সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

যে লোকটি নিজের ছায়া হারিয়েছিল-ছোট গল্প

 

শহরের পুরোনো রেকর্ডঘরটির জানালা খুব নিচু ছিল, এত নিচু যে দুপুরের রোদ সোজা এসে ফাইলের ধুলোয় গলতে গলতে স্তিমিত হয়ে পড়ত, আর সেই ধুলোর ভেতর দিয়ে বসে থাকা মানুষটিকে দেখে মনে হতো সে যেন আলো নয়, সময়ের ভেতর বসে আছে; তার নাম ছিল তাজউদ্দিন, বয়স ষাট ছুঁইছুঁই, জীবনের অর্ধেকেরও বেশি কেটেছে জন্মনিবন্ধন, জমির দলিল, মৃত সনদ, নাগরিক পরিচয়, আর নানান কাগজের মাঝখানে, যেখানে মানুষের কান্না প্রায়ই কালি হয়ে আসে, স্বাক্ষর হয়ে জমে, আর সিলের শব্দে জীবনের গোপন দিকগুলো আরও বেশি নির্জীব হয়ে ওঠে; তাজউদ্দিনের কাজ ছিল লিখে রাখা, অথচ লিখে রাখতে রাখতে সে এমন এক মানুষ হয়ে উঠেছিল যে বাস্তব আর নকলের মধ্যে পার্থক্য করতে পারত না, কারণ কাগজে যা থাকে তা অনেক সময় মানুষে থাকে না, আর মানুষে যা থাকে তা কাগজে লেখা যায় না। একদিন সকালে, যখন অফিসের দরজায় দাঁড়ানো চৌকিদার জব্বার চা খেতে খেতে একটা ছেঁড়া খবরের কাগজ উল্টাচ্ছিল, তাজউদ্দিন দেখল তার টেবিলের উপর একটি বাদামি খাম পড়ে আছে; খামের গায়ে কোনো প্রেরকের নাম নেই, প্রাপকের নামও নেই, শুধু একটামাত্র বাক্য লেখা: যদি আপনি এখনো নিজের ছায়া দেখে থাকেন, তাহলে অপেক্ষা করবেন না। তাজউদ্দিন প্রথমে ভেবেছিল কেউ মশকরা করেছে, কারণ শহরে মশকরা করাও একধরনের জীবিকা হয়ে উঠেছিল, কিন্তু খাম খুলে ভেতরে পাওয়া কাগজের টুকরোটি তার হাতের কাঁপন বাড়িয়ে দিল, সেখানে একটি তালিকা, নয়টি নাম, নয়টি ঠিকানা, আর প্রতিটি নামের পাশে ছোট্ট করে লেখা ছায়াহীন; তার মাথার ভেতরে মুহূর্তের জন্য এমন শব্দ উঠল যেন দূরের রেললাইন ধরে কোনো মালগাড়ি কেঁদে উঠছে। তিনি প্রথমে কাউকে কিছু বললেন না, কিন্তু দুপুরের দিকে একজন লোক এল, বয়স চল্লিশের মতো, মুখে খরখরে দাড়ি, পরনে কালো ফতুয়া, চোখ দুটো অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে, এবং সে দাঁড়িয়ে থাকলেও ছায়া মেঝেতে পড়ছে না, এটা দেখে তাজউদ্দিনের বুকের ভেতর হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল; লোকটি খুব শান্ত স্বরে বলল, স্যার, আমার ছায়া নাকি নেই, আপনি রেকর্ডে দেখুন, তারপর সে নিজের জন্মসনদের কপি এগিয়ে দিল, যেখানে নাম ছিল রইস মিয়া, ঠিকানা ছিল শহরের দক্ষিণ প্রান্তের রেলগেটসংলগ্ন বস্তিকিন্তু কাগজে সব ঠিক থাকলেও কাগজের মানুষ আর সামনের মানুষটি এক নয় বলে মনে হলো, কারণ মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো তার দেহের সঙ্গে তার উপস্থিতির মিল, আর সেই মিলটিই যেন ভেঙে গেছে। তাজউদ্দিন ফাইলের খাতায় খুঁজে দেখলেন, রইস মিয়ার জন্মনিবন্ধন আছে, ভোটার তালিকায় নাম আছে, এমনকি বিয়ের নথিও আছে, কিন্তু তার পাশে কোথাও যেন এক অদৃশ্য দাগ টানা, যেন রেকর্ডে সে আছে, অথচ পৃথিবীতে নেই; রইস মিয়া বলল, স্যার, গত তিন রাত ধরে আমি আয়নায় নিজেকে দেখি, কিন্তু আমার পিছনে কেউ থাকে না, এমনকি মাঠেও আমি গেলে ঘাসের ওপর কোনো কালো দাগ পড়ে না, ছেলেপেলে হাসে, বউ ভয় পায়, আমি ভয় পাই না, কিন্তু কিছু একটা আমার বুকের ভিতর থেকে বের হয়ে গেছে। তাজউদ্দিনের আর্তনাদ করার মানুষী ক্ষমতা তখন বহু আগেই মরে গিয়েছিল, তবু তার ভেতরে একটি পুরোনো জিজ্ঞাসা জেগে উঠল; সে কাগজে সই নিল, রইসকে বসতে বলল, তারপর দুপুরের পরে অফিসের রাস্তায় বেরোল, কারণ খামের তালিকার নামগুলো দেখে তার মনে পড়ল গত দুই সপ্তাহে আরও কিছু অদ্ভুত অভিযোগ এসেছেকেউ বলেছে তার সন্তানের মুখ বদলে গেছে, কেউ বলেছে বাপের কণ্ঠ চিনতে পারছে না, কেউ বলেছে আইডি কার্ড ঠিক আছে, তবু থানা তার মানুষটিকে চিনতে অস্বীকার করছে। শহরটি ছোট ছিল না, কিন্তু তার মধ্যে এমন কিছু পচন ধরেছিল যা বাইরে থেকে বোঝা যায় না; রাস্তার মোড়ে নতুন বিলবোর্ড, পুরোনো গাছের গায়ে বিজ্ঞাপনের পোস্টার, নালার জলে সবসময় ভাসমান পাতার পাশে ভাঙা মুখ, আর বাজারের শোরগোলে এমন এক অজানা অস্থিরতা ছিল যেন সবাই একে অন্যকে চিনলেও পুরোপুরি দেখতে পাচ্ছে না। তাজউদ্দিন প্রথমে গেল নথিবইয়ের পুরোনো ঘরে, যেখানে আগের জন্মরেজিস্ট্রার ইলিয়াস মোল্লার তালা-বন্ধ আলমারি এখনো পড়ে আছে; ইলিয়াস মোল্লা পাঁচ বছর আগে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু লোকমুখে শোনা যায় তিনি নাকি আগেভাগেই সবকিছু লিখে রাখতে জানতেন, এমনকি কার মৃত্যু কবে হবে তাও অনুমান করতেন। আলমারির পেছনে চাপা দেয়া নথির মধ্যে সে এক বিচিত্র নোট পেল, মানুষের ছায়া আগে থাকে, পরে হারায়; নাম আগে থাকে, পরে মুছে যায়; মুখ আগে থাকে, পরে চিন্তা বদলে ফেলে। নোটের নিচে কোনো স্বাক্ষর ছিল না, শুধু একটি ছোট্ট চিহ্ন, বৃত্তের ভেতর উল্টো ত্রিভুজ। সে চিহ্নটি দেখে তাজউদ্দিনের কপালে ঘাম জমল, কারণ একই চিহ্ন তার নিজের জীবনের পুরোনো এক ক্ষতে ছিল; ত্রিশ বছর আগে, শহরের উপকণ্ঠে এক রাতে তার ছোট ভাই নিখোঁজ হয়েছিল, নাম ছিল সোবহান, আর সেই নিখোঁজের তদন্তে পুলিশ যা করেছিল, তা ছিল কাগজে কাগজে তার অস্তিত্বকে আরও বেশি অনুপস্থিত করে দেওয়া। সোবহানের কোনো লাশ পাওয়া যায়নি, কোনো সাক্ষীও নয়, শুধু এক টুকরো মাটি, যেখানে ছায়ার মতো একটি দাগ শুকিয়ে ছিল; সেই রাতের পর তাজউদ্দিন বুঝেছিল, কিছু হারালে মানুষ চিৎকার করে, আর কিছু হারালে সে নীরব হয়ে যায়। এখন সেই পুরোনো নীরবতার আবার ফিরে আসার মতো আভাস পেয়ে সে শহরের দক্ষিণ প্রান্তে রইস মিয়ার বস্তিতে গেল। সেখানে অদ্ভুতভাবে বাতাস ভারী ছিল, যেন মাটির ওপর দিয়ে কোনো অদৃশ্য বস্ত্র টেনে রাখা হয়েছে; মানুষজন জানাল, কিছুদিন ধরে এখানে অনেকেই অসুস্থ নয়, তবু নিজেদের মতো নেই। এক বুড়ি, নাম ফাতেমা খালা, তাজউদ্দিনকে বলল, বাবা, মানুষ মরলে ছায়া ছাড়ে, কিন্তু ছায়া হারালে মানুষ বাঁচে না; এরা মরছে না, মুছে যাচ্ছে। সে বলল, কয়েক মাস আগে শহরের এক বেসরকারি সংস্থা দরিদ্রদের জন্য পরিচয়-হালনাগাদ ও ডিজিটাল রেকর্ড পরিষেবা চালু করেছিল, বাসে করে ছবি তুলত, আঙুলের ছাপ নিত, কাগজপত্র মিলিয়ে দেখত, তারপর নতুন কার্ড দিত; প্রথমে সবাই খুশি হয়েছিল, কারণ নতুন কার্ড মানে নতুন আশা, কিন্তু ধীরে ধীরে কিছু মানুষ তাদের পুরোনো স্বভাব হারাতে থাকে, কারও স্মৃতি কাঁচের মতো ভেঙে যায়, কারও গলার স্বর শুকিয়ে আসে, কারও চোখ থেকে উষ্ণতা উধাও হয়। তাজউদ্দিন শুনল এবং বুঝল, এটা নিছক কুসংস্কার নয়; প্রশাসনিক কাজের ভিতর এমন এক মায়াময় ক্ষমতা লুকিয়ে থাকতে পারে, যেখানে মানুষকে রেকর্ডে নিখুঁত করা মানে তাকে জীবনে অসম্পূর্ণ করে তোলা। সে রাতেই ফেরার পথে রেকর্ডঘরের পেছনের সিঁড়িতে বসে থাকা এক বৃদ্ধকে দেখল, যার নাম সম্ভবত আকবর মাস্টার, কারণ বুকপকেটে আধাখোলা পরিচয়পত্রে তাই লেখা; বৃদ্ধটি বলল, তুমি খুঁজছো না, তাজউদ্দিন, তোমাকেই খোঁজা হচ্ছে, তারপর একটা কাগজ এগিয়ে দিল। কাগজে লেখা, যারা খুব বেশি কিছু লিখে রাখে, তারা একদিন নিজের জীবনের আসল কথাগুলোও ভুলে যায়। তাজউদ্দিন জিজ্ঞেস করলেন, কে আপনি? বৃদ্ধ মৃদু হাসল, আমি ইলিয়াসের সহকারী ছিলাম, পরে নীরবতার চাকরি নিয়েছি। তারপর সে বলল, বেসরকারি সংস্থাটির আসল কাজ শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, মানুষের ওপর সামঞ্জস্য ফর্মুলা প্রয়োগ করা, কারণ একটি শহরকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে আগে তার মানুষকে পরিমাপযোগ্য করতে হয়, আর যাকে পরিমাপ করা যায়, তাকে বদলানোও যায়। তাজউদ্দিনের মনে তখন হঠাৎ তার ছেলের মুখ ভেসে উঠল; ছেলে রাব্বি বহু বছর আগে বিদেশে গেছে, ফোন করে, টাকা পাঠায়, কিন্তু কণ্ঠে দূরত্বের এক পাথুরে স্তর পড়ে গেছে, যেন সে মাংসের মানুষ নয়, কাগজের মানুষ হয়ে ফিরে আসছে। তাজউদ্দিন প্রথমবার বুঝল, হয়তো এই ছায়াহীনতা কেবল রইস মিয়ার নয়, তার নিজের পরিবারেরও চুপিচুপি ভেতরে ঢুকে পড়েছে। তিনি অফিসে ফিরে পুরোনো ফাইল খুলে বসলেন, এবং রেকর্ডের ভেতর এমন এক অসঙ্গতি খুঁজে পেলেন যা আগে চোখে পড়েনি: ছায়াহীন বলে চিহ্নিত সকল মানুষের জন্মনিবন্ধন, আঙুলের ছাপ ও ছবির ফরম্যাট একই কোম্পানির সফটওয়্যার দিয়ে আপডেট করা হয়েছে; কোম্পানিটির নাম নিয়মিত পরিচয় পরিষেবা লিমিটেড, এবং সেখানকার স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে কার নাম? ইলিয়াস মোল্লা। তাজউদ্দিনের শ্বাস যেন থেমে গেল। ইলিয়াস মোল্লা তো অবসর নিয়েছেন, অথচ তার নাম এখনো কারসাজির কেন্দ্রে। তখনই বুঝলেন, অবসর মানেই সরে যাওয়া নয়; কেউ কেউ কেবল ছায়া বদলায়। পরদিন তাজউদ্দিন ইলিয়াসের বাড়িতে গেলেন, পুরোনো মাটির বাড়ি, উঠোনে কাঁঠালপাতার ছায়া, দরজার কাঁচে জালের মতো ফাটল; ভিতরে ঢুকে দেখলেন ইলিয়াস মোল্লা বিছানায় বসে আছেন, চোখে সাদা ঘোলাটে দৃষ্টি, কিন্তু কথা পরিষ্কার; তিনি হাসলেন, তুমি এসে গেছো। আমি জানতাম আসবে। তাজউদ্দিন সরাসরি প্রশ্ন করলেন, আপনি কী করছেন? মানুষের কী হচ্ছে? ইলিয়াস দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, আমি কিছুই করিনি, আমি শুধু যা করা হচ্ছিল তা লিখে রেখেছি। আর লিখে রাখাটাই অপরাধ। তারপর তিনি উঠে বসলেন, দেয়ালের এক কোণ থেকে পুরোনো কাঠের বাক্স বের করলেন, ভেতরে ছিল অজস্র কাগজ, পুরোনো পাঞ্চকার্ড, ফটোগ্রাফ, আর একটি অদ্ভুত নীল রঙের সিল যন্ত্র; তিনি বললেন, এই শহরে এক সময় মানুষ পরিচয় হারিয়ে ফেলত দারিদ্র্যে, এখন হারাচ্ছে ব্যবস্থায়। আগে ছায়া ছিল শরীরের সাক্ষী, এখন ছায়া হচ্ছে ডাটার সাক্ষী। যে কোম্পানি এই সিস্টেম বানিয়েছে, তারা মানুষের তথ্যকে এমনভাবে ছেঁটে নিচ্ছে যাতে জটিলতা কমে। কাগজে যা থাকে, তারা শুধু তাই রাখে, আবেগ, ত্রুটি, স্মৃতি, সন্দেহ, এ সব তারা বাদ দেয়। কিন্তু মানুষ তো কেবল মিল খাওয়া তথ্য নয়; ত্রুটিই তার প্রাণ। তাজউদ্দিনের চোখে রাগ ও অবিশ্বাস একসঙ্গে উঠল, তাহলে সমাধান কী? ইলিয়াস নীরব হয়ে গেলেন, তারপর বললেন, সমাধান নেই। আছে প্রতিবাদ। আর প্রতিবাদের দাম হলো নিজের চাকরি, নিজের নিরাপত্তা, নিজের পুরোনো জীবন। কথাটা শুনে তাজউদ্দিনের ভিতর থেকে যেন কিছু ভেঙে পড়ল, কারণ সারা জীবন সে নিয়ম মেনে চলেছে, ভেবেছে নিয়ম মানুষের আশ্রয়, এখন বুঝছে নিয়মই যদি মানুষের ছায়া খেয়ে ফেলে, তাহলে আশ্রয় আর শিকার এক হয়ে যায়। সে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এল, আর ঠিক তখনই দেখল তার নিজের পায়ের নিচে রাস্তায় ছায়া দীর্ঘ, স্পষ্ট, কিন্তু একটু পরেই ছায়াটি যেন কাঁপল, সরে গেল, আর খানিক দূরে গিয়ে ধূসর হয়ে মিলিয়ে গেল; সে থমকে দাঁড়াল, চারপাশের আলো ঠিক আছে, গাছের ছায়া ঠিক আছে, কিন্তু নিজের ছায়া নেই। তিনি নিজের বুক চেপে ধরলেন, মনে হলো ভেতর থেকে কেউ ফাঁকা করে দিচ্ছে। এরপর কয়েকদিন ধরে তিনি এক অদ্ভুত অনুসন্ধানে নেমে পড়লেন; একদিকে রেকর্ডঘরের পুরোনো কাগজ, অন্যদিকে শহরের বস্তি, স্কুল, হাসপাতাল, এমনকি রেলস্টেশন পর্যন্ত ঘুরে বেরালেন; তিনি দেখলেন, যাদের ডিজিটাল আপডেট হয়েছে, তাদের অনেকেই একই রকম অস্পষ্ট স্বপ্ন দেখছে, তারা একটা বিশাল সাদা ঘরে বসে আছে, সামনে স্ক্যানার, এবং সেই স্ক্যানার তাদের মুখের বদলে ভেতরের শূন্যতা মেপে নিচ্ছে। এক শিশু বলল, আমার মা আমাকে ডাকলেও আমি ডাকি শুনি না, যেন নামের ভিতর ঢুকতে পারি না। এক দোকানি বলল, আমার হাতের তালুতে ছাপ আছে, তবু টাকা গুনতে গেলে মনে হয় আমি অন্য কারও হাতে টাকা দিচ্ছি। এক মাদ্রাসার শিক্ষক বললেন, মানুষের আত্মা যদি কাগজে আটকে যায়, তবে সে কেবল কাজ করবে, বাঁচবে না। তাজউদ্দিন এসব শুনে বুঝলেন, শহরের অন্ধকার শুধু কোনো ষড়যন্ত্র নয়, বরং একটা সভ্যতার নীরব চুক্তি, যেখানে সুবিধার জন্য মানুষ নিজের জটিলতা বিক্রি করেছে, আর বিনিময়ে পেয়েছে পরিচয়ের সুন্দর কিন্তু খালি খোলস। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন: শহরের কেন্দ্রীয় নাগরিক তথ্যভাণ্ডারে ঢুকে তিনি যত ছায়াহীন মানুষের নথি জোগাড় করতে পারলেন, সব কপি করলেন, পুরোনো জন্মসনদ, মেডিকেল রেকর্ড, স্কুল রেজিস্টার, ভোটার তালিকা, এমনকি মৃত স্বজনের হাতের লেখা চিঠিও; তারপর স্থানীয় পত্রিকার এক তরুণ রিপোর্টারের কাছে গেলেন, নাম শামীম, যার চোখে প্রশ্ন ছিল, অভিজ্ঞতা নয়। শামীম প্রথমে বিশ্বাস করল না, পরে নথি দেখে স্তব্ধ হয়ে গেল। বলল, স্যার, এটা ছাপালে ঝড় উঠবে। তাজউদ্দিন মৃদু হেসে জবাব দিলেন, ঝড় উঠুক। আকাশ পরিষ্কার না হলে বৃষ্টি নামে না। সংবাদটি ছাপা হলো না, কারণ পত্রিকা মালিক বিজ্ঞাপনদাতার ভয়ে কেঁপে উঠল; কিন্তু খবর বাতাসের মতো থেমে থাকে না। শহরের কয়েকটি পাড়া, কয়েকটি স্কুল, কয়েকটি চায়ের দোকান, আর রেললাইনের ধারে বসা নিরক্ষর শ্রমিকের মুখে মুখে কথাটা ছড়িয়ে পড়ল, মানুষের ছায়া কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সংস্থার অফিস থেকে প্রথমে অস্বীকার, পরে আইনি নোটিশ, তারপর তথ্য বিভ্রান্তি ঘোষণা এল; কিন্তু যারা ছায়া হারিয়েছিল, তারা জানত এটি বিভ্রান্তি নয়। এক সন্ধ্যায়, তাজউদ্দিনের বাড়ির সামনে অচেনা দুটি গাড়ি এসে দাঁড়াল; সিভিল পোশাকের কয়েকজন লোক নামল, চোখে এমন শীতলতা যেন তারা মানুষের নয়, কোনো মেশিনের ভাষায় কথা বলে। তারা বলল, আপনাকে কয়েকটি নথি সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যেতে হবে। তাজউদ্দিন জানতেন, এরা তাকে ভাঙতে এসেছে। তিনি ধীর স্বরে বললেন, আমার বয়স হয়েছে, কিন্তু প্রশ্নও বুড়ো হয়নি। একজন তাকে ধাক্কা দিতে এগোতেই হঠাৎ পেছন থেকে ফাতেমা খালা, রইস মিয়া, শামীম, আর বস্তির আরও কয়েকজন এসে দাঁড়াল; তাদের কারও কারও ছায়া ছিল না, কারও কারও ছিল অসম্পূর্ণ, তবু তারা একত্রে দাঁড়াতেই রাস্তায় এক অদ্ভুত নীরব প্রতিধ্বনি তৈরি হলো, যেন মাটি নিজেই তাদের পায়ের শব্দ মনে রাখছে। লোকগুলো কিছুক্ষণ হতচকিত দাঁড়িয়ে রইল, তারপর গাড়িতে উঠে চলে গেল; সেদিন তাজউদ্দিন বুঝলেন, ক্ষমতার সবচেয়ে বড় ভয় হলো যখন বিচ্ছিন্ন মানুষ হঠাৎ সমবেত হয়। কিন্তু যুদ্ধ এখানেই শেষ হয়নি। পরের সপ্তাহে শহরের নাগরিক তথ্য কেন্দ্রগুলো বন্ধ হতে লাগল, লেনদেনে বিলম্ব, সার্ভারে সমস্যা, তদন্ত কমিটি, মিডিয়ার গোলমাল, আর চারদিকে সেই একই কথা, কাগজে মিলছে না, জীবনে সমস্যা। তাজউদ্দিনের ওপর চাপ বাড়তে থাকল; চাকরি যেতে পারে, বাড়ি বাজেয়াপ্ত হতে পারে, এমনকি মামলা হতে পারে। ইলিয়াস মোল্লা তখন এক রাতে এসে বললেন, আমি আর বেশি দিন বাঁচব না, তাই শেষ সত্যটা দিয়ে যাই। তিনি খুলে দিলেন বাক্সের নিচের অংশে লুকোনো একটি পুরোনো ডায়েরি, যেখানে বিশ বছর ধরে লেখা আছে কোন দিনে কোন নাম পরিবর্তন করা হয়েছে, কোন ছবিতে কার মুখ একটু মসৃণ করা হয়েছে, কোন ফাইলে কার কান্না কাটা হয়েছে, আর কোন অসম্পূর্ণ পরিচয় কে নিয়ন্ত্রিত নাগরিক বানানো হয়েছে। ডায়েরির শেষ পাতায় লেখা ছিল: মানুষের ছায়া মুছে দিলে সে সহজে শাসনযোগ্য হয়; ছায়াহীন মানুষ সূর্যের সাথেও কথা বলে না। তাজউদ্দিন ডায়েরিটা হাতে নিয়ে অনুভব করলেন, এই সত্য শুধু অপরাধ নয়, এক ধরনের নৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ। তিনি সেই রাতেই নিজের বাড়ির আঙিনায় বসলেন, আকাশে চাঁদ নেই, কিন্তু অদ্ভুত এক ধূসর আলো আছে, আর সেই আলোয় প্রথমবার তিনি দেখলেন, তার ছায়া আবার ফিরেছে, কিন্তু আগের মতো নয়; একটু সরু, একটু কাঁপা, যেন বহু পথ ঘুরে ক্লান্ত হয়ে ফিরে এসেছে। তিনি হেসে উঠলেন, আর সেই হাসির মধ্যে কান্নার ছায়াও ছিল। পরদিন শহরের বড় মসজিদের সামনে, বাজারের কোণে, স্কুলের মাঠে, আর বাসস্ট্যান্ডে মানুষ জড়ো হলো; শামীমের চেষ্টায় কিছু ভিডিও, কিছু কাগজ, কিছু সাক্ষ্য ছড়িয়ে পড়েছিল; তাজউদ্দিন মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে বলতে শুরু করলেন, আমরা ভাবি পরিচয় মানে ছবি, নম্বর, সিল, কার্ড; কিন্তু পরিচয় হচ্ছে আমাদের অসম্পূর্ণতা, আমাদের ভুল, আমাদের ক্লান্তি, আমাদের প্রতিরোধ। যে ব্যবস্থা সবকিছু ঠিকঠাক বানাতে চায়, সে মানুষের ভিতরের কাঁচামাল নষ্ট করে দেয়। ছায়া হলো সেই কাঁচামাল; ছায়া না থাকলে মুখ থাকে, মানুষ থাকে না। তার কথা শেষ হওয়ার আগেই দূরের দালানে আলো নেভানো হলো, পুলিশের সাইরেন শোনা গেল, আর মানুষ দৌড়াতে শুরু করল; কেউ পালাল, কেউ দাঁড়াল, কেউ কাঁদল, কেউ হেসে উঠল, আর তাজউদ্দিন বুঝলেন, সত্য কখনো এক ঝটকায় জিতে না, সে কেবল একবার মানুষের ভিতরে ঢুকে পড়ে। সেদিন বহুজনের বিরুদ্ধে মামলা হলো, কয়েকজন গ্রেপ্তার হল, সংবাদপত্রে বিকৃত প্রতিবেদন ছাপা হলো, তবু শহরের বাতাস পালটে গেল। রইস মিয়া আবার বাজারে হাঁটল, এবার তার পেছনে একটু অসমান ছায়া দেখা গেল; ফাতেমা খালা তার নাতনিকে কোলে নিয়ে হাসলেন; শামীম দেশের অন্য পত্রিকায় লিখে উঠল; আর তাজউদ্দিন নিজে? তিনি রেকর্ডঘরের পুরোনো টেবিলে ফিরে বসলেন, কিন্তু এবার কাগজের দিকে তাকিয়ে তার আর আগের মতো ঘৃণা হলো না। তিনি জানতেন, মানুষকে কাগজে বন্দি করা যায়, কিন্তু কাগজই আবার মানুষের সাক্ষ্যও হতে পারে, যদি কেউ সত্যি লিখে। কয়েক মাস পরে ইলিয়াস মোল্লা মারা গেলেন; মৃত্যুর পরে তার কোনো বড় ছবি ছাপা হলো না, কোনো শোকসভা নয়, শুধু একটি ছোট্ট খবর, প্রাক্তন রেজিস্ট্রার ইলিয়াস মোল্লা আর নেই। তাজউদ্দিন সেই খবর কেটে নিজের ফাইলে রাখলেন। এরপর ধীরে ধীরে শহরের আপডেট কর্মসূচি বদলাল, কিছু নথি পুনর্বিবেচনা হলো, কিছু পরিবার তাদের হারানো স্বজনের স্বীকৃতি পেল, কিছু ছায়াহীন মানুষ আবার নিজেরাই নিজের কণ্ঠ চিনতে শুরু করল। কিন্তু তাজউদ্দিন জানতেন, সব ঠিক হয়নি; কোনো সমাজ একবার মানুষের ভেতর