সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ব্যর্থ স্বপ্ন, সার্থক স্বপ্ন

 


স্বপ্ন মানুষের অস্তিত্বের প্রথম আলোকরেখা; জন্মের সঙ্গে সঙ্গে যে অদৃশ্য হাত আমাদের চোখের পাতায় নরম আলো এঁকে দেয়, সেই হাতই আবার জীবনভর আমাদের সামনে সম্ভাবনার দরজা খুলে রাখে। মানুষ কেবল খাদ্য, আশ্রয়, শ্রম কিংবা সময়ের প্রবাহে বাঁচে না; মানুষ বাঁচে স্বপ্নে, আশা দিয়ে, আকাঙ্ক্ষার ভিতরে জ্বলে থাকা এক অন্তর্গত অগ্নিশিখায়। তবু সব স্বপ্ন সফল হয় না, সব আকাঙ্ক্ষা পূর্ণতার মুখ দেখে না, সব প্রতিজ্ঞা বাস্তবতার কঠিন শিলায় গিয়ে অক্ষত থাকে না। জীবনের পথ এমনই; সেখানে কোথাও আশাভঙ্গের দীর্ঘ ছায়া, কোথাও অপূর্ণতার তীব্র কাঁটা, কোথাও ব্যর্থতার নীরব আঘাত, আবার কোথাও সার্থকতার উজ্জ্বল উন্মেষ। ব্যর্থ স্বপ্ন এবং সার্থক স্বপ্ন, এই  দুই বিপরীত অবস্থানকে মানুষ জীবন-নাট্যের দুই প্রধান দৃশ্য হিসেবে বহন ক’রে; একটিতে বেদনার ভাঙন, অন্যটিতে পূরণের দীপ্তি, একটিতে হতাশার স্রোত, অন্যটিতে অর্জনের আনন্দ। কিন্তু গভীরভাবে তাকালে বোঝা যায়, ব্যর্থ স্বপ্নও সম্পূর্ণ ব্যর্থ নয়, সার্থক স্বপ্নও সব সময় নিখুঁত সাফল্যের নাম নয়; বরং উভয়েই মানুষের চরিত্র, জীবনবোধ, সংগ্রাম এবং আত্মঅনুসন্ধানের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ। স্বপ্নের সার্থকতা কেবল ফলাফলে নয়, স্বপ্ন দেখার সাহসে, তাকে লালন করার শ্রমে, এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে মানুষের যে নৈতিক ও মানসিক রূপান্তর ঘটে, সেখানেও নিহিত থাকে। যে মানুষ স্বপ্ন দেখে না, সে জীবিত থেকেও যেন অর্ধমৃত; আর যে মানুষ স্বপ্ন দেখে, কিন্তু তা ভেঙে গেলেও উঠে দাঁড়াতে পারে, সে-ই প্রকৃত অর্থে জীবনের শিক্ষার্থী। ব্যর্থ স্বপ্ন মানুষের হৃদয়ে যে ক্ষত তৈরি ক’রে, তা নিষ্ঠুর মনে হলেও অনেক সময় সেই ক্ষতই মানুষকে সংবেদনশীল, প্রজ্ঞাবান ও দৃঢ় ক’রে তোলে; আবার সার্থক স্বপ্ন মানুষকে কেবল আনন্দিত করে না, তাকে দায়িত্ববানও ক’রে, কারণ পূর্ণতার সঙ্গে সঙ্গে আসে রক্ষার ভার, আলোর সঙ্গে আসে আলো ধরে রাখার অনুশাসন। জীবন তাই এক বিরাট দ্বৈরথ, যেখানে ব্যর্থতা ও সাফল্য পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়, বরং একই যাত্রার দুই পর্ব, একই নদীর দুই তীর, একই আকাশের দুই আবহ। শৈশবের স্বপ্ন প্রায়ই নির্মল ও উজ্জ্বল হয়; শিশুরা রাজা হতে চায়, পাখি হতে চায়, আকাশ ছুঁতে চায়, নদীর মতো বহমান হতে চায়, রংধনুর ওপারে বাস করতে চায়। তারা জানে না বাস্তবের হিসাব, জানে না সম্ভাবনার সীমা, জানে না জীবনের দীর্ঘ আপস; তাই তাদের স্বপ্ন সহজ, স্বচ্ছ, এবং অতি নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে এখনো অস্পর্শিত। এই সরল স্বপ্নই মানুষের প্রথম সত্য। তবে সময়ের হাতে সেই স্বপ্ন ধীরে-ধীরে বদলে যায়; কৈশোরে তা আরও উগ্র, আরও উচ্চাকাঙ্ক্ষী, আরও আত্মপ্রতিষ্ঠার দিকে ঝুঁকে পড়ে; যৌবনে এসে সেই স্বপ্নের সঙ্গে যুক্ত হয় পরিচয়, সাফল্য, প্রেম, অর্জন, সম্মান, জীবিকা, ভবিষ্যৎ, সমাজ এবং আত্মমর্যাদার প্রশ্ন। তখন স্বপ্ন আর কেবল কল্পনা থাকে না; তা পরিকল্পনা, পরিশ্রম, প্রতিযোগিতা, সংকল্প এবং ক্ষয়-ক্ষতির এক জটিল পথরেখা হ’য়ে ওঠে। কিন্তু বাস্তবতা সব সময় সহযোগী নয়; বাস্তবতার মাটি কখনও পিচ্ছিল, কখনও পাথুরে, কখনও অনুর্বর, কখনও আগাম বন্যায় ভরা। ফলে বহু স্বপ্ন মাঝপথে ঝ’রে যায়, বহু আশা ভেঙে প’ড়ে, বহু প্রতিভা সুযোগের অভাবে নিভে যায়, বহু প্রতিশ্রুতি নিষ্ঠুর সময়ের কষাঘাতে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তখন প্রশ্ন জাগে, ব্যর্থ স্বপ্নের অর্থ কী? তা কি কেবল পরাজয়? কেবল ক্ষতি? কেবল অপূর্ণতার কালো ছাপ? নাকি এর মধ্যেও আছে অন্য কোনো গভীর শিক্ষা, অন্য কোনো নীরব সৌন্দর্য? ব্যর্থ স্বপ্ন আসলে মানুষের সীমাবদ্ধতার সাক্ষ্য; এটি দেখায় মানুষ সর্বশক্তিমান নয়, সে চায় অনেক কিছু, কিন্তু পায় কম; সে গড়তে চায়, কিন্তু ভেঙে যায়; সে পৌঁছাতে চায়, কিন্তু মাঝপথে হারিয়ে যায়। তবু এই হারিয়ে যাওয়ার মধ্যেই এক ধরনের তীক্ষ্ণ জাগরণ রয়েছে। যে স্বপ্ন ভাঙে, সে মানুষকে শিখিয়ে যায় কীভাবে কষ্টকে ভাষা দিতে হয়, কীভাবে অপূর্ণতার সঙ্গে বসবাস করতে হয়, কীভাবে ব্যর্থতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে নিজের ভিতর থেকে নতুন দৃঢ়তা আহরণ করতে হয়। ব্যর্থতা যদি কেবল ধ্বংসই হতো, তবে মানবসভ্যতা এতদূর এগোত না; কারণ ইতিহাসের প্রতিটি সৃষ্টিশীল মোড়, প্রতিটি নৈতিক জাগরণ, প্রতিটি বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, প্রতিটি সামাজিক পরিবর্তনের পেছনে কোনো না কোনো ব্যর্থতার দীর্ঘ ছায়া রয়েছে। কত বিজ্ঞানী, কত কবি, কত যোদ্ধা, কত সমাজসংস্কারক, কত সাধারণ মানুষ, তারা প্রথমে পরাজিত হয়েছেন, প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, উপহাসিত হয়েছেন, তবু হাল ছাড়েননি। ব্যর্থ স্বপ্ন তাই অনেক সময় পরিণত স্বপ্নের আগ্নেয়শিখা; এটি মানুষকে প্রাথমিক মোহ থেকে বের করে এনে অধিকতর গভীর উপলব্ধির দিকে নিয়ে যায়। যে মানুষ কখনো ব্যর্থ হয়নি, সে হয়তো সাফল্যের স্বাদ জানে, কিন্তু জীবনের করুণ সুর বুঝতে পারে না; সে জয়ী, কিন্তু সম্পূর্ণ নয়। কারণ ব্যর্থতার ভিতরেই মানুষ শেখে সহমর্মিতা, অন্যের ব্যথার প্রতি সংবেদন, নিজের ক্ষুদ্রতা, অহংকারের ভঙ্গুরতা, সময়ের অপ্রতিরোধ্যতা। একটি ব্যর্থ স্বপ্ন কখনো কখনো মানুষের ভেতরকার অন্ধ আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিয়ে