শহরের বু ’ কে দাঁড়িয়ে দেখি এক তরুণী রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছে , হাতে একটি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে , কিন্তু চোখে রয়েছে আশার আলোর বদলে এক ক্লান্তি , আমি ভাবি , কী বদলেছে আমরা ভাবিনি , কিন্তু সময় বদলেছে নিচে থেকে উপড়ে নগরীর রঙিন বিলবোর্ড , তাতে আমাদের নাম লেখা নেই , শুধু একটি বিজ্ঞাপনের হাসি যা জানে না এই মাটির ঘ্রাণ তুমি কি দেখেছো সেই শিশুটিকে , যে স্কুল যাবে বলে একটা স্বপ্ন বানিয়েছে , কিন্তু পথে একটি ব্যাগ-ছাড়া হাঁটছে ? আমি বলি আমরা জানি না বা জানার চেষ্টা করি না এদের নাম , এদের অভিপ্রায় তবু গভীরে অনুভব করি স্বপ্ন ও বাস্তবতার মাঝখানে একটি প্রসার হয়তো আমরা সকলে একসাথে নয় , কিন্তু প্রত্যেকটি হৃদয়ে রয়েছে বিঁধা একটি প্রশ্ন এই পরিবর্তন কি শুধু কথায় থাকবে ? আমি আশাবাদী হয়ে বলি হ্যাঁ , কোনোদিন এটা আগুন হয়ে উঠবে , নগরীর দেয়ালে লেখা শব্দ হয়ে নয় , তবু মানুষের মুখে , মানুষের শব্দে সত্যি বলবে , আমি আমার জায়গায় দাঁড়িয়েছি।
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।