থেকে সামান্য অংশ কেড়ে নিলে তা পুরোপুরি ফেরে না, কেবল ক্ষতচিহ্ন রেখে যায়। তবু ক্ষতচিহ্নও প্রমাণ যে শরীর বেঁচে ছিল। এক বিকেলে তিনি অফিস থেকে বেরিয়ে দেখলেন, রাস্তার ওপারে এক কিশোর ফুটবল খেলছে, বলের সঙ্গে তার ছায়াও দৌড়াচ্ছে, আর সেই ছায়া দেখে তাজউদ্দিনের বুকের ভেতর অদ্ভুত এক শান্তি নামল; তিনি হঠাৎ বুঝলেন, সারাজীবন তিনি কাগজের মানুষদের ঘেঁটে আসল মানুষদের খুঁজেছেন, আর এখন অন্তত একটি শিশুর ছায়া মাটিতে পড়ছে মানে ভবিষ্যৎ এখনো পুরোপুরি হেরে যায়নি। বাড়ি ফেরার পথে তিনি যখন নিজের ছায়ার দিকে তাকালেন, দেখলেন তা এবার আর ভাঙা নয়, কিন্তু সম্পূর্ণও নয়; যেন জীবনের মতোই, কিছুটা আলো, কিছুটা ঘাটতি, কিছুটা ভয়, কিছুটা সাহস মিলিয়ে একজন মানুষ হয়ে আছে। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন, বাতাসে ধুলো উড়ছে, গাছের পাতায় সন্ধ্যার নীল জমছে, আর মনে হলো, মানুষের সবচেয়ে বড় বিজয় হলো নিজের হারানো অংশকে আবার খুঁজে নেওয়া নয়, বরং হারানোর পরেও মানুষ হয়ে থাকা; সেই সন্ধ্যায় তাজউদ্দিন জানালা খোলা রেখে ঘুমোতে গেলেন, আর স্বপ্নে দেখলেন, দূরের একটি ঘরে অসংখ্য ফাইলের ভেতর তার ছোট ভাই সোবহান বসে আছে, কোনো অভিযোগ নেই, কোনো কান্না নেই, শুধু বলছে, দাদা, আমাকে লিখে রাখো না, আমাকে মনে রেখো। তাজউদ্দিন ঘুমের মধ্যে হেসে ফেললেন, কারণ তিনি তখন বুঝলেন, স্মৃতি আর রেকর্ড এক নয়; প্রথমটি মানুষকে বাঁচায়, দ্বিতীয়টি তাকে ধরতে চায়; আর যে সমাজ মনে রাখার ক্ষমতা হারায়, সে একদিন নিজের ছায়াও ধার করতে বাধ্য হয়।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

প্রবন্ধঃ বিষ্ণু দে : ‘উর্বশী ও আর্টেমিস’ থেকে ‘চোরাবালি’

বিষ্ণু দে , তিরিশি কবিদের অন্যতম । কবিতা রচনাই যাঁর কাছে এক এবং অদ্বিতীয় হ ’ য়ে দেখা দেয় । কাব্যে সংখ্যার দিক থেকে অতিক্রম করেছেন সতীর্থদের । বিষ্ণু দে , যাঁর কবিতা রচনার সূচনা পর্বটিও শুরু হয় খুব দ্রুততম সময়ে । কবিতা সৃষ্টির পর্বটি অব্যাহত রেখেছেন সর্বদা । পঁচিশটি কবিতা নিয়ে ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এ নিজেকে প্রকাশ করেন স্ব - মহিমায় । যে কবিতাগুলা বিস্ময়বিমুগ্ধ ক ’ রে অন্যেদেরকেও । ওই কবিতা শুধু বিষ্ণু দে ’ কে নয় , বরং নতুনতর হ ’ য়ে দেখা দেয় বাঙলা কবিতা । বিষ্ণু দে ’ র ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’ রবীন্দ্রনাথকে পড়তে হয়েছিল দু ’ বার । ‘ উর্বশী ও আর্টেমিস ’- এর কবিতাগুলির রচনাকালের ব্যাপ্তি দেওয়া আছে ( ১৯২৮ - ১৯৩৩ ) সময়ের মধ্যে , এবং গ্রন্থকারে প্রকাশ পায় ওই একই বছরে অর্থাৎ , ১৯৩৩ - এ । কিন্তু রচনাকালের ব্যাপ্তি ১৯২৮ দেওয়া থাকলেও প্রকৃত পক্ষে এ সকল কবিতাগুলো রচনা পর্ব শুরু হয় আরো দু ’ বছর পূর্বে অর্থাৎ , ১৯২৬ - এ । যখন কবি হিশেবে বিষ্ণু দে একেবারেই নতুন এবং নবীন । ১৯৩৩ - এ ...