তাকে অধিকতর মানবিক ক’রে তোলে। তবু ব্যর্থতা নিঃসন্দেহে কষ্টদায়ক। এমন স্বপ্ন, যা মানুষ হৃদয়ের সর্বস্ব দিয়ে আঁকড়ে ধরে, দিনের পর দিন তাকে নিয়ে বাঁচে, রাতের পর রাত তাকে নিয়ে জেগে থাকে, সেই স্বপ্ন যখন হঠাৎ অধরা থেকে যায়, তখন বুকের গভীরে এক শীতল ফাটল তৈরি হয়। সে ফাটল দিয়ে কখনো নীরবতা ঢুকে পড়ে, কখনো কান্না, কখনো অভিমান, কখনো ক্লান্তি। তখন মানুষ নিজের কাছেই অচেনা হ’য়ে ওঠে। অনেকেই সেই সময় ভেঙে পড়ে, অনেকে আবার কঠিন হ’য়ে যায়, কেউ হয় আত্মগ্লানিতে ডুবে যায়, কেউ অন্যকে দোষারোপ ক’রে, কেউবা সমস্ত আশা ত্যাগ ক’রে। কিন্তু এই ভাঙনের মুহূর্তেই মানুষের প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়। কেউ ব্যর্থতাকে অভিশাপ বানায়, কেউ শিক্ষা; কেউ তা থেকে পিছু হটে, কেউ তা থেকে পথ খোঁজে। ব্যর্থ স্বপ্নের মধ্যেই রয়েছে সেই প্রশ্ন, যা মানুষকে নিরন্তর তাড়িত ক’রে: আমি কেন ব্যর্থ হলাম? আমার চেষ্টায় ঘাটতি ছিল, নাকি সময় অনুকূল ছিল না, নাকি সমাজ আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, নাকি আমি নিজেই নিজের যোগ্যতাকে যথেষ্ট লালন করতে পারিনি? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে-খুঁজতে মানুষ আত্মসমালোচনার পথে হাঁটে; আত্মসমালোচনা কখনো বেদনাদায়ক হলেও তা জরুরি, কারণ তা মানুষকে বাস্তবের মাটিতে দাঁড়াতে শেখায়। স্বপ্ন যখন মাটিতে পড়ে, তখন তার টুকরোগুলো থেকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি জন্মায়। তখন মানুষ বুঝতে শেখে, স্বপ্ন কেবল চাওয়ার নাম নয়, তা গড়ার কাজও বটে; কেবল কল্পনা নয়, শ্রমও; কেবল অনুভব নয়, শৃঙ্খলাও। আর এখানেই ব্যর্থ স্বপ্ন সার্থকতার এক লুকানো দরজা খুলে দেয়। কারণ যে মানুষ ব্যর্থতাকে অস্বীকার করতে পারে, সে উন্নতি করতে পারে না; আর যে মানুষ ব্যর্থতাকে গ্রহণ ক’রে, সে নিজেকে বদলাতে পারে। ব্যর্থ স্বপ্নের শিক্ষা তাই শেষ পর্যন্ত গঠনমূলক, যদিও তার পথ কণ্টকাকীর্ণ। অন্যদিকে সার্থক স্বপ্ন মানুষের জীবনে উজ্জ্বলতম অধ্যায়গুলোর একটি। যখন বহু চেষ্টা, দীর্ঘ অপেক্ষা, অসংখ্য সংশয়, নানারকম আঘাত ও প্রতিবন্ধকতার পর একটি স্বপ্ন সত্যের মাটিতে স্থাপিত হয়, তখন মানুষের মন এক অনির্বচনীয় আলোয় ভ’রে ওঠে। সার্থক স্বপ্ন মানে শুধু একটি লক্ষ্য পূরণ নয়; এর অর্থ আত্মবিশ্বাসের পুনর্জন্ম, শ্রমের স্বীকৃতি, ধৈর্যের ফল, এবং জীবনের কাছে এক ধরনের নীরব বিজয়। সার্থক স্বপ্ন যখন বাস্তবায়িত হয়, তখন মানুষ শুধু আনন্দ পায় না, তার ভেতরের জগতেও এক পরিবর্তন ঘটে। সে আরও স্থির হয়, আরও বিনম্র হয়, আরও স্পষ্টদর্শী হয়। কারণ প্রকৃত সার্থকতা মানুষকে গর্বিত করে না, বরং কৃতজ্ঞ ক’রে। যে স্বপ্ন সার্থক