নিশীথের নীরবতায় আমি তোমার নাম উচ্চারণ করি ধীরে , যেন ভাঙা তারারাও শুনে ফেলে গোপন এই আকাঙ্ক্ষা , জানালার কাঁচে জমে থাকা শিশিরে লিখি অদৃশ্য চিঠি তুমি পড়ো কি না , তা জানার অধিকারও নেই আমার শহরের আলো নিভে গেলে যে অন্ধকার জেগে ওঠে , তার ভেতরেই তোমার মুখ খুঁজি , অনবরত , একাগ্রতায় , ভালোবাসা যেন এক প্রাচীন নদীনামহীন , দিকহীন , যার স্রোতে ভেসে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ নেই আমি জানি , তুমি আসবে না কোনোদিন এই পথে , তবু প্রতিটি পদধ্বনি শুনলেই মনে হয়তুমিই বুঝি! এমন এক বিভ্রমে বেঁচে থাকা কি পাপ , নাকি কবিতা ? তোমার নীরবতাই যেন আমার একমাত্র উত্তর দূর আকাশে ঝুলে থাকা চাঁদটিও আজ ক্লান্ত লাগে , যেন সে-ও জানে এই অসমাপ্ত প্রেমের ইতিহাস , আমার বু ’ কের ভেতর যে আগুন জ্বলে অবিরত , তা কোনো জলেই নেভে না , না বৃষ্টিতে , না অশ্রুতে তোমার অনুপস্থিতি এক অদ্ভুত উপস্থিতি হ ’ য়ে থাকে , প্রতিটি শব্দে , প্রতিটি নিশ্বাসে তার ছায়া পড়ে , আমি যত দূরে যেতে চাই , তত কাছে টানে সে , এ এক অদ্ভুত বন্দিত্বস্বেচ্ছায় গড়া , তবু অনিবার্য হয়তো কোনোদিন তুমি বুঝবে না এই গভীরতা , হয়তো এই কবিতাও পৌঁছাবে না তো...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।