সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

অন্তরালের অশ্রুজল

 

১.
আমি যখন নিঃশেষ রাত্রির অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকি
শূন্যতার নীরবতায় হৃদয়ের ব্যথা
একটানা গভীর হ
য়ে বাজতে থাকে,
এমন প্রতিধ্বনি যেন বাতাসের অদেখা দোলায়
মনোমুক্ত শব্দেরা
হৃদয়ের অন্তঃস্থলকে স্পর্শ ক
রে
রাতের অব্যক্ত শূন্যতায়
প্রতিটি নিশ্বাস যেন দীর্ঘ নীরবতার মতো
অজস্র ক্ষুদ্র আলো নিভে যায়,
কোনো অস্পষ্ট, অচেনা অনুভূতি
অন্তরের খেয়ালে গভীর
কষ্টের দাগ এঁকে যায়


২.
চোখের পলকে ঢুকে প
ড়ে
শত শূন্যতার অভিশাপ
যেমন প্রতিটি স্মৃতি নিজের ভারে ডু
বে আছে,
হৃদয়ের প্রতিটি শিরায় বেজে ওঠা অনুভূতির সুর
ধীরে ধীরে শব্দের সমুদ্রে মিলিয়ে যায়
তার ছায়া
মনে হয়,
আমি যেন নতুন কোন আগন্তুক
একটি অনির্দিষ্ট গান
অন্তরালের ম্লান দীপ্তিকে মুঠোয় বন্দী ক
রে ছেড়ে দিয়েছে
আর সেই সুরে প্রতিটি অনুভব
জীবনের সন্ধি খুঁজে পেতে চায়
শূন্যতার রূপে, ব্যথার রূপে,
মানসিক ক্ষুদ্র আলোতে প্রান্তর খুঁজে
রক্তের গভীরে


৩.
তোমার ওই অনাবিল ছায়া
যেন কোনো কবিতার সম্ভ্রম
কবে
, কোথা থেকে,রে এসেছে বেদনার আলো?
আমি জানিনা
!
কিন্তু প্রতিটি শব্দে
তোমার স্পর্শের মতো
স্নিগ্ধ, অচেনা কণ্ঠ
আমার শিরায় প্রবাহিত হয়
হিম রক্তের গভীরে
এবং তুমি
শুধু স্মৃতি নও, গল্পও নও
, অমর সৌন্দর্য
তুমি যেন শূন্যতার ভেতর
অদৃশ্য আলো হ
য়ে
অন্তরকে স্পর্শ করো, ধীরে ধীরে অবগাহন করো
, আমার গভীর জলে


৪.
এই ব্যথা
, কষ্টের দাগ,
শুধু শারীরিক নয়;
এটা অন্তরের অশ্রুজলের সুর,
ছুঁয়ে যায় আমার সমস্ত মনকে
অচেনা অনুভূতির দরজায় নিয়ে যায়
মন যেন নিঃশেষ হাওয়ার মতো
হৃদয়ের ভাঁজে ভাঁজে
দাগ কেটে যায়
ব্যথা আর বেদনার অনবদ্য
সন্ধি
এ যেন জীবনের অকৃত্রিম স্বর
যাকে কখনো ব্যথা বলি,
তবুও সে স্বর
, করুণ আর্তনাদ
আলোকেই আত্মা খুঁজে পায়,
নিরবতার মধ্যেই আলো খুঁজে পায়


৫.
শূন্যতা আর আলো মিলেমিশে
এক এক শব্দে রূপান্তরিত
হয়
জীবন আর মৃত্যু নিয়ে
অন্তহীন প্রশ্ন জাগে;
কিন্তু সেই প্রশ্নের মাঝেই
অন্তর থেকে উঠে আসে
একটি দুরূহ
সৌন্দর্য
বেদনা যেমন গভীর,
তেমনি সেই বেদনাতেও
আলোকের খোঁজ রয়েছে
শূন্যতার গভীরে বসে থাকা
এক অদৃশ্য আলো
,
আমাকে আবার পুনরায় ওঠার আহ্বান জানায়।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...