হয়েছে, তার মধ্যে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য থাকে না; থাকে মানুষের সহযোগিতা, সময়ের অনুকূলতা, ভাগ্যের সহায়তা, এবং সবচেয়ে বড় কথা,অবিরাম শ্রমের মুদ্রা। সার্থক স্বপ্ন কখনো হঠাৎ আকাশ থেকে পড়ে না; তা গ’ড়ে ওঠে দীর্ঘ প্রস্তুতিতে, ছোট ছোট অভ্যাসে, প্রতিদিনের সংগ্রামে, রাতজাগা অধ্যবসায়ে, এবং ব্যর্থতার ওপর পা রেখেই। সুতরাং সার্থকতা একটি মুহূর্তের নাম নয়, একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরিণতি। যখন ছাত্র পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, শিল্পী তার ক্যানভাসে প্রাণ সঞ্চার করে, কৃষক ফসল কেটে হাসে, লেখক তার হাতে গড়া বই প্রকাশ করে, প্রেমিক প্রিয়জনের মুখে সম্মতির হাসি দেখে, কর্মী পরিশ্রমের ফল পায়, তখন বাইরের জগতে এক সফল ঘটনা ঘটে; কিন্তু ভেতরে ঘটে দীর্ঘ এক পুঞ্জীভূত আনন্দের বিস্ফোরণ। এই আনন্দ কেবল ব্যক্তিগত নয়; তা পারিবারিক, সামাজিক, কখনো জাতিগত, কখনো সভ্যতাগত। কারণ মানুষের সার্থক স্বপ্ন কেবল ব্যক্তিকে নয়, চারপাশকেও আলোকিত ক’রে। একজন মানুষের সার্থকতা অন্যদেরও আশা দেয়। একটি জয়ী জীবন আশপাশের বহু পরাজিত জীবনে আশার নক্ষত্র জ্বালাতে পারে। তবু সার্থক স্বপ্নেরও বিপদ আছে। সব সাফল্য মানুষকে সদ্‌গুণী ক’রে না; সব অর্জন মানুষকে উন্নত করে না। কেউ সার্থকতার পর অহংকারী হ’য়ে ওঠে, কেউ কৃতজ্ঞতা হারায়, কেউ শিকড় ভুলে যায়, কেউ অন্যের পরিশ্রমকে অস্বীকার ক’রে। তাই সার্থক স্বপ্নের প্রকৃত রূপ তখনই সুন্দর, যখন সাফল্যের ভেতরেও সংযম থাকে, অর্জনের ভেতরেও শুদ্ধতা থাকে, জয়ের ভেতরেও মানবিকতা থাকে। একজন সত্যিকারের সার্থক মানুষ সে-ই, যার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, অথচ যার মন কোমল হয়েছে; যার উদ্দেশ্য সফল হয়েছে, অথচ যার হৃদয় ক্ষুদ্র হয়নি; যে পৌঁচেছে, অথচ যাত্রার কথা ভুলে যায়নি। ব্যর্থতা ও সার্থকতার দ্বন্দ্ব আসলে মানুষের অস্তিত্বের দুই প্রান্ত। একদিকে অপূর্ণতা, অন্যদিকে পূর্ণতা; একদিকে অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে নিশ্চয়তা; একদিকে অন্ধকারের দীর্ঘ পথ, অন্যদিকে আলোর উদ্ভাস। কিন্তু মানবজীবনের গভীর সত্য হলো, এই দুইয়ের যেকোনো একটিকে চিরস্থায়ী বলে ভাবা ভুল। আজকের ব্যর্থতা আগামীকালের সাফল্যের ভূমি হতে পারে; আজকের সাফল্য আগামীকালের জটিলতার বীজ বপন করতে পারে। জীবন স্থির নয়, তা প্রবহমান; এবং স্বপ্নও তেমনি। কোনো স্বপ্ন আজ অসম্পূর্ণ থাকলেও সে চিরকাল অসম্পূর্ণ নাও থাকতে পারে, কারণ মানুষ বদলায়, পরিস্থিতি বদলায়, সময় বদলায়, অনুভব বদলায়। আবার কোনো সাফল্যও শেষ কথা নয়; তা রক্ষা না করলে, অর্থ না দিলে, নৈতিক ভিত্তি না থাকলে সে সাফল্যও ক্ষয়ে যেতে পারে। এ কারণেই ব্যর্থ স্বপ্নকে অবহেলা করা যায় না, আবার সার্থক স্বপ্নকেও পূজা করা যায় না। উভয়কেই বুঝতে হয়, গ্রহণ করতে হয়, এবং জীবন-শিক্ষার অংশ হিসেবে গ’ড়ে তুলতে হয়। মানুষের স্বপ্ন যদি কেবল নিজের জন্য হয়, তবে তা সংকীর্ণ হ’য়ে পড়ে; আর যদি সে স্বপ্ন বৃহত্তর মানবকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তার সার্থকতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। একটি সন্তান যদি কেবল নিজের প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখে, তা স্বাভাবিক; কিন্তু যদি সে নিজের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে পরিবারের মর্যাদা, সমাজের কল্যাণ, দেশের অগ্রগতি যুক্ত করে, তবে তার স্বপ্নের পরিধি বড় হয়। একটি কবি যদি কেবল খ্যাতি চায়, তবে তার স্বপ্ন ক্ষীণ; কিন্তু যদি সে ভাষার সৌন্দর্য, মানুষের ব্যথা, সমাজের বিবেক, হৃদয়ের মুক্তি বহন করতে চায়, তবে সে স্বপ্ন সার্থকতার উচ্চতর স্তরে পৌঁছে যায়। সুতরাং সার্থক স্বপ্নের মানদণ্ড কেবল অর্জন নয়, উদ্দেশ্যও। ব্যর্থ স্বপ্নেরও নিজস্ব সৌন্দর্য আছে, কারণ তা মানুষের কষ্টকে পরিশুদ্ধ ক’রে। যে স্বপ্ন ব্যর্থ হয়, তা মানুষের হৃদয়ে এমন এক শব্দহীন সঙ্গীত সৃষ্টি ক’রে, যা তাকে আরও গভীর ক’রে তোলে। অনেক বড় সৃষ্টিকর্ম, অনেক শ্রেষ্ঠ উপলব্ধি, অনেক মানবিক সমবেদনা জন্ম নিয়েছে ব্যক্তিগত ব্যর্থতার ভেতর থেকে। অপূর্ণ প্রেমে যেমন কবিতা জন্মায়, প্রত্যাখ্যাত আকাঙ্ক্ষায় যেমন দর্শন জন্মায়, তেমনি অসম্পূর্ণ স্বপ্নে জন্ম নেয় আত্ম-অন্বেষণ। মানুষ যখন পায় না, তখন সে খোঁজে; যখন খোঁজে, তখন ভাবতে শেখে; আর যখন ভাবে, তখন তার চেতনা প্রসারিত হয়। এভাবেই ব্যর্থতা মানুষের অন্তর্লোককে গভীরতর করে। একটি ব্যর্থ স্বপ্ন মানুষের আত্মপরিচয়কে ভেঙে দিতে পারে, আবার নতুনভাবে গড়তেও পারে। সে বুঝতে শেখে, সে কেবল সাফল্যের সমষ্টি নয়; তার মধ্যে আছে ব্যথা, আছে ভাঙন, আছে শঙ্কা, আছে সীমা। এই উপলব্ধিই তাকে সত্যিকারের পরিণত ক’রে। অন্যদিকে সার্থক স্বপ্ন মানুষকে বাস্তবের মাঝে এক শান্ত দীপ্তি দান ক’রে। সার্থকতা একধরনের সৌন্দর্য, কারণ তা প্রমাণ ক’রে যে মানব ইচ্ছা, শ্রম ও ধৈর্য মিলিয়ে পরিবর্তন ঘটাতে পারে। খালি হাতে শুরু করে কিছু অর্জন করা মানুষের এক অসাধারণ ক্ষমতার পরিচয়। তবে সার্থক স্বপ্নের সৌন্দর্য তখনই পূর্ণ হয়, যখন মানুষ জানে, তার সাফল্য কেবল তার একার নয়; বহু মানুষের মঙ্গল, বহু চেষ্টার ফসল, বহু আশীর্বাদের সমষ্টি। জীবনের একটি মহৎ সত্য হলো, কোনো স্বপ্নই একেবারে ব্যক্তিগত নয়। প্রত্যেক স্বপ্নের সঙ্গে জড়িত থাকে কারো মুখের হাসি, কারো অপেক্ষা, কারো প্রার্থনা, কারো শ্রম, কারো ত্যাগ। তাই স্বপ্ন