এখন রাজপথে কোনো মিছিল নেই, আছে কেবল বুটের কর্কশ শব্দ,
এখন পতাকায় কোনো সবুজ নেই, আছে শুধু শুকনো জমাটবদ্ধ রক্ত,
তোমরা যাকে বলো ‘উন্নয়ন’, আমি তাকে দেখি গণকবরের ওপর নির্মিত অট্টালিকা,
তোমরা যাকে বলো ‘শাসন’, আমি তাকে চিনি স্বৈরাচারের আদিম নামাবলী
তোমাদের প্রতিটি আইন এক একটি বিষাক্ত কাঁটাতারের বেড়া,
যা বিদ্ধ ক’রে রেখেছে জ্যান্ত মানুষের বু’ক আর কণ্ঠস্বর
তোমাদের আদালতগুলো এখন কেবল একপাক্ষিক নাটকের মঞ্চ,
যেখানে বিচারকেরা কাঁপে শমন জারির আগে প্রভুর চোখের ইশারায়
সবকিছু আজ অন্যদের হাতে চলে গেছে
নষ্টদের হাতে পবিত্র সংবিধান, নষ্টদের হাতে রাষ্ট্রের চাবিকাঠি;
যেখানে কৃষকের লাঙল থেকে খসে প’ড়ে অনাহারের জং,
সেখানে তোমাদের মন্ত্রীদের উদর স্ফীত হয় দুর্নীতির চর্বিতে
তোমরা ইতিহাসকে ধুয়েমুছে দিতে চাও তোমাদের নিজস্ব সাবানে,
নতুন ক’রে খোদাই করো নাম, যারা কোনোদিন লড়েনি রোদে পোড়া মিছিলে
তোমাদের স্বাধীনতা মানে কেবল গদি বদলের একঘেয়ে খেলা,
আর আমার স্বাধীনতা মানে মধ্যরাতে নির্ভয়ে কথা বলার অধিকার
তোমাদের ধর্মের বর্ম এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ঢাল,
পুঁজিবাদের ছায়ায় বসে তোমরা জপ করো সাম্যের মন্ত্র;
অথচ রাজপথের রক্ত শুকানোর আগেই তোমরা হাত মেলাও ঘাতকের সাথে
যাদের নখে লেগে আছে এদেশের সেরা সন্তানদের মগজ আর মেধার ছাপ
আমি জানি, এই কবিতার প্রতিটি পঙক্তি তোমাদের পাণ্ডুলিপিতে নিষিদ্ধ,
তোমাদের প্রিয়জন খুঁজবে এই কলমের উৎস আর কালির ঘ্রাণ
কিন্তু মনে রেখো, অত্যাচারীর আয়ু কোনোদিন ইতিহাসের চেয়ে দীর্ঘ হয় না,
শকুনের থাবা থেকে মানচিত্র ছিনিয়ে নিতে আবার কোনো এক দ্রোহী আসবেই,
হয়তো সে আমার এই পঙক্তিগুলোকেই বানিয়ে নেবে আগ্নেয়াস্ত্র।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন