শহরের পুরোনো রেকর্ডঘরটির জানালা খুব নিচু ছিল , এত নিচু যে দুপুরের রোদ সোজা এসে ফাইলের ধুলোয় গলতে গলতে স্তিমিত হ ’ য়ে পড়ত , আর সেই ধুলোর ভেতর দিয়ে বসে থাকা মানুষটিকে দেখে মনে হতো সে যেন আলো নয় , সময়ের ভেতর বসে আছে ; তার নাম ছিল তাজউদ্দিন , বয়স ষাট ছুঁইছুঁই , জীবনের অর্ধেকেরও বেশি কেটেছে জন্মনিবন্ধন , জমির দলিল , মৃত সনদ , নাগরিক পরিচয় , আর নানান কাগজের মাঝখানে , যেখানে মানুষের কান্না প্রায়ই কালি হয়ে আসে , স্বাক্ষর হয়ে জমে , আর সিলের শব্দে জীবনের গোপন দিকগুলো আরও বেশি নির্জীব হয়ে ওঠে ; তাজউদ্দিনের কাজ ছিল লিখে রাখা , অথচ লিখে রাখতে রাখতে সে এমন এক মানুষ হয়ে উঠেছিল যে বাস্তব আর নকলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারত না , কারণ কাগজে যা থাকে তা অনেক সময় মানুষে থাকে না , আর মানুষে যা থাকে তা কাগজে লেখা যায় না। একদিন সকালে , যখন অফিসের দরজায় দাঁড়ানো চৌকিদার জব্বার চা খেতে খেতে একটা ছেঁড়া খবরের কাগজ উল্টাচ্ছিল , তাজউদ্দিন দেখল তার টেবিলের উপর একটি বাদামি খাম পড়ে আছে ; খামের গায়ে কোনো প্রেরকের নাম নেই , প্রাপকের নামও নেই , শুধু একটামাত্র বাক্য লেখা: যদি আপনি এখনো নিজের ছায়া দ...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।