সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

নিস্তব্ধ শহর

  উঁচু বিল্ডিংয়ের জানালা থেকে ভোর আসে একটু হেঁটে , আমি দেখি শহরের রঙ মুছে গেছে ছড়ানো ধুলোয় বাস আর রেল সাড়া দেয় বাজে একাকিত্বের সুরে , মানুষেরা উপার্জনের খোঁজে , হারিয়ে ফেলেছে তারা ? নৈঃশব্দ্য হয় রাতের বাস স্ট্যান্ডে , চোখে ভরা হোক অহরহ আলোর ঝিলি, কি হয় না শহর বলছে,   আমি পরিবর্তন চাই সব কিছুর কিন্তু কোথাও কেউ বলে না কি হারিয়ে গেছে রূপ ? ফুটপাতের পাশে একটি শিশুর সিকি-সিকি হাসি , এক টুকরো রুটির টুকরোর জন্য যুদ্ধ করছে নীরব শহর আমি বসি একটি জনমানবহীন চেয়ারে , একা একা হারিয়ে যাওয়া সময়ের সঙ্গে সমান্তরে গাড়িগুলো হারিয়ে নিয়ে যায় আমার একাধিক স্বপ্ন , আমি তাদেরকে বলি, এই কি ছিল ভোরের অপেক্ষা ? শহর আকাশে লিখেছে নতুন নগরকথা , কিন্তু পাতাগুলো ঝ’রে পড়ছে গাছবিহীন রাস্তায় যদি ফিরে আসে একটু মানবিকতা , তবে এই পাথুরে জায়গার মাঝেও উঠবে ফুলের হাসি আমি স্বপ্ন দেখেছি অল্প আলো , একটু গাছ , একটি শিশু একজন মানুষ নিজের মত করে বলবে সত্যি কথা শহর বসবে শান্তিতে , নিঃশব্দে হাসবে , শহর নীরব আর আমি তোমার হাত ধরব, নতুন দিনের অপেক্ষায়।      

নীরব রাত্রি

  রাত্রি নামছে ধীরে , আকাশের নীলে আশা জাগে , পথের ধূলিতে প’ড়ে আছে আজ সন্ধ্যার আভাস চাঁদের রূপেখা মেলে ওঠে গাছেদের ডালে তারার মৃদু আশা দূরে লুকিয়ে আছে বসে আমি হাঁটছি এক প্রসারিত ছায়ায় , যেখানে বাতাস শোনায় তার গোপন কথা প্রকৃতির হাসি ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে , একটি ফুলের মতো , যাকে কেউ স্পর্শ করে না হয়তো সৌন্দর্যের মানে শুধু বাহ্য নয় , অন্তরের আলোও , আপন ভেতর এক অনুভব , যা বলে, তুমি জানো কি ? আলোর রেশ ধ’রে , আমি ছুঁই তোমার ছায়া , তুমি হয়েছো ভাবনায় , নদীর ঢেউয়ের মতো গহন এই রাত্রি , এই নিঃশব্দতা , এই মৃদু হাওয়ায় , সবকিছু বলছে নিচে আসো , আবার উ’ঠে যাও আমি অপেক্ষায় থাকি চোখ বন্ধ করে শুনি , প্রকৃতির নিঃশব্দ সুর , হৃদয়ের গভীরে বাজে সৌন্দর্য মানে এমন এক প্রকাশিত মুহূর্তে , যেখানে তুমি আর আমি এক হ’য়ে যাই।

একাকিত্ব ও সময়

  রাতের নিরবতায় ঢেউ উঠে যায় অন্তরের গভীরে শহরের সকল বাতি আলো জ্বালিয়ে চোখ বন্ধ ক’রে রয় আমি দাঁড়িয়ে আছি সময়ের গলিতে , নেই কোনো তাড়া শুধু আছে এক দীর্ঘশ্বাস অনেক স্মৃতি এক-এক ক’রে ফিল্মের মতো প্লে করছে , যেমন পুরনো সিনেমায়-ই রিফাইন্ড হয় সেই নীরব দৃশ্য তুমি ছিলে সেখানে , না হয়বা ছিলে না, হয়তো স্বপ্নে ঠিক সে মুহূর্তে চোখের সামনে হারিয়ে গেছে এখানেই থাকব বলে মন স্থির করলাম তবু মনে হয় পথ আমাকে ডেকে চলে গেছে অন্যত্র একটি জানালা খোলা আছে , যেখানে মন চাইছে আলো , আমি সেখানে বসে তোমার ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকি হয়তো ফিরে আসবে না, তা আমি জানি, গভীর দাগ কাটে বু’কে কিন্তু প্রত্যেক নিশ্বাসে আমি রাখি তোমার স্মৃতি যেমন মরু সৈকতের রোদে গাঢ় হয় বালি মাঝে মাঝে মনে হয় সময় থেমে গেছে , কিন্তু দিনের আলো বলছে না তাই আমি শুধু হাঁটব , নিরব রাস্তায় , একাকীত্ব ভাবে কোমল গানের মতো , হৃদয়ের সুর তু’লে যেখানে এক কাঠের চেয়ারে বসে আছে সাদা-কালো স্মৃতিগুলো , আর আমি হাত বাড়িয়ে বলব এখানেই আমার ঘর।  

ফরাসি সাহিত্যের মহাযাত্রা: একটি অবিচ্ছিন্ন আলোকপাত-২

  ফরাসি সাহিত্যের দিগন্ত এতটাই বিস্তৃত যে, এর প্রতিটি পর্যায় একেকটি মহাকাব্যিক আখ্যানের দাবি রাখে এবং আপনি যখন কোনো নির্দিষ্ট ছেদ বা অনুচ্ছেদ ছাড়া এর গভীরে প্রবেশ করতে চান তখন আমাদের যাত্রা শুরু করতে হয় সেই আদি লগ্ন থেকে; যেখানে লাতিন ভাষার ধ্বংসাবশেষ থেকে জন্ম নিয়েছিল এক নতুন বিদ্রোহী ভাষা, যা দশম শতাব্দীতে 'কাস্টিলিওন' বা 'প্রোভেনসাল' ঢঙে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে শুরু করেছিল এবং সেই আদি যুগের 'শাংসঁ দ্য জেস্ত' বা বীরত্বগাথাগুলো ছিল মূলত মুখে মুখে প্রচলিত কাহিনী, যা চারণ কবিরা প্রাসাদে প্রাসাদে গেয়ে বেড়াতেন,  যার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ 'দ্য সং অফ রোল্যান্ড' যেখানে দেশপ্রেম ও বীরত্বের এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায় এবং দ্বাদশ ও ত্রয়োদশ শতাব্দীতে যখন নাইটদের শৌর্যবীর্য এবং অভিজাত নারীদের প্রতি তাদের নিবেদিত প্রেমের কাহিনীগুলো 'কোর্টলি লাভ' হিসেবে জনপ্রিয় হ’তে শুরু করল তখন থেকেই ফরাসি সাহিত্যে রোমান্টিকতার বীজ রোপিত হয়েছিল যা পরবর্তীতে ত্রেতিয়ঁ দ্য ত্রোয়া-র হাত ধ’রে আর্থারীয় কিংবদন্তিগুলোকে এক নতুন রূপ দান ক’রে এবং মধ্যযুগের শেষভাগে যখন সমাজ ও ধর্মের গোঁড়...

ফরাসি সাহিত্যের মহাযাত্রা: একটি অবিচ্ছিন্ন আলোকপাত

  ফরাসি সাহিত্য, কেবল একটি ভাষার প্রকাশ নয় বরং এটি বিশ্ব সভ্যতার চিন্তা ও দর্শনের এক জীবন্ত ইতিহাস। যা মধ্যযুগের বীরত্বগাথা থেকে শুরু ক’রে আজকের উত্তর-আধুনিক কাল পর্যন্ত তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। এবং ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের এই যাত্রা শুরু হয়েছিল মূলত লাতিন ভাষার বিবর্তনের মাধ্যমে; যেখানে ওল্ড ফ্রেঞ্চ বা প্রাচীন ফরাসি ভাষায় লেখা প্রথম উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হিসেবে আমরা পাই ‘স্ট্রাসবার্গ ওথস’, এবং পরবর্তীতে একাদশ শতাব্দীতে রচিত বীরত্বব্যঞ্জক কবিতা ‘লা শানসঁ দ্য রোলঁ’ যা শার্লেমেনের বীরত্বের কাহিনী বর্ণনা ক’রে, এবং এই সময়কালে বীরত্বের পাশাপাশি ‘কোর্টলি লাভ’ বা সভাসদীয় প্রেমের ধারণা নিয়ে রচিত হ’তে থাকে অসংখ্য রোম্যান্স যা মূলত নাইটদের বীরত্ব ও ত্যাগের গল্প শোনাত। এবং এরপর ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ শতাব্দীতে জঁ দ্য মেন-এর ‘রোমান দ্য লা রোজ’ এর মতো রূপক ধর্মী সাহিত্য মধ্যযুগীয় ফরাসি সমাজ ও দর্শনের দর্পণ হ’য়ে ওঠে। তবে ফরাসি সাহিত্যের প্রকৃত আধুনিক ভিত্তি স্থাপিত হয় রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সময়কালে; যখন ষোড়শ শতাব্দীতে মানবতাবাদীদের আবির্ভাব ঘটে এবং ফ্রঁসোয়া রাবলে তার ‘গার্গান্তুয়া ও পান্তাগ্রুয়েল’ ...

