সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

কবি অমিয় চক্রবর্তী ও বাঙলা কবিতা

 

অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ, যিনি আধুনিক বাংলা কবিতার তিরিশের দশকের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তিনি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. ফিল. ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর কবিতায় আধ্যাত্মিকতা, মানবতাবাদ ও বিশ্বজনীন চেতনার সমন্বয় দেখা যায়, যা বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি হাওয়ার্ড, বস্টন ও ইয়েলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন এবং বিশ্বসাহিত্যে বাংলা কবিতার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।


কবি অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬) বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য নক্ষত্র। যিনি রবীন্দ্রনাথোত্তর কবিতাধারার মধ্যে একদিকে আধ্যাত্মিকতার আলোকরশ্মি, অন্যদিকে আধুনিকতার গভীর মনন, আবার তৃতীয় দিকে বিশ্বসংলগ্ন বোধের এক বিস্তৃত মানসিক ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন, এবং তাঁর কাব্যজগৎ এমনই বহুমাত্রিক যে তাকে কেবল আধ্যাত্মিক কবি বা চিন্তাকবি বলে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। বরং তিনি ছিলেন মানবচৈতন্যের অনুসন্ধানী শিল্পী, সময়-সচেতন এক মনীষী, যিনি কবিতার মধ্যে রেখে যান সত্য, নৈতিকতা, অন্তর্মন, মানুষ ও বিশ্ববোধের অখণ্ড সংলাপ। অমিয় চক্রবর্তীর কবিতায় মানুষের প্রতি আকুল বিশ্বাস, ঈশ্বরবোধের অন্তর্দীপ্তা, অনন্তের প্রতি স্নেহময় সমর্পণ, জীবনের ক্ষুদ্রতা ও বিশালতার অনুপম তুল্যমিশ্রণ, নির্জনতার গভীর ব্যাখ্যা এবং বিশ্বসাহিত্যের নানান প্রভাব মিলেমিশে যে ভাষা গ’ড়ে তোলে, তা বাংলা কবিতায় এক নতুন বোধের জন্ম দেয়; তাঁর কবিতা যেন এক নির্মল আত্মবিশ্বাসের ধর্ম, যেখানে কোনো অহং নেই, নেই কোনো প্রচারণা, আছে কেবল আত্মার সঙ্গে আত্মার কথা বলা, নীরবতার সঙ্গে নীরবতার সেতুবন্ধন। তিনি রবীন্দ্রনাথের ছাত্র, স্নেহভাজন ও সহকর্মী ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর কাব্যস্বর কখনোই রবীন্দ্রনাথের প্রতিধ্বনি হ’য়ে ওঠেনি; বরং রবীন্দ্রচেতনার আলোকস্পর্শকে নিজের ব্যক্তিত্বের মর্মে ধারণ ক’রে তিনি নির্মাণ করেছিলেন এক স্বতন্ত্র কাব্যভূমি। যার ভিত্তি ছিল নৈতিকতা ও মানবিকতার মধ্যে, আর যার আকাশ ছিল নিরন্তর চিন্তার মুক্ত বিস্তার। তাঁর কবিতায় দেখা যায় এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান, কিন্তু এই আধ্যাত্মিকতা কোনো ধর্মীয় কঠোরতা নয়, বরং মানুষের চৈতন্যের মুক্তির একটি অন্তর্লৌকিক পথ; যেখানে জীবনকে দেখা হয় অন্ধকারের মধ্য দিয়ে আলো খোঁজার ব্যাকুলতায়, আর এই আলো কোনো বাইরের প্রভা নয়, মানুষের অন্তরেই তার অবস্থান। তাই তাঁর কবিতায় ঈশ্বরও মানবিক, মানুষও ঐশ্বর্যমণ্ডিত; দু’য়ের ফারাক নয়, বরং দু’য়ের মিলনই প্রধান। তার কবিতায় তিনি বলতে চান, শব্দ যেন স্রোতের মতো প্রবাহিত, কিন্তু সেই স্রোত নীরবতারও স্রোত, যাকে শুনতে হ’লে পাঠককে নিজের হৃদয় খুলতে হয়।

অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যধারা আধুনিকতার এক নীরব কিন্তু ভীষণ প্রভাবশালী স্রোত। তিনি কোনো বিক্ষুব্ধ আধুনিকতার কবি নন, বরং মননমগ্ন আধুনিকতার প্রতীক, যেখানে সময়ের অস্থিরতা বুঝে নেওয়া হয় শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে, যেখানে আধুনিকতার ব্যথাগুলো চিৎকার নয়, মৃদু অশ্রু হ’য়ে পড়েছে মানুষের অন্তরে। এই অন্তর্মুখী আধুনিকতাই তাঁকে রবীন্দ্রোত্তর কাব্যধারায় প্রতিষ্ঠিত ক’রে। মানুষের প্রতি তাঁর অপরিসীম আস্থা, নৈতিক সত্যের প্রতি তাঁর অনুরাগ, এবং অস্তিত্বের শূন্যতার মধ্যে আশার স্ফুলিঙ্গ খুঁজে বের করার ক্ষমতা তাঁর কবিতাকে এক ধরনের ‘ethical lyricism’–এ উন্নীত ক’রে। তাঁর কবিতায় বারবার দেখা যায় মানুষ ভুল ক’রে ঠিকই, ক্ষুদ্রতায় হারিয়ে যায় ঠিকই, কিন্তু মানুষের প্রতি তাঁর আস্থা কখনো টলে না; তাঁর কাছে মানুষ কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, বরং প্রেম, দুঃখ, অভাব, নৈতিকতা ও অন্বেষণের জীবন্ত প্রতিরূপ। তাই তিনি বলেন মানুষের হাত ধ’রে ঈশ্বরকে খুঁজতে, ঈশ্বরের ছায়ায় নয়।

অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন এক অনন্য বিশ্বমানব; তাঁর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, বিদেশি সাহিত্য-সংস্পর্শ, শিক্ষাজগতের বিস্তৃত জীবন, নানা দার্শনিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয়; এসব তাঁর কাব্যকে বহন করেছে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে। তিনি কেবল বাংলার কবি নন, ছিলেন বিশ্বসাহিত্যের এক আলোকিত পথিক; তাই তাঁর কবিতায় ভারতের ঐতিহ্য, বাংলার লিরিক, পাশ্চাত্যের চিন্তাপ্রবাহ, খ্রিস্টীয় নীতিবোধ, প্রাচ্য-অধ্যাত্মচিন্তা; সব মিলেমিশে তৈরি করেছে এক বিরল সংমিশ্রণ। তাঁর কবিতায় নস্ট্যালজিয়া আছে, কিন্তু তা অতীতের প্রতি আঁকড়ে থাকা নয়; বরং স্মৃতি ও চিন্তার মিলন, জীবনের পথচলার উপর আলো ফেলতে ফেলা অনন্ত সময়ের কোমল দৃষ্টি। তাঁর ভাষা ছিল স্বচ্ছ, নরম, স্নিগ্ধ; তবু অর্থ-নির্মাণ ছিল দার্শনিকভাবে গভীর, কখনো কখনো অত্যন্ত বিমূর্ত। তিনি শব্দকে কখনো ভারী করেননি, বরং শব্দের নীরবতার মধ্যেই রেখেছেন অর্থের ভার।

অমিয় চক্রবর্তীর কবিতার একটি বড় শক্তি হলো তাঁর স্বগতোক্তিমূলক টোন; তাঁর কবিতা পড়লে মনে হয় যেন এক গভীর মনীষী নিজের অন্তরকে প্রশ্ন করছেন; মানুষ কে, জীবন কী, মৃত্যু কতটা বাস্তব, ঈশ্বর কতটা দূরবর্তী, আর প্রেম কতটা অমোঘ? তিনি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে দার্শনিক স্তরে উন্নীত করেছেন, আর দার্শনিকতাকে দিয়েছেন হৃদয়ের ভাষা। মানবজীবনের হাহাকার, আনন্দ, শূন্যতা, আশ্রয়বোধ; এসব তাঁর কবিতার মাধ্যমে এক নীরব ধর্মে রূপান্তরিত হয়। তাঁর কবিতার মৃত্যু-বোধও অনন্য; মৃত্যু তাঁর কাছে ভয় নয়, এক ধরনের মুক্তি, এক ধরনের আশ্রয়, যেখানে মানুষ তার ক্ষুদ্রতা থেকে মুক্ত হ’য়ে বৃহৎ আত্মার সঙ্গে মিলিত হয়।

রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল আলোক এবং আত্মবিশ্বাসের সম্পর্ক; তিনি কবিগুরুকে শ্রদ্ধা করেছেন, অনুসরণ করেছেন, কিন্তু অন্ধ অনুকরণ করেননি; বরং রবীন্দ্রীয় আলোকে নিজের স্বাধীন আলোতে রূপান্তর করেছেন। তাঁর কবিতায় রবীন্দ্র-স্বরের ধ্বনি পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু সেই ধ্বনি কেবল একটি সেতু; যার ওপরে দাঁড়িয়ে তিনি গ’ড়ে তুলেছেন নিজের কাব্য-পরম্পরা। তিনি রবীন্দ্রনাথকে যেমন শিখেছেন ভাষার বিশুদ্ধতা, তেমন শিখেছেন মানবিকতার বিশ্বায়িত দৃষ্টি; কিন্তু তাঁর নিজের স্বর হ’য়ে উঠেছে আরও অন্তর্মুখী, আরও নীরব, আরও দার্শনিক।

