এখানে সময় যেন এক স্থবির নাম, লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই
রাতের শহর এখন এক মলাট-ছেঁড়া নিষিদ্ধ উপন্যাস
তুমি নেই, অথচ তোমার গন্ধ লেগে আছে এই ঘরের ধুলোবালিতে,
যেমন প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে লেগে থাকে এক অস্পষ্ট বিস্মৃতির দাগ
আমার আঙুলের ডগায় এখন কেবল শব্দের তৃষ্ণা,
আর জানালার ওপাশে এক দিগন্তবিস্তৃত নিস্তব্ধতা, গভীর আর মায়াবী
যেখানে নক্ষত্রেরা কথা বলে না, কেবল জ্ব’লে ওঠে এক মৃত সভ্যতার মতো
আমরা কি চেয়েছিলাম এই জ্যামিতিক নিঃসঙ্গতা?
রাতের তিনটেয় যখন ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা আমার টেবিলে হুমড়ি খেয়ে প’ড়ে,
তখন মনে হয় ভালোবাসা আসলে এক আধুনিক অসুখ; যা সবার বুকে দেখা দেয়
যার কোনো নিরাময় নেই, আছে শুধু পঙ্ক্তিমালায় সাজানো দীর্ঘশ্বাস,
আমি আজন্ম এক যাযাবর, এই ইটের পাজরে পথ খুঁজে মরি সারাক্ষণ
অথচ গন্তব্য বলতে তো ছিল কেবল তোমার ওই দু’চোখের অতল আভাস
এখন সেই চোখ দুটোই যেন এক ধূসর কুয়াশার প্রসারিত দিগন্ত
যেখানে কোনো জাহাজ ভেড়ে না, কোনো সংকেত বাজে না আর
মানুষ আসলে একা, তার চেয়েও বেশি একা তার নিজস্ব কবিতা
আমি শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে এক মায়াবী প্রাসাদ বানাতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু দেয়ালগুলো সব নোনা ধরা, অতীতের ঘুণপোকা তাদের কুরে কুরে খাচ্ছে
আজকাল বিকেলগুলো বড় বেশি নীল হ’য়ে আসে, বড় বেশি বিষণ্ণ;
শহরের ভিড়ে নিজেকে হারানো সহজ, কিন্তু খুঁজে পাওয়া বড় দায়
তবুও আমি কলম ধরি, অগোছালো খাতার পাতায় তোমাকে অমর করতে চাই
কারণ আমি জানি, এই নশ্বর পৃথিবীতে কেবল শব্দই অবিনশ্বর;
আর আমার এই যন্ত্রণাই হলো আমার শ্রেষ্ঠ ‘শিল্পের স্বাধীনতা’।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন