সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

সাদা স্মৃতি

 

ফিনিক্সের পাখির মতো
মানুষের স্মৃতিগুলো জ্বলে ওঠে
,
প্রথম অগ্নিতলে আগুন নয়,
শুধু স্নিগ্ধ ধোঁয়া,
 অস্তিত্বের প্রথম সুরে
নব জীবনের সুর
,

পৃথিবীর ঘাটে দাঁড়িয়ে
আমি
 শুধু নীরবতার পানে তাকিয়ে থাকি,
গভীর বাতাসের ভিতর
 ভেসে আসে শব্দহীন প্রশ্ন
আমি কি কখনও
 স্বপ্নে ছিলাম, আদিম মানুষের মত
আর আকাশ আসে
,  অস্থির, অচেনা,

নির্ঘণ্টের মতো বিস্ময়ের রেখা আঁকি

আমার অন্তরালে শব্দেরা নাও বেয়ে আসে
নীরবতার রঙে আঁকা ক্ষুদ্রতম আলোর খণ্ড:
একটি চিহ্ন,
 একটি নিঃশ্বাস, জীবনের একটি নীরব সমাধি

চাঁদের মুখে বয়ে আসে অসীম এক শান্তি,
যেন ক্ষুদ্রতম অশ্রুতে
 অলৌকিক বর্ণের জলরঙে আঁকা
এক অলস রাতের ছবি
; তার মাঝে শুরু হয় এক ধ্বনি
অজানা গল্পের বীণায়
 করুণ সুর বেজে উঠে,

তুমি যদি অন্তরালের দিকে তাকাও,
শব্দেরা তখন চেনা পথ হারিয়ে
অচেনা সুরে প্রতিধ্বনিত হয়
,
প্রশ্ন করে সময়ের বুকের খোঁজে:
এই নিঃশব্দ কি প্রেম
 !
না শুধুই নিষ্ক্রিয়তা
, একটি ক্ষুদ্র আলো,
অবিচল ধারায় ভেসে আসে;
হঠাৎ কাঁপে,
 হঠাৎ নীরব হয়ে যায়,
এ যেন সেই প্রথম বাতাস
, যা মৃত্যুর পরও ফিরে আসে
অনুরণন হয়ে
 মানুষের অন্তরালে,

রাত্রির দিশা আমার পথ হারায়, তবু ফিরে আসে আলো
গভীরতম অগ্নিশিখায় জ্বলে ওঠা
 একই মৃতপ্রায় সৌন্দর্য,
প্রতিটি নিঃশ্বাসে বসে থাকে
 অচেনা এক রূপক,
জীবনের অন্তিম প্রশ্নের মতো
,

অবশেষে, আমি দাঁড়িয়ে থাকি একান্ত নীরবতায়, একান্ত ভাবনায়
অন্তরালের সেই নিঃশ্বাসে
, এখন শব্দ আর বাক্য নয়
শুধু অনুভব,
 শুধু গভীর অস্থিরতা,
এ যেন এক দীর্ঘ ধ্বনি,
 যে শব্দ শেষ হয়
শূন্যতার পানে,
 এক অদেখা পৃথিবীর দিকে।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...