সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’

 

হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ বইটিকে তাত্ত্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয় যে, এটি মূলত পিতৃতান্ত্রিক সমাজ-ব্যবস্থার গঠন, উৎপত্তি, ভাষ্য এবং পুনরুৎপাদনের একটি সমালোচনামূলক ডিসকোর্স, যেখানে নারীকে কেন্দ্র ক’রে তৈরি হওয়া সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক বয়ানগুলোকে কঠোর যুক্তি, ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এবং সমাজবিজ্ঞানের কাঠামোতে নিরীক্ষণ করা হয়েছে। লেখক হুমায়ুন আজাদ, নারীর অবস্থানকে ব্যাখ্যা করার জন্য কোনো আবেগিক বা নৈতিক আহ্বানের আশ্রয় নেননি, বরং জ্ঞানতাত্ত্বিক স্তর থেকে দেখতে চান কিভাবে ‘নারী’ নামক ধারণাটি সামাজিক ক্ষমতার বিন্যাসের অংশ হিসেবে গ’ড়ে উঠেছে এবং কিভাবে সেই ধারণা সভ্যতার প্রতিটি স্তরে পুরুষতান্ত্রিক আধিপত্য বজায় রাখার উপকরণে পরিণত হয়েছে; তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী নারীর নিপীড়ন কোনো আকস্মিক সামাজিক অসংগতি নয়, বরং দীর্ঘকাল ধ’রে গ’ড়ে ওঠা ‘সাংস্কৃতিক কোড’-এর ফল, যেখানে নারীকে জীববৈজ্ঞানিক পার্থক্যকে কেন্দ্র ক’রে ‘দ্বিতীয় সত্তা’ বা ‘অধস্তন সত্তা’ হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে এবং এই নির্মাণ শুধু পরিবার, সমাজ বা ধর্মেই সীমাবদ্ধ নয়, ভাষার কাঠামোতেও তা উপস্থিত, ফলে নারী সবসময়ই প্রতিনিধিত্বের সংকটে থাকে সে দেখানো হয়, কিন্তু দেখা যায় না; তার অস্তিত্ব স্বীকৃত হয়, কিন্তু তার কণ্ঠ অদৃশ্য থাকে; আজাদ দেখান নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য মূলত সামাজিক অর্থনৈতিক ক্ষমতার উৎপাদনব্যবস্থার অংশ, যেখানে পুরুষের কর্তৃত্ব কেবল সাংস্কৃতিক প্রার্থিত শক্তিই নয়, বরং এক ধরনের রাজনৈতিক প্রকল্প, যা ইতিহাসের ধারায় নারীর সম্পত্তি-অধিকার, যৌনস্বাধীনতা, শিক্ষাধিকার এবং শারীরিক সার্বভৌমত্ব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে টিকে থেকেছে; ‘নারী’ বইটি কার্যত নারী-অধিকারকে মানবাধিকার আলোচনার কেন্দ্রে স্থাপন ক’রে দেখায় যে নারীকে অবদমিত অবস্থায় রাখার মাধ্যমে সমাজ পুরুষতান্ত্রিক সুবিধা বজায় রাখে এবং সেই সুবিধাই পাল্টা সমাজব্যবস্থাকে চালায়। এটি একটি ‘ফিডব্যাক লুপ’; আজাদ ধর্মীয়, পৌরাণিক ও সামাজিক বর্ণনাগুলোর রূপতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ক’রে দেখান যে এসব আখ্যান নারীর স্বাধীনতাকে অস্বীকার ক’রে তাকে ‘মরাল অবজেক্ট’ হিসেবে রূপায়িত করেছে, ফলে নারীর শরীর, আচরণ, আকাঙ্ক্ষা সবকিছুই সমাজের নজরদারির অংশ হ’য়ে যায়; এই কাঠামো ভাঙতে হলে সমাজকে শুধু আইনগত পরিবর্তন নয়, জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কারণ নারীর মুক্তি মূলত একটি বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তি, যা সমাজের চেতনার পরিবর্তন ব্যতীত সম্ভব নয়; তাঁর তাত্ত্বিক অবস্থান স্পষ্টভাবে বলছে যে নারী-পুরুষ সমতা কোনো আদর্শিক প্রতিজ্ঞা নয়, বরং সভ্যতার অস্তিত্বগত প্রয়োজন, কারণ ক্ষমতা যখন এক লিঙ্গের দিকে ঝুঁকে থাকে, তখন সমাজের বাকি অংশ বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না; ‘নারী’ বইটি তাই নারীবাদী তত্ত্ব, ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, দর্শন, ইতিহাস-সমালোচনা এবং সমাজবিজ্ঞানের মিলিত এক পাঠ, যা শুধু নারীর অবস্থান বোঝায় না, বরং দেখায় কিভাবে একটি সভ্যতা নিজেকে বোঝে, এবং কিভাবে সেই বোঝাপড়ার মধ্যেই তার বৈষম্যের বীজ লুকানো থাকে, এই অর্থে ‘নারী’ কোনো মতাদর্শ নয়, বরং একটি জ্ঞানতাত্ত্বিক উন্মোচন। হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ বইটি কেবল একটি তাত্ত্বিক গ্রন্থ নয়; এটি বাংলা সমাজের মোকাবিলায় এক বীভৎস আত্মপরীক্ষা, যেখানে লেখকই পাঠককে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে তার চার পাশের সামাজিক কাঠামো, ভাষা, ধর্মীয় আখ্যান এবং ব্যক্তিগত অভ্যাসের সমস্ত অদৃশ্য শঙ্কুচিত-ক্ষতগুলো নিরীক্ষণ করতে বাধ্য করেন; এই বইটি পড়ে বোঝা যায় যে আজাদ নারীকে পৃথিবীর এক নীরব ভূমিকায় গৃহীত পূর্বধারণাগুলোর বিরুদ্ধে শুধুমাত্র তর্ক করেননি, তিনি সেই ধারণাগুলোকে ধ্বংস ক’রে নতুন প্রশ্নের জন্ম  দিয়েছেন; তিনি নারীকে কোনো নিষ্পাপ ঐতিহ্যের প্রতীক বা সসম্পূর্ণ ভক্তির বস্তু হিসেবে তুলে ধরেননি, বরং তাকে দেখে উঠেছেন ইতিহাসের কুয়াশা-আচ্ছন্ন বাস্তবতার এক জীবন্ত কাহিনি হিসেবে, যেখানে ব্যক্তিগত আঘাত, সামাজিক নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক চিত্র একসঙ্গে সমবেত হয়ে নারী-অগ্নিগর্ভ জীবনকে নির্মাণ করে। ভাষাগতভাবে, তাঁর গাণিতিক নির্ভুলতা ও তীব্র পরিচ্ছেদিহীন গদ্য পাঠ্যকে তীক্ষ্ণ করে, যেখানে যেকোনো চমকপ্রদ আনুমানিক ব্যাখ্যা উঠে আসে, আজাদ লেখেন সরল, কিন্তু সরলতার আড়ালে থাকে অকপট বীক্ষণ ও নির্লজ্জ তীক্ষ্ণতা; তিনি অনুধাবন ক’রে দেখান কিভাবে ধর্মীয় পাণ্ডিত্যের ব্যাখ্যা, পৌরাণিক কাহিনীর আভাস এবং সামাজিক আচরণ বেড়ে ওঠে নারী সংশ্লিষ্ট প্রতিফলনে এমন এক জটিল ভগ্নাংশ যা নারীকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখতে দেয় না। তাঁর বিশ্লেষণ কেবল উপদেশমূলক নয়; এটি মৌলিকভাবে প্রশ্নবোধক; কেন নারীকে গৃহবদ্ধ, নীরব এবং রান্নাঘরের অধিকারী ভাবা হয়, কেন তার স্বতন্ত্র ইচ্ছা ও জীবনালেখা সমাজে ‘অশ্লীল’ বা ‘অপ্রাসঙ্গিক’ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়, এবং কিভাবে এই দৃষ্টিভঙ্গি বহু প্রজন্ম ধরে নিয়ম-মান্যতার আড়ালে টিকে আছে। তিনি নারী-অবস্থা বিশ্লেষণে ইতিহাস, অর্থনীতি, ধর্ম-ব্যাখ্যা এবং লোকচিন্তার জটিলতম স্তরগুলোকে সমালোচনামূলকভাবে একসঙ্গে জোড়ান; ফলে পাঠক দেখতে পায় যে নারীর উপন্যাসিক অবমাননা কোনো একক ঘটনার ফল নয়, বরং এক দীর্ঘ সামাজিক প্রক্রিয়ার ঘনীভূত প্রতিফলন। আজাদ যে জায়গায় সবচেয়ে শক্তিশালী, তা হলো তার সাহসী ভাষা; তিনি সমাজের নরমলক্ষ্মণরেখা লঙ্ঘন ক’রে এমন প্রশ্ন তুলেন যা অনেকের কাছে অপ্রিয়; তবু সেই অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলোই শেষ পর্যন্ত আলো আনতে পারে। এই বইয়ে নারীর শারীরিক স্বাধীনতা থেকে শুরু ক’রে বৌদ্ধিক স্বাধীনতা, শিক্ষার অধিকার, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা; এসব আলোচনা একত্রে প্রস্তাবিত নীতির বাইরে গিয়ে বাস্তব চিত্রের দিকে পাঠককে টেনে নেয়; তিনি দেখান কিভাবে আইন, রীতিনীতি ও ধর্মীয় বর্ণনা নারীর জীবনে অংশগ্রহণ ক’রে অন্যায় ও বৈষম্যকে নিয়মতান্ত্রিক ক’রে তোলে। গ্রন্থের তাত্ত্বিক অংশে আজাদ যে যুক্তিগুলো তুলে ধরেছেন, সেগুলো শুধু ব্যাকরণগত বা নীতিগত নয়; তবে তার যুক্তি ও ভাষা এতে মানবিক আঘাতের সুবর্ণ রেখা আঁকে: নারীর জীবনকে কিভাবে ক্ষুদ্র করা হয়, তার অনুভূতিকে কিভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়, এবং কীভাবে সামাজিক নীরবতা একটি নির্দিষ্ট শক্তিকে স্থায়ী ক’রে দেয়। সততাই এই বইকে বিশেষত তীব্র করে। আজাদ কোনো ধারণা চাপিয়ে দেননি, তিনি প্রশ্ন তোলেন, উদাহরণ টেনে আনেন, ব্যাখ্যা করেন, এবং পাঠককে তার নিজস্ব নড়াচড়া দেখতে বাধ্য ক’রে; ফলে গ্রন্থটি পাঠককে শুধু জ্ঞানপ্রদ নয়, অন্তর্দৃষ্টিসহকারে অবহিত ক’রে। প্রকাশের পর বইটি যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল, তা কেবল সামাজিক প্রতিক্রিয়ার প্রতিফলন নয়, বরং একটি দীর্ঘদিন ধ’রে ঘুনে ধরা অসুবিধার বহিঃপ্রকাশ; কারণ সমাজ নিজেই সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে অনীহা দেখায়। আজাদ, এই অনীহাকে ভাঙতে চান; তিনি বলেন যে নারীর মুক্তি কোনো পক্ষের একরকম সদিচ্ছার উপর ভর ক’রে না, এটি একটি সম্মিলিত উদ্যোগ, একটি নৈতিক রূপান্তর যেখানে পুরুষ ও নারী উভয়ই নিজেদের পূর্বধারণাগুলোকে পুনর্মূল্যায়ন করবে। এই বক্তব্যে বইটি শুধু নারী-সচেতনতার গ্রন্থ নয়, বরং মানবিক পুনর্গঠনের আহ্বান। এছাড়া, আজাদের ভাষায় এক ধরনের বিচার্যনৈতিক দার্শনিকতা ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষণ রয়েছে, যা বইটিকে পাঠ্যপুস্তকীয় শক্তি দেয়।  কারণ, তিনি যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন, সেগুলোকে তিনি দূরসঞ্চালিত ধারাবাহিকতায় স্থাপন ক’রে দেন, ফলে পাঠক বুঝতে পারে কেবল উপসর্গই নয়, কারণগুলোর গভীরতা ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্কও। সাহিত্যিক দিক থেকে দেখলে, ‘নারী’ একধরনের নীতিনির্ধারক প্রবন্ধ হলেও এর রচনা-শৈলী ও আঞ্চলিক ব্যঞ্জনায় রয়েছে সাংস্কৃতিক গভীরতা; তিনি গদ্যকে কখনও কখনও তীক্ষ্ণ রূপক দিয়ে পরিপুষ্ট করেন, যার ফলে বস্তুনিষ্ঠ তর্কও আবেগপ্রবণভাবে পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছায়। আজকের প্রেক্ষাপটে এই গ্রন্থের গুরুত্ব কমেনি; বরং পরিবর্তিত সামাজিক আলোচনার ধারায় সেটি নতুন প্রসঙ্গ গ’ড়ে তোলার শক্তি রাখে; নারীর স্বাধীনতা, সমান অধিকার, ও মানবিক মর্যাদার বিষয়গুলো আজও এখানে প্রস্তাবিত চিন্তার সঙ্গে সংলাপ ক’রে। অন্তত পাঠ্যগত ও সামাজিক প্রভাবের দিক থেকে বলা যায়, হুমায়ুন আজাদের ‘নারী’ একটি অদম্য আহ্বান; এটা বলেন যে সমাজের ভিত্তি যদি অসাম্য অবস্থান থেকে গঠিত, তাহ’লে ঐক্য, ন্যায় ও মানবিক মর্যাদা কেবল বক্তৃতায় নয়, প্রত্যেক ব্যক্তির অন্তর থেকে শুরু ক’রে পাল্টাতে হবে, আর সেই পরিবর্তনেই নিহিত আমাদের সভ্যতার সত্যিকার মুক্তি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...