গ্রামের নাম ছিল নৈরাশপুর। নামের মতোই জায়গাটা যেন আশা-হীন, নিঃশব্দ, আর ধূসর। বর্ষার শেষে সেখানে কুয়াশা নামে হঠাৎ, মাটির গন্ধ ওঠে, আর রাত নামলে মনে হয় অন্ধকারটা শুধু আকাশ থেকে নয়, গাছের ফাঁকফোকর, কাঁচা রাস্তা, এমনকি মানুষের বুকের ভেতর থেকেও বেরিয়ে আসে। অনেকটা সুনসান নিরাবতা। নৈরাশপুরের শেষ প্রান্তে একটি পুরোনো দোতলা বাড়ি। সবাই তাকে বলত ছায়া-ঘর। আসল নাম কেউ আর মনে রাখেনি। অনেক বছর আগে এক জমিদার এই বাড়ি তৈরি করেছিলেন। পরে তার ছেলে, বউ, চাকর, খাজাঞ্চি, এক এক করে সবাই মারা যায়। তারপর বাড়িটা খালি পড়ে থাকে। কেউ বলত, রাতে সেখানে বাতি জ্বলে। কেউ বলত, সিঁড়িতে এক অচেনা মেয়ের পা-র শব্দ শোনা যায়। কেউ আবার বলত, বাড়ির পেছনের কুয়োর কাছে দাঁড়ালে নিজের নামটা নিজের গলায় শোনা যায়। অনেক কালো ছায়া চারিদিকে ঘুরাঘুরি করে। এই সব কথা শহর থেকে আসা লোকেরা হাসাহাসি ক’রে উড়িয়ে দিত। কিন্তু গ্রামের মানুষ হাসত না। তারা পথ বদলাত, সন্ধ্যার পর ছায়া-ঘরের দিক তাকাত না, আর বাচ্চাদের শাসন করত, ‘ওদিক যাস না। শহরের ছেলে রবীন এসব বিশ্বাস করত না। তার নিজের উপর খুব দৃঢ় বিশ্বাস ছিল। রবীন ছিল ফটোগ্রাফার। পুরোনো বাড়ি, প...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।