কবিতা লেখা হয়েছে কালে কালে। অনেক সময় তা লেখা হয়েছে দলবদ্ধভাবে আবার কখনও তা একক ভাবে। যেভাবেই হোক, রচিত হয়েছে কবিতা। কবিতা হ’য়ে উঠেছে কবির মনভাবনা ও চেতনার সর্বচ্ছ প্রকাশ। একদা কবিতা হ’য়ে উঠে, কবির সহযোগী। সকাল, বিকাল, সন্ধা আর বিনিদ্র রজনী এক হ’য়ে আসে কবির কাছে ; তাঁর কবিতার মতো, যেখান থেকে রচিত হ’বে একটি উৎকৃষ্ট কবিতা। কবি, কতটা নিজস্ব ক’রে নিয়েছেন কবিতাকে ? অন্য সব কিছুর মতো তিনি কি প্রস্তুত একটি অপার সু-সজ্জিত কবিতার জন্য ? যে কবিতা তাঁর হ’য়ে আসবে; তাঁরই হৃদয়ে। তিনি কি অপেক্ষা করে আছেন একটি কবিতার জন্য, যা দেখা দিতে পারে যেকোন মুহূর্তে ! কবিতা কতটা কবিতা হ’য়ে উঠেছে তা কে স্থির ক’রে দিবেন ? না , কবি যা রচনা করবেন তা-ই কবিতা হ’য়ে দেখা দিবে মানসচিত্রে ! একক; অভিভাবক শূন্য কবি হ’য়ে উঠেন কবিতার আপনপিতা। তিনি-ই কবিতাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যান জ্যোতির্ময় গন্তব্যর দিকে, যেখানে কবিতা রূপান্তরিত হয় কবিতায়, অন্য কিছুতে নয়। আলো যে ভাবে দেখা দেয় আলো হ’য়ে, তদ্রুপ কবিতা ও দেখা দেয় কবিতা হ’য়ে। আলো যেভাবে দূর ক’রে অন্ধকারকে, অকবিতা কে সরিয়ে কবি...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।