লেখক ও প্রকাশক , এই দুই সত্তা যেন একই নদীর দুই তীর , একে অন্যকে ঘিরেও আলাদা , একে অন্যকে ছুঁয়েও ভিন্ন। সাহিত্যজগতে তাদের সম্পর্ক কেবল ব্যবসা ও সৃষ্টির সম্পর্ক নয় , তা নির্ভরতা , সহযোগিতা , দ্বন্দ্ব , প্রত্যাশা , বিশ্বাস এবং কখনো কখনো অদৃশ্য এক চুক্তির সম্পর্ক ; যে চুক্তি কাগজে লেখা থাকে না , কিন্তু বইয়ের প্রতিটি পাতায় তার ছায়া পড়ে। প্রশ্নটি যখন ওঠে , লেখক ও প্রকাশক , কে কার উপর নির্ভর , তখন সহজ উত্তর দেওয়া কঠিন , কারণ সম্পর্কটি একমুখী নয়। লেখক ছাড়া প্রকাশক অর্থহীন , প্রকাশক ছাড়া লেখক অপূর্ণ । আবার পাঠক ছাড়া উভয়েই নিঃসঙ্গ। তবু যদি গভীরে যাই , দেখি এই নির্ভরতা সমান নয় , বরং সময় , সমাজ , অর্থনীতি , প্রযুক্তি , বাজার , খ্যাতি , সৃজনশীলতা ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতার তারতম্যে বদলে যায়। একসময় লেখক প্রকাশকের মুখাপেক্ষী ছিলেন , আবার কখনো প্রকাশক লেখকের প্রতীক্ষায় থাকেন। কখনো লেখকের জন্য প্রকাশক দরজা , কখনো প্রকাশকের জন্য লেখক প্রাণ ; কখনো লেখক সৃষ্টি করেন , প্রকাশক তাকে আকার দেন , আর কখনো প্রকাশক কাঠামো তৈরি করেন , লেখক তার ভেতর আত্মা ঢেলে দেন। এই পারস্পরিক নির্ভরতার ইতিহাস সাহিত্যচর্চার ই...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।