ব্যর্থ হোক বা সার্থক, তার সামাজিক মাত্রা আছে। একটি ব্যর্থ স্বপ্ন শুধু স্বপ্নদ্রষ্টাকে আঘাত করে না; তার চারপাশের মানুষের মধ্যেও বিষণ্ণতা আনে। একটি সার্থক স্বপ্ন শুধু স্বপ্নদ্রষ্টাকে আনন্দিত করে না; অন্যদেরও নবজীবনের প্রেরণা দেয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, মানুষের স্বপ্ন এক ধরনের নৈতিক দায়। স্বপ্ন দেখা যেমন অধিকার, স্বপ্নকে অর্থবহ করা তেমনি কর্তব্য। আমাদের সমাজে অনেক সময় ব্যর্থ স্বপ্নকে তুচ্ছ করা হয়। যারা পরীক্ষায় ফেল ক’রে, চাকরি পায় না, প্রেমে ব্যর্থ হয়, শিল্পে স্বীকৃতি পায় না, ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তারা যেন সমাজের চোখে অযোগ্য হ’য়ে যায়। কিন্তু এই দৃষ্টিভঙ্গি অমানবিক। ব্যর্থতা কোনো মানুষের অস্তিত্বের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়। আজ যে হারিয়েছে, সে কাল জিততে পারে; আজ যে ম্লান, সে কাল দীপ্ত হতে পারে। সমাজের উচিত ব্যর্থ মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া, তাদের ঘৃণা না ক’রে পুনরুত্থানের সুযোগ দেওয়া। কারণ একটি সমাজ তখনই সভ্য, যখন সে কেবল বিজয়ীকে নয়, পরাজিতকেও মর্যাদা দিতে শেখে। যে জাতি তার ব্যর্থ স্বপ্নদ্রষ্টাদের অবহেলা ক’রে, সে নিজের ভবিষ্যৎকেও দুর্বল ক’রে। ব্যর্থতার প্রতি এই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি না থাকলে সার্থকতার মূল্যও কমে যায়। অন্যদিকে সার্থক স্বপ্নকে যদি সমাজ শুধুই বাহবা দেয়, কিন্তু তার নৈতিক দিক না দেখে, তবে সে সাফল্যও ভ্রান্ত পথে চলে যেতে পারে। তাই স্বপ্নের মূল্যায়নে প্রয়োজন মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং গভীর দৃষ্টি। স্বপ্নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি সময়কে অতিক্রম করার এক উপায়। মানুষ নশ্বর, কিন্তু স্বপ্ন অনেক সময় মানুষের জীবনকালের চেয়েও দীর্ঘ হয়। কোনো স্বপ্ন পূরণ হতে এক জীবন লাগে, কোনোটা উত্তরপুরুষের হাতে বাস্তবায়িত হয়, কোনোটা হয়তো কখনোই পূরণ হয় না, তবু তার আকাঙ্ক্ষা ইতিহাসে থেকে যায়। ব্যর্থ স্বপ্নের স্মৃতি অনেক সময় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সতর্ক ক’রে, অনুপ্রাণিত ক’রে, পথ দেখায়। সার্থক স্বপ্নও শুধু বর্তমানের ভোগ নয়; তা ভবিষ্যতের ভিত্তি। একটি সার্থক স্বপ্ন নতুন স্বপ্নের জন্ম দেয়। একটি সফল উদাহরণ অন্যদের সাহস দেয়। এভাবে স্বপ্নের বহমানতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয়। মানুষ মরলেও তার স্বপ্ন বেঁচে থাকে, যদি তা ভাষা, কাজ, সংস্কৃতি, স্মৃতি ও আদর্শে রয়ে যায়। এই কারণেই স্বপ্ন মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান অদৃশ্য সম্পদ। ধন হারালে আবার