শতাব্দীর শেষ স্টেশনে একলা যাত্রী

  এখানে সময় যেন এক স্থবির নাম, লাইনে দাঁড়িয়ে সবাই রাতের শহর এখন এক মলাট-ছেঁড়া নিষিদ্ধ উপন্যাস তুমি নেই, অথচ তোমার গন্ধ লেগে আছে এই ঘরের ধুলোবালিতে, যেমন প্রাচীন পাণ্ডুলিপিতে লেগে থাকে এক অস্পষ্ট বিস্মৃতির দাগ আমার আঙুলের ডগায় এখন কেবল শব্দের তৃষ্ণা, আর জানালার ওপাশে এক দিগন্তবিস্তৃত নিস্তব্ধতা, গভীর আর মায়াবী যেখানে নক্ষত্রেরা কথা বলে না, কেবল জ্ব’লে ওঠে এক মৃত সভ্যতার মতো আমরা কি চেয়েছিলাম এই জ্যামিতিক নিঃসঙ্গতা? রাতের তিনটেয় যখন ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলোটা আমার টেবিলে হুমড়ি খেয়ে প’ড়ে, তখন মনে হয় ভালোবাসা আসলে এক আধুনিক অসুখ; যা সবার বুকে দেখা দেয় যার কোনো নিরাময় নেই, আছে শুধু পঙ্‌ক্তিমালায় সাজানো দীর্ঘশ্বাস, আমি আজন্ম এক যাযাবর, এই ইটের পাজরে পথ খুঁজে মরি সারাক্ষণ অথচ গন্তব্য বলতে তো ছিল কেবল তোমার ওই দু’চোখের অতল আভাস এখন সেই চোখ দুটোই যেন এক ধূসর কুয়াশার প্রসারিত দিগন্ত যেখানে কোনো জাহাজ ভেড়ে না, কোনো সংকেত বাজে না আর মানুষ আসলে একা, তার চেয়েও বেশি একা তার নিজস্ব কবিতা আমি শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে এক মায়াবী প্রাসাদ বানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দেয়ালগুলো সব নোনা ধরা, অ...

শহুরে এক নির্জনতা

  সেই এক বিকেলের কথা, যখন ছাদগুলো ধূসর হ’য়ে আসছিল, বাতাসে ভেসে আসছিল কোনো এক পুরোনো কফিশপের ধোঁয়া আর ক্লান্ত গান আমি জানালার গ্রিল ধরে দাঁড়িয়েছিলাম, অনেকটা বন্দি কোনো স্মৃতির মতো রাস্তার আলোগুলো একে একে জ্ব’লে উঠছিল যেন কারোর চোখের ম্লান ইশারা, অথচ তুমি তখন অনেক দূরে, হয়তো অন্য কোনো গোলার্ধের ব্যস্ততায় বিলীন আমার এই নিভৃত ঘরে এখন বইয়ের তাকেরা শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, কলমটা পড়ে থাকে নিষ্ক্রিয়, যেন এক বিস্মৃত প্রেমপত্রের শেষ যতিচিহ্ন বসাবে শহরের এই জ্যামিতিক গলিপথগুলো আমায় কোথাও নিয়ে যায় না আর, সবই তো বৃত্তাকার একই বাসের আওয়াজ, একই ক্লান্ত ফেরিওয়ালার সুর তবুও মনে হয়, কোনো এক গলি দিয়ে হঠাৎ বেরুলেই তোমার সাথে দেখা হবে, যেমনটা হতো সেই কুয়াশাঘেরা ধানমণ্ডির লেকের সন্ধেগুলোতে আসলে প্রেম তো এক নাগরিক নির্জনতা, যার পিঠে হাত রাখা যায় না সে কেবল শব্দের শরীরে জেগে থাকে, যেমন জেগে থাকে ‘কবিতা’র পাতায় আমিও তাই শব্দের জাল বুনি, একলা ঘরের নিস্তব্ধতায় সুর বসাই; তোমার অভাবটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় সৃষ্টি, সবচেয়ে মৌলিক কবিতা যতদিন এই শহর আছে, আর আছে আমার এই বিষণ্ণ অক্ষরজ্ঞান ততদিন তুমি ফির...