অমিয় চক্রবর্তী মানবিক ন্যায়বোধের কবি ছিলেন। তাঁর কবিতায় বারবার উ’ঠে এসেছে আমাদের ভেতরের তুচ্ছতা, আমাদের অহংকার, আমাদের ভুল, এবং এগুলো অতিক্রম ক’রে মানুষের প্রতি ভালোবাসার এক অহিংস নৈতিকতা গ’ড়ে তোলার আহ্বান। তাঁর কবিতা আমাদের শেখায়; মানুষ তার ত্রুটি সত্ত্বেও মহৎ হ’তে পারে; সত্যিকারের মহত্ত্ব আসে বিনয়ের মধ্যে, যত্নের মধ্যে, অন্যের প্রতি মমত্ববোধের মধ্যে। তিনি মানুষের মধ্যে ঈশ্বরকে দেখেছেন, আর ঈশ্বরের মধ্যে মানুষকে। তাঁর কবিতায় তাই ‘অথচ’ শব্দটি বারবার দেখা যায়; মানুষ তুচ্ছ অথচ মহান, সে ভুলকারী অথচ সত্যের অনুসন্ধানী, সে ক্ষুদ্র অথচ ঈশ্বরের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি।

অমিয় চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যে এক ‘quiet revolution’ ঘটিয়েছিলেন। নরম ভাষায়, কিন্তু তীক্ষ্ণ মননে; নীরব টোনে, কিন্তু গভীর সত্যে; ছোটো কথায়, কিন্তু বিশাল অর্থে। আধুনিক বাংলা কবিতার ইতিহাসে তিনি এক সেতুবন্ধন; রবীন্দ্র-পরম্পরা থেকে পরবর্তী আধুনিকতার দিকে যাত্রা নির্মাণের নীরব প্রকৌশলী। তাঁর কবিতা আজও পাঠককে শান্তি দেয়, আবার একইসঙ্গে তীব্র দার্শনিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়; তাঁর শব্দ আজও নীরব আলো হ’য়ে মানুষের হৃদয়ে জ্বলে ওঠে, যেন মনে করিয়ে দেয়; জীবন অল্প, কিন্তু গভীর; মানুষ ক্ষুদ্র, কিন্তু অসীম; পৃথিবী বিশৃঙ্খল, কিন্তু সত্য ও মমত্ব ছাড়া আর কোনো পথ নেই।

অমিয় চক্রবর্তী তাই কেবল একজন কবি নন, বরং একটি মানসিক নির্মাণ; একটি মানবিক নৈতিকতার বিদ্যালয়, একটি আধ্যাত্মিক পথ, একটি বিশ্বদৃষ্টি, একটি অন্তর্মন-সংলাপের অবিরাম দরজা; যেখান থেকে বাংলা সাহিত্য বারবার নতুন আলো পায়, নতুন পথ খুঁজে পায়, আর মানুষ খুঁজে পায় অন্তর্দীপ্তির সেই শাশ্বত নীরবতা, যার ছায়ায় দাঁড়িয়ে তার কবিতা আজও অপরিবর্তনীয়।

কত মানুষের ব্যথা পুঞ্জ হয়ে মেঘে
আকাশে ঘনায় উদ্বেগে।
গামান্তের রুদ্ধ বুকে কার কাঁদা,
মর্মান্তিক কোপা মৃত্যু-বাধা,
জনে জনে জলে ঝড়ে ডোবে নৌকা কত,
অনশন-মাঠে আর্ত লক্ষ শত,
—তাপর মেঘ উড়ে যায়,
শ্রাবণ বর্ষণ রাত যেমন পোহায়।
ফিরে রৌদ্র পড়ে মাঠে গ্রামে,
নতুন শিশুর ঘরে নব প্রাণ উদ্যত সংগ্রামে;
কারো ধান হয়, কারো অতিক্রান্ত শোকে মুছে যায় পুরোনো সময়;
কর্মের কঠিন দিন ভরে,
আবার জীবন চলে ঘরে ঘরে।
তবু যেই চেয়ে দেখি ক্ষুদ্র খেয়া-ঘাটে
দূরে কে দরিদ্রা মেয়ে, ঘরণী সে, ভাগ্যের ললাটে
একদৃষ্টে কী যে খোঁজে, গাছের গুঁড়িতে হাত রেখে
কে যেন আসবে ফিরে আশাহীনা বৃথা চেয়ে দেখে—
তখন আবার ধীরে চলন্ত এ তরী থেকে ভাবি
চিরন্তন ব্যথা সে তো দীপ জ্বালে অন্ধকারে নাবি।
মহাসূর্য বিশ্বের গগনে
স্রোতে-ভাসা সৃষ্টিলোকে ব্যথিতা কে একাকী লগনে।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...