প্রবন্ধঃ বুদ্ধদেব বসু ও ‘কঙ্কাবতী’

বুদ্ধদেব বসু প্রেমের অজস্র কবিতা রচনা করেছেন । অন্য অনেকের মতো তিনিও বেছে নেন একজন প্রেমিকাকে , যে হ ’ য়ে উঠে বুদ্ধদেবের অতুল্য প্রেমিকা হিশেবে । ‘ কঙ্কাবতী ’ অনিন্দ্য প্রেমিকা হ ’ য়ে বুদ্ধদেবের কাব্যতে বিচরণ ক ’ রে স্বচ্ছন্দে । স্থির হয়ে বসে পড়ে কঙ্কাবতী ’ কাব্যগ্রন্থে । যে কাব্যগ্রন্থে ‘ কঙ্কাবতী ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে ‘ কঙ্কাবতীকে ’ দেখা দেয় অনৈসর্গিক হয়ে । ‘ কঙ্কাবতী ’ কাব্য রচনার পূর্বে কঙ্কাবতীকে আমরা দেখতে পাই অন্য কোনো কবিতায় । যেখানে সে প্রেমিকার কাছে হয়ে ওঠে কুৎসিত কঙ্কাল ব্যতীত অন্য কিছু নয় । প্রগাঢ় ভাবে প্রাপ্তির জন্যে সমস্ত কবিতা জুঁড়ে দেখতে পাই কবির অপরিবর্তনীয় আবেদন । কঙ্কাবতী , যাঁর সাথে কিছু বাক্য বিনিময়ের জন্যে রক্তের হিমবাহে দেখা দেয় চঞ্চলতা । সুপ্রিয়া প্রেমিকা মুখ তোলা মাত্র কবি হাঁরিয়ে ফেলেন ওই সৌন্দর্যময় বাক্যগুলো , যা বলার জন্যে অপেক্ষায় ছিলেন কবি দীর্ঘদিন । প্রেমিকা যখন খুব কাছাকাছি হয়ে এগিয়ে আসেন , ওই ব্যর্থ ...

প্রবন্ধঃ অমিয় চক্রবর্তী : ‘বৃষ্টি’ নিয়ে তিনটি কবিতা

রবীন্দ্রনাথ, মেঘ-বরষা বৃষ্টি নিয়ে এতো সংখ্যক কবিতা লিখেছেন যে তাঁর সমান বা সমসংখ্যক কবিতা বাঙলায় কেউ লিখেনি। রবীন্দ্রনাথ, যাঁর কবিতায় বার বার এবং বহুবার ফিরে ফিরে এসেছে মেঘ, বরষা, বৃষ্টি। বৃষ্টি নামটি নিলেই মনে পড়ে কৈশোর পেড়িয়ে আসা রবীন্দ্রনাথের ওই কবিতাটির কথা। ‘দিনের আলো নিবে এল সূর্য্যি ডোবে ডোবে আকাশ ঘিরে মেঘ জুটেছে চাঁদের লোভে লোভে।’ বৃষ্টি নিয়ে কবিতা পড়ার কথা মনে পড়লে এটাই চলে আসে আমার মনে। অমিয় চক্রবর্তী বৃষ্টি নিয়ে লিখেছেন বেশ কিছু কবিতা। বাঙলায় বৃষ্টি নিয়ে কবিতা লিখেনি এমন কবির সংখ্যা খুব কম বা নেই বললেই চলে। অমিয় চক্রবর্তী, যাঁর কবিতায় পাই ‘বৃষ্টি’ নামক কিছু সৌন্দর্যময় কবিতা। যে কবিতাগুলো আমাকে বিস্ময় বিমুগ্ধ ক’রে। ওই কবিদের কারো কারো কবিতা দ্রুত নিঃশ্বাসে পড়া সম্ভবপর হয়ে উঠে না। বৃষ্টি নামক প্রথম কবিতাটি পাওয়া যাবে অমিয় চক্রবর্তীর ‘একমুঠোতে’। উন্নিশটি কবিতা নিয়ে গ’ড়ে উঠে ‘একমুঠো’ নামক কাব্য গ্রন্থটি। যেখান থেকে শ্রেষ্ঠ কবিতায় তুলে নেওয়া হয় চারটি কবিতা। আমার আরো ভালোলাগে ‘বৃষ্টি’ কবিতাটি ওই তালিকায় উঠে আসে। শ্রেষ্ঠ কবিতায় না আসলে আমার যে খুব খারাপ লাগতে তা-ও নয়। ওই কবিতা...