সকাল বেলার রুপোর আলো ফোটে জানালার বুক চেপে ধ ’ রে , আমি দেখি , হঠাৎ একেবারে কাছে আসতে চায় সময়ের ছায়া। হাতের আঙুলে সময়ের বৃত্ত যেমন বেঁধে দেওয়া আছে , তেমনি আমার অধিকাংশ মুহূর্ত বেঁচে আছে শুকনো রেখায় শহর ঘেঁষে ব ’ য়ে যায় ট্রাম লাইনের আওয়াজ , যেখানে শব্দ হয় স্মৃতিতে , স্মৃতি হয় শব্দে। আমি হেঁটেছি সেই রাস্তায় যেখানে তোমার পায়ের ছাপ ছিলো , এবং আজ শুধু বাতাস তাঁদের কথা বলছে , তুমি কি ফিরে আসো ? এসো বলি , আমরা হয়তো পালিয়েছি উদ্দেশ্যহীনতার রাজ্যে , তবু পিছুটান রাখে সেই অচেনা সূর্যের মুখ। তোমার কি জানিস , একটা খালি ঘর আছে আমার মাঝে , যেখানে শুধু তোমার কথা শোনা যায় ঘুম ভাঙার আগেই। আমার ভালোবাসা ছিল না চিৎকারে , ছিল নীরব মার্গে , যেমন শাশ্বত নদী , রাতভর বহমান। আগুন হ ’ য়ে জ্বলে ছিলো তোমার স্মৃতি , আজ ধোঁয়া হ ’ য়ে গেছে , তবু আমি নিভে যাইনি , নিজের মধ্যে আলো খুঁজছি , একটু একটু ক ’ রে , যেমন হঠাৎ বিস্ফোরণ ক ’ রে একটি ফুলবাতি আকাশে। আগামী দিনের দিকে তাকিয়ে বলি , হয়তো তোমার আসবে , এবং আমার অপেক্ষা হবে শুধু একটুখানি হাসি , যা ফেরত দেবে হারিয়ে যাওয়া দিনের রং , আলোর করিডোরে , ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।