সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আমাদের সৌন্দর্য

 

তোমার সৌন্দর্যে আমি আঘাত করতে চেয়েছিলাম;

তুমি যাকে প্রেম বলো, আমি তাকে বলি এক সুসজ্জিত শৃঙ্খল;
তুমি যাকে লাজুক হাসি বলো,
আমি তাকে বলি মধ্যবিত্তের ভণ্ডামি
আমি চেয়েছিলাম তোমার রক্তে এমন এক বিষ ঢুকিয়ে দিতে
যা তোমাকে কোনো দেবী নয়,
বরং এক চিরচেনা বিদ্রোহী করে তুলবে;
আসলে মুক্তি মানে কোনো প্রার্থনা নয়,
মুক্তি মানে সমস্ত বিশ্বাসের মূলে কুঠার চালানো

তোমার শরীর কোনো উপাসনাগৃহ নয়, -এক আদিম রণক্ষেত্র
আমি যখন তোমার নাভি ও উরুর সন্ধিস্থলে আমার দ্রোহ বুনি,
তখন সেখানে কোনো ঐশ্বরিক আলো জ্বলে না;
বরং জ্বলে ওঠে হাজার বছরের পুঞ্জীভূত ক্রোধ
আর জমানো ঘৃনা
আমি চেয়েছিলাম তোমার ওই নিটোল স্তনযুগলকে
এই পচা সমাজের দিকে তাক করা দুটো কামানে রূপান্তর করতে
তুমি আঁতকে উঠেছিলে,
কারণ তুমি তা হতে চাওনি, চেয়েছিলে মোমবাতির মতো গলতে

ধিক্কার দিই তোমার ওই নিরাপদ শয্যাকে, যেখানে তুমি প্রথার পা চাটছো নীরবে
আমি চেয়েছিলাম তোমাকে নিয়ে এক অন্ধকার মিছিলে নামতে, চূড়ায় ভ্রমন করতে
যেখানে আমরা নগ্ন হয়ে নাচবো আর
মুছে দেবো সমস্ত প্রাচুর্য
ছিঁড়ে ফেলবো
পুরনো যত ইতিহাস, বদলে দেবো নক্ষত্রের অবস্থান
প্রেম তো আসলে এক ধরণের শিল্পিত অরাজকতা;
অথচ তুমি চেয়েছিলে সস্তা সিনেমা আর গোলাপের পাপড়ি
তুমি এক নর্দমার জীব,
যে সাগরের নোনা স্বাদ দেখে ভয় পায়

আমাদের এই বিচ্ছেদ কোনো বিরহ নয়, -হলো এক সুস্থ বিবর্তন
তুমি এখন এক চোর-বাটপার বা কোনো নপুংসক ভদ্রলোকের গৃহিণী;
তুমি এখন ডাল-ভাতের ঘ্রাণে নিজের মেধা বিসর্জন দাও
প্রতিরাতে,
আর আমি?
আমি এখন একাকী এক বিধ্বংসী উল্কা,
যেখানে পা রাখি সেখানেই ভস্মীভূত হয় হাজার বছরের সংস্কার
আমার কবিতা এখন আর ছন্দ মানে না,
মানে না কোনো ব্যাকরণ;
-কেবল আর্তনাদ,
এক অবাধ্য কলমের চূড়ান্ত অরাজকতা,

শোনো হে জরাজীর্ণ মানবী, কোনোদিন যদি মৃত্যু তোমাকে প্রশ্ন করে
তুমি কি বেঁচে ছিলে?
তুমি কি আসলেই ভালোবাসতে জেনেছিলে?
তখন তুমি লজ্জায় মাথা নত করবে! আমার কথা মনে কর না
কারণ তুমি কেবল ঘাম ঝরিয়েছো,
কিন্তু কখনও রক্ত ঝরানো প্রেম দেখনি,
তুমি কেবল শরীর দিয়েছো,
কিন্তু তোমার মগজের দরজা কখনও খোলনি
আমি সেই দড়জা ভাঙতে চেয়েছিলাম ডিনামাইট দিয়ে,
আর তুমি ভেবেছিলে আমি তোমার
সৌন্দর্য নষ্ট করছি!

বিদায় হোক তোমার ওই সুশৃঙ্খল নরকের,
আমি এখন এক নৈরাজ্যবাদী শূন্যতার রাজপুত্র
আমি সেইসব মানুষদের দলে,
যারা জ্যোৎস্নায় প্রতিরাতে ঘর পোড়ায়,
যারা প্রেমে পড়লে কোনো প্রতিজ্ঞা করে না,
বরং ভেঙে দেয় শপথের সকল সুত্র
আমার এই কবিতা তোমার বালিশের নিচে এক জীবন্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে থাকুক;
তুমি যখনই ঘুমানোর চেষ্টা করবে,
তখনই আমার এই প্রতিটি শব্দ
এক একটা ধারালো ব্লেড হয়ে তোমার স্নায়ুতন্ত্রকে চিরে দেবে

মনে রেখো, সভ্যতা মানেই এক বিশাল মিথ্যাচার;
আর আমি সেই কবি,
যে তোমার চোখের সামনে সেই মিথ্যার মুখমন্ডল
নখ দিয়ে উপড়ে ফেলে তোমাকে আসল বীভৎসতা দেখাতে চেয়েছিলাম
তুমি সেই বীভৎসতা সহ্য করতে পারোনি;
তাই তুমি আজ
অনেক ভালো আছো, আর আমি আজ অবিনাশী

 

 

 

 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...