সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

শামসুর রাহমানের কবিতায় নগর-ভাবনা

 

শামসুর রাহমানের (১৯২৯-২০০৬) কবিতায় নগর-ভাবনা, আধুনিক বাঙলা কাব্যচর্চার ইতিহাসে এক গভীর, বিস্তৃত ও তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই নগর কেবল একটি ভৌগোলিক পরিসর নয়, এটি একটি দার্শনিক অবস্থা, একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং একটি নান্দনিক নির্মাণ। শামসুর রাহমানের কবিতায় নগর প্রথমত আধুনিক মানুষের আবাসভূমি, যেখানে ব্যক্তির অস্তিত্ব প্রতিনিয়ত রাষ্ট্র, ইতিহাস, শ্রেণি ও ক্ষমতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পড়ে। তিনি এমন এক সময় কবিতা লিখেছেন, যখন বাংলা কবিতা গ্রামকেন্দ্রিক প্রকৃতি-রোমান্টিসিজম থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে নাগরিক চেতনার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এই রূপান্তরের সবচেয়ে শক্তিশালী ও ধারাবাহিক কণ্ঠস্বর ছিলেন শামসুর রাহমান। তাঁর কবিতায় ঢাকা শহর একটি প্রতীকী ও বাস্তব সত্তা হিসেবে হাজির হয়, যেখানে ফুটপাত, ট্রামলাইন, অফিসপাড়া, বস্তি, মিছিল, কারফিউ, পোস্টার, রাতের নির্জনতা এবং প্রেমিকার শরীর একে অপরের সঙ্গে জটিলভাবে সংযুক্ত। এই নগর-ভাবনা নির্মিত হয়েছে ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার, পাকিস্তানি শাসনামলের রাজনৈতিক দমন, ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পরবর্তী ভাঙা স্বপ্নের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে। ফলে শামসুর রাহমানের নগর একদিকে,  ইতিহাসবাহী, অন্যদিকে গভীরভাবে ব্যক্তিগত। তাঁর কবিতায় নগর মানে রাষ্ট্রের চোখের নিচে বসবাস করা, যেখানে নাগরিকের দৈনন্দিন জীবন রাজনৈতিক হ’য়ে ওঠে। এখানে প্রেমও রাজনৈতিক, নিঃসঙ্গতাও রাজনৈতিক, এমনকি শরীরও রাজনৈতিক। শামসুর রাহমান; আধুনিক নগরের ভেতর মানুষের একাকিত্বকে বারবার তু’লে ধরেছেন। লক্ষ মানুষের ভিড়ের মধ্যেও মানুষ একা, এই অভিজ্ঞতা তাঁর কবিতায় একটি অস্তিত্ববাদী মাত্রা যোগ ক’রে। নগরের জানালা, লিফট, সিঁড়ি, রাস্তাঘাট যেন মানুষের বিচ্ছিন্নতার প্রতীক হ’য়ে ওঠে। এই বিচ্ছিন্নতা কেবল মানসিক নয়; এটি সামাজিক ও শ্রেণিগত। নগর একদিকে মধ্যবিত্ত স্বপ্নের কেন্দ্র, অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষের শোষণের ক্ষেত্র। শামসুর রাহমান, এই দ্বৈত বাস্তবতাকে আড়াল করেন না। তাঁর কবিতায় বস্তির ক্ষুধা, শ্রমিকের ক্লান্ত শরীর, ফুটপাতে ঘুমানো মানুষ শহরের নান্দনিক আলো-ছায়ার পাশে পাশাপাশি অবস্থান ক’রে। ফলে তাঁর নগর-ভাবনা একধরনের নৈতিক দায় বহন ক’রে, যেখানে কবি কেবল দর্শক নন, সাক্ষী ও প্রতিবাদী। শামসুর রাহমানের নগর-চিন্তায় নারী এক বিশেষ স্থান অধিকার ক’রে। নগর-নারী কখনো প্রেমিকা, কখনো পথচারী, কখনো যৌনতার প্রতীক, আবার কখনো রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার। এই নারীর শরীর নগরের মতোই নিয়ন্ত্রিত, নজরদারির মধ্যে থাকা এক পরিসর। এখানে কামনা ও দমন একসঙ্গে কাজ ক’রে। শামসুর রাহমান, নগরের কামনাময় দিককে অস্বীকার করেননি, কিন্তু তিনি দেখিয়েছেন, এই কামনা কীভাবে ক্ষমতার কাঠামোর সঙ্গে জড়িয়ে যায়। তাঁর কবিতায় বিছানার ঘরেও ঢুকে পড়ে পুলিশের বুটের শব্দ, কারফিউয়ের সাইরেন। ফলে ব্যক্তিগত সুখ সর্বদা ভঙ্গুর। এই ভঙ্গুরতার মধ্যেই নগরের রাজনীতি স্পষ্ট হ’য়ে ওঠে। শামসুর রাহমানের নগর কখনো নিছক বিষণ্ন নয়; এটি প্রতিবাদের ক্ষেত্র। তাঁর কবিতায় মিছিল, স্লোগান, রক্ত, রাজপথ এক শক্তিশালী প্রতীকী ভাষা তৈরি ক’রে। তিনি নাগরিক কবি হিসেবে রাজপথে দাঁড়িয়ে কথা বলেন। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু ক’রে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত নগর তাঁর কবিতায় একটি সংগ্রামী চেতনার কেন্দ্র। শহরের দেয়ালে লেখা স্লোগান, মাইকের শব্দ, গুলির আওয়াজ,সব মিলিয়ে নগর হ’য়ে ওঠে ইতিহাসের নাট্যমঞ্চ। এই ইতিহাস ব্যক্তিগত স্মৃতির সঙ্গে মিশে গিয়ে এক ধরনের সামষ্টিক স্মৃতি নির্মাণ করে। শামসুর রাহমানের কবিতায় ঢাকা শহর তাই কেবল একটি স্থান নয়, এটি বাঙালির আধুনিক ইতিহাসের প্রতীক। তাঁর ভাষা নগরের মতোই সরল, প্রত্যক্ষ ও কথ্যভাষাভিত্তিক। তিনি অলংকারে নয়, বাস্তবতার চাপেই কবিতাকে শক্তিশালী করেছেন। এই ভাষা মধ্যবিত্ত নাগরিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত, ফলে পাঠক সহজেই নিজেকে তাঁর কবিতার ভেতর খুঁজে পায়। শামসুর রাহমান নগরকে একটি চরিত্রে রূপান্তর করেছেন, যে চরিত্র কথা বলে, আহত হয়, স্বপ্ন দেখে। তাঁর কবিতায় রাতের শহর এক বিশেষ তাৎপর্য বহন ক’রে। রাত এখানে নিঃসঙ্গতার, প্রেমের, ষড়যন্ত্রের এবং ভয়ের সময়। বৃষ্টিভেজা রাস্তা, নীল আলো, বন্ধ দোকান, এইসব চিত্র নগরের এক কাব্যিক সৌন্দর্য তৈরি ক’রে, কিন্তু সেই সৌন্দর্যের নিচে লুকিয়ে থাকে অস্থিরতা। এই দ্বৈততা শামসুর রাহমানের নগর-ভাবনার মূল শক্তি। তিনি নগরকে একদিকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করেছেন, অন্যদিকে নির্মম বাস্তবতায় উন্মোচন করেছেন। এই নগর-ভাবনা বাংলা কবিতাকে নতুন এক দিগন্ত দিয়েছে। গ্রামবাংলার নস্টালজিয়া থেকে বেরিয়ে এসে কবিতা নাগরিক জীবনের জটিলতাকে ধারণ করতে শিখেছে। শামসুর রাহমানের প্রভাবে পরবর্তী কবিরা নগরকে আর ভয়ের চোখে দেখেননি; বরং এটিকে কবিতার বৈধ ও শক্তিশালী বিষয় হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁর কবিতায় নগর শেষ পর্যন্ত মানবিক। সমস্ত সহিংসতা, শোষণ ও নিঃসঙ্গতার মধ্যেও তিনি মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারাননি। নগরের ভেতরেই তিনি ভালোবাসার সম্ভাবনা, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ভাষার শক্তিকে খুঁজে পেয়েছেন। এই কারণে শামসুর রাহমানের নগর-ভাবনা কেবল একটি সাহিত্যিক থিম নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অবস্থান। বাংলা