সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নীল জ্যোৎস্নার জানালা- কিশোর গল্প

 


রাতটা তখনও পুরোপুরি নামেনি, কিন্তু আকাশের গায়ে গায়ে এক ধরনের ধূসর নীল জড়ো হয়ে এসেছে। সন্ধ্যার শেষ আলো পাখিদের ডানায় লেগে ধীরে-ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে। গ্রামের পেছনের মাঠটা, যেখানে দিনে ধানগাছের পাতায় রোদ ঝিলমিল করে, এখন সেখানে বাতাসের পাতলা সুর ছাড়া আর কিছু নেই। সেই মাঠের পাশের সরু কাঁচা পথ ধরে একা হাঁটছিল আরিফ। তার কাঁধে পুরোনো ব্যাগ, হাতে ভাঁজ করা একটা খাতার পাতা, আর চোখে এমন এক নীরবতা, যেন সে কিছু হারিয়ে ফেলেছে, অথচ কী হারিয়েছে তা নিজেও ঠিক জানে না।

আরিফের বয়স পনেরো। এই বয়সে ছেলেদের চোখে সাধারণত দুনিয়া নিয়ে কৌতূহল থাকে, হাসির ঝাঁঝ থাকে, বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাস থাকে। কিন্তু আরিফের ভেতরে ছিল অন্যরকম একটা চাপা শব্দ। তার বাবা গ্রামে অন্যর জমিতে কাজ করে। মা সংসারের জীর্ণতার সঙ্গে লড়াই করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। আরিফ স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে ছোটদের পড়াত, কখনও বাজার থেকে চাল আনত, কখনও খালপাড়ের বাঁশঝাড় থেকে শুকনো বাঁশ কুড়োত। তবু তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ ছিল একা বসে পুরোনো বই পড়া। বইয়ের পাতার ভেতরে সে এমন সব জায়গা খুঁজে পেত, যেখানে দুঃখেরও একটা আলো থাকে।

সেদিন স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ার পর তার বাংলা শিক্ষক হেলাল স্যার তাকে ডেকে বলেছিলেন, ‘আরিফ, তুমি গল্প লিখতে পারো। তোমার ভাবনার মধ্যে একটা আলাদা সুর আছে। তুমি যদি ইচ্ছা করো, আগামী মাসের সাহিত্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারো।

আরিফ কিছু বলেনি। শুধু মাথা নিচু করে দাঁড়িয়েছিল। কারণ তার ভয় ছিল একটাই, যে স্বপ্ন সে দেখবে, সেটা যদি কেউ দেখে ফেলে, তবে স্বপ্নটা হেসে উড়ে যাবে। তবু স্যার তার হাতে একটা নীল খাতা তুলে দিয়েছিলেন। খাতার প্রথম পাতায় লেখা ছিল, ‘তোমার ভেতরের কথা, তোমার নিজের ভাষায়।

সেই খাতাটাই নিয়ে আরিফ এখন হাঁটছিল গ্রামের পুরোনো পাঠাগারের দিকে। গ্রাম্য পাঠাগার বলতে ছোট্ট এক ঘর, দেয়ালে চুনের আস্তরণ ফেটে ফেটে পড়ছে, কাঠের তাকগুলোতে ধুলো জমে আছে, আর জানালার পাশে একটা পুরোনো বেঞ্চ। কিন্তু আরিফের কাছে সেটাই ছিল রাজপ্রাসাদ। সেখানে বসেই সে বই খুলত, জানালার বাইরে সন্ধ্যার বাতাস দেখত, আর নিজের বুকের ভেতর জমে থাকা শব্দগুলোকে পাতায় নামাত।

পাঠাগারে পৌঁছে সে দরজাটা ঠেলে খুলল। ভেতরে তখন বাতি জ্বলছে না। সন্ধ্যার আলো জানালা দিয়ে ঢুকে ধুলোকে সোনালি করে তুলেছে। পাঠাগারের এক কোণে বসে ছিলেন কাশেম কাকা, গ্রামের বৃদ্ধ লাইব্রেরিয়ান। মাথায় সাদা টুপি, চোখে মোটা কাচের চশমা, আর ঠোঁটে এক ধরনের স্থির মমতা। তিনি বই মুছছিলেন নরম কাপড়ে।

এসেছ?’ কাশেম কাকা বললেন, ‘আজও তোমার মুখে সেই ভারী ভাব।

আরিফ মৃদু হেসে বলল, ‘কাকা, ভারী ভাব না থাকলে কি লেখা হয়?’

কাশেম কাকা হাসলেন। না, তা হয় না। কিন্তু ভারী ভাবের সঙ্গে যদি আলো না থাকে, তবে লেখায় প্রাণ আসে না।

আরিফ জানালার পাশে বসে খাতাটা খুলল। সাদা পাতাগুলো তার দিকে তাকিয়ে আছে, যেন বলছে, আজ কী লিখবে? কিন্তু আজ তার মাথায় কোনো গল্প আসছিল না। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল আমার দেখা এক আশ্চর্য দিন।আরিফ ভাবছিল, আশ্চর্য দিন কি শুধু রঙিন দিন? নাকি দুঃখের ভেতরেও আশ্চর্য লুকিয়ে থাকে?

সে জানালার বাইরে তাকাল। দূরে খালের ধারে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। হাতে বালতি, পায়ে কাদা, চুলে বাতাসের এলোমেলো ছোঁয়া। মেয়েটির নাম মীরা। সে আরিফের সমবয়সী, কিন্তু তার চলাফেরায় এক ধরনের নির্ভীকতা ছিল। মীরা পড়াশোনায় ভালো, তবে সবচেয়ে বড় কথা, সে সব প্রশ্নের উত্তর চট করে মেনে নিত না। যা মনে হতো, সেটাই বলত। গ্রামের মানুষ তাকে একটু অদ্ভুতভাবত। কেউ কেউ বলত, ‘মেয়েটার মাথায় বইয়ের পোকা ঢুকেছে।কিন্তু আরিফ জানত, বইয়ের পোকা নয়, মীরার মাথায় আগুন আছে, চিন্তার আগুন।

আরিফ জানালার ফাঁক দিয়ে মীরাকে দেখছিল। হঠাৎ মীরা যেন তার দৃষ্টি টের পেল। সে হাত তুলে ডাকল, ‘কী দেখছো ওখানে বসে?’

আরিফ একটু লজ্জা পেয়ে বলল, ‘কিছু না।

কিছু না দেখেও এভাবে তাকিয়ে থাকা যায়?’ মীরা হাসল। তাহলে নিশ্চয়ই কিছু একটা লিখছো।

আরিফ খাতা বন্ধ করে বলল, ‘লিখতে বসেছি, কিন্তু কিছুই আসছে না।

মীরা একটু কাছে এসে জানালার পাশে দাঁড়াল। জোর করে কিছু আসে না। গল্পকে আসতে দিতে হয়।

তুমি যেন সব জানো,’  আরিফ বলল।

মীরা কাঁধ ঝাঁকাল, ‘সব জানি না। তবে জানি, মানুষ যা হারায়, তার ভেতর থেকেই নতুন কিছু জন্ম নিতে পারে।

আরিফ চুপ করে গেল। মীরার কথা তার ভেতরে ঢুকে যেতে লাগল। সে ভাবল, এই কথাটাই কি আশ্চর্য দিনের শুরু?

ঠিক তখনই বাইরে থেকে হঠাৎ একটা শব্দ এল। গ্রামের কাঁচা রাস্তার দিক থেকে দৌড়ে আসছে এক ছোট ছেলে। তার নাম জামাল। হাঁপাতে হাঁপাতে সে চিৎকার করে বলল, ‘পোস্ট অফিসের পাশে বড় আমগাছটা... গাছটা ভেঙে পড়েছে!

কাশেম কাকা দ্রুত উঠে দাঁড়ালেন। কেউ আহত হয়েছে?’

জামাল মাথা নাড়ল, ‘না, কিন্তু গাছের নিচে এক বক পাখির বাসা ছিল। বাসাটা পড়ে গেছে। ডিমগুলো...

আরিফ আর মীরা একসঙ্গে বাইরে বেরিয়ে এলগ্রামের লোকজনও সেদিকে ছুটছে। বড় আমগাছটা গতকালের ঝড়ে অর্ধেক ভেঙে রাস্তায় পড়ে আছে। তার ডালপালা ছড়িয়ে আছে, যেন কোনো বিশাল প্রাণী যন্ত্রণায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। চারদিকে লোকজন জড়ো হয়েছে। কেউ বলছে গাছ কেটে ফেলতে হবে, কেউ বলছে পথ পরিষ্কার করতে হবেকিন্তু আরিফের চোখ পড়ল গাছের নিচে ভাঙা বাসার দিকে। সেখানে কয়েকটা কচি ডিম। একটি ডিমে ফাটল ধরেছে। আর পাশে কাঁপছে একটি ছোট্ট বকছানা, তার সাদা পালক কাঁপুনি দিয়ে ভিজে আছে।

মীরা চুপচাপ বলল, ওকে যদি এখানেই রেখে দিই, মরে যাবে।

কেউ শুনল না। গ্রামের অনেকেই বলল, পাখি তো পাখি, আগে রাস্তা পরিষ্কার হোক।

কিন্তু আরিফের বুকের ভেতরে একটা কষ্ট উঠল। সে নিজে কোনো বড় কাজ করতে জানে না, তবু সে জানত, ছোট প্রাণের বাঁচাও কখনও ছোট কাজ নয়।

সে জিজ্ঞেস করল, কাশেম কাকা, আমরা কি পাখিটার বাসাটা বাঁচাতে পারি?

কাশেম কাকা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন। তারপর বললেন, বাঁচানো যায় যদি মন থাকে। আর যদি মন থাকে, তবে হাতও পথে আসে।

তারপর যা ঘটল, তা যেন গ্রামের এক নীরব নিয়ম ভেঙে দিল। আরিফ, মীরা, জামাল আর কাশেম কাকা মিলে ভাঙা ডালপালা সরালেন। মীরা তার ওড়না দিয়ে ডিমগুলো সাবধানে জড়িয়ে নিল। আরিফ গাছের পেছনের শুকনো বাঁশ কেটে ছোট্ট একটা খাঁচার মতো ঘর বানাল। কাশেম কাকা পুরোনো রঙচটা মাটির হাঁড়ি এনে তাতে নরম তুলো আর ঘাস বিছিয়ে দিলেন। গ্রামের কয়েকজন শুরুতে দূর থেকে দেখছিল। পরে একজন বৃদ্ধা মমতা করে বললেন, আহা, পাখির বাচ্চা বাঁচে যাক। তারপর আরেকজন এসে একটা পুরোনো ঝুড়ি দিল। কিছুক্ষণের মধ্যে একটা ছোট্ট আশ্রয় তৈরি হয়ে গেল।

আরিফ সে দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেল। মানুষের মধ্যে এত কোমলতা লুকিয়ে থাকতে পারে! যারা একটু আগে বলছিল রাস্তা পরিষ্কার করতে হবে, তারাই এখন বাসা বানাতে সাহায্য করছে। যেন কোনো অদৃশ্য লজ্জা তাদের হৃদয় নরম করে দিয়েছে।

পাখির বাচ্চাটিকে নিরাপদে রাখার পর মীরা হঠাৎ বলল, দেখলে? একটা ভাঙা জিনিসও সবাই মিলে জোড়া লাগাতে পারে।

আরিফ মৃদু হেসে বলল, কিন্তু গল্প?

গল্পও, মীরা বলল। গল্পও মানুষের ভেতরে ভাঙা জায়গা জোড়া লাগায়।

সন্ধ্যা নেমে এল। সবাই যার যার কাজে ফিরে গেল। আরিফ পাঠাগারে ফিরে এসে খাতা খুলল। কিন্তু এখন আর পাতাগুলো ফাঁকা বলে মনে হল না। তার ভেতর শব্দ এসে গেছে, ঝড়, ভাঙা ডাল, পাখির ডিম, মানুষের হাত, মীরার চোখ, কাশেম কাকার নরম কণ্ঠ, আর এক অদ্ভুত আলো, যা ধুলো মাখা পাঠাগারের জানালা দিয়ে ঢুকে পড়েছে।

সে লিখতে শুরু করল:

একদিন গ্রামে একটি গাছ ভেঙে পড়ল। সবাই বলল, গাছ তো গাছই। কিন্তু একটি পাখির বাচ্চা বলল, আমারও জীবন আছে। সেই জীবনের পাশে দাঁড়াল কিছু মানুষ। তারা জানত না, তারা পাখিকে বাঁচাচ্ছে নাকি নিজেদের হৃদয়কে। কিন্তু শেষে দেখা গেল, ভাঙা ডালের নিচে শুধু একটি বাসাই নয়, মানুষের ভেতরের নরম আলোও বেঁচে উঠেছে।

লেখা থামিয়ে আরিফ বাইরে তাকাল। আকাশে চাঁদ উঠেছে। চাঁদের আলো খালের জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে সাদা রুপোর মতো জ্বলছে। দূরে আমগাছের ভাঙা কাণ্ডটাও অদ্ভুতভাবে সুন্দর লাগছে। হয়তো কারণ, ভাঙনের ভেতরেও সৌন্দর্য থাকে, যদি কেউ দেখতে জানে।

হঠাৎ কাশেম কাকা এসে দাঁড়ালেন। লিখেছ?

আরিফ মাথা নাড়ল।

পড়ে শোনাও।

আরিফ পড়ে শোনাতে লাগল। শুরুতে তার গলা একটু কাঁপছিল। পরে শব্দগুলো যেন নিজেই হাঁটতে শুরু করল। কাশেম কাকা চুপ করে শুনলেন। পাঠাগারের বাতাসও যেন থমকে গেল। লেখা শেষ হলে তিনি এক দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

এটা গল্প নয় শুধু, তিনি বললেন, এটা তোমার ভেতরের মানুষটার জন্ম।

আরিফ অবাক হয়ে তাকাল।

কাশেম কাকা জানালার দিকে ইশারা করে বললেন, শোন, জীবন সব সময় বড় ঘটনার নাম নয়। কখনও কখনও একটি ছোট পাখির ডিম বাঁচানো, একটি ভাঙা ডাল জুড়ে দেওয়া, অথবা একটি খাতার পাতায় সত্যি কথা লেখা, এগুলোই মানুষের সবচেয়ে বড় কাজ।

আরিফ প্রথমবার বুঝল, সে আসলে লেখক হতে চায় না শুধু। সে চায় মানুষের মনের ভেতরে আলো জ্বালাতে। শব্দ দিয়ে, অনুভব দিয়ে, সত্য দিয়ে।

কয়েক দিন পর সাহিত্য প্রতিযোগিতা হলো স্কুলে। ছাত্রছাত্রীদের ভিড়ে, শিক্ষকদের মধ্যে, আর মঞ্চের সামনে বসে আরিফের হাত ঠান্ডা হয়ে গিয়েছিল। তার নাম ডাকা হলে সে উঠে দাঁড়াল। কণ্ঠস্বর প্রথমে কাঁপল, তারপর স্থির হলো। সে তার গল্প পড়তে শুরু করল। শেষ লাইনে পৌঁছে সে দেখল, হলঘরে নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। এমন নিস্তব্ধতা, যেখানে শুধু হৃদয়ের শব্দ শোনা যায়।

পড়া শেষ হলে প্রথমে কেউ হাততালি দিল না। আরিফের বুক ধকধক করতে লাগল। তারপর হঠাৎ এক জায়গা থেকে, তারপর আরেক জায়গা থেকে, আরেকটি থেকে, হাততালি উঠল। পুরো হল ভরে গেল শব্দে। হেলাল স্যার মৃদু হাসলেন। মীরা পেছনের সারিতে বসে ছিল। সে হাততালি দিচ্ছিল না জোরে, কিন্তু তার চোখে আনন্দের একটা আলো ছিল, যা আরিফ কখনও ভুলবে না।

ফলাফল ঘোষণার পর আরিফ প্রথম পুরস্কার পেল না, পেল দ্বিতীয় পুরস্কার। কিন্তু সে হতাশ হলো না। কারণ মঞ্চ থেকে নেমে আসার সময় হেলাল স্যার তাকে বললেন, পুরস্কার বড় কথা নয়, আরিফ। আজ তুমি নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বর খুঁজে পেয়েছ। যে ছেলে নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পায়, তার হারার কিছু থাকে না।

সেই রাতে আরিফ বাড়ি ফিরে দেখল, তার মা রান্নার হাঁড়িতে অল্প চালের ভাত আর আলু ভাজি রেখে অপেক্ষা করছেন। বাবা মাঠ থেকে ফিরেছেন ক্লান্ত মুখে, তবু ছেলের পুরস্কারের কথা শুনে তার চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি শুধু বললেন, ‘ ‘পড়ালেখা ছাড়িস না, বাবা।

আরিফ মৃদু হাসল। ছাড়ব না।

তারপর সে জানালার পাশে বসে আবার খাতা খুলল। বাইরে তখন ঘন অন্ধকার, কিন্তু সেই অন্ধকার ভেদ করে দূরের বাঁশঝাড়ে বাতাসের শব্দ আসছে। সে নতুন পাতা নিল। প্রথম লাইনে লিখল, আমি আজ বুঝেছি, বড় হওয়া মানে কেবল বয়স বাড়া নয়; বড় হওয়া মানে ভাঙা জিনিসের পাশে দাঁড়াতে শেখা।

তারপর একটু থেমে যোগ করল, আর যদি জানালার ওপারে নীল জ্যোৎস্না থাকে, তবে মানুষ একা থাকে না।

বাইরে চাঁদের আলো সত্যিই নেমে এসেছে। আরিফের খাতার পাতায়, গ্রামের ধুলোয়, মীরার কথায়, কাশেম কাকার নীরবতায়, মায়ের ক্লান্ত হাতে, বাবার ঘামে, আর ভাঙা আমগাছের নিচে বেঁচে যাওয়া ছোট্ট পাখিটির ডানায়, সবখানে যেন একটাই আলো জ্বলছে। সেই আলো কোনো অলৌকিক আগুন নয়। সে মানুষের সহানুভূতি, সাহস আর স্বপ্নের আলো।

আরিফ জানালার দিকে তাকিয়ে মনে মনে বলল, জীবন, আমি তোমাকে বুঝতে শুরু করেছি।

চাঁদ তখন আরও উঁচুতে উঠেছে। দূরের মাঠের ধানগাছগুলো তার আলোয় ঝলমল করছে। আর গ্রামের এক কিশোর, যে নিজের জীবনের অভাবের ভেতরেও সৌন্দর্য খুঁজে পেল, সে লিখে চলল, একটি খাতায় নয় শুধু, নিজের ভবিষ্যতের বুকেও।

আর সেই রাত, সেই নীল জ্যোৎস্নার রাত, আরিফের জীবনে প্রথম সত্যিকারের গল্প হয়ে রইল।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...