উঁচু বিল্ডিংয়ের জানালা থেকে ভোর আসে একটু হেঁটে , আমি দেখি শহরের রঙ মুছে গেছে ছড়ানো ধুলোয় বাস আর রেল সাড়া দেয় বাজে একাকিত্বের সুরে , মানুষেরা উপার্জনের খোঁজে , হারিয়ে ফেলেছে তারা ? নৈঃশব্দ্য হয় রাতের বাস স্ট্যান্ডে , চোখে ভরা হোক অহরহ আলোর ঝিলি, কি হয় না শহর বলছে, আমি পরিবর্তন চাই সব কিছুর কিন্তু কোথাও কেউ বলে না কি হারিয়ে গেছে রূপ ? ফুটপাতের পাশে একটি শিশুর সিকি-সিকি হাসি , এক টুকরো রুটির টুকরোর জন্য যুদ্ধ করছে নীরব শহর আমি বসি একটি জনমানবহীন চেয়ারে , একা একা হারিয়ে যাওয়া সময়ের সঙ্গে সমান্তরে গাড়িগুলো হারিয়ে নিয়ে যায় আমার একাধিক স্বপ্ন , আমি তাদেরকে বলি, এই কি ছিল ভোরের অপেক্ষা ? শহর আকাশে লিখেছে নতুন নগরকথা , কিন্তু পাতাগুলো ঝ’রে পড়ছে গাছবিহীন রাস্তায় যদি ফিরে আসে একটু মানবিকতা , তবে এই পাথুরে জায়গার মাঝেও উঠবে ফুলের হাসি আমি স্বপ্ন দেখেছি অল্প আলো , একটু গাছ , একটি শিশু একজন মানুষ নিজের মত করে বলবে সত্যি কথা শহর বসবে শান্তিতে , নিঃশব্দে হাসবে , শহর নীরব আর আমি তোমার হাত ধরব, নতুন দিনের অপেক্ষায়।
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।