পাওয়া যায়, কিন্তু স্বপ্নের মৃত্যু হলে জীবনের রং ফিকে হ’তে পারে। আর ব্যর্থ স্বপ্ন? সেটিও জীবনের রঙের অংশ; কালো রংও ছবিকে অর্থ দেয়, ছায়া না থাকলে আলোও বোঝা যায় না। কাজেই ব্যর্থতা ও সাফল্যকে আলাদা ক’রে দেখার চেয়ে তাদের সম্পর্ককে বোঝাই বেশি জরুরি। ব্যর্থতা মানুষকে বিনম্র ক’রে; সাফল্য মানুষকে কার্যকর ক’রে; ব্যর্থতা মানুষকে সহানুভূতিশীল ক’রে; সাফল্য মানুষকে দায়বদ্ধ ক’রে; ব্যর্থতা মানুষকে প্রশ্ন ক’রে; সাফল্য মানুষকে উত্তর দিতে শেখায়। এই দুইয়ের সংলাপেই জীবনের পূর্ণতা। যখন কোনো মানুষ একাধিকবার ব্যর্থ হয়েও আবার চেষ্টা করে, তখন তার ভেতরে যে চরিত্র গ’ড়ে ওঠে, তা কোনো একক সাফল্যের চেয়ে বড়। কারণ পুনরায় উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাই জীবনের আসল শক্তি। স্বপ্ন তাই শুধু লক্ষ্যের নাম নয়; তা পুনরুত্থানের নাম, প্রত্যয়ের নাম, আত্মবিশ্বাসের নাম, মানবিক অধ্যবসায়ের নাম। ব্যর্থ স্বপ্নের ক্ষেত্রে এই পুনরুত্থানই গুরুত্বপূর্ণ; আর সার্থক স্বপ্নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তা ধরে রাখা। মানুষ যদি উভয়ই শিখে, হার মানলেও আবার শুরু করা এবং জিতলেও বিনয়ী থাকা,তবে সে জীবনবোধে পরিপূর্ণ হয়। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, ব্যর্থ স্বপ্ন ও সার্থক স্বপ্ন জীবনকে দুই ভিন্ন রঙে রাঙায়, কিন্তু উভয় রঙই প্রয়োজনীয়। ব্যর্থতা মানুষকে শূন্যতার মুখোমুখি দাঁড় করায়, সার্থকতা মানুষকে পূর্ণতার স্বাদ দেয়; ব্যর্থতা তাকে ভিতর থেকে গ’ড়ে, সার্থকতা তাকে বাইরে থেকে প্রকাশ ক’রে। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটি বোঝা যায় না। ব্যর্থ স্বপ্ন মানুষকে শেখায়, পৃথিবী যেমন তার ইচ্ছার অনুগত নয়, তেমনি সে নিজেও পৃথিবীর কাছে হার মানতে বাধ্য নয়; সার্থক স্বপ্ন শেখায়, নিয়মিত শ্রম, সততা ও অধ্যবসায় একদিন ফল দেয়। যে জীবনে ব্যর্থতা নেই, সে জীবনে গভীরতা কম; যে জীবনে সার্থকতা নেই, সে জীবনে দিগন্ত কম। তাই আমাদের উচিত স্বপ্নকে শুধু ফলাফলের বিচারে নয়, যাত্রার বিচারে মূল্যায়ন করা। স্বপ্ন যদি ভেঙেও যায়, তবু তাকে লালন করার সময়টুকু বৃথা নয়; আর স্বপ্ন যদি পূর্ণ হয়, তবু তার পেছনের সংগ্রাম ভুলে গেলে সেই পূর্ণতাও অসম্পূর্ণ। জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এই, স্বপ্ন দেখা বন্ধ কোরো না, ব্যর্থতাকে ভয় কোরো না, সার্থকতাকে অহংকারে নষ্ট কোরো না। মানুষ যতদিন স্বপ্ন দেখতে পারবে, ততদিন সে বেঁচে থাকবে; যতদিন ব্যর্থতাকে অর্থ দিতে পারবে, ততদিন সে বড় হবে; আর যতদিন সার্থক স্বপ্নকে মানবিকতায় ধারণ করতে পারবে, ততদিন তার জীবন সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...