সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সূর্য অস্ত যায়

  সূর্য অস্ত যায় , নদীর ধারে বসে আমি বলি , আজ বিদায় বলব আমি নিজের থেকে। শুনো তুমি , কী হয়তো আমি একটু বেশি ভালোবাসি , কিন্তু ভালোবাসাই যথেষ্ট নয়। এই শহর বড় , মানুষের ভিড় ঢেকে দেয় মুখ , আমি খুঁজেছি তোমার মুখ , কোথাও পায়নি। হাত বাড়িয়ে দেখেছি , শূন্যতা স্পর্শ ক ’ রে ফিরে আসে। একটি ফুল ছিল আমার হাতে , তুমি ছিলে চোখে , আজ ফুল ম্লান , তুমি অদৃশ্য। ব্যর্থতা কি এক চক্র ?, চারপাশে ফিরে আসে , আলো জ্বেলে ও নিভিয়ে যায়। আমি বলব , দয়া করে বলো , তুমি এখানে কি আর আছো ? কিন্তু উত্তর আসেনি , শুধু রোদ নিভে গেছে ধীরে। আমি উঠে পড়লাম , নতুন সকাল খুঁজতে , হয়তো এইবার ভালোবাসা নয় , শুধু আমরা একাকার নয় , এইটুকুই থাক।

পাখিদের গানের

  পাখিদের গানের মাঝেই হারিয়ে গেছে রাতের নিরবতা , আমি শুনি , সেই গান আজ আমার নেই। তুমি হয়েছিলে খোলা আকাশের মতো , আমি ছিলাম পাখি , কিন্তু পাখি হারায় যায় যখন ডানা ভাঙে। আমার স্বপ্নগুলো ছিলো এক‑এক রঙিন বাতাসে আঁকা , আজ রঙ ফিকে , বাতাস শুকনো। ব্যর্থতা বলতে হয় কি ?, একটু হাসি ছাড়া ঘুম , একটু আলো ছাড়া পথ , একটি শব্দ হয়নি , তুমি ঠিক আছো ? আমি বলি , হ্যাঁ , কিন্তু নিজেকেই ধোঁকায় ফেলেছি। প্রত্যেক বেলা মনে হয় , আমি অপেক্ষায় , তুমি ফিরবে আর বলবে , সব ঠিক আছে। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা থেমে নেই , আমি ঠিক হয়েছি কোথাও না , এর মাঝেই তোমার স্মৃতি ফিরছে , এবং আমি দেখি আলোর বদলে শুধুই ছায়া। যদি আবার শুরু হয় , হয়তো পারব হাসি ফিরে আনতে , কিন্তু আজ আমার ভালোবাসা রয়ে গেছে একান্নরং নিঃসঙ্গতায় ।  

জলের ভিতরে চাঁদের মুখ-ছোট গল্প

  শহরটার নাম ছিল কালিকাপুর , কিন্তু লোকজন তাকে ডাকত ভাঙা সেতুর শহর ; কারণ নদীর উপর এক পুরোনো সেতু ছিল , যার মাঝখানে একখানা বাঁক , আর সেই বাঁকেই দাঁড়িয়ে বিকেলের আলো সবচেয়ে বেশি থমকে যেত , যেন জল আর আকাশের মাঝখানে কেউ একখানা অদৃশ্য হাত ধ ’ রে রেখেছে। সেই সেতুর নিচ দিয়ে যে নদী ব ’ য়ে যেত , তার নাম ছিল মধুমতী , কিন্তু নামের সঙ্গে নদীর চরিত্রের খুব কম মিল ছিল ; মধুমতী ছিল কাব্যের মতো নরম নয় , বরং ছিল ঋতুভেদে রঙ বদলানো এক রুখে-যাওয়া চরিত্র , কখনো কাদামাখা , কখনো স্বচ্ছ , কখনো ফুলে-ফেঁপে ওঠা , কখনো এমন শান্ত যে তার বুকে চাঁদ নামলে মনে হতো , জল নয় , কোনো প্রাচীন কাচের পাতের উপর আলো রাখা হয়েছে। এই নদীর পাড়েই পুরোনো ডাকঘরের পাশে ছিল একটি বইয়ের দোকান , আর সেই বইয়ের দোকানের শাটার খুলত সকাল দশটায় , বন্ধ হতো রাত আটটায় ; দোকানটা ছোট , ধুলিধূসর , জানলার কাঁচে সবসময় হালকা কুয়াশার মতো এক স্তর জমে থাকত , আর ভেতরে ঢুকলে কাগজ , আঠা , পুরোনো মলাট ও শুকনো কাঠের গন্ধ একসঙ্গে মিশে এমন এক নীরবতার জন্ম দিত , যেখানে নিজের শ্বাসও অন্য কারও স্মৃতি বলে মনে হতো। ওই দোকানের মালিক ছিল তৌফিক , বয়স পঁয়ত্রিশের কোঠায় ,...

