এই যে ল্যাম্পপোস্টটা ঠায় দাঁড়িয়ে আছে গলির মোড়ে , ওটা আসলে কোনো লোহার থাম নয় , ওটা এক তস্কর ঋষি ; রাতের নির্জনতায় সে অন্ধকারকে ছেঁকে বের করে আনে হলদে বিষ তার ওই ঘোলাটে আলোর বৃত্তের ভেতর কত শত ছায়া খেলে যায় কতগুলো চোর , কতগুলো প্রেমিক , আর একরাশ মধ্যবিত্ত হাহাকার সবাই সেখানে এসে থামে , অথচ কেউ কাউকে ভালভাবে চেনে না ; যেন এক অদ্ভুত জাদুকরী রেখা টেনে রেখেছে এই নগরীর বুক ল্যাম্পপোস্টটার মাথায় যখন কাকেরা ঘুমিয়ে পড়ে ডানা গুটিয়ে , আমি দেখি , ওটা আসলে একটা নিঃসঙ্গ আলোকবর্তিকা নয় , বরং এই শহরের এক পরিত্যক্ত কঙ্কাল , যার কোনো মাংস নেই তার ভেতরে বয়ে চলে হাজার মানুষের দীর্ঘশ্বাস , মাঝে মাঝে শর্ট সার্কিটে যখন স্ফুলিঙ্গ ঝরে পড়ে পিচঢালা পথে , মনে হয় ওটা তো বিদ্যুৎ নয় , ওটা শহরের কোনো চাপা কান্না যা কংক্রিটের দেয়ালে প্রতিধ্বনি তুলে হারিয়ে যায় ড্রেনের নরকে আমি যখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে এই নিস্তব্ধতার ব্যবচ্ছেদ করি , দেখি জানলার গ্রিলগুলো একেকটা জেলের শিকের মতো বিঁধে আছে ; আর ওপাশে আমাদের যাপিত জীবন এক একটা শীতঘুমে মগ্ন ঘর শহরটা এখন আর ইঁট-পাথরের নেই , ওটা একটা প্রাচীন অজগর , যে গিলে ফেল...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।