বাঙলা কবিতা ও রাজনীতি, এই দুটি শব্দের সম্পর্ক কেবল বাহ্যিক নয়, গভীর, জটিল এবং বহুমাত্রিক। বাংলা ভাষার সাহিত্যপরিসরে কবিতা যেমন মানুষের অন্তর্লোক, প্রেম, বিরহ, সৌন্দর্য, নিঃসঙ্গতা, স্বপ্ন ও আত্মসংকটের ভাষা হ’য়ে উঠেছে, তেমনি রাজনীতি হ’য়ে উঠেছে তার সামাজিক ও ঐতিহাসিক অনিবার্যতা। বাঙালি জীবনের সঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন এত নিবিড়ভাবে যুক্ত যে বাংলা কবিতাকে কখনোই কেবল নান্দনিকতার খাঁচায় আবদ্ধ ক’রে দেখা যায় না। বাংলা কবিতা একই সঙ্গে ব্যক্তির অনুভব, সমষ্টির চেতনা এবং ইতিহাসের অভিঘাত বহন ক’রে। ফলে বাঙলা কবিতা যখন আত্মপ্রকাশ করেছে, তখন থেকেই কোনো না কোনোভাবে রাষ্ট্র, সমাজ, ক্ষমতা, শোষণ, বিদ্রোহ, স্বাধীনতা, জাতীয়তা, ভাষা, গণমানুষ, শ্রেণিসংগ্রাম এবং মানবমুক্তির প্রশ্ন তার ভেতরে প্রবেশ করেছে। এই প্রবেশ কখনো সরাসরি, কখনো প্রতীকী, কখনো রূপক ও ইঙ্গিতের ভেতর দিয়ে, আবার কখনো ব্যক্তিগত আবেগের আড়ালে সামাজিক প্রতিবাদের ভাষা হ’য়ে। তাই বাংলা কবিতার ইতিহাস আসলে বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসেরও এক অন্তর্লীন পাঠ, যেখানে শব্দ, ছন্দ, চিত্রকল্প এবং কল্পনার আড়ালে লুকিয়ে থাকে সময়ের দাবি, যুগের সংকট ও মান...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।