চোখের পলকে থেমেছে এক অজানা সন্ধ্যা , শহরের আলো নিভে গেছে ধীরে ধীরে , আমি হাঁটছি কোমল বাতাসে , যেখানে শব্দ হারিয়ে যায় ছায়ার খোঁজে তুমি ছিলে না হয়তো , তবু তোমার আলো ঢেউ তুলেছে হৃদয়ে , পাতার নিচে বাঁচে এক বিন্দু‑আলো , যা বলছে , তুমি এসো , আর একবার প্রাণে রাস্তাগুলো ম্লান হয়ে পড়েছে , কিন্তু তোমার স্মৃতির রঙ এখনও জীবন্ত , আমি বহন করি বসন্তের মতো এক অদৃশ্য ফুল , যার পাপড়িতে লেখা আছে , ভালোবাসা চুপিয়ে ওঠে হাত বাড়িয়ে স্পর্শ করি না , উজ্জ্বল কোনো রোদ শুধু অনুভব করি , তোমার নিঃশব্দ উপস্থিতি আবার যদি দেখা হয় , বলব , চলে আসো , চুপচাপ বসি তোমার গায়ে আলো মেখে , রাস্তায় মিশে যাই আলো‑ছায়ার মাঝ দিয়ে , যেখানে ভালোবাসা হয় কথার চেয়ে গভীর।
মামুনুর রহমান, সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এক অদ্বিতীয় সংবেদনশীল কণ্ঠ। তাঁর লেখায় জীবনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও নতুন এক আলোর আভায় ফু’টে ওঠে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, কবিতা কেবল শব্দের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি সেই নীরব ভাষা, যা অন্তরের গভীরে বাস ক’রে, পাঠকের অভ্যন্তরীণ অনুভূতির সঙ্গে মিশে এক অনন্য প্রতিধ্বনি সৃষ্টি ক’রে। তেমনি তাঁর গদ্য রচনা পাঠককে শুধু ভাবায় না, বরং অনুভব করায়, জীবনের ক্ষুদ্রতম ছোঁয়ায়ও গভীর মানসিক ধ্বনিতে স্পন্দিত ক’রে। তিনি খেয়াল রাখেন পাঠকের মন ও মননশীল দিকটি।