সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

মাংসের স্তূপ ও রক্তে ভেজা সৌন্দর্য


আমি তোমাকে কোনো অলৌকিক স্বর্গের স্বপ্নে চুমু খাইনি,
আমার জিভ খুঁজেছিল তোমার মেরুদণ্ডের ভেতরে লুকানো আদিম অস্থিরতা
তুমি চেয়েছিলে সমস্ত পবিত্রতা, আর আমি চেয়েছিলাম
তোমার বুকের অন্ধকারে জন্ম নেওয়া এক নিষিদ্ধ বিপ্লব ঘটাতে
প্রেম মানে তো কেবল সুগন্ধী মাখা কোনো নিটোল দুপুর নয়,
প্রেম হলো এক ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো নিজের সত্তাকে ছিঁড়ে খাওয়া

তোমার ওই সুডৌল গ্রীবা আর নীরব  হাসির নিচে আমি দেখেছি
হাজার বছরের পুরনো এক দাসত্বের মানচিত্র, যার সব আমি চিনি
আমি চেয়েছিলাম সেই মানচিত্র পুড়িয়ে দিয়ে তোমাকে নগ্ন করতে;
পোশাকের নগ্নতা নয়, বরং আত্মার সমস্ত সংস্কার উপড়ে ফেলা নগ্নতা
তুমি চমকে উঠেছিলে যখন আমি বলেছিলাম, ভালবাসা এক ধরণের ব্যাধি;
আসলে তুমি সেই শেকলটাকেই ভালোবাসতে, যা তোমাকে চিরদিন বন্দি রাখে

আমাদের সঙ্গম ছিল আসলে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ
সেখানে কোনো বাঁশি বাজেনি, বেজেছিল কেবল অস্থির চিৎকার
আমি যখন তোমার চিবুকে আমার আঙুলের কর্কশ ছাপ রেখেছি,
তুমি ভেবেছিলে ওটা আদর; অথচ ওটা ছিল তোমার প্রতি আমার তীব্র ঘৃণা
সেই ঘৃণা, যা জন্মেছে তোমার ওই মধ্যবিত্ত ভীরুতার ওপর
আমি তোমাকে অপ্সরী বানাতে চাইনি, আমি চেয়েছিলাম এক জ্যান্ত মানুষ
যে অবলীলায় থুতু দিতে পারে এই সমাজের পচা লাশের মুখে

এখন তুমি অন্যের ঘামে সিক্ত হও, অন্য কারোর সস্তা আবেগে ভিজে যাও,
তাতে আমার কোনো আক্ষেপ নেই, আজ অন্যর শরীরে তোমার বাস
আক্ষেপ কেবল এই, আমি তোমার মগজের কোষে আগুন জ্বালাতে চেয়েছিলাম,
অথচ তুমি বেছে নিলে এক চিমটি ছাইয়ের মতো নিশ্চিন্ত কোমল জীবন
আমি জানি, প্রতি রাতে তোমার ওই সুসজ্জিত বিছানায়
তুমি আমার দহনের অভাব অনুভব করো প্রতি মুহূর্তে;
আমার সেই ধারালো কথাগুলো এখন তোমার স্মৃতিতে ক্যানসারের মতো ছড়ায়

শোনো হে নশ্বর মানবী, প্রেম কোনো প্রার্থনা নয়, প্রেম হলো বিদ্রোহ
আমি সেই বিদ্রোহী, যে তোমার শরীরের প্রতিটি ভাঁজে লিখেছিল প্রথার মৃত্যু
তুমি এখন যেখানেই থাকো, যার বাহুতেই নিজেকে সমর্পণ করো না কেন
মনে রেখ, আমার ওই তীব্র দহন ছাড়া তুমি কেবল একতাল মাংসপিণ্ড
আমি তোমাকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলাম, যাতে তুমি পুনরায় জন্ম নিতে পারো
তোমার মত করে, কিন্তু তুমি বেঁচে থাকতে চাইলে এক মৃত জলছবির মতো

বিদায় হে সৌন্দর্য, তোমার ওই জ্যামিতিক পৃথিবীতে আমি এক অবাধ্য বক্ররেখা
আমি চললাম সেই নির্জনতায়, যেখানে কেউ নেই,  কোনো পিছুটান নেই
যেখানে কেবল আছড়ে পড়ে এক বিষাক্ত হৃদপিণ্ড
আমার এই কবিতা তোমার কাছে কোনো প্রেমের গান নয়,
বরং তোমার মানবিকতার ওপর এক বালতি ফুটন্ত সিসা
ভালো থেকো তোমার ওই নিরাপদ পুরুষে,

 আমি চললাম আমার স্বাধীন ধ্বংসস্তূপে। 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...