সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সেপ্টেম্বর, ২০২৬ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কুয়াশা ও রক্তগোলাপের দিনগুলি

  শীতের রাতের কুয়াশাটা সেদিন এতই ঘন ছিল যে হাত বাড়ালে নিজের আঙুলগুলোকেও আবছা দেখাত। উত্তর দিক থেকে আসা হাড়কাঁপানো বাতাস যেন চামড়া ভেদ করে হাড়ের মজ্জায় গিয়ে বিঁধছিল। ঘড়িতে তখন রাত এগারোটা বেজে পঁয়তাল্লিশ। ঢাকা শহরের উত্তরার জসীমউদ্দীন অ্যাভিনিউয়ের মোড়ের পুরনো বাসস্ট্যান্ডটি ফাঁকা, আলো-আঁধারিতে রহস্যময়। রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা কুয়াশার চাদরে আটকে গিয়ে এক অদ্ভুত, ভৌতিক পরিবেশ তৈরি করেছে।   তন্ময় দাঁড়িয়ে ছিল শেডের নিচে, তার পাতলা জ্যাকেটের পকেটে দুই হাত গুঁজে। তার ঠোঁট দুটো ঠান্ডায় হয়ে গেছে, আর মুখ থেকে বের হওয়া নিঃশ্বাস জমাট বেঁধে ধোঁয়া হয়ে বাতাসে মিলিয়ে যাচ্ছে। শেডের টিনের চালে শেষ রাতের বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ শব্দে ঝরে পড়ছে। সে অপেক্ষা করছিল শেষ বাসটার জন্য। আজকের রাতটা তার জীবনের অন্যতম এক কঠিন রাত। চারুকলা ইনস্টিটিউটের শেষ বর্ষের ছাত্র তন্ময়, সারা দিন ধরে ক্যানভাসে একটা সঠিক রঙ মেলাতে না পেরে ভেতরে গভীর এক হতাশা আর শূন্যতা নিয়ে বাড়ি ফিরছিল। চিত্রশিল্পী হিসেবে তার ভবিষ্যৎ কী, নিজের অস্তিত্বের অর্থ কী, এসব দোলাচলে তার মনটা তছনছ হয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই কুয়াশার ভেতর থ...