সেই এক বিকেলের কথা, যখন ছাদগুলো ধূসর হ’য়ে আসছিল,
বাতাসে ভেসে আসছিল কোনো এক পুরোনো কফিশপের ধোঁয়া আর ক্লান্ত গান
আমি জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়েছিলাম, অনেকটা বন্দি কোনো স্মৃতির মতো
রাস্তার আলোগুলো একে একে জ্ব’লে উঠছিল যেন কারোর চোখের ম্লান ইশারা,
অথচ তুমি তখন অনেক দূরে, হয়তো অন্য কোনো গোলার্ধের ব্যস্ততায় বিলীন
আমার এই নিভৃত ঘরে এখন বইয়ের তাকেরা শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে,
কলমটা পড়ে থাকে নিষ্ক্রিয়, যেন এক বিস্মৃত প্রেমপত্রের শেষ যতিচিহ্ন বসাবে
শহরের এই জ্যামিতিক গলিপথগুলো আমায় কোথাও নিয়ে যায় না আর,
সবই তো বৃত্তাকার একই বাসের আওয়াজ, একই ক্লান্ত ফেরিওয়ালার সুর
তবুও মনে হয়, কোনো এক গলি দিয়ে হঠাৎ বেরুলেই তোমার সাথে দেখা হবে,
যেমনটা হতো সেই কুয়াশাঘেরা ধানমণ্ডির লেকের সন্ধেগুলোতে
আসলে প্রেম তো এক নাগরিক নির্জনতা, যার পিঠে হাত রাখা যায় না
সে কেবল শব্দের শরীরে জেগে থাকে, যেমন জেগে থাকে ‘কবিতা’র পাতায়
আমিও তাই শব্দের জাল বুনি, একলা ঘরের নিস্তব্ধতায় সুর বসাই;
তোমার অভাবটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় সৃষ্টি, সবচেয়ে মৌলিক কবিতা
যতদিন এই শহর আছে, আর আছে আমার এই বিষণ্ণ অক্ষরজ্ঞান
ততদিন তুমি ফিরে আসবে গোধূলির রং হ’য়ে, আমার এই ম্লান বুকের কিনারে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন