সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নীরব বসন্তের গান

  নীরব বসন্তের গান থেমে গেছে সকল গাছে র ডালে , ঝ ’ রে পড়েছে পাতাগুলো , নেই তাতে কম্পমান কোনো নীরবতা আমি হাতে ধরেছিলাম এক অদৃশ্য ছায়ার, তুমি ছিলে না , শুধু ছিল তোমার অসমাপ্ত উপস্থিতি ক্ষনিকের জন্য সব স্বপ্ন চিহ্নহীন হয়েই গেছে দৃষ্টির কোণে , হঠাৎ বুঝি,   আমি দাঁড়িয়েছিলাম না দাঁড়ানোর এক দীর্ঘ পথে, নদীর ঢেউ ফিরে আসে না একবার থামলে , আমার হতাশা এসে পড়ে সেই বাঁকে , তার মত ক’রে যেখানে কেউ বলেছিল আর একটু অপেক্ষা কর , কিন্তু রোদ গুলো ছায়া দিল না আমাদের দুজনকে একত্রিত করার জন্য আলোর বিন্দু গুলো গ ’ লে গেছে ছায়ার ভেতর , আস্তে ক’রে   কিন্তু তখনও পথ বেড়ে   উঠেনি স্বপ্নের ভিতর ব্যর্থতা হয়ত শুধু শব্দ নয় , তার মধ্যে গভীর যন্ত্রণাও আছে সেটা কখনও চোখে দেখা যায় , গভীরেই মরে যায়।

শেষের কবিতা: সাহিত্যিক ব্যাখ্যা ও ভাবার্থ

  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (১৮৬১-১৯৪১) ‘শেষের কবিতা’ বাংলা উপন্যাসের ইতিহাসে আধুনিকতার এক মৌলিক তাত্ত্বিক দলিল। যেখানে প্রেম কেবল ব্যক্তিগত আবেগের অভিজ্ঞতা হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়, বরং অস্তিত্ব নৈতিকতা স্বাধীনতা আত্মপরিচয় ও নান্দনিকতার এক জটিল বোধপ্রক্রিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ ক’রে এই উপন্যাসকে উচ্চ-স্তরের পূর্ণ আলোচ্য অধ্যায় হিসেবে পাঠ করতে গেলে একে একই সঙ্গে সাহিত্যিক আখ্যান দার্শনিক ভাষ্য এবং আধুনিক মননের দলিল হিসেবে বিবেচনা করতে হয়। ‘শেষের কবিতা’য় রবীন্দ্রনাথ প্রেমকে এমন এক মানবিক অভিজ্ঞতায় উন্নীত করেছেন যা ব্যক্তি ও সমাজের সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার দাবি তোলে। এখানে প্রেম কোনো সামাজিক পরিণতির দিকে ধাবিত আবেগ নয়, বরং এক সচেতন নৈতিক অনুশীলন যেখানে ব্যক্তি নিজের সত্তাকে রক্ষা করেই অন্য সত্তার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন ক’রে। এই দৃষ্টিভঙ্গির মূলেই রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্যবাদী মানবতাবাদ যেখানে মানুষের মর্যাদা নির্ভর ক’রে তার স্বাধীন সত্তার উপর।   শেষের কবিতার তাত্ত্বিক কাঠামো নির্মিত হয়েছে এই ধারণার ভিত্তিতে যে প্রকৃত মানবিক সম্পর্ক কখনোই অধিকার বা দখলের উপর দাঁড়াতে পারে না। প্রেম এখা...

হিমঘর

  হিমঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে আমি শুনি; নিঃশব্দেরও একটি তাপমাত্রা আছে, যেখানে শব্দ জ’মে বরফে রূপান্তরিত হয় শ্বাসের ভিতর ঢুকে প’ড়ে অতীতের ধুলোকণা আর প্রেমের হারানো পুরোনো চিহ্নগুলো যা স্পর্শ করলেই কেটে যায় পাঁচ আঙুল, তবুও রক্ত ঝ’রে না ফিনকি দিয়ে তীব্র ক’রে কারণ এখানে রক্তও সংরক্ষিত আপন তাপমাত্রায় হিমঘর কোনো ঘর নয়, তার কোন দরজা বা জানালা নেই, এ এক স্থগিত সময়, দাঁড়িয়ে থাকে আপন শরীর যেখানে দুপুর এসে থেমে যায়, গড়িয়ে প’ড়ে সময় আর সন্ধ্যা কখনো জন্মায় না নিজস্ব দেয়ালে, আমি ঢুকে পড়ি নিজের ভিতরের দরজাটি খুলে আপন আলোয় দেখি তার মধ্যে অগণিত তাক, সাজানো ট্রে আর মসৃণ দেহ, নারী, শিশু, কবি, অষ্টাদশী তরুণী আর তুখোড় রাজনীতিবিদ, যার কথায় উত্তর আর দক্ষিণ এক বিন্দুতে মিলিত হয়- প্রতিটি তাকে সাজানো আমার না-বলা বাক্য, গভীর প্রেম অর্ধসমাপ্ত চুম্বন, প্রাক্তনের কালো ছায়া, শতাব্দীর গাঢ় দুঃখ, ভেঙে পড়া বিশ্বাসের মাংসপিণ্ড, ফাল্গুনের নরম হাওয়া আর সেইসব স্বপ্ন, আমার কালো চোখে যা গেঁথে থাকে যাদের কখনো মিথ্যা ক’রে হাসতেও হয় না,   এই হিমঘরে আলোও সাবধানে হাঁটে, পায়ে পা রেখে কারণ বেশি উষ্ণ হলেই ...

হুমায়ুন আহমেদের ‘উপন্যাস’

  হুমায়ুন আহমেদের (১৯৪৮-২০১২) উপন্যাস বাংলা সাহিত্যে এক স্বতন্ত্র ভূখণ্ডের নাম, যেখানে ভাষা তার দৈনন্দিন স্বাভাবিকতায় ফিরে এসে আবার নতুন ক’রে কাব্যিক হ’য়ে ওঠে। যেখানে গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে   সাধারণ মানুষ অথচ সেই সাধারণতার মধ্যেই ধরা পড়ে জীবনের গভীরতম দার্শনিক সংকেত। তাঁর উপন্যাস পড়তে গিয়ে মনে হয় তিনি কোনো কৃত্রিম সাহিত্যিক উচ্চতায় দাঁড়িয়ে কথা বলেন না বরং পাঠকের পাশে বসে গল্প শোনান। গল্প বলতে বলতে কখন যে হাস্যরসের ভেতর দিয়ে এক ধরনের অস্তিত্ববাদী বেদনা ঢুকে পড়ে তা পাঠক নিজেও টের পায় না, এই সহজতার আড়ালেই লুকিয়ে আছে তাঁর সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক কৌশল।   কারণ সহজ ভাষায় গভীর কথা বলা বাংলা উপন্যাসে সবসময়ই কঠিন কাজ ছিল।   হুমায়ুন আহমেদ সেই কঠিন কাজটিকে এত স্বাভাবিক ক’রে তুলেছিলেন যে একসময় পাঠকের কাছে তা স্বতঃসিদ্ধ বলে মনে হতে শুরু করে। তাঁর উপন্যাসে প্লট প্রায়ই ঢিলেঢালা, নাটকীয় সংঘর্ষ কম, বড় কোনো ঘটনা না ঘটেও পৃষ্ঠা পর পৃষ্ঠা পাঠক আটকে থাকে। কারণ এখানে ঘটনার চেয়ে চরিত্র বেশি গুরুত্বপূর্ণ, চরিত্ররা কথা বলে, হাসে, নীরব থাকে, ভুল করে, আবার সেই ভুলের ভেতর দিয়েই নিজেদের চিনে নেয়...

কবি অমিয় চক্রবর্তী ও বাঙলা কবিতা

  অমিয় চক্রবর্তী ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাঙালি কবি, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ, যিনি আধুনিক বাংলা কবিতার তিরিশের দশকের অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে পরিচিত। তিনি শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য সচিব হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি. ফিল. ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর কবিতায় আধ্যাত্মিকতা, মানবতাবাদ ও বিশ্বজনীন চেতনার সমন্বয় দেখা যায়, যা বাংলা সাহিত্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি হাওয়ার্ড, বস্টন ও ইয়েলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন এবং বিশ্বসাহিত্যে বাংলা কবিতার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কবি অমিয় চক্রবর্তী (১৯০১-১৯৮৬) বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য নক্ষত্র। যিনি রবীন্দ্রনাথোত্তর কবিতাধারার মধ্যে একদিকে আধ্যাত্মিকতার আলোকরশ্মি, অন্যদিকে আধুনিকতার গভীর মনন, আবার তৃতীয় দিকে বিশ্বসংলগ্ন বোধের এক বিস্তৃত মানসিক ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন, এবং তাঁর কাব্যজগৎ এমনই বহুমাত্রিক যে তাকে কেবল আধ্যাত্মিক কবি বা চিন্তাকবি বলে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। বরং তিনি ছিলেন মানবচৈতন্যের অনুসন্ধানী শিল্পী, সময়-সচেতন এক মনীষী, যিনি কবিতার মধ্যে রেখে যান সত্য, নৈতিকতা,...

রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’

রবীন্দ্রনাথের ‘গোরা’ উপন্যাস এক বিস্ময়কর বৌদ্ধিক, দার্শনিক ও মানবতাবাদী মহাকাব্য। যার ভাবস্তর এত গভীর ও বহুবর্ণ যে এটি কেবল একটি রাজনৈতিক-সামাজিক উপন্যাস নয়, বরং মানুষের আত্মপরিচয় সন্ধান, জাতিগঠনের অন্তর্দৃষ্টি, ধর্মের সীমা ও মানবতার অসীমতার এক গভীর যাত্রা। ‘গোরা’ উপন্যাসের ভাববিশ্ব এমনই জটিল ও সৌন্দর্যমণ্ডিত যে পাঠক যতই পরতে পরতে খুলে দেখে, ততই নতুন স্তর উন্মোচিত হয়। নতুন অর্থ বেরিয়ে আসে, আর সমগ্র ভারতবর্ষের ঔপনিবেশিক সংকট, ধর্মীয় বিভাজন, জাতীয়তাবাদ, সামাজিক সংস্কার এবং মনুষ্যত্বের অভ্যন্তরীণ আলো ও অন্ধকার একইসঙ্গে ফু’টে ওঠে। ‘গোরা’ উপন্যাসের প্রথম পর্বে দেখা যায় এক কঠোর, দৃঢ়বিশ্বাসী, আপসহীন যুবক। যিনি ভারতবর্ষকে ভালোবাসেন, কিন্তু সেই ভালোবাসাকে তিনি দেখেন একমাত্র হিন্দুত্বকে কেন্দ্র করেই; তার কাছে ধর্মীয় পরিচয় মানে দেশীয় পরিচয়, জাতের পবিত্রতা মানে জাতীয় পবিত্রতা, আর হিন্দু সমাজসংস্কারের ধারাকেই তিনি মনে করেন দেশরক্ষার মৌলিক ভিত্তি। এই অবস্থান তার ব্যক্তিত্বকে যে কঠিন বর্মে আচ্ছাদিত ক’রে রাখে, তা তাকে একদিকে আত্মবিশ্বাসী ক’রে তোলে, অন্যদিকে ক’রে তোলে সংকীর্ণ ও একরৈখিক। কিন্তু এই সংকী...

বিষ্ণু দে, আধুনিক বাংলা কবি

  তাঁর পিতা অবিনাশ চন্দ্র দে ছিলেন একজন অ্যাটর্নী। বিষ্ণু দে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউট এবং সংস্কৃত কলিজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯২৭ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করার পর বঙ্গবাসী কলেজে আইএ পড়তে যান। তিনি সাম্মানিক ইংরাজি বিষয়ে স্নাতক হন সেন্ট পল্স কলেজ থেকে। এরপর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরাজিতে এম এ করেন। ১৯৩৫ সালে তিনি রিপন কলেজে যোগদান করেন। এরপর তিনি ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি মৌলানা আজাদ কলেজে পড়ান। এরপর তিনি কৃষ্ণনগর কলেজেও পড়িয়েছিলেন। ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে যে সাহিত্য আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল কবি বিষ্ণু দে তার একজন দিশারী। ১৯৩০ সালে কল্লোলের প্রকাশনা বন্ধ হলে তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের 'পরিচয়' পত্রিকায় যোগদান করেন এবং সেখানে একজন সম্পাদক হিসাবে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কাজ করেন। ১৯৪৮ সালে চঞ্চল কুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহায়তায় তিনি সাহিত্য পত্র প্রকাশ করেন। তিনি 'নিরুক্তা' নামের একটি পত্রিকাও সম্পাদনা করেছিলেন। কবি টি এস এলিয়টের কায়দা এবং ভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। তিনি 'ছড়ানো ...