আমার পুরনো এই টেবিলটা আজকাল কথা বলে , বড় অদ্ভুত তার সুর , কখনো ভাঙা কাঁচের মতো তীক্ষ্ণ , কখনো আবার শরতের শেষ দুপুরে ঝরা পাতার মতো মর্মর এর উ পর জমে থাকা ধুলোর আস্তরণ আসলে কোনো ময়লা নয় , বরং একেকটি বিস্মৃত বিকেলের মানচিত্র ; যেখানে আমি হারিয়ে ফেলেছি আমার শৈশবের সেই হারানো মার্বেল টেবিলটার পায়াগুলো ঠিক মানুষের মতো অনড় দাঁড়িয়ে , অথচ এর ড্রয়ার খুললেই বেরিয়ে আসে এক অদ্ভুত জাদুকর সেখান থেকে ডানা মেলে উড়তে শুরু করে পুরনো সব চিঠির ঘ্রাণ , ব্যবহৃত কালি ফুরিয়ে যাওয়া কলমগুলো সব জ্যান্ত হয়ে ওঠে তারা যেন একেকজন বিষণ্ণ নাবিক , অনেককাল আগে ডুবে যাওয়া কোনো স্মৃতির জাহাজ থেকে উদ্ধার পেয়েছে অলৌকিকভাবে মাঝে মাঝে মধ্যরাতে যখন নিস্তব্ধতা দরজায় টোকা দেয় , আমি দেখি টেবিলের ওপর রাখা নীলরঙা ল্যাম্পশেডটা হয়ে উঠেছে একটি নিঃসঙ্গ বাতিঘর তার আলোয় ছায়া পড়ে দেয়ালে ঠিক আমারই অবয়ব , কিন্তু কেন যেন ছায়াটা আমার চেয়ে বেশি সজীব মনে হয় সে হয়তো সেই সব কবিতার লাইন আওড়ায় , যেগুলো আমি কখনো কাগজে নামাতে পারিনি , কেবল বুকের ভেতর দাড় করেছি। এই কাঠখণ্ড , যা একদা অরণ্যে পাখির গান শুনতো , আজ আমার এই নিঃস...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।