দেয়ালের সেই পুরনো ঘড়িটা আসলে কোনো যন্ত্র নয় , ওটা একটা বৃদ্ধ পাহারাদার , যে অবিরাম হাতুড়ি পেটে আমার আয়ুষ্কালে তার টিকটিক শব্দে আমি কোনো সেকেন্ডের হিসেব পাই না , বরং শুনতে পাই একেকটি ঝরে পড়া নক্ষত্রের পতনধ্বনি যা আমার ঘরের সিলিং ফুঁড়ে অতল গহ্বরে হারিয়ে যায় ড্রয়িংরুমের নির্জনতায় ওটা যখন বার বার শব্দ করে , আমি দেখি , প্রতিটি দোলক যেন একেকটি ফাঁসির দড়ির মতো দুলছে ; আর সেখানে ঝুলছে আমার না-বলা কথা , অপূর্ণ প্রেমের কিছু ছাই ঘড়িটার কাঁচের ওপাশে আটকে আছে একটা ধূসর মথ , সে সময়ের চাকার সাথে ঘুরতে ঘুরতে এখন নিজেই সময় হয়ে গেছে , নিস্পন্দ , নিথর , অথচ এক অমোঘ সত্যের মতো উজ্জ্বল মাঝে মাঝে মনে হয় , ঘড়িটার ওই রোমান হরফগুলো আসলে একেকটা প্রাচীন পাথরের সমাধিফলক আমি যখন ঘুমিয়ে পড়ি , ওরা নেমে আসে দেয়াল থেকে , সারা ঘরময় হেঁটে বেড়ায় আমার ফেলে আসা বিকেলের জুতো পরে ওরা টেবিলের ওপর রাখা আধখাওয়া চায়ের কাপে চুমুক দেয় , আর বিষণ্ণ স্বরে বলে , স্মৃতি ছাড়া মানুষের আর কোনো সম্পদ নেই , এই যে কাঁটা দুটোর নিরন্তর তাড়া করা , একে অপরকে ছোঁয়ার আকুলতা , ওটা তো আসলে আমারই দুই সত্তা ; যারা কখনোই এক...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।