সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আলাউদ্দিন আল আজাদের ‘২৩ নম্বর তৈলচিত্র’

 

আলাউদ্দিন আল আজাদের ২৩ নম্বর তৈলচিত্র (১৯৬০) বাংলা সাহিত্যের একটি মনস্তাত্ত্বিক ও শিল্পতাত্ত্বিক মাইলফলক। এটি কেবল একজন চিত্রশিল্পীর জীবনসংগ্রামের আখ্যান নয়, বরং মানুষের অবদমিত কামনা, শিল্পসত্তা এবং সামাজিক সংস্কারের এক জটিল রসায়ন। উপন্যাসটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শিল্পী জাহেদ। তার কাছে চিত্রকর্ম কেবল রেখা বা রঙের বিন্যাস নয়, বরং জীবনের গূঢ় সত্য উন্মোচনের মাধ্যম। উপন্যাসের নাম ২৩ নম্বর তৈলচিত্রপ্রতীকীভাবে সেই বিশেষ শিল্পকর্মটিকে নির্দেশ করে, যা জাহেদের জীবনের চরম সত্যকে ধারণ করে আছে। জাহেদ এমন এক শিল্পী যিনি ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্ব দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। তার ক্যানভাসে ফুটে ওঠে মানুষের আদিম প্রবৃত্তি এবং অবচেতনের অন্ধকার অলিগলি। আলাউদ্দিন আল আজাদ এই উপন্যাসে মানুষের অবচেতন মনের এক নিপুণ ময়নাতদন্ত করেছেন। জাহেদ তার ভাই ও ভ্রাতৃবধূর সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাঝে নিজের শিল্পীসত্তাকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করে। জাহেদের বড় ভাই শরিফ এবং তার স্ত্রী সুরাইয়ার দাম্পত্য জীবনের ফাঁকফোকর দিয়ে জাহেদের মনে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তা-ই এই উপন্যাসের মূল চালিকাশক্তি। সুরাইয়ার প্রতি জাহেদের এক ধরনের অবদমিত আকর্ষণ ও শিল্পীসুলভ মুগ্ধতা ছিল, যা সে ২৩ নম্বর তৈলচিত্রনামে ক্যানভাসে বন্দি করতে চেয়েছিল। এই চিত্রকর্মটি আসলে জাহেদের অবচেতন মনের এক নগ্ন প্রতিফলন। উপন্যাসটিতে শিল্পীর নৈতিক দ্বান্দ্বিকতা ফুটে উঠেছে অত্যন্ত প্রখরভাবে। জাহেদ যখন তার সেই বিশেষ চিত্রকর্মটি সম্পন্ন করে, তখন সে এক ভয়াবহ দোটানায় পড়ে যায়। সমাজ ও পরিবারের চোখে যা অনৈতিক বা নিষিদ্ধ, শিল্পের বিচারে তা হয়তো মহৎ। জাহেদ কি তার সৃজনশীলতাকে পরিবারের মর্যাদার ওপরে স্থান দেবে, নাকি লোকলজ্জার ভয়ে শিল্পকে বিসর্জন দেবে? এই দ্বন্দ্বই তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। শেষ পর্যন্ত সে তার ২৩ নম্বর তৈলচিত্রটি পুড়িয়ে ফেলে যা মূলত তার নিজের একটি অংশকে পুড়িয়ে ফেলার শামিল। শিল্পের এই আত্মাহুতি জাহেদকে সাধারণ মানুষ হিসেবে মুক্তি দিলেও শিল্পী হিসেবে তাকে এক গভীর শূন্যতায় নিক্ষেপ করে। আলাউদ্দিন আল আজাদের গদ্যশৈলী এখানে অত্যন্ত পরিমিত এবং ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ। তিনি বর্ণনার চেয়ে অনুভূতির ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। চিত্রশিল্পের কারিগরি ভাষা এবং শিল্পীর দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি চমৎকারভাবে সাহিত্যে রূপান্তর করেছেন। উপন্যাসের আবহজুড়ে এক ধরনের বিষণ্ণতা ও গুমোট ভাব বিরাজ করে, যা মানুষের অন্তরের অন্ধকার দিকটিকে নির্দেশ করে। ২৩ নম্বর তৈলচিত্রবাংলা সাহিত্যে শিল্পের শুদ্ধতা ও মানুষের আদিম প্রবৃত্তির এক অনন্য আখ্যান। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শিল্প সবসময় সুন্দর নয়; কখনও কখনও শিল্প মানে নিজের কুরূপ বা নিষিদ্ধ রূপের মুখোমুখি হওয়া। জাহেদ চরিত্রটির মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন যে, একজন প্রকৃত শিল্পীকে তার সৃষ্টির জন্য কত বড় ব্যক্তিগত মূল্য চোকাতে হয়। আজাদের এই সৃষ্টি কেবল ষাটের দশকের প্রেক্ষাপটে নয়, বরং চিরকালীন মানব-মনস্তত্ত্বের এক গভীর দলিল হয়ে টিকে আছে। আলাউদ্দিন আল আজাদের ২৩ নম্বর তৈলচিত্রউপন্যাসটি বাংলা কথাসাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য মনস্তাত্ত্বিক ও শিল্পতাত্ত্বিক দলিল হিসেবে স্বীকৃত যেখানে লেখক মানুষের অবদমিত কামনা ও সৃজনশীল সত্তার এক জটিল রসায়নকে অত্যন্ত নিপুণভাবে ব্যবচ্ছেদ করেছেন এবং উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র চিত্রশিল্পী জাহেদ কেবল একজন শিল্পী নন বরং তিনি ফ্রয়েডীয় মনস্তত্ত্বের এক জীবন্ত প্রতীক যার ক্যানভাসে বারবার ধরা দেয় মানুষের অবচেতনের অন্ধকার প্রকোষ্ঠের আদিম রূপ এবং উপন্যাসের প্রেক্ষাপট আবর্তিত হয় জাহেদের বড় ভাই শরিফ ও তার স্ত্রী সুরাইয়ার দাম্পত্য জীবনের এক সূক্ষ্ম অথচ গভীর টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে যেখানে জাহেদ শিল্পীসুলভ এক বিশেষ দৃষ্টিতে সুরাইয়াকে পর্যবেক্ষণ করে। সুরাইয়ার প্রতি জাহেদের যে আকর্ষণ তা সাধারণ দেবর-ভাবীর সম্পর্কের সীমানা ছাড়িয়ে এক আধ্যাত্মিক ও শৈল্পিক তৃষ্ণায় রূপান্তরিত হয় এবং জাহেদ তার শিল্পীসত্তার সমস্ত আবেগ ও শ্রম ঢেলে দিয়ে তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে ২৩ নম্বর তৈলচিত্রনামক চিত্রকর্মটি সৃষ্টি করতে শুরু করে যেখানে সে সুরাইয়ার দৈহিক সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক আদিম ও অকৃত্রিম সত্যকে ফুটিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়। এই চিত্রকর্মটি সম্পন্ন করার প্রক্রিয়ায় জাহেদ ক্রমাগত নিজের ভেতরে এক ভয়াবহ দ্বান্দ্বিকতার সম্মুখীন হয়, কারণ একদিকে রয়েছে শিল্পের প্রতি তার অদম্য দায়বদ্ধতা যা তাকে সত্য প্রকাশে নির্ভীক করে তোলে আর অন্যদিকে রয়েছে সামাজিক নীতি ও পারিবারিক সংস্কারের কঠোর বেষ্টনী যা তাকে লোকলজ্জা ও নৈতিক পতনের ভয় দেখায়। উপন্যাসের এই বিশেষ পর্যায়ে আলাউদ্দিন আল আজাদ দেখিয়েছেন যে একজন প্রকৃত শিল্পী যখন তার অবচেতন মনের গভীর থেকে কোনো সত্যকে তুলির টানে ক্যানভাসে বন্দি করেন তখন তা আর কেবল একটি জড় বস্তু থাকে না, বরং তা হয়ে ওঠে মানুষের