সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সময়ের ব্যবচ্ছেদ

  দেয়ালের সেই পুরনো ঘড়িটা আসলে কোনো যন্ত্র নয় , ওটা একটা বৃদ্ধ পাহারাদার , যে অবিরাম হাতুড়ি পেটে আমার আয়ুষ্কালে তার টিকটিক শব্দে আমি কোনো সেকেন্ডের হিসেব পাই না , বরং শুনতে পাই একেকটি ঝরে পড়া নক্ষত্রের পতনধ্বনি যা আমার ঘরের সিলিং ফুঁড়ে অতল গহ্বরে হারিয়ে যায় ড্রয়িংরুমের নির্জনতায় ওটা যখন বার বার শব্দ করে , আমি দেখি , প্রতিটি দোলক যেন একেকটি ফাঁসির দড়ির মতো দুলছে ; আর সেখানে ঝুলছে আমার না-বলা কথা , অপূর্ণ প্রেমের কিছু ছাই ঘড়িটার কাঁচের ওপাশে আটকে আছে একটা ধূসর মথ , সে সময়ের চাকার সাথে ঘুরতে ঘুরতে এখন নিজেই সময় হয়ে গেছে , নিস্পন্দ , নিথর , অথচ এক অমোঘ সত্যের মতো উজ্জ্বল মাঝে মাঝে মনে হয় , ঘড়িটার ওই রোমান হরফগুলো আসলে একেকটা প্রাচীন পাথরের সমাধিফলক আমি যখন ঘুমিয়ে পড়ি , ওরা নেমে আসে দেয়াল থেকে , সারা ঘরময় হেঁটে বেড়ায় আমার ফেলে আসা বিকেলের জুতো পরে ওরা টেবিলের ওপর রাখা আধখাওয়া চায়ের কাপে চুমুক দেয় , আর বিষণ্ণ স্বরে বলে , স্মৃতি ছাড়া মানুষের আর কোনো সম্পদ নেই , এই যে কাঁটা দুটোর নিরন্তর তাড়া করা , একে অপরকে ছোঁয়ার আকুলতা , ওটা তো আসলে আমারই দুই সত্তা ; যারা কখনোই এক...

নিসঙ্গতার জ্যামিতি

  আমার পুরনো এই টেবিলটা আজকাল কথা বলে , বড় অদ্ভুত তার সুর , কখনো ভাঙা কাঁচের মতো তীক্ষ্ণ , কখনো আবার শরতের শেষ দুপুরে ঝরা পাতার মতো মর্মর এর উ পর জমে থাকা ধুলোর আস্তরণ আসলে কোনো ময়লা নয় , বরং একেকটি বিস্মৃত বিকেলের মানচিত্র ; যেখানে আমি হারিয়ে ফেলেছি আমার শৈশবের সেই হারানো মার্বেল টেবিলটার পায়াগুলো ঠিক মানুষের মতো অনড় দাঁড়িয়ে , অথচ এর ড্রয়ার খুললেই বেরিয়ে আসে এক অদ্ভুত জাদুকর সেখান থেকে ডানা মেলে উড়তে শুরু করে পুরনো সব চিঠির ঘ্রাণ , ব্যবহৃত কালি ফুরিয়ে যাওয়া কলমগুলো সব জ্যান্ত হয়ে ওঠে তারা যেন একেকজন বিষণ্ণ নাবিক , অনেককাল আগে ডুবে যাওয়া কোনো স্মৃতির জাহাজ থেকে উদ্ধার পেয়েছে অলৌকিকভাবে মাঝে মাঝে মধ্যরাতে যখন নিস্তব্ধতা দরজায় টোকা দেয় , আমি দেখি টেবিলের ওপর রাখা নীলরঙা ল্যাম্পশেডটা হয়ে উঠেছে একটি নিঃসঙ্গ বাতিঘর তার আলোয় ছায়া পড়ে দেয়ালে ঠিক আমারই অবয়ব , কিন্তু কেন যেন ছায়াটা আমার চেয়ে বেশি সজীব মনে হয় সে হয়তো সেই সব কবিতার লাইন আওড়ায় , যেগুলো আমি কখনো কাগজে নামাতে পারিনি , কেবল বুকের ভেতর দাড় করেছি। এই কাঠখণ্ড , যা একদা অরণ্যে পাখির গান শুনতো , আজ আমার এই নিঃস...

মাংসের স্তূপ ও রক্তে ভেজা সৌন্দর্য

আমি তোমাকে কোনো অলৌকিক স্বর্গের স্বপ্নে চুমু খাইনি , আমার জিভ খুঁজেছিল তোমার মেরুদণ্ডের ভেতরে লুকানো আদিম অস্থিরতা তুমি চেয়েছিলে সমস্ত পবিত্রতা , আর আমি চেয়েছিলাম তোমার বুকের অন্ধকা রে জন্ম নেওয়া এক নিষিদ্ধ বিপ্লব ঘটাতে প্রেম মানে তো কেবল সুগন্ধী মাখা কোনো নিটোল দুপুর নয় , প্রেম হলো এক ক্ষুধার্ত নেকড়ের মতো নিজের সত্তাকে ছিঁড়ে খাওয়া তোমার ওই সুডৌল গ্রীবা আর নীরব  হাসির নিচে আমি দেখেছি হাজার বছরের পুরনো এক দাসত্বের মানচিত্র , যার সব আমি চিনি আমি চেয়েছিলাম সেই মানচিত্র পুড়িয়ে দিয়ে তোমাকে নগ্ন করতে ; পোশাকের নগ্নতা নয় , বরং আত্মার সমস্ত সংস্কার উপড়ে ফেলা র নগ্নতা তুমি চমকে উঠেছিলে যখন আমি বলেছিলাম , ভালবাসা এক ধরণের ব্যাধি ; আসলে তুমি সেই শেকলটাকেই ভালোবাসতে , যা তোমাকে চিরদিন বন্দি রাখে আমাদের সঙ্গম ছিল আসলে এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ সেখানে কোনো বাঁশি বাজেনি , বেজেছিল কেবল অস্থির চিৎকার আমি যখন তোমার চিবুকে আমার আঙুলের কর্কশ ছাপ রেখেছি , তুমি ভেবেছিলে ওটা আদর ; অথচ ওটা ছিল তোমার প্রতি আমার তীব্র ঘৃণা সেই ঘৃণা , যা জন্মেছে তোমার ওই মধ্যবিত্ত ভীরুতার ওপর আমি তোম...

তুমিহীন এই জ্যামিতিক দহন

১. হয়তো কোনো এক মধ্যরাতে বিষণ্ণতার দীর্ঘ নখরে বিদ্ধ হবে তোমার এই দুধসাদা গ্রীবা ; সেদিন মনে পড়বে আমি তোমাকে কোনো স্বর্গীয় পারিজাত দিতে চাইনি , বরং দিতে চেয়েছিলাম এই নশ্বর পৃথিবীর সবচেয়ে গাঢ় অন্ধকার কারণ আমি জানি , আলো কেবল মুখোশ পরায় , আর অন্ধকারই আমাদের উলঙ্গ ক ’ রে দেখায় আমরা কতোটা একা ২. মানুষ যাকে প্রেম বলে , আমি তাকে বলি এক প্রাগৈতিহাসিক ব্যাধি , যা রক্তকণিকায় মিশে গিয়ে বদলে দেয় নিউরনের সকল ব্যাকরণ আমি যখন তোমার নাভির হ্রদে আমার তৃষ্ণা বিসর্জন দেই , তখন সেখানে কোনো ঐশ্বরিক মহিমা থাকে না ; থাকে কেবল মাংসের আর্তনাদ আর হাড়ের ভেতরে লুকানো এক প্রাচীন হাহাকার তুমি সুন্দরী , কারণ তোমার কোষে কোষে এখনো ধ্বংসের বীজ বোনা হয়নি , অথচ আমার প্রতিটি নিশ্বাসে এখন তীব্র আকর্ষণের গন্ধ ৩. আমাদের বিচ্ছেদ কোনো ট্র্যাজেডি নয় , এ হলো এক গাণিতিক অপ্রয়োজনীয়তা তুমি চেয়েছিলে এক শো এক টি নীলপদ্ম , অথচ আমি চেয়েছিলাম তোমাকে   তোমার মগজের নির্জন প্রকোষ্ঠে এক একটা কুঠার চালিয়ে দিতে , যাতে তুমি ভুলে যাও কীভাবে নিজেকে রূপান্তর ঘটাতে হয় আমি তোমাকে মুক্তি দিতে চেয়েছিলাম তোমার সৌন্দর্য...