সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

ইলেকশন বনাম সিলেকশন: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

 

ইলেকশন এবং সিলেকশন, এই শব্দ দু’টি কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভিন্ন রূপ নয়, বরং সমাজ, রাষ্ট্র ও মানবচেতনার গভীরতম দর্শনের সঙ্গে যুক্ত দু’টি বিপরীতধর্মী অথচ পরিপূরক ধারণা। ইলেকশন বা নির্বাচন বলতে সাধারণভাবে বোঝানো হয় এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে জনগণ তাদের প্রতিনিধিকে ভোটের মাধ্যমে বেছে নেয়। অন্যদিকে সিলেকশন বা নির্বাচনকৃত বাছাই হলো এমন একটি পদ্ধতি যেখানে নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ, দক্ষতা, যোগ্যতা বা প্রভাবের ভিত্তিতে কাউকে নির্বাচিত ক’রে। এই দুই প্রক্রিয়ার মধ্যে যে দ্বন্দ্ব, তা কেবল রাজনৈতিক নয়; বরং তা নৈতিকতা, গণতন্ত্র, ক্ষমতা এবং সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নকেও গভীরভাবে স্পর্শ ক’রে। মানবসভ্যতার ইতিহাসে ক্ষমতার বণ্টন ও নেতৃত্ব নির্বাচন সর্বদাই একটি জটিল প্রক্রিয়া ছিল। প্রাচীন গ্রিক নগররাষ্ট্রে সীমিত পরিসরে ইলেকশনের ধারণা থাকলেও বাস্তবে সেখানে সিলেকশনের প্রভাব ছিল প্রবল। রাজতন্ত্রে সম্পূর্ণ সিলেকশন ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল, যেখানে জন্মই ছিল ক্ষমতার যোগ্যতার প্রধান মানদণ্ড। আধুনিক গণতন্ত্র ইলেকশনকে কেন্দ্র ক’রে গ’ড়ে উঠলেও বাস্তব প্রেক্ষাপটে সিলেকশন এখনও অদৃশ্যভাবে সক্রিয়। ফলে ইলেকশন ও সিলেকশনের মধ্যে এক অবিচ্ছিন্ন দ্বন্দ্ব সমাজকে নিয়ন্ত্রণ ক’রে চলেছে। ইলেকশন মূলত জনগণের ক্ষমতায়নের প্রতীক। এটি এমন একটি ধারণা যেখানে প্রত্যেক নাগরিকের ভোট সমান মূল্য বহন ক’রে। এই সমতার দর্শন গণতন্ত্রের ভিত্তি। কিন্তু বাস্তবে এই সমতা কতটা কার্যকর, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। কারণ ভোট প্রদান প্রক্রিয়ার পেছনে থাকে অর্থ, প্রভাব, প্রচারণা, মিডিয়া এবং ক্ষমতার বিভিন্ন স্তর। ফলে ইলেকশন অনেক সময় জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার প্রতিফলন না হ’য়ে একটি নিয়ন্ত্রিত সিলেকশন প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়। অন্যদিকে সিলেকশন হলো দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাছাইয়ের একটি কাঠামো। প্রশাসনিক নিয়োগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্পোরেট দুনিয়া কিংবা সামরিক বাহিনীতে সিলেকশন প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে যুক্তি দেওয়া হয় যে নেতৃত্ব বা দায়িত্বের জন্য কেবল জনপ্রিয়তা নয়, বরং যোগ্যতা ও দক্ষতাই মূল মানদণ্ড হওয়া উচিত। কিন্তু সিলেকশনও অনেক সময় পক্ষপাত, দুর্নীতি এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে এটি নিরপেক্ষতার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে সবসময় তা বজায় রাখতে পারে না।

 

ইলেকশন ও সিলেকশনের মধ্যে মূল পার্থক্যটি হলো, একটি জনমতের উপর ভিত্তি ক’রে এবং অন্যটি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর ভিত্তি ক’রে গঠিত। কিন্তু এই পার্থক্য যতই স্পষ্ট মনে হোক, বাস্তবে তারা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ইলেকশনের মধ্যেও থাকে সিলেকশন, আবার সিলেকশনের মধ্যেও থাকে ইলেকশনের প্রভাব। উদাহরণস্বরূপ, রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ সিলেকশন প্রক্রিয়া ব্যবহার করে, এরপর সেই প্রার্থীরা ইলেকশনের মাধ্যমে জনগণের সামনে আসে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সংকট হলো ইলেকশনকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন রাখা। যখন অর্থনৈতিক শক্তি, রাজনৈতিক প্রভাব ও সামাজিক বিভাজন ভোট প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে, তখন ইলেকশন তার মৌলিক উদ্দেশ্য হারায়। তখন এটি হ’য়ে ওঠে একটি সিলেকশন-নিয়ন্ত্রিত ইলেকশন, যেখানে জনগণ নয় বরং শক্তিশালী গোষ্ঠীই সিদ্ধান্ত নেয় কে ক্ষমতায় আসবে। সিলেকশনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। মেধা ও যোগ্যতার কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, রাজনৈতিক আনুগত্য ও ক্ষমতার ভারসাম্য এখানে প্রভাব ফেলে। ফলে যোগ্যতম ব্যক্তি সবসময় নির্বাচিত হন না। যে চিত্র আমরা বাংলাদেশে প্রায়ই দেখি। এই বাস্তবতা সমাজে এক ধরনের হতাশা সৃষ্টি ক’রে এবং মেধার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত ক’রে। দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ইলেকশন হলো সমষ্টিগত ইচ্ছার প্রতিফলন এবং সিলেকশন হলো কর্তৃত্বের প্রকাশ। ইলেকশন মানুষের স্বাধীনতার প্রতীক, আর সিলেকশন শৃঙ্খলা ও কাঠামোর প্রতীক। কিন্তু কোনো সমাজই কেবল একটির উপর নির্ভর ক’রে টিকে থাকতে পারে না। স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলার মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রয়োজন, যা ইলেকশন ও সিলেকশনের সমন্বয়ের মাধ্যমে সম্ভব। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এই দুই প্রক্রিয়ার সমন্বয় আরও জটিল হ’য়ে উঠেছে। প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ইলেকশন প্রক্রিয়াকে নতুনভাবে প্রভাবিত করছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোতে সিলেকশন আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হলেও সেখানে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার সংকট রয়ে গেছে।

সামাজিক বাস্তবতায় ইলেকশন ও সিলেকশনের দ্বন্দ্ব প্রতিদিনের জীবনে প্রতিফলিত হয়। স্কুলে শিক্ষার্থী নির্বাচন থেকে শুরু করে চাকরির নিয়োগ পর্যন্ত সর্বত্র এই দুই প্রক্রিয়া কাজ ক’রে। একদিকে আমরা চাই গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, অন্যদিকে চাই দক্ষতার নিশ্চয়তা। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া একটি চিরন্তন চ্যালেঞ্জ।

ইলেকশন বনাম সিলেকশন তাই কেবল একটি রাজনৈতিক বিতর্ক নয়; এটি মানবসভ্যতার একটি মৌলিক প্রশ্ন। বাংলাদেশে কার চর্চা বেশি হচ্ছে? কে এগিয়ে আছে এই প্রক্রিয়াতে? কে সিদ্ধান্ত নেবে, জনগণ না কর্তৃপক্ষ? এবং সেই সিদ্ধান্ত কতটা ন্যায়সঙ্গত, কতটা স্বচ্ছ এবং কতটা মানবিক? এই প্রশ্নের কোনো চূড়ান্ত উত্তর নেই। তবে একটি আদর্শ সমাজ সেই সমাজ, যেখানে ইলেকশনের স্বাধীনতা এবং সিলেকশনের যোগ্যতা, দুইয়ের সমন্বয়ে একটি ন্যায্য ব্যবস্থা গ’ড়ে ওঠে। যেখানে জনগণের কণ্ঠস্বর যেমন গুরুত্ব পায়, তেমনি দক্ষতার মূল্যায়নও যথাযথভাবে হয়। এই দ্বন্দ্বই সভ্যতার গতিশীলতাকে ধ’রে রাখে, এবং এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই নিহিত রয়েছে মানবসমাজের ভবিষ্যৎ রূপান্তরের সম্ভাবনা। রাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইলেকশন ও সিলেকশনের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র ও জটিল রূপ ধারণ করছে দিনকে দিন। এখানে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকলেও তার ভেতরে সিলেকশনের প্রভাব অনেক সময়ই প্রবলভাবে কাজ ক’রে। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক কাঠামো জনগণের ভোটাধিকারের উপর ভিত্তি ক’রে গ’ড়ে উঠলেও বাস্তব প্রেক্ষাপটে প্রার্থী নির্ধারণ, মনোনয়ন প্রক্রিয়া এবং ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলীয় সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক শক্তি ও প্রশাসনিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন ক’রে। ফলে ইলেকশন যতটা গণতান্ত্রিক বলে প্রতীয়মান হয়, তার অন্তর্নিহিত কাঠামো ততটাই সিলেকশন-নির্ভর হ’য়ে ওঠে।

 বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে অভ্যন্তরীণ সিলেকশন অত্যন্ত শক্তিশালী। জনপ্রিয়তা বা স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি দলীয় আনুগত্য, নেতৃত্বের প্রতি ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং আর্থিক সক্ষমতা অনেক সময় নির্ধারণ ক’রে দেয় কে মনোনয়ন পাবে। এই প্রক্রিয়ায় অনেক যোগ্য ও জনসম্পৃক্ত ব্যক্তি বাদ পড়ে যান, আর তুলনামূলকভাবে প্রভাবশালী কিন্তু বিতর্কিত ব্যক্তিরা সুযোগ পেয়ে যান। ফলে গণতান্ত্রিক ইলেকশনের পূর্বেই একটি নিয়ন্ত্রিত সিলেকশন বাস্তবায়িত হ’য়ে যায়।

নির্বাচনের সময় প্রচারণা ব্যবস্থাও ইলেকশন ও সিলেকশনের সীমারেখাকে আরও অস্পষ্ট ক’রে তোলে। অর্থ, মিডিয়া কভারেজ এবং সামাজিক প্রভাবের কারণে নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থী অন্যদের তুলনায় অগ্রাধিকার পায়। ভোটাররা অনেক সময় তথ্যের অসমতা, প্রভাবিত প্রচারণা এবং আবেগনির্ভর সিদ্ধান্তের কারণে প্রকৃত যোগ্যতার চেয়ে দৃশ্যমান প্রভাবকে বেশি গুরুত্ব দেন। এতে ইলেকশন প্রক্রিয়া বাহ্যিকভাবে গণতান্ত্রিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে এটি একটি নিয়ন্ত্রিত সিলেকশনের রূপ নেয়। বাংলাদেশের গ্রামীণ সমাজে এই দ্বন্দ্ব আরও গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়। স্থানীয় রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব, সামাজিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক শক্তি প্রার্থীদের অবস্থান নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা সামাজিক চাপ, ভয় কিংবা প্রত্যাশার কারণে সীমিত হ’য়ে প’ড়ে। ফলে ইলেকশন এখানে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হ’য়ে দাঁড়ায়; যেখানে প্রকৃত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা থাকে সীমিত গোষ্ঠীর হাতে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন ও সরকারি চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থায় সিলেকশন প্রক্রিয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে মেধা, দক্ষতা ও পরীক্ষার ফলাফলকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হলেও বাস্তবে প্রশ্ন ওঠে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে। অনেক সময় অভিযোগ ওঠে যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব, সুপারিশ ও অনানুষ্ঠানিক চাপ কাজ ক’রে। ফলে যোগ্যতার ভিত্তিতে সিলেকশন আদর্শভাবে কাজ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায় না। এইভাবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় ইলেকশন ও সিলেকশন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত হ’য়ে পড়েছে। ইলেকশনকে আমরা যতই গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ রূপ হিসেবে দেখি না কেন, তার ভেতরে সিলেকশনের প্রভাব অস্বীকার করা যায় না। একইভাবে সিলেকশন ব্যবস্থাকেও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বলা যায় না, কারণ তা সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার বাইরে নয়। ফলে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ইলেকশন বনাম সিলেকশন কেবল তাত্ত্বিক বিতর্ক নয়, বরং এটি একটি বাস্তব রাজনৈতিক সত্য, যা প্রতিনিয়ত রাষ্ট্র, সমাজ ও নাগরিক জীবনে প্রভাব ফেলছে। যেমন প্রভাব ফেলছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোতে।

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...