প্রিয়তমা, তোমাকে আজও ভালোবাসি

  কফির পেয়ালায় চুমুক দিতেই বৃষ্টি ঝরল ,   তবে এ কোনো স্নিগ্ধ শ্রাবণ নয় , এ হলো আকাশের নীল বিষণ্ণতা থেকে ঝ ’ রে পড়া এক   গন্ধরাজ ;     যা ধুয়ে দিতে চায় আমাদের এই মেকআপ করা নাগরিক মুখের যাবতীয় কৃত্রিম হাসি আমি তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে কোনো নক্ষত্র খুঁজিনি , খুঁজেছি এক অন্ধকার নর্দমার গভীরতা   ও তার পথ যেখানে ডুবে আছে আমাদের মধ্যবিত্ত জীবনের ছোট ছোট সব বীভৎস আকাঙ্ক্ষা এই বৃষ্টি যখন কংক্রিটের   দেয়ালে   কামের মতো আছড়ে পড়ছে , তখন আমার কফির ধোঁয়া হ ’ য়ে ওঠে এক একটি নিষিদ্ধ ইশতেহার ; যা অস্বীকার ক ’ রে তোমার ওই সুগন্ধী   শরীর   আর পবিত্রতার ভণ্ডামিকে আমি চেয়েছি এই বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা এক একটি কুঠার হ ’ য়ে আমাদের মাথার খুলি চিরে ফেলুক ,   যাতে বেরিয়ে আসে সেইসব আদিম অন্ধকার , যা আমরা লুকিয়ে রাখি ইস্ত্রি করা   সাদা   পোশাকের ভাঁজে প্রেম তো আসলে এক ধরণের ধীরগতির   ঝড় হাওয়া ;   যেখানে চুম্বনের চেয়ে দংশন বেশি সত্য আর স্পর্শের চেয়ে ঘর্ষণ বেশি   তীব্র তুমি চেয়েছিলে এক পেয়ালা গরম কফি আর কিছু নিরাপদ   ছোঁয়া অথচ আমি দিতে...

নীরা, তোমার জন্য ভালোবাসা - ছোট গল্প

  শীতের শেষভাগ। শহরের বুকের ভেতরেও তখন একধরনের ধূসর কুয়াশা লেগে থাকে , যেন আকাশও ঠিকমতো জেগে উঠতে চায় না। ভোরের আলো জানালার কাচে এসে পড়ে , তারপরও ঘরকে উষ্ণ করতে পারে না। এমন এক ভোরে , পুরোনো নীলচে ব্যাগটি কাঁধে তুলে নিল রায়হান। তার হাতে ছিল কয়েকটি বই , একটি খাতা , আর অনেক দিনের নীরবতা। ঢাকার এক প্রান্তে , বুড়িগঙ্গার কাছাকাছি পুরোনো লাইব্রেরিটির নাম ছিল ‘ অন্বেষা পাঠাগার ’ । নামের মতোই সেটি ছিল এক ধরনের খোঁজের জায়গা , কেউ জ্ঞানের খোঁজে আসত , কেউ একাকিত্বের , আর কেউ হারানো কিছুর। রায়হান সেখানে কাজ করত। কাজ বললেও সত্যিটা একটু অন্যরকম ; বই সাজানো , পুরোনো পাণ্ডুলিপি গুছিয়ে রাখা , লাইব্রেরির নথি ঠিক রাখা , এসবের ভেতর সে যেন নিজের জীবনকে খুব সতর্কভাবে ভাঁজ করে রাখত। রায়হানের জীবন খুব বড় ছিল না , কিন্তু খুব ছোটও ছিল না ; বরং ছিল অসম্পূর্ণতার এক নিখুঁত রূপ। তার বয়স ত্রিশের কাছাকাছি। মুখে দাড়ির পাতলা রেখা , চোখে এক ধরনের ক্লান্ত কোমলতা , আর কথায় অল্পতা। যারা তাকে চেনেনি , তারা ভাবত সে নিশ্চয়ই স্বভাবতই গম্ভীর। কিন্তু যারা তাকে জানত , তারা বুঝত , সে গম্ভীর নয় , ভাঙা। কারণ তা...