ভেতরের নগ্ন সত্যের এক সংঘাতময় দর্পণ এবং জাহেদ যখন শেষ পর্যন্ত তার সেই ২৩ নম্বর তৈলচিত্রটি সম্পন্ন করে তখন সে নিজের সৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে নিজেই শিউরে ওঠে কারণ সেই ছবিতে সে কেবল সুরাইয়াকে নয় বরং নিজের অবদমিত কামনা ও সমাজের নিষিদ্ধ রূপকে প্রত্যক্ষ করে। এই চিত্রকর্মটি যখন জাহেদের ভাইয়ের চোখে পড়ে বা পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয় তখন শিল্পী জাহেদ আর সাধারণ মানুষ জাহেদের মধ্যে এক চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয় এবং সে উপলব্ধি করে যে এই মহান শিল্পকর্মটি যদি জনসমক্ষে আসে তবে তা তার ভাই ও ভ্রাতৃবধূর সাজানো সংসারকে তছনছ করে দেবে এবং সমাজ তাকে লম্পট বা নীতিভ্রষ্ট হিসেবে চিহ্নিত করবে অথচ একজন শিল্পী হিসেবে সে জানে যে এই ছবিটাই তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সত্য। শিল্পের এই চরম ও নিষ্ঠুর সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জাহেদ শেষ পর্যন্ত এক মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সে তার প্রাণের চেয়েও প্রিয় সেই ২৩ নম্বর তৈলচিত্রটি আগুনে পুড়িয়ে ফেলে যা মূলত তার নিজের শিল্পীসত্তার এক ধরনের প্রতীকী আত্মহত্যা এবং এই অগ্নিকাণ্ডের মাধ্যমে সে তার সৃজনশীলতাকে বিসর্জন দিয়ে সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদাকে রক্ষা করে। লেখকের এই সুনিপুণ লেখনীতে ফুটে উঠেছে যে মধ্যবিত্ত সমাজব্যবস্থায় একজন শিল্পীকে কীভাবে তার সত্য প্রকাশের জন্য ব্যক্তিগত ও শৈল্পিক মূল্য চোকাতে হয় এবং জাহেদের এই বিসর্জন আসলে শিল্পের ওপর প্রথাগত নীতিবাদের এক নির্মম বিজয় যা পাঠককে এক গভীর বিষণ্ণতা ও শূন্যতার দিকে ঠেলে দেয়। উপন্যাসের বর্ণনাভঙ্গি ও গদ্যশৈলী এতটাই প্রখর যে, তা মানুষের মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা কুৎসিত ও সুন্দর উভয় দিককেই সমানভাবে স্পর্শ করে এবং রঙের ব্যবহার ও আলো-ছায়ার খেলার মাধ্যমে লেখক যেভাবে মানুষের মনস্তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করেছেন তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। পরিশেষে ২৩ নম্বর তৈলচিত্রকেবল একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া ছবির গল্প নয় বরং এটি মানুষের চিরন্তন একাকীত্ব, শিল্পের দায়বদ্ধতা এবং সমাজ ও ব্যক্তির মধ্যকার অবিরাম যুদ্ধের এক শৈল্পিক দলিল যা প্রতিটি সচেতন পাঠককে বাধ্য করে নিজের ভেতরের অবদমিত সত্যের মুখোমুখি হতে এবং জাহেদ চরিত্রটির মাধ্যমে আলাউদ্দিন আল আজাদ আমাদের বুঝিয়ে দেন যে শিল্পের মুক্তি হয়তো সব সময় সম্ভব হয় না কিন্তু তার দহন শিল্পীকে সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়ায়।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...