এখানে কোনো সুসংবাদ নেই,
এখন চরাচর জুড়ে কেবল দীর্ঘশ্বাসের গাঢ় কার্বন;
তোমাদের চোখের ভাঁজে আজ কোনো গোলাপ নেই,
সেখানে কেবল কয়েকটা পুরনো রক্তচাতক শুকিয়ে কাঠ
আমি যখন বলি ভালোবাসি, তখন তোমরা শোনো বিদ্রোহ,
আমি যখন বলি মানুষ, তোমরা তখন দেখ দীর্ঘ ছায়া চতুর্দিকে
সেখানে কোনো গোত্র নেই, কোনো বিশেষ স্বর্গ নেই বলে
তোমরা আমার ঠোঁটে সেঁটে দাও রাষ্ট্রদ্রোহের তপ্ত সিলমোহর
তোমাদের এই শহর এখন এক প্রকাণ্ড অপরাধ নগরী
যেখানে ধারালো করা হচ্ছে কেবল শব্দের বিন্যাস
তোমরা সত্যকে পোশাক পরাতে চেয়েছো রেশমি কাপড়ে,
কিন্তু আমি তাকে নিয়ে এসেছি নগ্ন, ফুটপাতে
দেখো, সত্যের শরীর জুড়ে কতগুলো কালশিটে দাগ
ঠিক তোমাদের মিথ্যা আশ্বাসের আঙুলের কঠিন ছাপ
এই শহরের মানুষগুলো বড় বেশি একা, বড় বেশি স্পর্শকাতর,
একটু যুক্তির আঁচ লাগলেই তাদের সিংহাসন কেঁপে ওঠে;
অথচ আমার স্বপ্নে ছড়িয়ে আছে ধুলোয়, ঘামে, শ্রমিকের নখে
যাদের কোনো আশ্রয় নেই, নেই কোনো বিশাল অট্টালিকা
আমি সেই নিষিদ্ধ পাণ্ডুলিপি, যা পড়লে তোমাদের রক্তচাপ বেড়ে যায়,
আমি সেই বিষাক্ত বৃক্ষ, যার ছায়ায় বসলে তোমাদের সংস্কার খসে পড়ে
তোমরা আমাকে শৃঙ্খলিত করতে চেয়েছিলে শব্দের মায়াজালে,
কিন্তু ভুলে গিয়েছিলে,
আগুনকে কখনো উপমা দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না;
যদি মরতে হয়, তবে আমি মরবো কোনো সুশৃঙ্খল সারিতে দাঁড়িয়ে নয়,
আমি মরবো একাকী, তোমাদের এই পবিত্র দুর্গের বাইরে—
যেখানে অন্তত বাতাসের সাথে কোনো ধর্ম নেই,
যেখানে অন্তত মৃত্যুর পরে কোনো ছায়া নেই
আমি চলে যাবো, কিন্তু রেখে যাবো এক প্রকাণ্ড প্রশ্নচিহ্ন,
যা তোমাদের প্রতিটি উত্তরের কপালে তিলকের মতো জ্বলবে;
তোমরা বিশ্বাস দিয়ে ঢাকতে চাইবে পৃথিবী,
আর আমি সেই ঢাকনা চিরে বেরিয়ে আসবো এক নগ্ন সত্যের মতো।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন