আকাশটা যখন বদলাতে শুরু করল , তখন কেউ প্রথমে বুঝতেই পারেনি। শহর জেগে ছিল আগের মতোই , নিয়ন বাতি , উঁচু সেতু , দেয়াল-ঘেঁষা চলমান ট্রেন , উড়ন্ত বিজ্ঞাপনপর্দা , আর মানুষের মুখে সেই চিরচেনা তাড়াহুড়ো। কিন্তু সূর্য ডোবার ঠিক আগে পশ্চিমের দিগন্তে যে রঙ উঠল , তা ছিল অস্বাভাবিক। লাল নয় , কমলা নয় , সোনালি নয় , এক ধরনের ধূসর নীল , যেন জ্বলন্ত কাঁচের ভেতর সমুদ্রের জল ঢেলে দেওয়া হয়েছে। শহরের আবহাওয়া দপ্তর প্রথমে বলল , এটি উচ্চস্তরের ধূলিকণার অদ্ভুত প্রতিফলন। বিশ্ব-পর্যবেক্ষণ সংস্থা বলল , এটি সাময়িক বায়ুমণ্ডলীয় বিচ্যুতি। আর বৃদ্ধরা বলল , আকাশেরও কখনও জ্বর হয়। এটা বোধ হয় তাই। কিন্তু আমি জানতাম , সেটি জ্বর ছিল না। সেটি ছিল প্রথম লক্ষণ। আমার নাম আরিফ সায়েম। বয়স তিরিশের সামান্য ওপরে। পেশায় আমি বায়োসিগন্যাল বিশ্লেষক , সোজা বাংলায় , মানুষের শরীর আর মস্তিষ্কে থাকা সূক্ষ্ম তরঙ্গের প্যাটার্ন নিয়ে কাজ করি। শহরের প্রধান হাসপাতাল থেকে আমাকে এক অদ্ভুত প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছিল , নাম ‘ ইকো-নক্স ’ । প্রকল্পটি গোপন ছিল , এমনকি সরকারি নথিতেও তার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। আমাদের কাজ ছিল মানুষের স্মৃতি , আব...
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।