সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

হারানো বিপ্লব

 

আমি তোমাকে ফুল দিতে আসিনি,
এসেছি তোমার মসৃণ চামড়া নখ দিয়ে চিরে দেখতে
ভেতরে কতোটা পচন আর কতোটা নষ্ট জমে আছে;
তোমার ওই সুসজ্জিত ওষ্ঠাধর আর কপট পবিত্রতার নিচে
আমি খুঁজেছি এক তৃষ্ণার্ত নেকড়ের হাহাকার,
যে আমার শরীরের লোনা ঘামে নিজের মুক্তি খোঁজে।

প্রেম তো কোনো গল্প নয়, প্রেম এক আদিম সৌন্দর্য
যেখানে আমি তোমাকে প্রতিদিন তৈরি করতে চেয়েছি
তোমার সমস্ত লোকলজ্জা আর মধ্যবিত্ত ভীরুতার শেকল ছিঁড়ে।
আমি তোমার বেড়ে ওঠা অন্ধকারে একগুচ্ছ বিষাক্ত নক্ষত্র ছুঁড়ে দিয়েছি,
যাতে তুমি ভুলে যাও কীভাবে কেবল একটি ভালো মেয়ে হতে হয়।
আমি চেয়েছি তুমি হারিয়ে যাও, এক অবাধ্য ঝোড়ো গভীর হাওয়া
যেখানে নতুন ক’রে যেন কোন কিছু সৃষ্টি না হয়,

আমাদের প্রেমে কোনো রঙ ছিল না, ওটা ছিল এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ
আমি তোমার সৌন্দর্যের নির্জনতায় কোনো স্বর্গ খুঁজিনি,
খুঁজেছি এক নিঃসঙ্গ মানুষের শূন্যতা, যেখানে কোনো নিয়ম নেই,
কোনো বিচারক নেই, আছে কেবল প্রতিদিনের হারানো রুটিন
তুমি যখন যন্ত্রণায় আর সুখে আমার নাম ধরে চিৎকার করো,
তখন জানবে ঐ চিৎকারই হলো আমার তৈরি শ্রেষ্ঠ কবিতা,
বাকি সব তো ভণ্ডামো, শব্দজট আর ভণ্ডদের তৈরি নষ্ট পদ্য।

তুমি এক কোপে কেটে ফেলতে পারো এই সমাজের জ্যামিতিক শেকলে,
অথচ তুমি বেছে নিলে এক চিমটি ছাইয়ের মতো ধুলোমাখা অস্তিত্ব;

বিদায় হে আমার ব্যক্তিগত বধ্যভূমি! সৌন্দর্যের আরাধনা,
তুমি ভালো থেকো তোমার ওই সুগন্ধী সাবান আর মিথ্যা হাসির তলায়
আমি চললাম সেই অন্ধকারে, যেখানে কোনো সমাজ নেই, কোনো পতাকা নেই,
যেখানে কবিতা মানেই হলো এক খাপ না খাওয়া নিঃসঙ্গ মানুষ,
যা বিদীর্ণ করে দেয় প্রতিটি লুকানো নষ্ট মানুষের মুখোশ
মনে রেখো, চরম প্রেম আর চরম ঘৃণা দুটোরই শেষ গন্তব্য
হলো এক চূড়ান্ত ও ভয়াবহ নিঃসঙ্গতায়।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...