আধুনিক কবিতার ইতিহাসে এই অবস্থান আজও প্রাসঙ্গিক, কারণ নগর আজও আমাদের বাস্তবতা, আমাদের সংকট এবং আমাদের স্বপ্নের কেন্দ্র। শামসুর রাহমানের নগর-ভাবনাকে আরও গভীরভাবে অনুধাবনের জন্য নির্দিষ্ট কবিতার আলোকে ইন্টারটেক্সচুয়াল বিশ্লেষণ অপরিহার্য। উদাহরণ হিসেবে ‘নগর’ কবিতাটি ধরা যায়, যেখানে শহর নিজেই একটি সংলাপরত সত্তা। এখানে নগর কোনো নীরব পটভূমি নয়; এটি মানুষের সঙ্গে কথা বলে, তাকে গ্রাস ক’রে, আবার তাকে আশ্রয়ও দেয়। এই কবিতার নগর-চিত্র টি. এস. এলিয়টের ‘The Waste Land’-এর নগরের সঙ্গে এক অন্তর্গত সংলাপে প্রবেশ ক’রে, যেখানে আধুনিক শহর মানে আধ্যাত্মিক শূন্যতা ও ভাঙনের প্রতীক। তবে এলিয়টের নগর যেখানে পশ্চিমা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ, শামসুর রাহমানের নগর সেখানে উপনিবেশ-উত্তর বাস্তবতার এক জীবন্ত ক্ষত। ‘রৌদ্রকরোটিতে’ কবিতায় নগর এক ভিন্ন রূপ নেয়, এখানে শহর রৌদ্রদগ্ধ, উত্তপ্ত, প্রায় শ্বাসরুদ্ধকর। এই নগর-অভিজ্ঞতা জীবনানন্দ দাশের নিঃসঙ্গ নগরবোধের সঙ্গে তুলনীয় হলেও শামসুর রাহমানের কবিতায় নিঃসঙ্গতা নিছক অস্তিত্ববাদী নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত। শহরের রৌদ্র এখানে ক্ষমতার প্রতীক, যা নাগরিককে ক্লান্ত ও অবসন্ন করে। ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতায় নগর একেবারে রাজনৈতিক মঞ্চে রূপান্তরিত হয়। রাজপথ, দেয়াল, মিছিল,সবকিছু মিলিয়ে শহর এখানে মুক্তির আকাঙ্ক্ষার ধারক। এই কবিতাটি পাবলো নেরুদার রাজনৈতিক কবিতার সঙ্গে এক আন্তঃপাঠিক সম্পর্ক গ’ড়ে তোলে। যেখানে নগর সংগ্রামের ভাষা ধারণ ক’রে। ‘বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়’ কবিতায় নগর একটি জাতীয় প্রতীকে উত্তীর্ণ হয়। এখানে ঢাকা শহর কেবল রাজধানী নয়, এটি একটি আহত হৃদয়, যার মধ্যে ইতিহাসের সমস্ত রক্তক্ষরণ জমা। এই দৃষ্টিভঙ্গি, বুদ্ধদেব বসুর নাগরিক চেতনার সঙ্গে সংলাপে প্রবেশ করলেও, শামসুর রাহমান এখানে আরও প্রত্যক্ষ ও উচ্চকণ্ঠ। ‘আসাদের শার্ট’ কবিতায় নগর সরাসরি শহীদের রক্তে রঞ্জিত। রাজপথ এখানে পবিত্র, কারণ এটি প্রতিরোধের স্থান। এই কবিতার নগর-ভাবনা বিশ্বসাহিত্যের বিপ্লবী শহরচিত্রের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে শহর হ’য়ে ওঠে সংগ্রামের স্মৃতিভূমি। এইসব কবিতার ইন্টারটেক্সচুয়াল পাঠ দেখায় যে, শামসুর রাহমান নগরকে এককভাবে দেখেননি; বরং তিনি বিশ্ব-আধুনিক কবিতার নগর-চিন্তার সঙ্গে সংলাপ গ’ড়ে তুলেছেন। তাঁর নগর তাই একই সঙ্গে স্থানীয় ও বৈশ্বিক, ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক। এই ইন্টারটেক্সচুয়াল সম্পর্কগুলো শামসুর রাহমানের কবিতায় নগর-ভাবনাকে আরও বহুমাত্রিক ক’রে তোলে এবং বাংলা কবিতাকে বিশ্ব-আধুনিকতার মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে স্থাপন ক’রে।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...