ ( ১৯৩২ ), ‘ ফরাসীর হাদ্য পরিবর্তন ’ ( ১৯৩২ ), ‘ লিটনস্ট্রেচি ’ ( ১৯৩২ ), ‘ লরেন্স ও ভার্জনিয়া উল্ফ্ ’ ( ১৯৩২ ), ‘ উপন্যাস তত্ত্ব ও তথ্য ’ ( ১৯৩৩ ), ‘ উইলিয়ম ফকনর ’ ( ১৯৩৪ ), ‘ ঐতিহ্য ও টি , এস , এলিয়ট ’ ( ১৯৩৪ ), ...